বাবা-মা হারানোর শোক: কীভাবে ধীরে ধীরে সামলে ওঠা যায়

জীবনের সবচেয়ে গভীর কষ্টগুলোর একটি হলো বাবা-মা হারানোর শোক। ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশের যে প্রান্তেই আপনি থাকুন, বাবা অথবা মায়ের মৃত্যু এমন এক শূন্যতা তৈরি করে যা সহজে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যিনি জন্ম থেকে আপনার আশ্রয় ছিলেন, যাঁর কণ্ঠস্বর, স্পর্শ আর উপস্থিতি আপনাকে নিরাপদ রাখত, সেই মানুষটির চলে যাওয়া মানে জীবনের একটা অংশ যেন হঠাৎ থেমে যাওয়া।
সংক্ষেপে: বাবা হারানোর শোক হোক বা মা হারানোর, এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কান্না, শূন্যতা, অপরাধবোধ, ক্লান্তি আর ঘুমের সমস্যা স্বাভাবিক শোকেরই অংশ, আর এগুলো ঢেউয়ের মতো আসে-যায়। কাছের কারও সঙ্গে কথা বলা, রুটিন ধরে রাখা আর শরীরের যত্ন নেওয়া সাহায্য করে। কিন্তু অনেক মাস পরেও শোক একটুও না কমলে, প্রতিদিনের কাজে ফিরতে না পারলে বা বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারালে পেশাদার সাহায্য নিন।
শোক নিয়ে সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন · গোপনীয়, অনলাইনে বা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি
এই লেখায় আমরা কথা বলব কেন এই শোক এত গভীর হয়, শোকের সময় শরীর ও মনে কী ঘটে, অপরাধবোধ ও শূন্যতার সাথে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়, এবং কখন একজন psychologist-এর সাথে কথা বলা জরুরি। প্রিয়জন হারানোর শোক মানুষভেদে ভিন্ন রূপ নেয়, তাই এখানে কোনো “সঠিক” বা “ভুল” অনুভূতি নেই। Chum Wellness অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে certified psychologist ও কাউন্সেলরের মাধ্যমে গোপনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
বাবা-মা হারানোর শোক কেন এত গভীর ও আলাদা
অন্য যেকোনো সম্পর্কের চেয়ে বাবা-মায়ের সাথে আমাদের বন্ধন আলাদা। তাঁরা কেবল একজন মানুষ নন, তাঁরা আমাদের শিকড়, আমাদের পরিচয়ের একটা বড় অংশ। বাংলাদেশের পারিবারিক সংস্কৃতিতে অনেকেই বড় হওয়ার পরও বাবা-মায়ের সাথে একই বাড়িতে থাকেন, প্রতিদিন কথা বলেন, ছোট-বড় সিদ্ধান্তে তাঁদের পরামর্শ নেন। তাই তাঁদের হারানো মানে রোজকার জীবনে একটা বড় শূন্যতা।
এই শোককে ইংরেজিতে গ্রিফ (grief) বলা হয়, অর্থাৎ প্রিয়জন হারানোর গভীর মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া। এটি শুধু “মন খারাপ” নয়, বরং একসাথে অনেকগুলো অনুভূতির মিশ্রণ:
- শূন্যতা: মনে হয় জীবনের একটা কেন্দ্রবিন্দু হারিয়ে গেছে, চারপাশ ফাঁকা লাগে।
- অবিশ্বাস: মাঝে মাঝে মনে হয় ঘটনাটা সত্যি নয়, তিনি হয়তো এখনই ডাক দেবেন।
- রাগ ও অসহায়তা: নিজের ওপর, পরিস্থিতির ওপর, এমনকি চিকিৎসা বা ভাগ্যের ওপর রাগ হতে পারে।
- অপরাধবোধ: “আরও কিছু করতে পারতাম”, “শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারিনি” এই ধরনের চিন্তা।
- স্বস্তি ও তারপর লজ্জা: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কষ্ট শেষ হওয়ায় হালকা লাগা এবং সেই অনুভূতির জন্য নিজেকে দোষারোপ করা।
মনে রাখা জরুরি, এই সব অনুভূতিই স্বাভাবিক। একইসাথে ভালোবাসা, রাগ, অপরাধবোধ আর স্বস্তি একসাথে লাগাটা খুবই স্বাভাবিক।
শোকের সময় শরীর ও মনে কী ঘটে
শোক শুধু মনের ব্যাপার নয়, এটি শরীরকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ধানমন্ডি, গুলশান বা উত্তরার অনেক ভুক্তভোগী আমাদের কাছে এসে বলেন, তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না কেন তাঁদের ঘুম, খাওয়া বা মনোযোগ এলোমেলো হয়ে গেছে। শোক সামলানোর প্রথম ধাপ হলো এই লক্ষণগুলো চিনে নেওয়া:
- ঘুমের সমস্যা, হয় ঘুম না আসা অথবা অতিরিক্ত ঘুম
- ক্ষুধামন্দা অথবা অগোছালো খাওয়া
- বুক ভার হয়ে আসা, কান্না চেপে রাখলে গলা আটকে আসার অনুভূতি
- ক্লান্তি, শক্তির অভাব, ছোট কাজেও অনীহা
- মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
- মানুষজন এড়িয়ে চলা, একা থাকতে চাওয়া
এই শারীরিক লক্ষণগুলো অনেক সময় থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার সাথেও মিলে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা ঠিক নয়।
শোকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই
আমাদের সমাজে প্রায়ই শোনা যায়, “এত দিন হয়ে গেল, এবার তো সামলে নাও।” এই কথাগুলো ভালোবাসা থেকে বলা হলেও ভুক্তভোগীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। বাস্তবতা হলো, শোকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কারও কয়েক মাস লাগে, কারও কয়েক বছর, আবার কারও ক্ষেত্রে বিশেষ দিনগুলোতে (জন্মদিন, ঈদ, মৃত্যুবার্ষিকী) কষ্ট নতুন করে ফিরে আসে।
শোক সরলরেখায় কমে না। কিছুদিন ভালো কাটার পর হঠাৎ আবার খারাপ লাগতে পারে, আর এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে কষ্টের তীব্রতা কমে আসে এবং আপনি শিখে নেন কীভাবে সেই স্মৃতি বুকে নিয়ে সামনে এগোতে হয়। লক্ষ্য কখনোই প্রিয়জনকে “ভুলে যাওয়া” নয়, বরং তাঁকে ভালোবাসা নিয়ে জীবনটাকে আবার এগিয়ে নেওয়া।
অপরাধবোধের সাথে কীভাবে মানিয়ে নেবেন
বাবা-মা হারানোর শোকে সবচেয়ে ভারী বোঝাগুলোর একটি হলো অপরাধবোধ। “যদি আরও আগে ডাক্তার দেখাতাম”, “যদি শেষ কথাগুলো শুনতে পেতাম”, “ব্যস্ততার জন্য পাশে থাকতে পারিনি” এই ধরনের চিন্তা মনকে কুরে কুরে খায়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS) শোকের স্বাভাবিক অনুভূতির মধ্যেই এই অপরাধবোধকে রেখেছে, বিশেষ করে “আরও কিছু করতে পারতাম” ধরনের চিন্তা। অর্থাৎ এটা শোকেরই অংশ, আপনার দোষের প্রমাণ নয়।
অপরাধবোধ সামলানোর কিছু বাস্তব উপায়:
- নিজের সাথে সদয় হোন: সেই সময়ের পরিস্থিতি, জ্ঞান আর সামর্থ্য দিয়ে আপনি যা করেছেন, তাই যথেষ্ট ছিল। পরে সব বোঝা সহজ।
- চিন্তাটাকে যাচাই করুন: “আমি সত্যিই কি অন্য কিছু করতে পারতাম” এই প্রশ্নের সৎ উত্তর খুঁজুন। অধিকাংশ সময় উত্তর হয় “না”।
- ভালো স্মৃতিগুলো মনে করুন: শুধু শেষ দিনগুলো নয়, বাবা-মায়ের সাথে কাটানো ভালো মুহূর্তগুলোও স্মরণ করুন।
- মনের কথা লিখে ফেলুন: বাবা বা মাকে একটা চিঠি লিখুন, যা বলতে পারেননি সব লিখে দিন। এটি মন হালকা করে।
যদি অপরাধবোধ এত তীব্র হয় যে ঘুম, কাজ বা সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে, তবে একজন psychologist-এর সাথে কথা বলা জরুরি। মানসিক চাপ ও নেতিবাচক চিন্তা সামলানোর আরও কৌশল জানতে আমাদের মানসিক চাপ কমানোর উপায় লেখাটি পড়তে পারেন।
শোক ধীরে ধীরে সামলে ওঠার বাস্তব উপায়
শোক থেকে “মুক্তি” পাওয়ার কোনো শর্টকাট নেই, তবে কিছু অভ্যাস আপনাকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। নিচের উপায়গুলো কাউন্সেলিংয়ে নিয়মিত কাজে লাগে, আর এর কয়েকটি (কাউকে মনের কথা বলা, শরীরের যত্ন, ছোট ছোট লক্ষ্য) NHS-এর শোক নিয়ে পরামর্শেও আছে:
১. অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না
কান্না পেলে কাঁদুন, কষ্ট হলে সেটা স্বীকার করুন। অনুভূতি চেপে রাখলে তা ভেতরে জমতে থাকে এবং পরে আরও ভারী হয়ে ফিরে আসে। কান্না দুর্বলতা না; কান্না মনকে হালকা করে।
২. কাউকে মনের কথা বলুন
বিশ্বস্ত কোনো ভাইবোন, বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে খোলামেলা কথা বলুন। বাংলাদেশে অনেকে ভাবেন কষ্ট চেপে রাখাই শক্তির পরিচয়, কিন্তু আসলে মনের কথা ভাগ করে নেওয়াই সবচেয়ে সাহসী কাজ।
৩. একটা রুটিন ধরে রাখুন
শোকের সময় সব এলোমেলো লাগে। ছোট ছোট নিয়মিত কাজ, যেমন সময়মতো খাওয়া, একটু হাঁটা, নামাজ বা প্রার্থনা, মনকে একটা কাঠামো দেয়। এই স্থিতিশীলতা ধীরে ধীরে শক্তি ফিরিয়ে আনে।
৪. শরীরের যত্ন নিন
যতটা পারা যায় ঠিকমতো খান, বিশ্রাম নিন এবং হালকা শারীরিক পরিশ্রম করুন। শরীর ভালো থাকলে মনও কিছুটা হালকা থাকে। ঘুম না হলে ক্যাফেইন কমান এবং শোবার আগে ফোন থেকে দূরে থাকুন।
৫. স্মৃতিকে সম্মান দিন
বাবা-মায়ের নামে দান করা, তাঁদের পছন্দের কাজ চালিয়ে যাওয়া, ছবি সাজিয়ে রাখা বা তাঁদের শেখানো মূল্যবোধ ধরে রাখা, এসব স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে এবং কষ্টকে অর্থপূর্ণ করে তোলে।
৬. নিজেকে সময় দিন
তাড়াহুড়ো করবেন না। “স্বাভাবিক” হয়ে ওঠার জন্য নিজেকে চাপ দেবেন না। প্রতিটি ছোট পদক্ষেপ, যেমন আবার হাসতে পারা বা কাজে ফেরা, একেকটা অগ্রগতি।
শোক যখন জীবন থমকে দেয়
বেশিরভাগ মানুষ সময়ের সাথে ধীরে ধীরে শোক সামলে নেন। কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে শোক এতটাই তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয় যে জীবন কার্যত থমকে যায়। মনোবিজ্ঞানে একে “জটিল শোক” বা দীর্ঘস্থায়ী গ্রিফ (prolonged grief disorder) বলা হয়। NHS-এর পরামর্শ: অনেক মাস পরেও শোক না কমলে, প্রতিদিনের কাজে ফিরতে না পারলে, বা আত্মহত্যার চিন্তা এলে দেরি না করে সাহায্য নিন। কিছু সতর্ক-সংকেত:
- দীর্ঘ সময় পরেও প্রতিদিনের কাজ, চাকরি বা পড়াশোনা করতে না পারা
- বাবা-মায়ের কথা এলে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া, বাস্তবতা মেনে নিতে না পারা
- নিজেকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, দীর্ঘদিন কারও সাথে যোগাযোগ না করা
- অতিরিক্ত অপরাধবোধ যা কমছে না
- জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, “বেঁচে থেকে কী হবে” এমন চিন্তা
- দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা বা শারীরিক অবনতি
এমন লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে, শোক এখন এমন এক পর্যায়ে গেছে যেখানে psychologist-এর সাথে কথা বলা প্রয়োজন। শোক দীর্ঘদিন গভীর বিষণ্নতায় রূপ নিতে পারে, তাই দেরি না করাই ভালো। মানসিক সমস্যা থেকে সুস্থ হওয়ার নানা দিক নিয়ে আমাদের মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় লেখাটিও সহায়ক হতে পারে।
জরুরি সতর্কতা: যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও মনে নিজেকে আঘাত করা বা আত্মহত্যার চিন্তা আসে, তাহলে একা থাকবেন না। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান, এবং দ্রুত একজন certified psychologist-এর সাথে কথা বলুন।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
অনেকে ভাবেন, শুধু “বড় সমস্যা” হলেই psychologist-এর কাছে যেতে হয়। আসলে তা নয়। বাবা-মা হারানোর শোক নিয়ে কথা বলার জন্য আপনার “যথেষ্ট অসুস্থ” হওয়ার দরকার নেই। নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে psychologist-এর সাথে কথা বলা ভালো সিদ্ধান্ত:
- কষ্ট কয়েক মাস পরেও কমছে না বরং বাড়ছে
- প্রতিদিনের জীবন, কাজ বা সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
- অপরাধবোধ বা রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে
- ঘুম, খাওয়া বা মনোযোগ দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট
- আপনি সম্পূর্ণ একা বোধ করছেন, কাউকে বলার মতো খুঁজে পাচ্ছেন না
- মদ বা অন্য কিছু দিয়ে কষ্ট ভোলার চেষ্টা করছেন
একজন trained psychologist আপনার অনুভূতিগুলো বিচার না করে শোনেন, শোককে সুস্থভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করেন এবং অপরাধবোধ ও শূন্যতা সামলানোর বাস্তব কৌশল শেখান। কাউন্সেলিং মানে দুর্বলতা নয়, বরং নিজের মনের যত্ন নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত।
Chum Wellness কীভাবে পাশে থাকতে পারে
Chum Wellness-এ certified psychologist ও কাউন্সেলররা প্রিয়জন হারানোর শোক নিয়ে গোপনীয় ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে সহায়তা দেন। আমরা বুঝি, শোক নিয়ে কথা বলা সহজ নয়, তাই আমরা কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই আপনার গতিতে এগোই।
স্থানীয় সহায়তা: আপনি সারা বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে সেশন নিতে পারেন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি (ইন-পারসন) কাউন্সেলিংও পাওয়া যায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা সিলেট, যেখানেই থাকুন, ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই আপনি একজন psychologist-এর support নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে।
বাবা-মায়ের চলে যাওয়া জীবনের অন্যতম কঠিন বাস্তবতা, কিন্তু আপনাকে এই পথ একা হাঁটতে হবে না। সঠিক সহায়তা পেলে ধীরে ধীরে আপনি সেই ভালোবাসা বুকে নিয়ে আবার সামনে এগোতে পারবেন। আজই একটি ছোট পদক্ষেপ নিন এবং শোক ও কাউন্সেলিং সহায়তা সম্পর্কে জানুন। আপনি প্রস্তুত থাকলে সরাসরি একটি সেশন বুক করে একজন certified psychologist-এর সাথে কথা বলতে পারেন। মনে রাখবেন, নিজের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া কোনো স্বার্থপরতা নয়, এটি সুস্থ হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ।
শোক কীভাবে কাজ করে আর কখন পেশাদার সহায়তা কাজে আসে, বিস্তারিত দেখুন আমাদের শোক ও প্রিয়জন হারানোর কাউন্সেলিং পাতায়।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
বাবা-মা হারানোর শোক কাটতে কতদিন লাগে?
শোকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কারও কয়েক মাস, কারও কয়েক বছর লাগতে পারে, এবং বিশেষ দিনগুলোতে কষ্ট নতুন করে ফিরে আসা স্বাভাবিক। শোক সরলরেখায় কমে না, ভালো-খারাপ দিন মিলিয়েই ধীরে ধীরে তীব্রতা কমে আসে। লক্ষ্য প্রিয়জনকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং ভালোবাসা নিয়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়া।
বাবা-মা মারা যাওয়ার পর অপরাধবোধ হলে কী করব?
অপরাধবোধ শোকের খুব সাধারণ অংশ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা বাস্তবের চেয়ে অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। নিজের সাথে সদয় হোন, মনে রাখুন সেই সময়ের সামর্থ্য দিয়ে আপনি যা করেছেন তাই যথেষ্ট ছিল। মনের কথা লিখে ফেলা বা বিশ্বস্ত কারও সাথে ভাগ করা সাহায্য করে। অপরাধবোধ তীব্র ও নিয়ন্ত্রণহীন হলে একজন psychologist-এর সাথে কথা বলা জরুরি।
শোকের জন্য কখন psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত?
কষ্ট কয়েক মাস পরেও না কমে বাড়তে থাকলে, প্রতিদিনের কাজ ও সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে, ঘুম-খাওয়া দীর্ঘদিন নষ্ট থাকলে, অথবা জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললে psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত। নিজেকে আঘাত করার চিন্তা এলে দেরি না করে ৯৯৯-এ কল করুন বা জরুরি বিভাগে যান এবং একজন certified psychologist-এর সাথে কথা বলুন।
Chum Wellness-এ শোকের কাউন্সেলিং কি ঢাকার বাইরে থেকেও নেওয়া যায়?
হ্যাঁ। Chum Wellness সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং দেয় এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি ইন-পারসন সেশনও পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট বা যেকোনো জেলা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই certified psychologist-এর সাথে কথা বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে।
How this article was made
- Written by
- Shaheen Nafisa Siddique, Senior Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Ishrat Shermin Rahman, Clinical Psychologist
- Last updated
- October 30, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with grief & loss
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






