স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়: হেলথ অ্যাংজাইটি বোঝা ও সামলানো

Mst. Swampa

Clinically reviewed byMst. SwampaSenior Clinical Psychologist · MS & M.Phil in Clinical Psychology (University of Dhaka) · BCPS memberLast reviewed July 2026

শরীরে সামান্য একটু ব্যথা, বুকের ভেতরে হালকা চাপ, কিংবা মাথার এক পাশে চিনচিন করা: অনেকের কাছে এগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু কারও কারও কাছে এই ছোট্ট অনুভূতিটাই হয়ে ওঠে দীর্ঘ দুশ্চিন্তার শুরু। স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় যখন প্রতিদিনের জীবনে ঢুকে পড়ে, তখন সেটা আর সাধারণ সচেতনতা থাকে না, বরং একধরনের মানসিক ভার হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো শহরে বসবাসকারী অনেক মানুষই আজ এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, অথচ বুঝতে পারছেন না যে এর একটি নাম আছে এবং এর সমাধানও আছে।

এই অবস্থাকে ইংরেজিতে বলা হয় হেলথ অ্যাংজাইটি (স্বাস্থ্য উদ্বেগ)। এখানে মূল সমস্যা কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং “আমার বড় কোনো অসুখ হয়ে গেছে” এই একটানা, অতিরিক্ত ভয়। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানব হেলথ অ্যাংজাইটি আসলে কী, কেন সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসে, বারবার আশ্বাস খোঁজার ফাঁদটা কীভাবে কাজ করে, এবং ঢাকায় ও সারা বাংলাদেশে অনলাইনে পেশাদার সাহায্য নিয়ে কীভাবে এই ভয় সামলানো সম্ভব। মনে রাখবেন, এটি একটি শিক্ষামূলক লেখা, কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার পরামর্শ নয়।

স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা হেলথ অ্যাংজাইটি আসলে কী

হেলথ অ্যাংজাইটি হলো এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে একজন মানুষ ক্রমাগত ভাবতে থাকেন যে তাঁর গুরুতর কোনো শারীরিক অসুখ হয়েছে বা হতে চলেছে, যদিও চিকিৎসাগত কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। শরীরের একদম স্বাভাবিক অনুভূতিকেও তিনি বড় রোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। যেমন হজমের সামান্য গোলমালকে ক্যান্সার, বুক ধড়ফড়কে হার্ট অ্যাটাক, বা মাথাব্যথাকে ব্রেন টিউমার ভেবে ভয় পেতে শুরু করেন।

এখানে বোঝা জরুরি যে এই মানুষগুলো “নাটক” করছেন না, কিংবা মিথ্যা বলছেন না। তাঁদের কাছে ভয়টা একদম সত্যি এবং শরীরের অস্বস্তিগুলোও বাস্তব। পার্থক্যটা হলো, উদ্বেগের কারণে মস্তিষ্ক শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে অনেক বড় করে দেখায় এবং সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনাটাকেই সত্যি বলে ধরে নেয়। এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় “ক্যাটাস্ট্রোফিক থিংকিং” বা সবকিছুকে বিপর্যয় হিসেবে ভাবা।

রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা থাকা মানুষমাত্রেরই স্বাভাবিক। কিন্তু হেলথ অ্যাংজাইটির ক্ষেত্রে এই দুশ্চিন্তা এতটাই তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয় যে তা ঘুম, কাজ, সম্পর্ক এবং মানসিক শান্তি সবকিছু নষ্ট করে দিতে শুরু করে।

হেলথ অ্যাংজাইটির সাধারণ লক্ষণ

হেলথ অ্যাংজাইটির প্রকাশ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ ধরন প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যায়। এগুলো মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: শরীরের অনুভূতি এবং চিন্তা-আচরণের ধরন।

শরীর ও অনুভূতির দিক

  • শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তন বা অনুভূতির দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ, যেমন হৃদস্পন্দন, নিঃশ্বাস বা পেটের ভেতরের নড়াচড়া বারবার লক্ষ করা।
  • ঘন ঘন শরীর পরীক্ষা করা: গলায় চাকা আছে কিনা হাত দিয়ে দেখা, ত্বকের তিল খুঁটিয়ে দেখা, নাড়ির গতি মাপা।
  • ভয়ের কারণে বুক ধড়ফড়, হাত-পা কাঁপা, ঘাম হওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, যা আবার নতুন করে “কিছু একটা মারাত্মক ঘটছে” এই ভয় বাড়িয়ে দেয়।
  • ক্লান্তি ও অস্থিরতা, কারণ সারাক্ষণ সতর্ক থাকা মন ও শরীর দুটোকেই ক্লান্ত করে ফেলে।

চিন্তা ও আচরণের দিক

  • ইন্টারনেটে বারবার রোগের লক্ষণ খোঁজা এবং প্রতিবার আরও ভয়ংকর সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া।
  • বারবার টেস্ট করানো: একই সমস্যার জন্য বিভিন্ন ডাক্তার দেখানো, একই রক্ত বা স্ক্যান পরীক্ষা কয়েকবার করানো।
  • পরিবার বা কাছের মানুষদের কাছে বারবার জিজ্ঞেস করা, “আমাকে দেখে কি অসুস্থ লাগছে? তুমি কি নিশ্চিত আমার কিছু হয়নি?”
  • রোগের ভয়ে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলা, যেমন হাসপাতালের নাম শুনলে অস্বস্তি, অসুস্থতা নিয়ে কথা বলা মানুষদের এড়িয়ে যাওয়া, কিংবা উল্টো দিকে সারাক্ষণ শুধু রোগ নিয়েই কথা বলা।

বুক ধড়ফড় বা প্যানিকের অনুভূতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের প্যানিক অ্যাটাক ও বুক ধড়ফড় নিয়ে লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন, কারণ হেলথ অ্যাংজাইটির সঙ্গে অনেক সময় প্যানিকের লক্ষণ মিশে যায়।

কেন সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসে

এটাই হেলথ অ্যাংজাইটির সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর দিক। একজন মানুষ হয়তো রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমনকি এমআরআই পর্যন্ত করিয়ে ফেলেছেন, সব রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে, ডাক্তারও আশ্বস্ত করেছেন। তবু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবার সেই পুরনো ভয় ফিরে আসে: “রিপোর্ট হয়তো ঠিকমতো হয়নি, হয়তো কিছু একটা ধরা পড়েনি, হয়তো ডাক্তার আসল সমস্যাটা মিস করেছেন।”

আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও “বড় কোনো অসুখ হয়েছে” এই ভয় ফিরে আসাটাই হেলথ অ্যাংজাইটির অন্যতম বড় লক্ষণ। এর কারণ হলো, সমস্যাটা মূলত শরীরে নয়, ভয় প্রক্রিয়া করার ধরনে। একটা স্বাভাবিক রিপোর্ট সাময়িকভাবে স্বস্তি দেয় ঠিকই, কিন্তু উদ্বেগের অভ্যাস যেহেতু রয়ে যায়, তাই মন আবার নতুন করে সন্দেহ তৈরি করে। ভয়টা যুক্তি দিয়ে তৈরি হয়নি বলেই যুক্তি বা রিপোর্ট দিয়ে সেটা স্থায়ীভাবে দূর হয় না।

ভাবতে পারেন এটা অনেকটা তৃষ্ণার মতো, যেখানে নোনা পানি খেলে সাময়িক ভেজা লাগলেও তৃষ্ণা আসলে আরও বাড়ে। বারবার টেস্ট আর আশ্বাস অনেকটা সেই নোনা পানির মতোই কাজ করে।

বারবার আশ্বাস খোঁজার ফাঁদ

হেলথ অ্যাংজাইটির কেন্দ্রে থাকে একটি চক্র, যাকে বলা যায় “আশ্বাস খোঁজার ফাঁদ”। এই চক্রটি বোঝা খুব জরুরি, কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে ভয় কেন কমে না তার আসল ব্যাখ্যা।

চক্রটা সাধারণত এভাবে চলে: শরীরে কোনো অনুভূতি হলো, মনে ভয় জাগল, সেই ভয় কমাতে মানুষটি কিছু একটা করলেন (ডাক্তার দেখানো, ইন্টারনেট ঘাঁটা, প্রিয়জনকে জিজ্ঞেস করা), সাময়িক স্বস্তি এলো, কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভয় আবার ফিরে এলো এবং আগের চেয়ে জোরালো হলো।

আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট দেখা যায় যে, বারবার আশ্বাস খোঁজা সাময়িক স্বস্তি দিলেও আসলে ভয়কে আরও পাকা করে তোলে। কারণ প্রতিবার আশ্বাস নেওয়ার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক শেখে যে “ভয় পাওয়াটা যুক্তিযুক্ত ছিল, তাই তো আশ্বাস খুঁজতে হলো”। ফলে পরের বার আরও অল্পতেই ভয় জেগে ওঠে এবং আশ্বাসের চাহিদাও বেড়ে যায়। এটি একটি দুষ্ট চক্র, যেখানে যত বেশি নিশ্চিত হতে চাওয়া, তত বেশি অনিশ্চয়তার ভয়।

এই কারণেই কেবল “ভয় পেয়ো না” বা “তোমার তো কিছুই হয়নি” বলে হেলথ অ্যাংজাইটি সারানো যায় না। বরং দরকার হয় এই চক্রটাকে ধীরে ধীরে ভাঙা, যা পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক কার্যকরভাবে করা সম্ভব।

হেলথ অ্যাংজাইটি ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সচেতনতার পার্থক্য

একটা প্রশ্ন অনেকের মনে আসে: শরীরের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত চেকআপ করানো তো ভালো অভ্যাস, তাহলে সেটা কখন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়? পার্থক্যটা মূলত মাত্রা, সময় ও প্রভাবে।

  • স্বাভাবিক সচেতনতা: নির্দিষ্ট উপসর্গ হলে ডাক্তার দেখানো, বছরে হয়তো একবার রুটিন চেকআপ করানো, ডাক্তারের কথায় আশ্বস্ত হওয়া এবং এরপর নিশ্চিন্ত থাকা।
  • হেলথ অ্যাংজাইটি: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার পরীক্ষা করানো, রিপোর্ট ভালো এলেও নিশ্চিন্ত না হওয়া, দিনের বড় একটা অংশ রোগের চিন্তায় কাটানো এবং এই ভয়ের কারণে দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটা।

সহজ কথায়, সচেতনতা আপনাকে যত্ন নিতে সাহায্য করে আর নিশ্চিন্ত রাখে; কিন্তু হেলথ অ্যাংজাইটি আপনাকে সারাক্ষণ ভয়ের ভেতর রাখে এবং জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নেয়।

দৈনন্দিন জীবনে নিজে নিজে যা করতে পারেন

পেশাদার সাহায্যের পাশাপাশি কিছু অভ্যাস স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় সামলাতে সহায়ক হতে পারে। এগুলো কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে দৈনন্দিন জীবনে ভয়ের চক্রটা শিথিল করতে কাজে লাগে।

  • লক্ষণ খোঁজা কমিয়ে আনুন: শরীর বারবার পরীক্ষা করা বা গুগলে উপসর্গ খোঁজার অভ্যাসটা ধীরে ধীরে সীমিত করার চেষ্টা করুন। একবারে বন্ধ করা কঠিন, তাই ছোট ছোট ধাপে এগোন।
  • আশ্বাস চাওয়ার বিষয়ে সচেতন হোন: যখনই প্রিয়জনকে “আমার কি কিছু হয়েছে” জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করবে, একটু থেমে লক্ষ করুন যে এটা আশ্বাস খোঁজার সেই ফাঁদ কিনা।
  • শ্বাস ও শিথিলকরণের অনুশীলন: ধীর, গভীর শ্বাস এবং মাংসপেশি শিথিল করার সহজ ব্যায়াম শরীরের উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে।
  • মনোযোগ বর্তমানে ফেরানো: মাইন্ডফুলনেস বা বর্তমান মুহূর্তে মন ফেরানোর চর্চা ভবিষ্যতের ভয়ে হারিয়ে যাওয়া মনকে থামাতে সহায়ক।
  • নিয়মিত জীবনযাপন: পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার সামগ্রিক উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখে।
  • ক্যাফেইন ও ঘুমের দিকে খেয়াল: অতিরিক্ত চা-কফি ও অনিয়মিত ঘুম শরীরে এমন অনুভূতি তৈরি করে যা ভয়কে বাড়িয়ে দিতে পারে।

উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা কমানোর আরও কিছু বাস্তব কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পড়তে দেখে নিতে পারেন আমাদের দুশ্চিন্তা কমানোর উপায় নিয়ে লেখাটি

তবে মনে রাখা জরুরি, এই কৌশলগুলো ভয় সাময়িকভাবে সামলাতে সাহায্য করলেও, যখন ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয়ে জীবনকে আটকে ফেলে, তখন একজন প্রশিক্ষিত পেশাদারের সহায়তা সবচেয়ে ফলপ্রসূ পথ।

ওষুধ প্রসঙ্গে একটি জরুরি কথা

স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের সঙ্গে অনেক সময় ঘুমের সমস্যা বা তীব্র উদ্বেগ যুক্ত থাকে, এবং কেউ কেউ নিজে থেকেই ওষুধ শুরু বা বন্ধ করার কথা ভাবেন। এখানে স্পষ্টভাবে বলা দরকার, ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য চিকিৎসকের সাথে নিতে হবে। নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু, বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ, এই দুটি একসঙ্গে অনেকের ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়।

কখন পেশাদার সাহায্য নেবেন

স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় কিছুটা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু নিচের অবস্থাগুলো দেখা দিলে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলার কথা ভাবা উচিত।

  • রোগের ভয় দিনের বড় একটা সময় দখল করে রাখছে এবং কাজে মন বসছে না।
  • সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসছে এবং বারবার নতুন পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
  • এই ভয়ের কারণে ঘুম, পড়াশোনা, চাকরি বা পারিবারিক সম্পর্কে সমস্যা হচ্ছে।
  • আশ্বাস খোঁজা, ইন্টারনেটে রোগ খোঁজা বা শরীর পরীক্ষা করার অভ্যাস দিন দিন বাড়ছে।
  • ভয়ের সঙ্গে বুক ধড়ফড়, প্যানিক বা মন খারাপের মতো অনুভূতি যুক্ত হচ্ছে।
  • নিজে থেকে অনেক চেষ্টা করেও ভয়ের চক্র থেকে বের হতে পারছেন না।

পেশাদার সাহায্য নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজের প্রতি যত্নের একটি সাহসী পদক্ষেপ। প্রমাণভিত্তিক কাউন্সেলিং, বিশেষত জ্ঞানভিত্তিক আচরণগত থেরাপি বা সিবিটি-ধর্মী পদ্ধতি, হেলথ অ্যাংজাইটির চক্র বুঝতে ও ভাঙতে সাহায্য করে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও পেশাদার সহায়তা একসঙ্গে

আমাদের সমাজে অনেকে প্রার্থনা, ধৈর্য ও বিশ্বাসের মধ্যে মানসিক শান্তি খুঁজে পান, যা সত্যিই মূল্যবান। এই আধ্যাত্মিক শক্তি এবং পেশাদার মানসিক সেবা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বিশ্বাস মানসিক প্রশান্তি দেয়, আর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে একজন প্রশিক্ষিত পেশাদার সেই ভয়ের ধরনটা বুঝে সামলাতে সাহায্য করেন। দুটোকে একসঙ্গে কাজে লাগানোই অনেকের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পথ।

চাম ওয়েলনেস কীভাবে পাশে থাকতে পারে

চাম ওয়েলনেসে আমরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলরদের মাধ্যমে গোপনীয় ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে কাউন্সেলিং দিয়ে থাকি। আমরা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে সেবা দিই এবং ঢাকায় সরাসরি বসেও সেশন নেওয়া যায়, তাই আপনি ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা কিংবা চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, দেশের যেখানেই থাকুন না কেন সাহায্য নাগালের মধ্যেই। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে হ্রাসকৃত ফি-এর সুবিধা।

স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় আপনার জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নিচ্ছে মনে হলে আজই একজন পেশাদারের সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের উদ্বেগের কাউন্সেলিং সেবা সম্পর্কে জানুন, অথবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন। ভয়ের চক্র ভাঙা সম্ভব, এবং প্রথম পদক্ষেপটা নিতে আজই দেরি করার দরকার নেই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও রোগের ভয় থাকে কেন?

কারণ হেলথ অ্যাংজাইটিতে সমস্যাটা মূলত শরীরে নয়, বরং ভয় প্রক্রিয়া করার ধরনে। স্বাভাবিক রিপোর্ট সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু উদ্বেগের অভ্যাস থেকে যাওয়ায় মন আবার নতুন সন্দেহ তৈরি করে। এই ভয় যুক্তি দিয়ে তৈরি হয় না বলে কেবল রিপোর্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে দূর হয় না; এর জন্য দরকার পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভয়ের চক্রটা ভাঙা।

বারবার টেস্ট করানো বা আশ্বাস চাওয়া কি ভালো?

সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায় বারবার আশ্বাস খোঁজা আসলে ভয়কে আরও পাকা করে তোলে। প্রতিবার আশ্বাস নেওয়ার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক শেখে যে ভয় পাওয়াটা যুক্তিযুক্ত ছিল, ফলে পরের বার আরও অল্পতেই ভয় জাগে। এটি একটি দুষ্ট চক্র, যা ভাঙার কার্যকর উপায় হলো প্রশিক্ষিত পেশাদারের সহায়তা।

স্বাস্থ্য সচেতনতা আর হেলথ অ্যাংজাইটির পার্থক্য কী?

স্বাভাবিক সচেতনতায় নির্দিষ্ট উপসর্গে ডাক্তার দেখানো হয় এবং আশ্বস্ত হয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। হেলথ অ্যাংজাইটিতে স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার পরীক্ষা করানো হয়, রিপোর্ট ভালো এলেও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না এবং দিনের বড় অংশ রোগের ভয়ে কাটে যা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের জন্য কি ঢাকার বাইরে থেকেও সাহায্য নেওয়া যায়?

হ্যাঁ। চাম ওয়েলনেস সারা বাংলাদেশে অনলাইনে কাউন্সেলিং সেবা দেয়, তাই চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ দেশের যেকোনো জায়গা থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা যায়। ঢাকায় ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরার মতো এলাকা থেকে সরাসরি বসেও সেশন নেওয়া সম্ভব।

Trusted resources
Further reading from leading global health authorities:

Keep Reading

নিজেকে বা চারপাশ অচেনা লাগে? ডিপার্সোনালাইজেশন ও ডিরিয়েলাইজেশননিজেকে বা চারপাশ অচেনা লাগে? ডিপার্সোনালাইজেশন ও ডিরিয়েলাইজেশনতোতলামি ও স্টেজভীতি কাটিয়ে ওঠাতোতলামি ও স্টেজভীতি কাটিয়ে ওঠাঘর থেকে বেরোতে ভয়? সোশ্যাল অ্যাংজাইটি বোঝা ও মোকাবিলাঘর থেকে বেরোতে ভয়? সোশ্যাল অ্যাংজাইটি বোঝা ও মোকাবিলা

Talk to our psychologists

Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.

See all psychologists →