শিশুর জন্য psychologist: কখন দরকার, সেশনে কী হয়

সন্তানের হঠাৎ বদলে যাওয়া আচরণ, স্কুলে যেতে না চাওয়া, ঘন ঘন রাগ কিংবা একা হয়ে যাওয়া দেখে অনেক বাবা-মা বুঝতে পারেন না ঠিক কী করা উচিত। এই জায়গাতেই শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট একটি বড় ভূমিকা রাখেন। ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য শহরে এখন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, এবং একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড সাইকোলজিস্ট (শিশু মনোবিজ্ঞানী) সন্তানের অনুভূতি, আচরণ ও বিকাশ বুঝতে পরিবারকে সাহায্য করেন। এটি কোনো “পাগলামি” নয়, বরং সন্তানের সুস্থ বেড়ে ওঠার একটি স্বাভাবিক অংশ।
এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য কী, কখন একজন সাইকোলজিস্টের কাছে যাওয়া দরকার, সেশনে আসলে কী হয়, এবং বাবা-মা হিসেবে আপনি কীভাবে সন্তানকে সাহায্য করতে পারেন। চাম ওয়েলনেস ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরাসহ পুরো শহরে এবং অনলাইনে সারা বাংলাদেশজুড়ে শিশু-কিশোরদের জন্য গোপনীয় ও পেশাদার সহায়তা দিয়ে থাকে।
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য মানে কী
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বলতে বোঝায় সন্তানের অনুভূতি সামলানোর ক্ষমতা, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা, নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বয়স অনুযায়ী শেখা ও বেড়ে ওঠা। শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই এটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু কখনো কখনো দুঃখ পাবে, রাগ করবে বা ভয় পাবে, এটা একদম স্বাভাবিক। সমস্যা তখন হয় যখন এই অনুভূতিগুলো দীর্ঘদিন থাকে, তীব্র হয় এবং তার প্রতিদিনের জীবন, পড়াশোনা বা সম্পর্কে বাধা তৈরি করে।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেক অভিভাবক সন্তানের আচরণকে শুধু “দুষ্টুমি” বা “জেদ” মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু আচরণের পেছনে প্রায়ই লুকিয়ে থাকে না-বলা কোনো অনুভূতি বা চাপ। শিশু অনেক সময় মুখে বলতে পারে না, তাই সে তার কষ্ট প্রকাশ করে আচরণ দিয়ে।
শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট কখন দরকার
প্রতিটি শিশু আলাদা, তাই সব শিশুর জন্য একই নিয়ম খাটে না। তবে কিছু লক্ষণ দেখলে একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট-এর পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিচের বিষয়গুলো যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং সন্তানের স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে অপেক্ষা না করাই ভালো।
আচরণগত পরিবর্তন
- হঠাৎ অতিরিক্ত রাগ, জেদ বা আক্রমণাত্মক আচরণ
- ঘন ঘন কান্না বা অকারণে মন খারাপ থাকা
- আগে যা ভালোবাসত সেসব খেলা বা কাজে আর আগ্রহ না থাকা
- বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া, একা থাকতে চাওয়া
স্কুল ও পড়াশোনা সংক্রান্ত
- স্কুলে যেতে প্রবল অনীহা বা ভয় (স্কুল ফোবিয়া)
- মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, পড়ায় হঠাৎ পিছিয়ে পড়া
- পরীক্ষা বা শিক্ষকের ভয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ
শারীরিক ও ঘুম-খাওয়ার লক্ষণ
- বারবার পেট ব্যথা বা মাথা ব্যথার অভিযোগ, যার শারীরিক কারণ পাওয়া যায় না
- ঘুমে সমস্যা, দুঃস্বপ্ন বা বিছানায় প্রস্রাব করা (নির্দিষ্ট বয়সের পরেও)
- খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন
বড় কোনো পরিবর্তনের পরও শিশুর অতিরিক্ত সহায়তা লাগতে পারে, যেমন পরিবারে বিচ্ছেদ, প্রিয় কারও মৃত্যু, নতুন শহরে বা স্কুলে যাওয়া, কিংবা কোনো দুর্ঘটনা। এই সময়ে সন্তানের আচরণে পরিবর্তন দেখলে কখন দেখাবেন তা নিয়ে দ্বিধা না রেখে একজন পেশাদারের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
সেশনে আসলে কী হয়
অনেক বাবা-মা ভাবেন সাইকোলজিস্টের কাছে গেলে শিশুকে হয়তো কঠিন প্রশ্ন করা হবে বা ওষুধ দেওয়া হবে। বাস্তবে শিশুদের সেশন সম্পূর্ণ আলাদা এবং শিশুবান্ধব। এখানে শেখানো বা বকা দেওয়া হয় না, বরং শিশু যেন নিরাপদ বোধ করে সেভাবে পরিবেশ তৈরি করা হয়।
প্রথম সেশন: পরিচয় ও তথ্য নেওয়া
শুরুতে সাইকোলজিস্ট সাধারণত বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে সন্তানের ইতিহাস, বাড়ির পরিবেশ, স্কুলের অবস্থা ও উদ্বেগের জায়গাগুলো বোঝেন। এটিকে বলা হয় অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন। এর মাধ্যমে সমস্যার শিকড় খোঁজা হয়, তাড়াহুড়ো করে কোনো লেবেল দেওয়া হয় না।
খেলার মাধ্যমে থেরাপি
ছোট শিশুরা কথায় নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না, তাই তাদের জন্য প্লে থেরাপি (খেলার মাধ্যমে থেরাপি) ব্যবহার করা হয়। ছবি আঁকা, পুতুল দিয়ে গল্প বানানো বা খেলনার মাধ্যমে শিশু তার ভেতরের অনুভূতি প্রকাশ করে। প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট এই খেলা থেকে বুঝতে পারেন শিশুর মনে কী চলছে।
বড় শিশু ও কিশোরদের জন্য
বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে কথোপকথন, অনুভূতি চিহ্নিত করা এবং সহজ কিছু কৌশল শেখানো হয় যাতে তারা রাগ, উদ্বেগ বা ভয় সামলাতে শেখে। এখানে সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়, তবে নিরাপত্তার বিষয় থাকলে বাবা-মাকে যথাযথভাবে জানানো হয়।
বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ
শিশুর থেরাপিতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইকোলজিস্ট প্রায়ই বাবা-মাকে গাইড করেন কীভাবে বাড়িতে সন্তানের সঙ্গে কথা বলবেন, সীমা নির্ধারণ করবেন এবং ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহ দেবেন। থেরাপি শুধু সেশনের ভেতরে নয়, বাড়িতেও চলতে থাকে।
শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট নিয়ে কিছু ভুল ধারণা
বাংলাদেশে অনেক পরিবার এখনো সন্তানকে সাইকোলজিস্টের কাছে নিতে সংকোচ করেন। এর পেছনে থাকে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা, যা দূর করা দরকার।
- “শুধু গুরুতর সমস্যা হলেই যেতে হয়”, বাস্তবে ছোট সমস্যা সময়মতো সমাধান করলে বড় হওয়া থেকে ঠেকানো যায়।
- “লোকে খারাপ বলবে”, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বের প্রমাণ।
- “সাইকোলজিস্ট মানেই ওষুধ”, সাইকোলজিস্ট মূলত কথা ও কৌশলভিত্তিক থেরাপি দেন। প্রয়োজন হলে ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয়।
- “সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে”, কিছু সমস্যা নিজে থেকেই কমে, তবে অনেকক্ষেত্রে অপেক্ষা করলে তা আরও জটিল হয়।
মানসিক চাপ ও সমস্যা মোকাবিলার সাধারণ কিছু কৌশল সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের মানসিক সমস্যা দূর করার উপায় লেখাটি পড়তে পারেন, এবং চাপ কমানোর ব্যবহারিক উপায় জানতে দেখুন মানসিক চাপ কমানোর উপায়।
বাবা-মা হিসেবে বাড়িতে যা করতে পারেন
সাইকোলজিস্টের সহায়তার পাশাপাশি ঘরের পরিবেশ শিশুর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে। কিছু সহজ অভ্যাস সন্তানের আচরণ ও অনুভূতিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
- সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন, তাড়াহুড়ো করে সমাধান বা বকা দেওয়ার আগে বুঝতে চেষ্টা করুন।
- অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না, “কাঁদবে না” না বলে “তুমি কষ্ট পেয়েছ, আমি বুঝতে পারছি” বলুন।
- একটি নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন, শিশু নিরাপত্তা বোধ করে যখন দিন অনুমেয় থাকে।
- স্ক্রিন টাইম ও ঘুমের সময়ের ভারসাম্য রাখুন।
- তুলনা এড়িয়ে চলুন, প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার গতি আলাদা।
- নিজেদের মধ্যে বড় ঝগড়া শিশুর সামনে না করার চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, বাবা-মায়ের নিজের মানসিক অবস্থাও সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। আপনি যদি নিজেই অতিরিক্ত চাপে থাকেন, নিজের যত্ন নেওয়াও সন্তানের যত্নের অংশ।
কখন পেশাদার সাহায্য নেবেন
যদি সন্তানের আচরণ বা মেজাজের পরিবর্তন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তীব্র হয়, কিংবা তার পড়াশোনা, বন্ধুত্ব বা দৈনন্দিন জীবনে বাধা তৈরি করে, তাহলে একজন পেশাদার শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষভাবে দ্রুত সাহায্য দরকার যদি শিশু নিজেকে আঘাত করার কথা বলে, মরে যাওয়ার কথা বলে, খাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়, অথবা কারও দ্বারা নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়।
এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসক বা সরকারি মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের (যেমন NIMH, ঢাকা) সহায়তা নিন। সন্দেহ থাকলেও একবার পেশাদারের সঙ্গে কথা বলা সবসময় ভালো, কারণ আগেভাগে সহায়তা নিলে সমাধান সহজ হয়।
চাম ওয়েলনেসে শিশু কাউন্সেলিং
চাম ওয়েলনেসে প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলররা শিশু-কিশোরদের অনুভূতি, আচরণ ও বিকাশ নিয়ে গোপনীয় ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে কাজ করেন। আমরা ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার পরিবারগুলোর পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের অভিভাবকদের জন্য অনলাইনে সেবা দিই, যাতে দূরত্ব কোনো বাধা না হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কমানো ফি-র ব্যবস্থাও রয়েছে।
সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যদি আপনার কোনো উদ্বেগ থাকে, আমাদের শিশু কাউন্সেলিং সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এবং প্রস্তুত থাকলে আজই একটি সেশন বুক করুন। সঠিক সময়ে নেওয়া একটি ছোট পদক্ষেপ আপনার সন্তানের সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী বেড়ে ওঠার পথ সহজ করতে পারে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কত বয়স থেকে শিশুকে সাইকোলজিস্টের কাছে নেওয়া যায়?
খুব ছোট শিশু, এমনকি ২-৩ বছর বয়স থেকেও প্রয়োজন হলে সহায়তা নেওয়া যায়। ছোটদের জন্য খেলার মাধ্যমে থেরাপি এবং অভিভাবক-কেন্দ্রিক পরামর্শ ব্যবহার করা হয়। বয়স যাই হোক, উদ্বেগ থাকলে পরামর্শ নেওয়া যায়।
সেশনে কি শিশুকে একা ঢুকতে হয়?
না, বিশেষ করে প্রথম দিকে বাবা-মায়ের উপস্থিতি রাখা হয়। ধীরে ধীরে সন্তান স্বচ্ছন্দ হলে সাইকোলজিস্ট আলাদাভাবেও কথা বলতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়া শিশুর গতি অনুযায়ী এগোয়।
সন্তান কি জানবে যে সে “সমস্যায়” আছে?
সেশনকে সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না। শিশুকে সাধারণত বলা হয় এটি এমন একজনের সঙ্গে কথা বলার জায়গা যিনি অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করেন। এতে সন্তান লজ্জা বা ভয় পায় না।
অনলাইনে শিশু কাউন্সেলিং কি কার্যকর?
হ্যাঁ, বড় শিশু ও কিশোরদের জন্য অনলাইন সেশন বেশ কার্যকর হতে পারে, বিশেষত ঢাকার বাইরে থাকা পরিবারের জন্য। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সহযোগিতায় অনলাইন পরামর্শ সাজানো হয়।
কতগুলো সেশন লাগতে পারে?
এটি সমস্যার ধরন ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে অল্প কয়েকটি সেশনই যথেষ্ট, আবার কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ সহায়তা লাগে। প্রথম মূল্যায়নের পর সাইকোলজিস্ট আনুমানিক একটি পরিকল্পনা জানাতে পারেন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
কত বয়স থেকে শিশুকে সাইকোলজিস্টের কাছে নেওয়া যায়?
খুব ছোট শিশু, এমনকি ২-৩ বছর বয়স থেকেও প্রয়োজন হলে সহায়তা নেওয়া যায়। ছোটদের জন্য খেলার মাধ্যমে থেরাপি এবং অভিভাবক-কেন্দ্রিক পরামর্শ ব্যবহার করা হয়। বয়স যাই হোক, উদ্বেগ থাকলে পরামর্শ নেওয়া যায়।
সেশনে কি শিশুকে একা ঢুকতে হয়?
না, বিশেষ করে প্রথম দিকে বাবা-মায়ের উপস্থিতি রাখা হয়। ধীরে ধীরে সন্তান স্বচ্ছন্দ হলে সাইকোলজিস্ট আলাদাভাবেও কথা বলতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়া শিশুর গতি অনুযায়ী এগোয়।
সন্তান কি জানবে যে সে সমস্যায় আছে?
সেশনকে সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না। শিশুকে সাধারণত বলা হয় এটি এমন একজনের সঙ্গে কথা বলার জায়গা যিনি অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করেন। এতে সন্তান লজ্জা বা ভয় পায় না।
অনলাইনে শিশু কাউন্সেলিং কি কার্যকর?
হ্যাঁ, বড় শিশু ও কিশোরদের জন্য অনলাইন সেশন বেশ কার্যকর হতে পারে, বিশেষত ঢাকার বাইরে থাকা পরিবারের জন্য। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সহযোগিতায় অনলাইন পরামর্শ সাজানো হয়।
কতগুলো সেশন লাগতে পারে?
এটি সমস্যার ধরন ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে অল্প কয়েকটি সেশনই যথেষ্ট, আবার কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ সহায়তা লাগে। প্রথম মূল্যায়নের পর সাইকোলজিস্ট আনুমানিক একটি পরিকল্পনা জানাতে পারেন।
Talk to our psychologists
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.
See all psychologists →




