গড়িমসি কেন হয়? কাজে ধারাবাহিকতা ফিরে পাওয়ার উপায়

গড়িমসি নিয়ে ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেট, সব জায়গাতেই আজ অসংখ্য। কাজ সামনে পড়ে আছে, সময় ফুরিয়ে আসছে, তবু কিছুতেই শুরু করা যাচ্ছে না। ধানমন্ডির একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগের রাতে বই খুলে বসে থাকেন কিন্তু এক লাইনও পড়া হয় না, গুলশানের একজন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফেলে রাখেন। এই যে বারবার কাজ ফেলে রাখা, একেই ইংরেজিতে বলে procrastination, আর বাংলায় আমরা বলি গড়িমসি।
অনেকেই ভাবেন গড়িমসি মানে অলসতা, ইচ্ছাশক্তির অভাব কিংবা চরিত্রের দুর্বলতা। বাংলাদেশে এই ভুল ধারণাটি এতটাই গভীর যে গড়িমসিতে ভোগা মানুষ নিজেকে দোষ দিতে দিতে আরও বেশি আটকে যান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গড়িমসি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অলসতা নয়, বরং ভেতরের আবেগ ও ভয় সামলাতে না পারার একটি লক্ষণ। এই লেখায় আমরা দেখব গড়িমসি আসলে কেন হয়, এর পেছনে মনের কোন কাজটি লুকিয়ে থাকে, এবং বাংলাদেশে থেকেই কীভাবে ধাপে ধাপে কাজে ধারাবাহিকতা ফিরে পাওয়া যায়। Chum Wellness সারা বাংলাদেশে অনলাইনে এবং ঢাকায় সরাসরি এই ধরনের সমস্যায় psychologist-এর সাথে কথা বলা দিয়ে থাকে।
গড়িমসি আসলে কী? এটি অলসতা নয় কেন
প্রথমে একটা পার্থক্য পরিষ্কারার করা জরুরি। অলসতা মানে হলো কিছু করার শক্তি বা ইচ্ছা না থাকা, বিশ্রাম নেওয়াকেই বেছে নেওয়া। কিন্তু গড়িমসিতে ভোগা মানুষ বেশিরভাগ সময় কাজটা করতে চান, তিনি জানেন কাজটা জরুরি, এমনকি না করার জন্য তিনি অপরাধবোধেও ভোগেন। তবু কিছুতেই শুরু করতে পারেন না। এই দ্বন্দ্বটাই গড়িমসির মূল বৈশিষ্ট্য।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, গড়িমসি মূলত একটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা (emotion regulation), সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়। কোনো একটি কাজ যখন আমাদের মনে অস্বস্তি, ভয় বা চাপ তৈরি করে, তখন মন সেই অস্বস্তি থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি খোঁজে। কাজটা এড়িয়ে গেলে মুহূর্তের জন্য স্বস্তি মেলে, তাই মস্তিষ্ক বারবার এড়িয়ে যাওয়ার পথটাই বেছে নেয়। এটি এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়। অর্থাৎ, আপনি কাজটা এড়াচ্ছেন না, আপনি আসলে কাজটার সঙ্গে জড়িত অস্বস্তিকর আবেগটা এড়াচ্ছেন।
গড়িমসি কেন হয়? পেছনের আসল কারণগুলো
গড়িমসির পেছনে সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট মানসিক কারণ কাজ করে। নিজের ক্ষেত্রে কোনটি মিলে যায়, সেটা চিনতে পারলে সমাধানের পথও সহজ হয়।
১. ব্যর্থতার ভয়
এটি গড়িমসির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। যখন আমরা মনে মনে ভয় পাই যে কাজটা ভালো হবে না, বা করলে হয়তো ব্যর্থ হব, তখন কাজটা শুরু না করাই যেন নিরাপদ মনে হয়। কারণ কাজ শুরু না করলে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয় না। ঢাকার অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেরি করেন ঠিক এই কারণে, ভেতরে ভেতরে ভয় থাকে যে চেষ্টা করেও যদি ফল ভালো না হয়। মজার ব্যাপার হলো, দেরিতে শুরু করলে তখন নিজেকে বলা যায়, সময় পাইনি বলেই হয়নি, চেষ্টা করলে ঠিকই পারতাম। অর্থাৎ গড়িমসি হয়ে দাঁড়ায় আত্মসম্মান বাঁচানোর এক ঢাল।
২. পারফেকশনিজম বা নিখুঁত করার বাড়াবাড়ি চাপ
অনেকে ভাবেন পারফেকশনিস্টরা খুব দ্রুত কাজ শেষ করেন। বাস্তবে উল্টো। যখন কেউ মনে করেন কাজটা একদম নিখুঁত না হলে চলবেই না, তখন শুরু করাটাই ভয়ের হয়ে ওঠে। কারণ মনের ভেতরে যে নিখুঁত ছবিটা আছে, তার সঙ্গে বাস্তব কখনোই মেলে না। ফলে মানুষ অপেক্ষা করতে থাকেন সঠিক সময়ের, সঠিক মুড-এর, যা আসলে কখনো আসে না। পারফেকশনিজম আর গড়িমসি তাই প্রায়ই হাত ধরাধরি করে চলে।
৩. কাজটিকে বিশাল ও অসম্ভব মনে হওয়া
যখন একটা কাজকে পুরোটা একসঙ্গে দেখি, তখন সেটা পাহাড়সমান মনে হয়। পুরো একটা থিসিস লিখতে হবে, পুরো সিলেবাস শেষ করতে হবে, পুরো প্রেজেন্টেশন বানাতে হবে, এই বিশালতাই মস্তিষ্ককে অবশ করে দেয়। মন বলে, এত বড় কাজ, কোথা থেকে শুরু করব? আর এই দিশাহীনতা থেকেই জন্ম নেয় পড়া শুরু করতে না পারা কিংবা কাজ শুরু করতে না পারার অসহায়ত্ব।
৪. মনোযোগের অভাব ও অতিরিক্ত মনোযোগ ভঙ্গকারী উপাদান
আজকের দিনে মনোযোগের অভাব গড়িমসিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হাতের মুঠোফোনে প্রতি মুহূর্তে নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার অবিরাম স্ক্রল, ইউটিউবের পরবর্তী ভিডিও, এসব তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। কঠিন কাজের অস্বস্তির তুলনায় এই সহজ আনন্দের হাতছানি অনেক বেশি প্রবল। ফলে মন বারবার সেদিকেই চলে যায়, আর আসল কাজটা পড়ে থাকে।
৫. অন্তর্নিহিত উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা ক্লান্তি
কখনো কখনো গড়িমসি নিছক অভ্যাস নয়, বরং গভীরতর কোনো মানসিক অবস্থার লক্ষণ। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ, বিষণ্নতা, কিংবা চরম ক্লান্তি (burnout) মানুষের কাজ শুরু করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এমন অবস্থায় শুধু ইচ্ছাশক্তি দিয়ে সমস্যা সমাধান হয় না, বরং প্রয়োজন হয় psychologist-এর সাথে কথা বলার। এ বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত লেখা রয়েছে দুশ্চিন্তা কমানোর উপায় নিয়ে, যা পড়ে দেখতে পারেন।
গড়িমসির চক্র: কীভাবে এটি নিজেকে টিকিয়ে রাখে
গড়িমসি একবার শুরু হলে সেটি একটি দুষ্টচক্রে পরিণত হয়। বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক:
- প্রথমে একটি কাজ অস্বস্তি বা ভয় তৈরি করে।
- সেই অস্বস্তি এড়াতে আমরা কাজটা ফেলে রাখি এবং সাময়িক স্বস্তি পাই।
- সময় গড়িয়ে যায়, কাজ জমে আরও বড় হয়ে ওঠে, চাপ বাড়ে।
- এবার যোগ হয় অপরাধবোধ ও নিজের ওপর রাগ, আমি কেন পারলাম না।
- এই অপরাধবোধ ও কম আত্মবিশ্বাস কাজটাকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে।
- ফলে পরের বার কাজটা আরও বেশি এড়িয়ে যেতে ইচ্ছা করে।
এই চক্রের সবচেয়ে ক্ষতিকর অংশটি হলো নিজেকে দোষারোপ করা। যত বেশি নিজেকে অলস বা অক্ষম ভাববেন, তত বেশি আত্মবিশ্বাস কমবে, আর তত বেশি গড়িমসি বাড়বে। তাই সমাধানের প্রথম ধাপ হলো নিজের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়া।
গড়িমসি কাটিয়ে কাজে ধারাবাহিকতা ফিরে পাওয়ার বাস্তব উপায়
এখন আসি মূল প্রশ্নে, কীভাবে এই চক্র ভাঙা যায়? নিচের কৌশলগুলো আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় বাস্তবে কাজ করে বলে দেখা গেছে। একসঙ্গে সবগুলো নয়, বরং একটি বা দুটি বেছে নিয়ে শুরু করুন।
১. কাজটিকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন
এটিই সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল। মস্তিষ্ক বড় কাজে ভয় পায়, ছোট কাজে নয়। তাই পুরো থিসিস নয়, ভাবুন শুধু প্রথম অনুচ্ছেদটা লিখব। পুরো সিলেবাস নয়, ভাবুন শুধু প্রথম পাঁচ পৃষ্ঠা পড়ব। কাজটাকে এত ছোট করে ফেলুন যে সেটা করতে না পারার কোনো অজুহাত থাকে না। প্রতিটি ছোট ধাপ শেষ হলে মস্তিষ্ক সাফল্যের অনুভূতি পায়, আর সেই অনুভূতিই পরের ধাপে এগোনোর শক্তি জোগায়।
২. মাত্র পাঁচ মিনিটের নিয়ম
নিজের সঙ্গে চুক্তি করুন, আমি শুধু পাঁচ মিনিট এই কাজটা করব, তারপর ইচ্ছা হলে থেমে যাব। শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ। একবার শুরু করলে দেখবেন বেশিরভাগ সময় পাঁচ মিনিটের পরও কাজটা চালিয়ে যেতে ইচ্ছা করছে। কারণ কাজের অস্বস্তিটা আসলে শুরুর আগে যতটা মনে হয়, শুরু করার পর ততটা থাকে না।
৩. পরিবেশ থেকে মনোযোগ ভঙ্গকারী উপাদান সরান
ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে পরিবেশটাকে বদলে ফেলুন। পড়তে বা কাজ করতে বসার সময় মোবাইলটা অন্য ঘরে রেখে আসুন, নোটিফিকেশন বন্ধ করুন, প্রয়োজনে ফোনটি সাইলেন্ট করে ড্রয়ারে রাখুন। মনোযোগ ধরে রাখা তখন অনেক সহজ হয় যখন হাতের কাছে বিভ্রান্তির উপাদানই কম থাকে।
৪. আবেগটাকে চিনুন ও নাম দিন
যেহেতু গড়িমসির মূলে থাকে আবেগ, তাই কাজ এড়াতে ইচ্ছা করলে থামুন এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, এই কাজটা নিয়ে আমি ঠিক কী feel করছি? ভয়? বিরক্তি? এত বড় মনে হওয়ার আতঙ্ক? আবেগটাকে শুধু চিনে ফেলা ও নাম দেওয়াটাই তার তীব্রতা অনেকখানি কমিয়ে দেয়। এরপর নিজেকে বলুন, অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও আমি ছোট একটা ধাপ এগোতে পারি।
৫. নিখুঁত নয়, সম্পন্ন করাকে লক্ষ্য বানান
পারফেকশনিজমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভালো অস্ত্র হলো এই মন্ত্র, প্রথমে খারাপভাবে হলেও শেষ করো, ভালো করা পরে হবে। প্রথম খসড়া খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। একটা অসম্পূর্ণ কিন্তু শেষ হওয়া কাজ, একটা নিখুঁত কিন্তু কখনো শুরুই না হওয়া কাজের চেয়ে হাজার গুণ ভালো।
৬. নিজের প্রতি সদয় হোন
গবেষণা ও আমাদের অভিজ্ঞতা দুটোই বলে, নিজেকে দোষ দিলে গড়িমসি বাড়ে, কমে না। কোনো একদিন গড়িমসি হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করে দিন, তারপর পরের ধাপে মন দিন। এই আত্ম-সহানুভূতিই ভবিষ্যতে আপনাকে আবার কাজে ফেরাতে সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় নিয়ে আমাদের লেখাটিও আপনার কাজে লাগতে পারে।
৭. ছোট ছোট সাফল্য উদযাপন করুন
প্রতিটি ছোট ধাপ শেষ করার পর নিজেকে ছোট্ট একটা পুরস্কার দিন, এক কাপ চা, কিছুক্ষণ প্রিয় গান, একটু হাঁটা। এতে মস্তিষ্ক কাজ শেষ করার সঙ্গে ভালো অনুভূতিকে জুড়ে ফেলে, আর ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠে সহজে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু কথা
ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা খুলনার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীর কাছে পড়া শুরু করতে না পারা একটি নিত্যদিনের যন্ত্রণা। পরীক্ষা ঘনিয়ে আসে, তবু বই খোলা হয় না, আর শেষ রাতে এসে চাপে ভেঙে পড়েন। এখানে কয়েকটি বাড়তি পরামর্শ:
- নির্দিষ্ট সময় ও জায়গা ঠিক করুন: প্রতিদিন একই সময়ে, একই জায়গায় পড়তে বসলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
- পমোডোরো পদ্ধতি ব্যবহার করুন: ২৫ মিনিট একটানা পড়ুন, তারপর ৫ মিনিট বিরতি নিন। ছোট এই ধাপগুলো মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- সহপাঠীর সঙ্গে জবাবদিহিতা: কোনো বন্ধুকে বলুন আজ আপনি কতটুকু পড়বেন, এবং সন্ধ্যায় তাকে জানাবেন। এই ছোট দায়বদ্ধতাও গড়িমসি কমায়।
- নিজের সঙ্গে কঠোর নয়, ধৈর্যশীল হোন: এক দিন খারাপ গেলে পুরো সপ্তাহ নষ্ট ভেবে হাল ছাড়বেন না।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
মাঝেমধ্যে গড়িমসি হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, এটি মানুষমাত্রেরই অভিজ্ঞতা। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে গড়িমসি গভীরতর কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যখন psychologist-এর সাথে কথা বলা বুদ্ধিমানের কাজ। নিচের অবস্থাগুলো খেয়াল করুন:
- গড়িমসির কারণে আপনার পড়াশোনা, চাকরি বা সম্পর্কে গুরুতর ক্ষতি হচ্ছে।
- নানা কৌশল চেষ্টা করেও কিছুতেই কাজে ধারাবাহিকতা আনতে পারছেন না।
- কাজ ফেলে রাখার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
- নিজেকে ক্রমাগত অক্ষম বা ব্যর্থ মনে হচ্ছে এবং আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে।
- মনোযোগ ধরে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্ট হচ্ছে।
এসব ক্ষেত্রে একজন licensed psychologist বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে কার্যকর পথ। psychologist-এর সাথে কথা বলায় গড়িমসির পেছনের আসল কারণ, সেটি ব্যর্থতার ভয় হোক, পারফেকশনিজম হোক কিংবা অন্তর্নিহিত উদ্বেগ, খুঁজে বের করে ধাপে ধাপে সমাধান করা যায়। মনে রাখবেন, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো ওষুধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, নিজে থেকে নয়।
শেষ কথা
গড়িমসি আপনার চরিত্রের দোষ নয়, এটি একটি বোঝাযোগ্য ও পরিবর্তনযোগ্য অভ্যাস। এর মূলে রয়েছে ভয় ও আবেগ, আর সেগুলো সামলানোর দক্ষতা যে কেউ শিখতে পারেন। বড় লাফ নয়, প্রতিদিন ছোট্ট একটি ধাপ, এটাই ধারাবাহিকতার আসল রহস্য। নিজের সঙ্গে ধৈর্য ধরুন, প্রতিটি ছোট জয় উদযাপন করুন, আর প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।
আপনি যদি ঢাকা কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে বসে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি ও কাজে অধারাবাহিকতার সঙ্গে লড়াই করে থাকেন, Chum Wellness-এর অভিজ্ঞ psychologist-রা আপনার পাশে আছেন। আমরা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে এবং ঢাকায় সরাসরি গোপনীয় কাউন্সেলিং সহায়তা দিয়ে থাকি। আজই একটি সেশন বুক করতে পারেন এই লিংক থেকে: সেশন বুক করুন। ছোট একটি পদক্ষেপই হতে পারে আপনার ধারাবাহিক পথচলার শুরু।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
গড়িমসি কি অলসতার আরেক নাম?
না। অলসতা মানে কিছু করার ইচ্ছা না থাকা, আর গড়িমসিতে ভোগা মানুষ কাজটা করতে চান, জরুরি বলে জানেন, তবু শুরু করতে পারেন না। গড়িমসি মূলত আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, ব্যর্থতার ভয় বা পারফেকশনিজমের ফল, চরিত্রের দুর্বলতা নয়।
পড়া শুরু করতে না পারলে কী করব?
কাজটিকে খুব ছোট ধাপে ভাগ করুন, যেমন শুধু প্রথম পাঁচ পৃষ্ঠা পড়ব। মাত্র পাঁচ মিনিটের নিয়ম মেনে শুরু করুন, মোবাইল দূরে রাখুন এবং পমোডোরো পদ্ধতিতে ২৫ মিনিট পড়ে ৫ মিনিট বিরতি নিন। শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ, একবার শুরু হলে বাকিটা সহজ হয়।
গড়িমসি কাটাতে কখন psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত?
যখন গড়িমসির কারণে পড়াশোনা, চাকরি বা সম্পর্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নানা কৌশল চেষ্টা করেও কাজ হয় না, কিংবা এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা আত্মবিশ্বাসহীনতা দেখা দেয়, তখন একজন licensed psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত।
Chum Wellness কি ঢাকার বাইরে থেকেও সহায়তা দেয়?
হ্যাঁ। Chum Wellness সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং সহায়তা দিয়ে থাকে এবং ঢাকায় সরাসরি সেশনের সুযোগও রয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি অনলাইনে সেশন নিতে পারেন।
Talk to our psychologists
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.
- Dilara Jahan — Clinical Psychologist
- Md. Abul Bashar — Assistant Clinical Psychologist
- Shahana Parveen — Clinical Psychologist
