স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়: হেলথ অ্যাংজাইটি বোঝা ও সামলানো
- স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা হেলথ অ্যাংজাইটি আসলে কী
- হেলথ অ্যাংজাইটির সাধারণ লক্ষণ
- কেন সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসে
- বারবার নিশ্চিন্ত হতে চাওয়ার ফাঁদ
- হেলথ অ্যাংজাইটি ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সচেতনতার পার্থক্য
- দৈনন্দিন জীবনে নিজে নিজে যা করতে পারেন
- ওষুধ প্রসঙ্গে একটি জরুরি কথা
- কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
- ধর্মবিশ্বাস আর থেরাপি একসাথে
- চাম ওয়েলনেস কীভাবে পাশে থাকতে পারে
- সাধারণ কিছু প্রশ্ন

শরীরে সামান্য একটু ব্যথা, বুকের ভেতরে হালকা চাপ, কিংবা মাথার এক পাশে চিনচিন করা: অনেকের কাছে এগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু কারও কারও বেলায় এই ছোট্ট ব্যাপারটা থেকেই শুরু হয় দিনের পর দিন দুশ্চিন্তা। স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় যখন প্রতিদিনের জীবনে ঢুকে পড়ে, তখন সেটা আর শুধু সাবধান থাকা থাকে না, মনের ওপর একটা বোঝা হয়ে যায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা দেশের যেকোনো শহরে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন, অথচ জানেন না যে এর একটা নাম আছে, আর এর সমাধানও আছে।
ইংরেজিতে একে বলে হেলথ অ্যাংজাইটি, মানে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। এখানে আসল সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট রোগ না; সমস্যা হলো “আমার বড় কোনো অসুখ হয়ে গেছে”, এই ভয়টা যা কিছুতেই যায় না। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানব হেলথ অ্যাংজাইটি আসলে কী, কেন সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসে, বারবার কাউকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিন্ত হতে চাওয়াটা কেন উল্টো ভয় বাড়ায়, আর সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিয়ে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি বা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে) কীভাবে এই ভয় সামলানো যায়। মনে রাখবেন, এই লেখা শুধু জানার জন্য; এটা রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার পরামর্শ না।
এই লেখাটি আমাদের বড় গাইডের একটি অংশ। পুরো বিষয়টি, চিকিৎসার উপায় আর কোন সাইকোলজিস্ট সাহায্য করতে পারেন, জানতে দেখুন: হেলথ অ্যাংজাইটির চিকিৎসা।
স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় বা হেলথ অ্যাংজাইটি আসলে কী
হেলথ অ্যাংজাইটি হলো এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে একজন মানুষ ক্রমাগত ভাবতে থাকেন যে তাঁর গুরুতর কোনো শারীরিক অসুখ হয়েছে বা হতে চলেছে, যদিও চিকিৎসাগত কোনো শক্ত প্রমাণ নেই। শরীরের একদম স্বাভাবিক অনুভূতিকেও তিনি বড় রোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। যেমন হজমের সামান্য গোলমালকে ক্যান্সার, বুক ধড়ফড়কে হার্ট অ্যাটাক, বা মাথাব্যথাকে ব্রেন টিউমার ভেবে ভয় পেতে শুরু করেন।
এখানে বোঝা জরুরি যে এই মানুষগুলো “নাটক” করছেন না, কিংবা মিথ্যা বলছেন না। তাঁদের কাছে ভয়টা একদম সত্যি এবং শরীরের অস্বস্তিগুলোও বাস্তব। পার্থক্যটা হলো, অ্যাংজাইটির কারণে মস্তিষ্ক শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে অনেক বড় করে দেখায় এবং সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনাটাকেই সত্যি বলে ধরে নেয়। এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় “ক্যাটাস্ট্রোফিক থিংকিং” বা সবকিছুকে বিপর্যয় হিসেবে ভাবা।
রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা একটু-আধটু সবারই হয়। কিন্তু হেলথ অ্যাংজাইটির ক্ষেত্রে এই দুশ্চিন্তা এতটাই তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয় যে তা ঘুম, কাজ, সম্পর্ক এবং মানসিক শান্তি সবকিছু নষ্ট করে দিতে শুরু করে।
হেলথ অ্যাংজাইটির সাধারণ লক্ষণ
হেলথ অ্যাংজাইটি একেকজনের মধ্যে একেকভাবে দেখা দেয়। তবে কিছু সাধারণ ধরন প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যায়। এগুলো মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: শরীরের অনুভূতি এবং চিন্তা-আচরণের ধরন।
শরীর ও অনুভূতির দিক
- শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তন বা অনুভূতির দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ, যেমন হৃদস্পন্দন, নিঃশ্বাস বা পেটের ভেতরের নড়াচড়া বারবার লক্ষ করা।
- ঘন ঘন শরীর পরীক্ষা করা: গলায় চাকা আছে কিনা হাত দিয়ে দেখা, ত্বকের তিল খুঁটিয়ে দেখা, নাড়ির গতি মাপা।
- ভয়ের কারণে বুক ধড়ফড়, হাত-পা কাঁপা, ঘাম হওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, যা আবার নতুন করে “কিছু একটা মারাত্মক ঘটছে” এই ভয় বাড়িয়ে দেয়।
- ক্লান্তি ও অস্থিরতা, কারণ সারাক্ষণ সতর্ক থাকা মন ও শরীর দুটোকেই ক্লান্ত করে ফেলে।
চিন্তা ও আচরণের দিক
- ইন্টারনেটে বারবার রোগের লক্ষণ খোঁজা এবং প্রতিবার আরও ভয়ংকর সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া।
- বারবার টেস্ট করানো: একই সমস্যার জন্য বিভিন্ন ডাক্তার দেখানো, একই রক্ত বা স্ক্যান পরীক্ষা কয়েকবার করানো।
- পরিবার বা কাছের মানুষদের কাছে বারবার জিজ্ঞেস করা, “আমাকে দেখে কি অসুস্থ লাগছে? তুমি কি নিশ্চিত আমার কিছু হয়নি?”
- রোগের ভয়ে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলা, যেমন হাসপাতালের নাম শুনলে অস্বস্তি, অসুস্থতা নিয়ে কথা বলা মানুষদের এড়িয়ে যাওয়া, কিংবা উল্টো দিকে সারাক্ষণ শুধু রোগ নিয়েই কথা বলা।
বুক ধড়ফড় বা প্যানিকের অনুভূতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের প্যানিক অ্যাটাক ও বুক ধড়ফড় নিয়ে লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন, কারণ হেলথ অ্যাংজাইটির সঙ্গে অনেক সময় প্যানিকের লক্ষণ মিশে যায়।
কেন সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসে
এটাই হেলথ অ্যাংজাইটির সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর দিক। একজন মানুষ হয়তো রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমনকি এমআরআই পর্যন্ত করিয়ে ফেলেছেন, সব রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে, ডাক্তারও আশ্বস্ত করেছেন। তবু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবার সেই পুরনো ভয় ফিরে আসে: “রিপোর্ট হয়তো ঠিকমতো হয়নি, হয়তো কিছু একটা ধরা পড়েনি, হয়তো ডাক্তার আসল সমস্যাটা মিস করেছেন।”
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও “বড় কোনো অসুখ হয়েছে” এই ভয় ফিরে আসাটাই হেলথ অ্যাংজাইটির অন্যতম বড় লক্ষণ। কারণ সমস্যাটা আসলে শরীরে না, মন কীভাবে ভয় সামলায় সেখানে। একটা স্বাভাবিক রিপোর্ট সাময়িকভাবে স্বস্তি দেয় ঠিকই, কিন্তু অ্যাংজাইটির অভ্যাস যেহেতু রয়ে যায়, তাই মন আবার নতুন করে সন্দেহ তৈরি করে। ভয়টা যুক্তি দিয়ে তৈরি হয়নি বলেই যুক্তি বা রিপোর্ট দিয়ে সেটা স্থায়ীভাবে দূর হয় না।
ভাবতে পারেন এটা অনেকটা তৃষ্ণার মতো, যেখানে নোনা পানি খেলে সাময়িক ভেজা লাগলেও তৃষ্ণা আসলে আরও বাড়ে। বারবার টেস্ট আর আশ্বাস অনেকটা সেই নোনা পানির মতোই কাজ করে।
বারবার নিশ্চিন্ত হতে চাওয়ার ফাঁদ
হেলথ অ্যাংজাইটির কেন্দ্রে থাকে একটি চক্র, যাকে বলা যায় “বারবার নিশ্চিন্ত হতে চাওয়ার ফাঁদ”। এই চক্রটি বোঝা খুব জরুরি, কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে ভয় কেন কমে না তার আসল ব্যাখ্যা।
চক্রটা সাধারণত এভাবে চলে: শরীরে কোনো অনুভূতি হলো, মনে ভয় জাগল, সেই ভয় কমাতে মানুষটি কিছু একটা করলেন (ডাক্তার দেখানো, ইন্টারনেট ঘাঁটা, প্রিয়জনকে জিজ্ঞেস করা), সাময়িক স্বস্তি এলো, কিন্তু কিছুক্ষণ পর ভয় আবার ফিরে এলো এবং আগের চেয়ে জোরালো হলো।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট দেখা যায় যে, বারবার জিজ্ঞেস করে নিশ্চিন্ত হওয়া সাময়িক স্বস্তি দিলেও আসলে ভয়কে আরও পাকা করে তোলে। কারণ প্রতিবার আশ্বাস নেওয়ার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক শেখে যে “ভয় পাওয়াটা যুক্তিযুক্ত ছিল, তাই তো আশ্বাস খুঁজতে হলো”। ফলে পরের বার আরও অল্পতেই ভয় জেগে ওঠে এবং আশ্বাসের চাহিদাও বেড়ে যায়। এটি একটি দুষ্ট চক্র, যেখানে যত বেশি নিশ্চিত হতে চাওয়া, তত বেশি অনিশ্চয়তার ভয়।
এই কারণেই কেবল “ভয় পেয়ো না” বা “তোমার তো কিছুই হয়নি” বলে হেলথ অ্যাংজাইটি সারানো যায় না। বরং দরকার হয় এই চক্রটাকে ধীরে ধীরে ভাঙা, আর সেটা কাউন্সেলিংয়ে অনেক ভালোভাবে করা যায়।
হেলথ অ্যাংজাইটি ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সচেতনতার পার্থক্য
একটা প্রশ্ন অনেকের মনে আসে: শরীরের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত চেকআপ করানো তো ভালো অভ্যাস, তাহলে সেটা কখন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়? পার্থক্যটা মূলত মাত্রা, সময় ও প্রভাবে।
- স্বাভাবিক সচেতনতা: নির্দিষ্ট উপসর্গ হলে ডাক্তার দেখানো, বছরে হয়তো একবার রুটিন চেকআপ করানো, ডাক্তারের কথায় আশ্বস্ত হওয়া এবং এরপর নিশ্চিন্ত থাকা।
- হেলথ অ্যাংজাইটি: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার পরীক্ষা করানো, রিপোর্ট ভালো এলেও নিশ্চিন্ত না হওয়া, দিনের বড় একটা অংশ রোগের চিন্তায় কাটানো এবং এই ভয়ের কারণে দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটা।
সহজ কথায়, সচেতনতা আপনাকে যত্ন নিতে সাহায্য করে আর নিশ্চিন্ত রাখে; কিন্তু হেলথ অ্যাংজাইটি আপনাকে সারাক্ষণ ভয়ের ভেতর রাখে এবং জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নেয়।
দৈনন্দিন জীবনে নিজে নিজে যা করতে পারেন
সাইকোলজিস্টের সাহায্যের পাশাপাশি কিছু অভ্যাস স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় সামলাতে সহায়ক হতে পারে। এগুলো কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে দৈনন্দিন জীবনে ভয়ের চক্রটা শিথিল করতে কাজে লাগে।
- লক্ষণ খোঁজা কমিয়ে আনুন: শরীর বারবার পরীক্ষা করা বা গুগলে উপসর্গ খোঁজার অভ্যাসটা ধীরে ধীরে সীমিত করার চেষ্টা করুন। একবারে বন্ধ করা কঠিন, তাই ছোট ছোট ধাপে এগোন।
- আশ্বাস চাওয়ার বিষয়ে সচেতন হোন: যখনই প্রিয়জনকে “আমার কি কিছু হয়েছে” জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করবে, একটু থেমে লক্ষ করুন যে এটা বারবার নিশ্চিন্ত হতে চাওয়ার সেই ফাঁদ কিনা।
- শ্বাস ও শিথিলকরণের অনুশীলন: ধীর, গভীর শ্বাস এবং মাংসপেশি শিথিল করার সহজ ব্যায়াম শরীরের উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে।
- মনোযোগ বর্তমানে ফেরানো: মাইন্ডফুলনেস বা বর্তমান মুহূর্তে মন ফেরানোর চর্চা ভবিষ্যতের ভয়ে হারিয়ে যাওয়া মনকে থামাতে সহায়ক।
- নিয়মিত জীবনযাপন: পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা শরীরচর্চা এবং সুষম খাবার সামগ্রিক অ্যাংজাইটি কমাতে ভূমিকা রাখে।
- ক্যাফেইন ও ঘুমের দিকে খেয়াল: অতিরিক্ত চা-কফি ও অনিয়মিত ঘুম শরীরে এমন অনুভূতি তৈরি করে যা ভয়কে বাড়িয়ে দিতে পারে।
দুশ্চিন্তা ও অ্যাংজাইটি কমানোর আরও কিছু বাস্তব কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পড়তে দেখে নিতে পারেন আমাদের দুশ্চিন্তা কমানোর উপায় নিয়ে লেখাটি।
তবে মনে রাখা জরুরি, এই কৌশলগুলো ভয় সাময়িকভাবে সামলাতে সাহায্য করলেও, যখন ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয়ে জীবনকে আটকে ফেলে, তখন একজন প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্টের সাহায্যই সবচেয়ে কাজের।
এখনই চেষ্টা করুন: দুশ্চিন্তাটা একটু পরে রাখুন
দুশ্চিন্তা এখনই মনোযোগ চায়। চাইলে এর জন্য পরে একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে পারেন।
ওষুধ প্রসঙ্গে একটি জরুরি কথা
স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের সঙ্গে অনেক সময় ঘুমের সমস্যা বা তীব্র অ্যাংজাইটি যুক্ত থাকে, এবং কেউ কেউ নিজে থেকেই ওষুধ শুরু বা বন্ধ করার কথা ভাবেন। এখানে স্পষ্টভাবে বলা দরকার, ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য চিকিৎসকের সাথে নিতে হবে। নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু, বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ, এই দুটি একসঙ্গে অনেকের ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়।
কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় কিছুটা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু নিচের অবস্থাগুলো দেখা দিলে একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলার কথা ভাবা উচিত।
- রোগের ভয় দিনের বড় একটা সময় দখল করে রাখছে এবং কাজে মন বসছে না।
- সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও ভয় ফিরে আসছে এবং বারবার নতুন পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
- এই ভয়ের কারণে ঘুম, পড়াশোনা, চাকরি বা পারিবারিক সম্পর্কে সমস্যা হচ্ছে।
- বারবার কাউকে জিজ্ঞেস করা, ইন্টারনেটে রোগ খোঁজা বা শরীর পরীক্ষা করার অভ্যাস দিন দিন বাড়ছে।
- ভয়ের সঙ্গে বুক ধড়ফড়, প্যানিক বা মন খারাপের মতো অনুভূতি যুক্ত হচ্ছে।
- নিজে থেকে অনেক চেষ্টা করেও ভয়ের চক্র থেকে বের হতে পারছেন না।
সাহায্য নেওয়া কোনো দুর্বলতা না; নিজের খেয়াল রাখতে সাহস লাগে। প্রমাণিত কাউন্সেলিং পদ্ধতি, বিশেষ করে সিবিটি (CBT), হেলথ অ্যাংজাইটির চক্র বুঝতে ও ভাঙতে সাহায্য করে।
ধর্মবিশ্বাস আর থেরাপি একসাথে
আমাদের সমাজে অনেকে প্রার্থনা, ধৈর্য ও বিশ্বাসের মধ্যে মানসিক শান্তি খুঁজে পান, যা সত্যিই মূল্যবান। বিশ্বাসের এই শক্তি আর থেরাপি একটা আরেকটার প্রতিদ্বন্দ্বী না, বরং একসাথে চলতে পারে। বিশ্বাস মানসিক প্রশান্তি দেয়, আর দরকার হলে একজন প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট ভয়ের ধরনটা বুঝে সামলাতে সাহায্য করেন। দুটো একসাথে কাজে লাগানোই অনেকের জন্য সবচেয়ে ভালো।
চাম ওয়েলনেস কীভাবে পাশে থাকতে পারে
চাম ওয়েলনেসে আমরা সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলরদের মাধ্যমে গোপনীয় ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে কাউন্সেলিং দিয়ে থাকি। আমরা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে সেবা দিই এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি বসেও সেশন নেওয়া যায়, তাই আপনি ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা কিংবা চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, দেশের যেখানেই থাকুন না কেন সাহায্য নাগালের মধ্যেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে।
স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় আপনার জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নিচ্ছে মনে হলে আজই একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন। আমাদের অ্যাংজাইটি কাউন্সেলিং সেবা সম্পর্কে জানুন, অথবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন। ভয়ের চক্র ভাঙা যায়, আর শুরু করতে দেরি করার দরকার নেই।
আরও পড়ুন: মৃত্যু ভয় কি মানসিক রোগ? কারণ ও কাটিয়ে ওঠার উপায়
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
সব টেস্ট স্বাভাবিক আসার পরও রোগের ভয় থাকে কেন?
কারণ হেলথ অ্যাংজাইটিতে সমস্যাটা আসলে শরীরে না, মন কীভাবে ভয় সামলায় সেখানে। স্বাভাবিক রিপোর্ট সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু অ্যাংজাইটির অভ্যাস থেকে যাওয়ায় মন আবার নতুন সন্দেহ তৈরি করে। এই ভয় যুক্তি দিয়ে তৈরি হয় না বলে কেবল রিপোর্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে দূর হয় না; এর জন্য দরকার কাউন্সেলিং নিয়ে ভয়ের চক্রটা ভাঙা।
বারবার টেস্ট করানো বা আশ্বাস চাওয়া কি ভালো?
সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায় বারবার জিজ্ঞেস করে নিশ্চিন্ত হতে চাওয়া আসলে ভয়কে আরও পাকা করে তোলে। প্রতিবার আশ্বাস নেওয়ার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ক শেখে যে ভয় পাওয়াটা যুক্তিযুক্ত ছিল, ফলে পরের বার আরও অল্পতেই ভয় জাগে। এটা একটা দুষ্ট চক্র, আর এটা ভাঙার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একজন প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া।
স্বাস্থ্য সচেতনতা আর হেলথ অ্যাংজাইটির পার্থক্য কী?
স্বাভাবিক সচেতনতায় নির্দিষ্ট উপসর্গে ডাক্তার দেখানো হয় এবং আশ্বস্ত হয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। হেলথ অ্যাংজাইটিতে স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার পরীক্ষা করানো হয়, রিপোর্ট ভালো এলেও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না এবং দিনের বড় অংশ রোগের ভয়ে কাটে যা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।
স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের জন্য কি ঢাকার বাইরে থেকেও সাহায্য নেওয়া যায়?
হ্যাঁ। চাম ওয়েলনেস সারা বাংলাদেশে অনলাইনে কাউন্সেলিং সেবা দেয়, তাই চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ দেশের যেকোনো জায়গা থেকে সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা যায়। ঢাকায় ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরার মতো এলাকা থেকে সরাসরি বসেও সেশন নেওয়া সম্ভব।
How this article was made
- Written by
- Twasin Sultana, Assistant Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Farzana Sultana Nila, Clinical Psychologist
- Last updated
- October 29, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.
Psychologists who help with anxiety & stress
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






