হিংসা ও তিক্ততা: অন্যের কষ্টে স্বস্তি লাগলে কী করবেন

মনের ভেতরে একটা অনুভূতি লুকিয়ে থাকে, যা নিয়ে আমরা সহজে কথা বলি না। কাছের কারও ভালো খবর শুনে বুকের ভেতর অস্বস্তি হয়, অথবা যে মানুষটি এগিয়ে যাচ্ছিল তার কোনো ধাক্কা লাগলে মনে গোপনে একটু স্বস্তি আসে। এই হিংসা ও তিক্ততা নিয়ে ঢাকা, ধানমন্ডি, গুলশান থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ ভেতরে ভেতরে লড়াই করেন, অথচ লজ্জায় কাউকে বলতে পারেন না। আপনার যদি এমন অনুভূতি হয়ে থাকে, তবে জেনে রাখুন, আপনি একা নন এবং আপনি খারাপ মানুষ নন।
এই লেখায় আমরা খোলাখুলি সহজভাবে দেখব হিংসা ও তিক্ততা আসলে কী, কেন অন্যের কষ্টে গোপন স্বস্তি লাগে, এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঢাকা প্রেক্ষাপটে এই অনুভূতিগুলো কীভাবে সুস্থভাবে সামলানো যায়। Chum Wellness-এ আমরা অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে এই ধরনের অনুভূতি নিয়ে কাজ করি, তাই কথাগুলো আমাদের বাস্তব কাউন্সেলিং অভিজ্ঞতা থেকেই বলা।
হিংসা ও তিক্ততা আসলে কী
হিংসা বা ঈর্ষা (envy) হলো এমন একটি অনুভূতি যেখানে অন্য কারও প্রাপ্তি, সাফল্য বা সুখ দেখে আমাদের নিজের ভেতরে একধরনের অস্বস্তি, ক্ষোভ বা অভাববোধ জন্ম নেয়। আর তিক্ততা (bitterness) হলো দীর্ঘদিন জমে থাকা ক্ষোভ ও অসন্তোষ, যা ধীরে ধীরে মনকে ভারী করে তোলে। এই দুটি অনুভূতি প্রায়ই হাত ধরাধরি করে চলে।
আমাদের সংস্কৃতিতে এই অনুভূতিগুলোকে সরাসরি খারাপ চরিত্র বা পাপ হিসেবে দেখা হয়। ফলে যিনি হিংসা feel করেন, তিনি নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করেন এবং অনুভূতিটিকে চেপে রাখেন। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হিংসা একটি স্বাভাবিক মানবিক আবেগ, ঠিক যেমন রাগ, ভয় বা দুঃখ। সমস্যা অনুভূতিটিতে নয়, সমস্যা হলো আমরা সেটি নিয়ে কী করি এবং সেটি কতটা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে।
স্বাভাবিক ঈর্ষা আর ক্ষতিকর তিক্ততার মধ্যে পার্থক্য
সব ঈর্ষা এক নয়। একটু ঈর্ষা কখনো কখনো আমাদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিতও করে। কিন্তু কখন এটি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তা বোঝা জরুরি।
- সুস্থ অনুপ্রেরণা: “সে পেরেছে, তাহলে আমিও চেষ্টা করলে হয়তো পারব।” এখানে অন্যের সাফল্য আপনাকে নিজের পথ খুঁজতে উৎসাহ দেয়।
- ক্ষতিকর হিংসা: “সে কেন পেল, আমি কেন পেলাম না।” এখানে মন অন্যের প্রাপ্তি কেড়ে নিতে চায় বা তার ক্ষতি কামনা করে।
- জমাট তিক্ততা: বছরের পর বছর একই ক্ষোভ বয়ে বেড়ানো, যেখানে অতীতের কোনো অবিচার বা অপ্রাপ্তি বর্তমানের প্রতিটি সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।
অন্যের কষ্টে স্বস্তি লাগলে কি আমি খারাপ মানুষ
এটাই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন, এবং সবচেয়ে বেশি লজ্জার কারণ। কারও বিপদে বা ব্যর্থতায় ভেতরে যদি গোপন স্বস্তি বা একটু আনন্দ feel করেন, তখন মনে হতে পারে আপনি নিষ্ঠুর বা কুৎসিত মানুষ। কিন্তু আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় আমরা বারবার দেখি, এই অনুভূতি খুবই কমন। অসংখ্য মানুষ এটি feel করেন, শুধু লজ্জায় কেউ স্বীকার করেন না।
গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হলো, এই স্বস্তি সাধারণত অন্যের প্রতি সত্যিকারের ঘৃণা থেকে আসে না। এটি আসে নিজের অপ্রাপ্তি, নিরাপত্তাহীনতা ও কম আত্মমর্যাদা থেকে। যখন কেউ আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তখন আমাদের ভেতরের “আমি যথেষ্ট নই” এই ভয়টা জেগে ওঠে। আর সেই মানুষটি যখন হোঁচট খায়, তখন সাময়িকভাবে মনে হয় “তাহলে আমি বোধহয় তত পিছিয়ে নেই।” স্বস্তিটা আসলে অন্যের পতনের নয়, নিজের ভয় সাময়িক কমে যাওয়ার।
তাই নিজেকে অপরাধী লাগা এই অনুভূতির চেয়ে বেশি জরুরি হলো এর পেছনের কারণটা বোঝা। নিজেকে “খারাপ মানুষ” বলে দাগিয়ে দিলে সমস্যা আরও চাপা পড়ে যায়, কারণ লজ্জা আমাদের অনুভূতি লুকাতে শেখায়, বদলাতে নয়।
কেন আমরা হিংসা ও তিক্ততা feel করি
এই অনুভূতিগুলোর পেছনে সাধারণত কয়েকটি গভীর কারণ কাজ করে। কারণগুলো বুঝলে নিজের সঙ্গে আরও সহানুভূতিশীল হওয়া যায়।
ক্রমাগত তুলনা
বর্তমান সময়ে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, আমরা প্রতিনিয়ত নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করি। কিন্তু আমরা নিজের ভেতরের কষ্ট আর অন্যের বাইরের সাজানো ছবির সঙ্গে তুলনা করি, যা কখনোই ন্যায্য তুলনা নয়। এই অসম তুলনা অন্যের ভালো সহ্য না হওয়া অনুভূতিকে বাড়িয়ে তোলে।
কম আত্মমর্যাদা ও অভ্যন্তরীণ শূন্যতা
যখন নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস কম থাকে, তখন অন্যের সাফল্যকে নিজের ব্যর্থতার প্রমাণ মনে হয়। মন তখন ভাবে, “তার আছে মানেই আমার নেই।” আসলে জীবন এমন সীমিত পাত্র নয় যেখানে একজনের প্রাপ্তি মানেই অন্যের অপ্রাপ্তি, কিন্তু ভেতরের শূন্যতা আমাদের এই ভুল বিশ্বাসে আটকে রাখে।
অতীতের অবিচার ও জমা ক্ষোভ
তিক্ততা প্রায়ই জন্ম নেয় এমন কোনো অভিজ্ঞতা থেকে যেখানে আমরা অন্যায়ের শিকার হয়েছি বলে মনে করি, অথচ সেই ক্ষোভ প্রকাশ বা সমাধানের সুযোগ পাইনি। পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা সম্পর্কে বারবার উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি ধীরে ধীরে জমে গিয়ে একটা স্থায়ী তিক্ত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান
আমরা জীবন নিয়ে যা আশা করেছিলাম আর বাস্তবে যা পেয়েছি, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান যত বাড়ে, ততই ভেতরে অসন্তোষ জমে। বিশেষ করে ঢাকার মতো প্রতিযোগিতামূলক শহরে চাকরি, বিয়ে, সন্তানের ফলাফল বা আর্থিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক চাপ এই ব্যবধানকে আরও তীব্র করে তোলে।
হিংসা ও তিক্ততা চেপে রাখলে কী হয়
এই অনুভূতিগুলো চেপে রাখলে সেগুলো মিলিয়ে যায় না, বরং ভেতরে ভেতরে ক্ষতি করতে থাকে। দীর্ঘদিন জমে থাকা তিক্ততা কেবল মনকে নয়, শরীর ও সম্পর্ককেও প্রভাবিত করে।
- সম্পর্কে দূরত্ব: কাছের মানুষের ভালোতে আনন্দ করতে না পারায় ধীরে ধীরে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় এবং একাকীত্ব বাড়ে।
- ক্রমাগত অসন্তোষ: নিজের যা আছে তা উপভোগ করার ক্ষমতা কমে যায়, কারণ মন সবসময় অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে।
- আত্মগ্লানি ও লজ্জা: অনুভূতি লুকিয়ে রাখার চাপ এবং নিজেকে দোষ দেওয়ার অভ্যাস মনের ওপর স্থায়ী বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
- মানসিক ক্লান্তি: দীর্ঘমেয়াদি ক্ষোভ ও তিক্ততা অ্যাংজাইটি ও বিষণ্নতার লক্ষণকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
যদি আপনি লক্ষ্য করেন এই অনুভূতিগুলো আপনার প্রতিদিনের মানসিক অবস্থাকে ভারী করে তুলছে, তবে এটি বিষণ্নতার সঙ্গেও জড়িয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের বিষণ্নতার লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।
হিংসা ও তিক্ততা সামলানোর ব্যবহারিক উপায়
এই অনুভূতিগুলোকে জোর করে দমন করা কাজ করে না। বরং সেগুলোকে স্বীকার করে, বুঝে এবং ধীরে ধীরে রূপান্তর করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত মুক্তি আসে। নিচের ধাপগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।
১. অনুভূতিটিকে বিচার না করে স্বীকার করুন
প্রথম ধাপ হলো নিজের কাছে সৎ হওয়া। “আমার এখন হিংসা লাগছে” এই কথাটা মনে মনে স্বীকার করুন, নিজেকে গালি না দিয়ে। অনুভূতিকে নাম দেওয়া মাত্রই তার তীব্রতা কিছুটা কমে যায়। মনে রাখবেন, অনুভূতি feel করা আর সেই অনুযায়ী আচরণ করা এক জিনিস নয়।
২. অনুভূতির পেছনের প্রয়োজনটা খুঁজুন
হিংসা আসলে একটা সংকেত। যখন কারও কিছু দেখে ঈর্ষা লাগে, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “এর মধ্যে আমি ঠিক কী চাইছি?” হয়তো আপনি স্বীকৃতি চান, নিরাপত্তা চান, বা ভালোবাসা চান। ঈর্ষা তখন শত্রু নয়, বরং আপনার অপূর্ণ চাহিদার দিকনির্দেশক হয়ে ওঠে।
৩. তুলনা কমানোর সচেতন চেষ্টা
যেসব উৎস আপনার তুলনার প্রবণতা বাড়ায়, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া, সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করুন। দিনে অন্তত একবার নিজের জীবনের যা কিছু ভালো আছে, তা সচেতনভাবে খেয়াল করার অভ্যাস তৈরি করুন। কৃতজ্ঞতার এই চর্চা তুলনার শক্তি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।
৪. অন্যের সাফল্যকে সম্ভাবনার প্রমাণ হিসেবে দেখুন
কেউ কিছু অর্জন করলে সেটিকে “আমার থেকে কেড়ে নেওয়া” হিসেবে না দেখে “এটা সম্ভব” এর প্রমাণ হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ, কিন্তু চর্চার মাধ্যমে সম্ভব।
৫. আত্মমর্যাদার ভিত মজবুত করুন
যেহেতু হিংসার মূল প্রায়ই কম আত্মমর্যাদায়, তাই নিজের ছোট ছোট অর্জন ও গুণকে স্বীকৃতি দেওয়ার অভ্যাস গড়ুন। নিজের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলুন যেভাবে একজন প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে বলবেন। নিজের প্রতি এই সদয় ভাবটাই ধীরে ধীরে তিক্ততা কমায়।
মানসিক চাপ ও নেতিবাচক অনুভূতি সামলানোর আরও কিছু ব্যবহারিক কৌশল জানতে আমাদের মানসিক সমস্যা দূর করার উপায় নিয়ে লেখাটাও কাজে লাগতে পারে।
এখনই চেষ্টা করুন: অনুভূতিটার নাম দিন
অনুভূতিকে ভাষায় বললে তার তীব্রতা কমে। সবচেয়ে কাছেরটা বেছে নিন।
তিক্ততা থেকে ক্ষমা ও মুক্তির পথ
দীর্ঘদিনের জমাট তিক্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ক্ষমা। তবে এখানে ক্ষমা মানে অন্যায়কে মেনে নেওয়া নয়, বা যিনি কষ্ট দিয়েছেন তাকে দোষমুক্ত করে দেওয়া নয়। ক্ষমা মূলত নিজের জন্য, নিজের মনকে সেই ক্ষোভের ভার থেকে হালকা করার জন্য।
তিক্ততা ধরে রাখা অনেকটা গরম কয়লা হাতে ধরে অন্যের দিকে ছুড়ে মারার অপেক্ষা করার মতো, যেখানে পুড়তে থাকে নিজের হাতটাই। ক্ষমা করতে সময় লাগে, একদিনে হয় না। এটি ধীরে ধীরে চর্চার মধ্য দিয়ে আসে, এবং প্রায়ই একজন psychologist-এর supportয় এই পথ পাড়ি দেওয়া সহজ হয়।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
হিংসা ও তিক্ততা মাঝেমধ্যে feel করা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বুঝবেন যে একজন certified psychologist বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়ার সময় হয়েছে।
- এই অনুভূতিগুলো এত তীব্র যে আপনার ঘুম, মনোযোগ বা প্রতিদিনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
- হিংসা বা তিক্ততার কারণে আপনার কাছের সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা আপনি নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।
- ক্রমাগত নিজেকে অপরাধী লাগা ও লজ্জার চাপে আপনি নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করেছেন।
- এই অনুভূতির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, আগ্রহহীনতা বা অ্যাংজাইটির লক্ষণ যুক্ত হয়েছে।
- আপনি বারবার চেষ্টা করেও নিজে থেকে এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না।
এমন পরিস্থিতিতে psychologist-এর সাথে কথা বলা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং নিজের প্রতি যত্নের প্রকাশ। একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর নিরপেক্ষভাবে ও গোপনীয়তার সঙ্গে আপনাকে এই অনুভূতিগুলোর মূলে পৌঁছাতে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে সামলাতে সাহায্য করেন। যদি এর সঙ্গে কোনো শারীরিক বা ওষুধ সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকে, তবে মনে রাখবেন ওষুধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
Chum Wellness-এ আপনার পাশে আছি
Chum Wellness-এ আমরা বিশ্বাস করি, কোনো অনুভূতিই এতটা লজ্জার নয় যে তা নিয়ে কথা বলা যাবে না। হিংসা, ঈর্ষা বা তিক্ততা নিয়ে যে ভার আপনি বয়ে বেড়াচ্ছেন, তা একজন certified ও অভিজ্ঞ psychologist-এর সাথে খোলাখুলি ভাগ করে নেওয়া যায়, সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে। আমরা অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সেবা দিয়ে থাকি, তাই আপনি ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা কিংবা চট্টগ্রাম, খুলনা বা সিলেট, যেখানেই থাকুন না কেন, সহায়তা পাওয়া সহজ।
আপনি যদি feel করেন এই অনুভূতিগুলো আপনার জীবন ও সম্পর্ককে ভারী করে তুলছে, তবে আজই একটি ধাপ এগিয়ে আসুন। আমাদের কাউন্সেলিং সহায়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, অথবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন আর নিজের মনের যত্ন নেওয়া শুরু করুন। আপনি একা নন, এবং পরিবর্তন সম্ভব।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
অন্যের কষ্টে স্বস্তি লাগলে কি আমি খারাপ মানুষ?
না। অন্যের ব্যর্থতায় গোপন স্বস্তি অনেকেই feel করেন, শুধু লজ্জায় স্বীকার করেন না। এটি খারাপ চরিত্রের প্রমাণ নয়, বরং প্রায়ই নিজের অপ্রাপ্তি, নিরাপত্তাহীনতা ও কম আত্মমর্যাদার প্রকাশ। অনুভূতিটি স্বাভাবিক, গুরুত্বপূর্ণ হলো তা নিয়ে কী করছেন।
হিংসা ও তিক্ততা কি স্বাভাবিক অনুভূতি?
হ্যাঁ, রাগ বা দুঃখের মতো হিংসা ও তিক্ততাও স্বাভাবিক মানবিক আবেগ। সমস্যা অনুভূতিতে নয়, সমস্যা হলো এটি দীর্ঘদিন চেপে রাখা বা এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সম্পর্ক ও মানসিক শান্তি নষ্ট হওয়া।
তিক্ততা কমাতে ক্ষমা কীভাবে সাহায্য করে?
ক্ষমা মানে অন্যায়কে মেনে নেওয়া নয়, বরং নিজের মনকে জমাট ক্ষোভের ভার থেকে হালকা করা। তিক্ততা ধরে রাখলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নিজেরই। ক্ষমা ধীরে ধীরে আসে, যা প্রায়ই psychologist-এর সাথে কথা বলায় সহজ হয়।
হিংসা ও তিক্ততা নিয়ে কখন কাউন্সেলিং নেওয়া উচিত?
যখন এই অনুভূতি আপনার ঘুম, মনোযোগ, প্রতিদিনের কাজ বা সম্পর্ককে ব্যাহত করে, অথবা এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ ও আত্মগ্লানি যুক্ত হয়, তখন একজন certified psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত। Chum Wellness অনলাইনে সারা বাংলাদেশে ও সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সেবা দেয়।
How this article was made
- Written by
- Rehnuma Pervin Nijhum, Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Samsun Nahar, Assistant Clinical Psychologist
- Last updated
- September 27, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Talk to our psychologists
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






