দুশ্চিন্তা কমানোর উপায়: লক্ষণ, কারণ ও সমাধান

Ishrat Shermin Rahman
Clinical reviewerIshrat Shermin RahmanClinical Psychologist · M.Sc. & M.Phil in Clinical Psychology (University of Dhaka) · BCPS memberLast updated October 2026 · How we review

ছোট উত্তর: দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির সবচেয়ে কাজের উপায় হলো চিন্তাগুলো খাতায় লিখে ফেলা, দিনে একটা নির্দিষ্ট “দুশ্চিন্তার সময়” রাখা, এড়িয়ে না গিয়ে ছোট পদক্ষেপ নেওয়া, ধীরে শ্বাস নেওয়া আর রাতে ফোন দূরে রাখা। কয়েক সপ্তাহেও না কমলে CBT-র মতো থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর।

  • এখনই অস্থির লাগছে? ৪ গুনে শ্বাস নিন, ৬ গুনে ছাড়ুন, কয়েক মিনিট।
  • দুশ্চিন্তা আর anxiety এক নয়: দুশ্চিন্তা সবার হয়, anxiety তখন যখন তা থামে না, শরীরেও টের পাওয়া যায় আর দৈনন্দিন জীবনে বাধা দেয়।

আপনার দুশ্চিন্তা কতটা? ২ মিনিটে দেখে নিন

GAD-7 দুশ্চিন্তা মাপার একটি স্বীকৃত প্রশ্নমালা। ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিলেই স্কোর দেখাবে, উত্তর আপনার ফোনেই থাকে। Chum Wellness-এ আসা সেশন অনুরোধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে (৩২%) দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত চিন্তার কথা থাকে, তাই আপনি একা নন।

দুশ্চিন্তার টেস্ট দিন (GAD-7, ২ মিনিট) →

রাত গভীর হলে যখন চারপাশ একদম চুপচাপ, তখনই কি আপনার মাথায় হাজারো চিন্তা ভিড় করে? আগামীকাল কী হবে, লোকে কী ভাবছে, টাকাপয়সা কীভাবে সামলাবেন, এমন এক অন্তহীন চক্রে আটকে গেলে দুশ্চিন্তা কমানোর উপায় খোঁজা খুবই স্বাভাবিক। দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আসলে আমাদের মনের একটি সতর্কবার্তা। কিন্তু এই চিন্তা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে, তখন সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

ভিডিওতে দেখুন:

এই লেখাটি আমাদের বড় গাইডের একটি অংশ। পুরো বিষয়টি, চিকিৎসার উপায় আর কোন সাইকোলজিস্ট সাহায্য করতে পারেন, জানতে দেখুন: ওভারথিংকিং-এর সমাধান।

দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত চিন্তা আসলে কী

দুশ্চিন্তা মানে কী? দুশ্চিন্তা শব্দের অর্থ হলো কোনো বিষয় নিয়ে মাত্রাছাড়া বা খারাপ কিছু হওয়ার ভয়মেশানো চিন্তা, ইংরেজিতে যাকে worry বলে। দুশ্চিন্তা যখন সহজে থামে না আর শরীরেও টের পাওয়া যায়, তখন সেটা anxiety-র দিকে যায়।

দুশ্চিন্তা হলো ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাব্য খারাপ ঘটনা নিয়ে বারবার ভয় বা অস্থিরতা feel করা। অল্পস্বল্প দুশ্চিন্তা আমাদের সবারই হয়, পরীক্ষার আগে কিংবা নতুন কোনো কাজের শুরুতে এটি স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চিন্তা, ইংরেজিতে যাকে overthinking বলা হয়, তা তখনই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন একই ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে অথচ কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায় না।

মানসিক স্বাস্থ্য কী এবং কেন এটি আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ে দেখতে পারেন আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য কী লেখাটি। দুশ্চিন্তা মূলত সেই বৃহত্তর মানসিক স্বাস্থ্যেরই একটি অংশ।

দুশ্চিন্তার সাধারণ লক্ষণ

দুশ্চিন্তা শুধু মনে নয়, শরীরেও তার ছাপ ফেলে। অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেখেন এবং বুঝতে পারেন না যে এগুলো আসলে একই সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।

মানসিক লক্ষণ

  • একই বিষয় নিয়ে বারবার ভাবা এবং সবচেয়ে খারাপটা কল্পনা করা
  • মন শান্ত না হওয়া, ভেতরে ভেতরে অস্থির লাগা
  • মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা এবং সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা
  • ছোট বিষয়েও অতিরিক্ত বিরক্ত বা খিটখিটে হয়ে যাওয়া

শারীরিক লক্ষণ

  • বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাস নিতে অস্বস্তি
  • ঘুম না আসা বা ঘুম ভেঙে যাওয়া
  • মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা বা মাংসপেশিতে টান
  • সবসময় ক্লান্ত ও নিস্তেজ feel করা

এই শারীরিক অস্বস্তি অনেক সময় হঠাৎ তীব্র আকার নিতে পারে, যাকে প্যানিক অ্যাটাক বলা হয়। বুক ধড়ফড় ও প্যানিকের এই অনুভূতি নিয়ে আরও জানতে পড়ুন আমাদের প্যানিক অ্যাটাক ও বুক ধড়ফড় নিয়ে লেখাটি।

দুশ্চিন্তা কখন “স্বাভাবিক” আর কখন সমস্যা, সেই সীমারেখাটা জানা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী উদ্বেগজনিত সমস্যা বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ মানসিক সমস্যা, এবং কার্যকর চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও আক্রান্তদের খুব অল্প সংখ্যকই সেই চিকিৎসা নেন। অর্থাৎ দুশ্চিন্তা নিয়ে ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা যত, সাহায্য নেওয়া মানুষের সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম।

বাংলাদেশেও ছবিটা একই রকম। ২০১৯ সালের একটি দেশব্যাপী জরিপে ৭,২৭০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় ৪.৭% মানুষের অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার পাওয়া গেছে (Alam et al., 2024)। মানে মানসিক দুশ্চিন্তা আর অ্যাংজাইটির সমস্যা আমাদের চারপাশে খুবই সাধারণ, লজ্জার কিছু না।

দুশ্চিন্তা বাড়ার পেছনে কারণগুলো

দুশ্চিন্তার কোনো একটিমাত্র কারণ নেই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ এবং চারপাশের চাপ, সব মিলিয়েই এটি তৈরি হয়।

সামাজিক ও পারিবারিক চাপ

আমাদের সমাজে লোকে কী বলবে, এই ভাবনা অনেকের মনেই গভীর দুশ্চিন্তার জন্ম দেয়। বিয়ে, ক্যারিয়ার, পড়াশোনা কিংবা পারিবারিক প্রত্যাশা নিয়ে যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা অনেকেই নীরবে চাপ বহন করেন। এই চাপ প্রকাশ করার জায়গা না থাকলে দুশ্চিন্তা আরও জমতে থাকে।

শহুরে জীবনের বাড়তি চাপ

আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় আমরা প্রায়ই দেখি, ঢাকার মতো শহরে দৈনন্দিন যানজট, দীর্ঘ যাতায়াত এবং দিন দিন বাড়তে থাকা খরচের চাপ মানুষের ভেতরের দুশ্চিন্তা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকা কিংবা মাস শেষে খরচ মেলানোর দুশ্চিন্তা ধীরে ধীরে মনকে ক্লান্ত করে ফেলে, অথচ আমরা অনেক সময় এটিকে স্বাভাবিক ধরে নিই।

এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস

আমাদের অভিজ্ঞতায় দুটি বিষয় বেশ প্রচলিত। প্রথমটি হলো এক ধরনের বেড়ানোর মিথ। অনেকে জমে থাকা দুশ্চিন্তা সাময়িকভাবে ভুলে থাকতে বারবার কোথাও ঘুরতে চলে যান, যেমন কক্সবাজার। ঘুরে এসে কিছুদিন হালকা লাগে ঠিকই, কিন্তু মনের ভেতরের মূল সমস্যাটি একই থেকে যায় এবং কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে।

দ্বিতীয়টি হলো মাঝরাতের চক্র। রাতে হঠাৎ তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়, বুক ধড়ফড় করে, ঘুম আসে না। কিন্তু পরদিন সকালে একটু ভালো লাগলে অনেকে ভাবেন সব ঠিক হয়ে গেছে, ফলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এভাবে সমস্যাটি বারবার ফিরে আসতে থাকে, অথচ মূল থেকে কখনোই সমাধান হয় না।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে কী হয়

অল্প দুশ্চিন্তা আমাদের সাবধান রাখে। কিন্তু দিনের পর দিন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা চললে মন আর শরীর দুটোতেই তার দাম দিতে হয়:

  • ঘুমের সমস্যা: শুয়ে পড়লেই চিন্তা শুরু, ঘুম আসতে দেরি হয় বা মাঝরাতে ভেঙে যায়।
  • শরীরে চাপ: মাথাব্যথা, ঘাড়-কাঁধ শক্ত হয়ে থাকা, বুক ধড়ফড়, পেটের গোলমাল আর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে।
  • সবসময় ক্লান্তি: কিছু না করেও শরীর আর মন দুটোই অবসন্ন লাগে।
  • মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়া বা কাজে মন বসে না, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়।
  • খিটখিটে মেজাজ: ছোট কথাতেই রাগ হয়, সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে।
  • anxiety disorder-এর ঝুঁকি: দীর্ঘদিন চললে দুশ্চিন্তা generalized anxiety বা panic-এর মতো সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

তাই দুশ্চিন্তাকে “এমনিতেই চলে যাবে” ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে শুরুতেই সামলানো ভালো।

দুশ্চিন্তা কমানোর উপায় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি

দুশ্চিন্তা রাতারাতি মিলিয়ে যায় না, তবে কিছু অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে এর ভার অনেকটাই হালকা হয়ে আসে। নিচের উপায়গুলো ধীরে ধীরে জীবনে যুক্ত করার চেষ্টা করুন।

শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা

যখন মন অস্থির লাগে, তখন ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। কয়েক মিনিট এভাবে শ্বাসের দিকে মন দিলে শরীর কিছুটা শান্ত হয় এবং চিন্তার গতি কমে আসে।

চিন্তা লিখে ফেলা

মাথায় ঘুরতে থাকা চিন্তাগুলো একটি খাতায় লিখে ফেলুন। কোনটি নিয়ে আপনি সত্যিই কিছু করতে পারবেন আর কোনটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা আলাদা করে দেখুন। এতে অতিরিক্ত চিন্তার চাপ কিছুটা কমে আসে।

দৈনন্দিন রুটিন ও ঘুম

নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা এবং সময়মতো খাওয়াদাওয়া মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের সমস্যা দুশ্চিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, তাই ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার জানতে দেখে নিতে পারেন আমাদের ঘুম না আসার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে লেখাটি।

মানসিক চাপ সামলানো

দুশ্চিন্তার সঙ্গে মানসিক চাপ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাজ, সম্পর্ক আর দায়িত্বের চাপ কীভাবে সামলাবেন, সেটা নিয়ে আরও পড়ুন মানসিক চাপ কমানোর উপায় নিয়ে আমাদের বিস্তারিত লেখাটি।

চিন্তার জন্য সময় বেঁধে দিন

সারাদিন দুশ্চিন্তার সাথে লড়াই না করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১৫ মিনিট “দুশ্চিন্তার সময়” রাখুন। দিনের মধ্যে চিন্তা এলে নিজেকে বলুন, “এটা সন্ধ্যায় দেখবো”। নির্দিষ্ট সময়ে চিন্তাগুলো লিখে সমাধানযোগ্যগুলোর জন্য একটা ছোট পদক্ষেপ ঠিক করুন। অনেকের ক্ষেত্রে এতে দিনের বাকি সময়টা অনেক হালকা লাগে।

এড়িয়ে না গিয়ে ছোট পদক্ষেপ নিন

যে কাজ, ফোনকল বা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে, সেটা এড়িয়ে গেলে সাময়িক স্বস্তি আসে, কিন্তু দুশ্চিন্তা পরে আরো বাড়ে। পুরো কাজটা না পারলে প্রথম ছোট অংশটা করুন। কাজ শুরু করলে মস্তিষ্ক বোঝে বিষয়টা যতটা ভয়ংকর ভাবা হচ্ছিল ততটা না।

নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন

দুশ্চিন্তা হলে নিজেকে দোষ দেবেন না। মন খারাপ বা উদ্বেগ থাকা মানে আপনি দুর্বল নন। বিশ্বাস করা যায় এমন কারও সঙ্গে খোলাখুলি কথা বললেও অনেকটা ভার হালকা হয়ে আসে।

এখনই চেষ্টা করুন: দুশ্চিন্তাটা একটু পরে রাখুন

দুশ্চিন্তা এখনই মনোযোগ চায়। চাইলে এর জন্য পরে একটা নির্দিষ্ট সময় দিতে পারেন।

অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তির উপায়: রাতের জন্য কিছু কৌশল

অনেকের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি বাড়ে রাতে শোয়ার পর। তখন এগুলো কাজে দিতে পারে:

  • শোয়ার এক ঘণ্টা আগে ফোন সরিয়ে রাখুন: খবর, ফেসবুক আর অফিসের মেসেজ মনকে আবার সজাগ করে তোলে।
  • বিছানার পাশে খাতা রাখুন: মাথায় চিন্তা এলে দুই লাইনে লিখে রাখুন, সকালে দেখবেন বলে নিজেকে কথা দিন।
  • শ্বাস ছাড়ার সময় একটু লম্বা করুন: চার গুনে শ্বাস নিন, ছয় গুনে ছাড়ুন, কয়েক মিনিট।
  • ২০ মিনিটেও ঘুম না এলে উঠে পড়ুন: অল্প আলোয় অন্য ঘরে কিছুক্ষণ বসে থাকুন, ঘুম পেলে আবার শুতে যান।
  • বিকেলের পর চা-কফি কমান: ক্যাফেইন রাতের অস্থিরতা বাড়ায়।

রাতে হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে গেলে সেটা প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে; সে বিষয়ে পড়ুন প্যানিক অ্যাটাক কি।

কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন

নিজের চেষ্টায় অনেক সময় দুশ্চিন্তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে একজন psychologist-এর সাথে কথা বলা জরুরি। নিচের যেকোনোটি আপনার সঙ্গে মিলে গেলে দেরি না করাই ভালো।

  • দুশ্চিন্তা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে এবং দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা সম্পর্ক ব্যাহত হচ্ছে
  • ঘুম, খাওয়া বা মনোযোগে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে
  • বারবার প্যানিকের অনুভূতি বা তীব্র শারীরিক অস্বস্তি হচ্ছে
  • নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন এবং কোনো কিছুতেই ভালো লাগছে না

একজন certified psychologist বা কাউন্সেলর যত্ন সহকারে আপনার সমস্যা বোঝেন এবং থেরাপি ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দুশ্চিন্তা সামলানোর কার্যকর উপায় শিখতে সাহায্য করেন। এখানে ওষুধ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত থাকলে তা অবশ্যই একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। গবেষণায় দেখা যায়, সঠিক সময়ে psychologist-এর সাথে কথা বললে দুশ্চিন্তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আপনি চাইলে আমাদের অভিজ্ঞ psychologist-দের সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। দুশ্চিন্তা যদি অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে চিকিৎসা কিভাবে হয় তা জানতে দেখুন দুশ্চিন্তা ও অ্যাংজাইটির কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা, আর বিস্তারিত পড়ুন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার কি।

কখনো দুশ্চিন্তা এত তীব্র হয় যে নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে বা নিজেকে নিরাপদ মনে হয় না, তাহলে এখনই ৯৯৯ নম্বরে কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

শেষ কথা

দুশ্চিন্তা আপনার জীবনের চিরস্থায়ী অংশ হতে হবে না। ছোট ছোট অভ্যাস আর সঠিক সময়ে সহায়তা নিলে মন অনেকটাই হালকা হয়ে ওঠে। Chum Wellness-এ আমাদের certified psychologist ও কাউন্সেলররা সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি কাউন্সেলিং ও থেরাপি দিয়ে থাকেন। সেশন ফি সাইকোলজিস্ট অনুযায়ী ১,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা, বুক করার আগেই দেখা যায় (ফি দেখুন)। নিজের মনের যত্ন নিতে আজই একটি সেশন বুক করুন এবং প্রথম পদক্ষেপটি নিন।

আরও পড়ুন: বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার আগে দুশ্চিন্তা: কিভাবে সামলাবেন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

দুশ্চিন্তা কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

শুরুতে ছোট ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করা ভালো। ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, মাথায় ঘুরতে থাকা চিন্তাগুলো খাতায় লিখে ফেলা, নিয়মিত ঘুম ও হালকা হাঁটা মনকে অনেকটাই শান্ত করে। তবে দুশ্চিন্তা দীর্ঘদিন ধরে চললে একজন certified psychologist-এর সাথে কথা বলা সবচেয়ে কার্যকর।

অতিরিক্ত চিন্তা কি কোনো মানসিক সমস্যা?

মাঝেমধ্যে অল্প চিন্তা স্বাভাবিক। কিন্তু একই ভাবনা যদি বারবার ঘুরপাক খায়, ঘুম ও মনোযোগে সমস্যা তৈরি করে এবং দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে, তখন এটি উদ্বেগজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে psychologist-এর সাথে কথা বলা ভালো।

ঘুরতে গেলে কি দুশ্চিন্তা কমে যায়?

আমাদের অভিজ্ঞতায় ঘুরতে গেলে সাময়িক আরাম মেলে, কিন্তু মনের ভেতরের মূল সমস্যাটি একই থেকে যায় এবং কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে। তাই বেড়ানোর পাশাপাশি সমস্যার মূল কারণ নিয়ে কাজ করা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নেওয়া জরুরি।

Chum Wellness-এ দুশ্চিন্তার জন্য কীভাবে সাহায্য পাব?

Chum Wellness-এ certified psychologist ও কাউন্সেলররা সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি কাউন্সেলিং ও থেরাপি দিয়ে থাকেন। সেশন ফি সাইকোলজিস্ট অনুযায়ী ১,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা, বুক করার আগেই দেখা যায় (ফি দেখুন)। আপনি সহজেই একটি সেশন বুক করতে পারেন।

দুশ্চিন্তা করলে কি হয়?

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ঘুম কমে যায়, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় আর পেটের সমস্যা বাড়ে, সবসময় ক্লান্ত লাগে আর মনোযোগ কমে যায়। দীর্ঘদিন চললে এটা anxiety disorder-এর দিকে যেতে পারে, তাই শুরুতেই সামলানো দরকার।

অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তির উপায় কি?

চিন্তাগুলো লিখে ফেলা, দিনে একটা নির্দিষ্ট “দুশ্চিন্তার সময়” রাখা, এড়িয়ে না গিয়ে ছোট পদক্ষেপ নেওয়া, ধীরে শ্বাস নেওয়া আর রাতে ফোন দূরে রাখা সাহায্য করে। কয়েক সপ্তাহেও না কমলে CBT-র মতো থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর।

দুশ্চিন্তা আর anxiety কি একই জিনিস?

পুরোপুরি এক নয়। দুশ্চিন্তা হলো কোনো বিষয় নিয়ে ভয় বা অস্থির চিন্তা, যা সবারই মাঝেমধ্যে হয়। anxiety তখন বলা হয় যখন এই চিন্তা মাত্রা ছাড়ায়, সহজে থামে না, শরীরেও লক্ষণ দেখা দেয় আর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।

How this article was made
Written by
Farzana Sultana Nila, Clinical Psychologist
Clinical reviewer
Ishrat Shermin Rahman, Clinical Psychologist
Last updated
October 27, 2026

Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error

লেখাটা কি কাজে লাগল?

Where to go from here

Three next steps, from lightest to most support.

Step 1
Check how you’re doingA free, private self-check. It takes about 3 minutes.Take the self-check
Step 2
Understand Overthinking fullySymptoms, treatment options and costs in Bangladesh, in one place.Read the guide
Step 3Farzana Sultana Nila
Talk to FarzanaThe psychologist who wrote this article. Online, in Bangla or English. View profileBook with Farzana

Keep Reading

পরীক্ষার চাপ ও ভয় সামলানোর উপায়: SSC, HSC ও ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্যআত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়: নিজেকে ছোট করে দেখা কাটিয়ে ওঠাজীবনে উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না? শূন্যতা ও অর্থহীনতার অনুভূতি

Psychologists who help with anxiety & stress

Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.

Farzana Sultana Nila
Farzana Sultana NilaClinical Psychologist · 15+ yearsHelps with anxiety, stressFrom ৳3,000ProfileBook
Shah Vashwati Madhurima
Shah Vashwati MadhurimaPsychologist | Mental Health Counselor | Psychotherapist · 10+ yearsHelps with stress, anxietyFrom ৳2,000ProfileBook
Tahmina Sarker Prokrity
Tahmina Sarker ProkrityAssistant Clinical Psychologist · 7+ yearsHelps with anxiety, academic & study stressFrom ৳2,500ProfileBook
See all psychologists →