ব্রেকআপ সামলে ওঠা: কষ্ট কমিয়ে আবার এগিয়ে যাওয়ার উপায়

ছোট উত্তর: ব্রেকআপের কষ্ট শোকের মতোই বাস্তব, আর এটা সাধারণত সময়ের সাথে কমে আসে। মুভ অন করার উপায়: (১) কষ্ট পাওয়ার অনুমতি দিন, চেপে রাখবেন না, (২) প্রাক্তনের সাথে যোগাযোগ ও সোশ্যাল মিডিয়া দেখা কিছুদিন বন্ধ রাখুন, (৩) ঘুম, খাওয়া আর রুটিন ঠিক রাখুন, (৪) বিশ্বস্ত কারও সাথে কথা বলুন, (৫) কয়েক সপ্তাহ পরও ঘুম-খাওয়া ঠিক না হলে, কাজে মন না বসলে বা নিজের ক্ষতির চিন্তা এলে একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন।
গোপনে কথা বলুন · অনলাইনে সারা বাংলাদেশ থেকে। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন।
একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মনে হয় যেন পায়ের নিচের মাটিটাই সরে গেছে। ঘুম আসে না, খাওয়ায় রুচি থাকে না, বুকের ভেতর একটা ভারী পাথর চেপে বসে থাকে। ব্রেকআপ সামলানো ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেট, বাংলাদেশের যেকোনো শহরের তরুণ-তরুণীর জন্যই এক কঠিন অভিজ্ঞতা। আপনি যদি এই মুহূর্তে সেই কষ্টের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে জেনে রাখুন: আপনি একা নন, আর যা অনুভব করছেন তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
এই লেখায় আমরা সহজ, বাস্তবসম্মত উপায়ে দেখব কীভাবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা যায় এবং কীভাবে আবার নিজের জীবনে ফিরে আসা যায়। চাম ওয়েলনেস থেকে আমরা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি এই ধরনের মানসিক সহায়তা দিয়ে থাকি, তাই এই কথাগুলো নিছক তত্ত্ব নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা।
ব্রেকআপের কষ্ট কেন এত গভীর হয়
অনেকে ভাবেন, “শুধু তো একটা সম্পর্ক ভেঙেছে, এত কষ্ট পাওয়ার কী আছে?” কিন্তু বাস্তবতা হলো, মন ভাঙা শোকের মতোই বাস্তব একটা অনুভূতি। গবেষণাও তা-ই বলে: সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ব্রেকআপ হয়েছে এমন মানুষদের প্রাক্তনের ছবি দেখিয়ে প্রত্যাখ্যানের কথা ভাবতে বললে মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো সক্রিয় হয়, যেগুলো শারীরিক ব্যথা অনুভবের সাথেও যুক্ত (Kross et al., PNAS)। তাই ব্রেকআপের পর কান্না পাওয়া, বারবার পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া কিংবা নিজেকে অপরাধী মনে হওয়া, এসব কোনো দুর্বলতা নয়।
যখন কেউ কারো সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকে, তখন সেই মানুষটি তার প্রতিদিনের রুটিন, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর নিজের পরিচয়ের একটা অংশ হয়ে ওঠে। সম্পর্ক ভাঙলে শুধু একজন মানুষ চলে যায় না, তার সঙ্গে জড়ানো অভ্যাস, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আর একটা চেনা রুটিনও ভেঙে পড়ে। এই কারণেই প্রেমে ব্যর্থতা এত গভীরভাবে আঘাত করে।
পরিবার-অসম্মত সম্পর্কে কষ্ট আরও জটিল
বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় অনেক সম্পর্কই পরিবারের অসম্মতিতে গড়ে ওঠে। এমন সম্পর্ক ভাঙলে কষ্টটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। কারণ একদিকে থাকে প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে থাকে পরিবারের কাছে খোলাখুলি কাঁদতে বা শোক প্রকাশ করতে না পারার অসহায়তা। অনেকে ভাবেন, “কাউকে বলতেও পারছি না, কারণ সম্পর্কটাই তো লুকানো ছিল।” এই একাকী কষ্ট চেপে রাখা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে এমন একজনের কাছে মন খুলে কথা বলা, যিনি কারো পক্ষ নেবেন না আর সব গোপন রাখবেন, অনেক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
নিজেকে সামলানোর মৌলিক জিনিসগুলো এই সময় সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ (NIMH) নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজনে সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়াকে মানসিক স্বাস্থ্য সামলানোর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে। ব্রেকআপের পর এগুলোই সবার আগে ভেঙে পড়ে, তাই এগুলোই আগে দাঁড় করাতে হয়।
ব্রেকআপ সামলানোর বাস্তব উপায়
মন ভাঙার কষ্ট রাতারাতি চলে যায় না, কিন্তু কিছু জিনিস সময়টা সহজ করে দিতে পারে। নিচের উপায়গুলো আমাদের সাইকোলজিস্টরা ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজে দেখেছেন।
১. নিজেকে সময় ও অনুমতি দিন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা প্রথমে বলি: নিজেকে কষ্ট পাওয়ার অনুমতি দিন। “আমাকে শক্ত থাকতে হবে”, “এত ভেঙে পড়া ঠিক না”, এই ধরনের চাপ নিজের ওপর দেবেন না। কষ্ট চেপে রাখলে তা ভেতরে জমতে থাকে এবং পরে আরও বড় আকারে ফিরে আসে। কাঁদতে ইচ্ছে হলে কাঁদুন। মন খারাপ থাকলে সেটা মেনে নিন। সেরে ওঠা মানে কষ্ট না পাওয়া নয়, বরং কষ্টটাকে স্বীকার করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া।
২. অনুভূতি চেপে না রেখে প্রকাশ করুন
মন ভাঙার কষ্ট কমানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো অনুভূতি প্রকাশ করা। এটা নানাভাবে করা যায়:
- বিশ্বস্ত কাউকে বলুন: এমন একজন বন্ধু বা স্বজন, যিনি বিচার না করে শুনবেন, তার কাছে মনের কথা খুলে বলুন।
- লিখে ফেলুন: প্রতিদিন কয়েক লাইন করে নিজের অনুভূতি একটা ডায়েরিতে লিখুন। মনের ভেতরের অগোছালো চিন্তাগুলো লিখলে অনেকটা হালকা লাগে।
- নিজের সঙ্গে সৎ থাকুন: রাগ, অভিমান, দুঃখ, এমনকি স্বস্তি, যা-ই অনুভব করুন না কেন, তা অস্বীকার করবেন না।
৩. ধীরে ধীরে রুটিনে ফিরুন
ব্রেকআপের পর অনেকের দৈনন্দিন জীবন এলোমেলো হয়ে যায়, ঘুম, খাওয়া, কাজ সব ভেঙে পড়ে। এই সময়ে ছোট ছোট রুটিন ফিরিয়ে আনা সেরে ওঠায় বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, সময়মতো খাওয়া, সকালে একটু হাঁটা, এই সাধারণ অভ্যাসগুলো মস্তিষ্ককে স্থিতিশীলতার বার্তা দেয়। একবারে সব ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। একটা-দুটো ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ান।
৪. যোগাযোগে একটা সীমা টানুন
মুভ অন করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো বারবার সাবেক সঙ্গীর খোঁজখবর নেওয়া বা তার সোশ্যাল মিডিয়া দেখা। প্রতিবার তার ছবি বা পোস্ট দেখলে সদ্য শুকিয়ে আসা ক্ষত আবার খুলে যায়। কিছুদিনের জন্য অন্তত তার প্রোফাইল মিউট বা আনফলো করা, চ্যাট হিস্ট্রি সরিয়ে রাখা, এসব নিজের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং নিজেকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেওয়া। এটা চিরদিনের সিদ্ধান্ত নয়, শুধু সেরে ওঠার সময়টুকুর জন্য একটা প্রয়োজনীয় দূরত্ব।
৫. নিজের যত্ন নিন, শরীর ও মন দুটোরই
মানসিক কষ্টের সময় শরীরের যত্ন নেওয়া সবচেয়ে অবহেলিত হয়। অথচ শরীর ভালো থাকলে মন সামলানো অনেক সহজ হয়। হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আনে যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার আর নিয়মিত ঘুম, এই মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।
এখনই চেষ্টা করুন: ছোট্ট একটা কাজ
সবকিছু ভারী লাগলে, যতটা ছোট ভাবছেন তার চেয়েও ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন। একটা বেছে নিন।
যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত
ব্রেকআপের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে অনেকে এমন কিছু করেন যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কষ্ট বাড়ায়। এই ফাঁদগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি:
- তাড়াহুড়ো করে নতুন সম্পর্কে জড়ানো: শূন্যতা ভরাতে দ্রুত কারো সঙ্গে জড়ালে পুরোনো কষ্ট মেটে না, বরং নতুন জটিলতা তৈরি হয়।
- নেশা বা অতিরিক্ত কিছুতে ডুবে থাকা: সিগারেট, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অন্য কোনো নেশায় সাময়িক আশ্রয় খোঁজা সমস্যাকে আরও গভীর করে।
- নিজেকে দোষারোপ করা: “আমার জন্যই সব হলো”, এই ধরনের চিন্তা মনকে আরও ভারী করে তোলে। সম্পর্ক ভাঙার দায় সাধারণত একজনের নয়।
- নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নেওয়া: একা থাকতে ইচ্ছে করা স্বাভাবিক, কিন্তু পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে একাকীত্ব কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
যদি একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা আপনাকে বেশি ভোগাচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা দূর করার উপায় নিয়ে আমাদের আলাদা লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন, সেখানে আরও কিছু বাস্তব পরামর্শ পাবেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কী পরিবর্তন হয়
সেরে ওঠা কোনো সরলরেখা নয়। কিছুদিন ভালো থাকবেন, আবার কোনো এক বিশেষ দিন, একটা গান বা চেনা জায়গা দেখে হঠাৎ কষ্ট ফিরে আসবে। এটা পিছিয়ে যাওয়া না; সেরে উঠতে গেলে এমনই হয়। প্রথম কয়েক সপ্তাহ সবচেয়ে কঠিন হয়, তারপর ধীরে ধীরে কষ্টের তীব্রতা কমতে থাকে।
একটা সময় দেখবেন, সাবেক সঙ্গীর কথা মনে পড়লেও আগের মতো বুক ভেঙে যাচ্ছে না। সেই স্মৃতিগুলো নিয়ে ভাবতে পারছেন কোনো তীব্র যন্ত্রণা ছাড়াই। এটাই মুভ অন করার প্রকৃত অর্থ, ভুলে যাওয়া নয়, বরং কষ্ট ছাড়াই মনে রাখতে পারা। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই অভিজ্ঞতা আপনাকে নিজের সম্পর্কে, নিজের চাহিদা ও সীমা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়।
নিজেকে নতুন করে চেনার সুযোগ
একটা সম্পর্কে থাকতে থাকতে অনেকে নিজের পছন্দ, শখ আর বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে সরে যান। ব্রেকআপ, যত কষ্টেরই হোক, নিজেকে আবার নতুন করে চেনার একটা সুযোগও এনে দেয়। যে বইটা পড়া হয়নি, যে শখটা ছেড়ে দিয়েছিলেন, যে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়নি অনেকদিন, এই সময়টা তাদের কাছে ফিরে যাওয়ার। ধীরে ধীরে নিজের একটা স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলুন, যা কোনো সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।
ভবিষ্যতের সম্পর্কের জন্য শিক্ষা
প্রতিটি সম্পর্ক, এমনকি যেটা ভেঙে গেছে সেটাও, আমাদের কিছু শেখায়। শান্ত হয়ে ভাবুন: এই সম্পর্ক থেকে আপনি নিজের সম্পর্কে কী জানলেন? কী ধরনের আচরণ আপনার ভালো লাগে, কোনটা আপনি মেনে নিতে পারেন না? এই বোঝাপড়াগুলো সামনে ভালো সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করবে। তবে খেয়াল রাখবেন, এই বিশ্লেষণ যেন নিজেকে বা সাবেক সঙ্গীকে দোষারোপে পরিণত না হয়, বরং হয় শান্ত, শিক্ষামূলক একটা প্রক্রিয়া।
সম্পর্কের টানাপোড়েন কীভাবে সামলানো যায়, দূরত্ব কীভাবে কমানো যায়, এসব নিয়ে আরও জানতে চাইলে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দূরত্ব কমানোর উপায় লেখাটি আপনার কাজে লাগতে পারে।
কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
বেশিরভাগ মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রেকআপের কষ্ট নিজে নিজেই সামলে ওঠেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে একজন সাইকোলজিস্টের সাহায্য লাগে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলার কথা ভাবুন:
- কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কষ্ট একটুও কমছে না, বরং বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।
- ঘুম, খাওয়া বা দৈনন্দিন কাজে দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
- পড়াশোনা, চাকরি বা সাধারণ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
- নিজেকে সম্পূর্ণ মূল্যহীন মনে হচ্ছে, বা বেঁচে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
- কষ্ট থেকে বাঁচতে নেশা বা ক্ষতিকর অভ্যাসের দিকে ঝুঁকছেন।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং নিজের প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ। একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর আপনাকে নিরাপদ, গোপনীয় পরিবেশে অনুভূতিগুলো বুঝতে এবং সেরে ওঠার একটা বাস্তব পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। মনে রাখবেন, মানসিক চাপ যদি ঘুম, মেজাজ বা দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, তাহলে ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য চিকিৎসকের সাথে নিতে হবে, নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।
শেষ কথা: এই কষ্টও কেটে যাবে
এই মুহূর্তে হয়তো মনে হচ্ছে এই কষ্ট কোনোদিন শেষ হবে না। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ধীরে ধীরে হলেও সময়ের সঙ্গে এই ভার হালকা হবে। ব্রেকআপ সামলানো মানে নিজেকে সময় দেওয়া, অনুভূতি চেপে না রাখা আর ছোট ছোট পদক্ষেপে আবার জীবনের ছন্দে ফেরা। আপনি এই কষ্টের চেয়ে অনেক বড়, আর আপনার সামনে একটা পূর্ণ, সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে।
আপনি যদি ঢাকা, ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই কষ্টের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন এবং মনে হচ্ছে একা সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তাহলে চাম ওয়েলনেসের অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলরদের সঙ্গে কথা বলুন। আমরা অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে গোপনীয় সহায়তা দিয়ে থাকি (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে)। আজই আমাদের কাউন্সেলিং সহায়তা নিন, অথবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন এবং সেরে ওঠার পথে প্রথম পদক্ষেপটি নিন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
ব্রেকআপের কষ্ট সামলাতে সাধারণত কতদিন লাগে?
এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, কারণ প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি সম্পর্ক আলাদা। সম্পর্কের গভীরতা, স্থায়িত্ব ও ব্যক্তির নিজস্ব পরিস্থিতির ওপর এটা নির্ভর করে। সাধারণত প্রথম কয়েক সপ্তাহ সবচেয়ে কঠিন হয়, তারপর ধীরে ধীরে কষ্টের তীব্রতা কমতে থাকে। নিজেকে সময় দিন এবং সেরে ওঠাকে তাড়াহুড়ো করবেন না।
সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা কি ঠিক হবে?
এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে সেরে ওঠার প্রথম পর্যায়ে অন্তত কিছুদিন দূরত্ব রাখা সাধারণত সহায়ক। বারবার যোগাযোগ থাকলে সদ্য শুকিয়ে আসা ক্ষত আবার খুলে যেতে পারে এবং মুভ অন করা কঠিন হয়। নিজেকে সুস্থ হওয়ার সময়টুকু দিন, তারপর ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিন।
ব্রেকআপের পর সবসময় মন খারাপ থাকে, এটা কি স্বাভাবিক?
কিছুদিন মন খারাপ থাকা, কান্না পাওয়া বা পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। মন ভাঙা শোকের মতোই বাস্তব একটা অনুভূতি। তবে যদি কয়েক সপ্তাহ পরেও কষ্ট না কমে, দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে বা বেঁচে থাকার আগ্রহ কমে যায়, তাহলে একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
চাম ওয়েলনেসে ব্রেকআপ নিয়ে কাউন্সেলিং কীভাবে পাব?
চাম ওয়েলনেস অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে গোপনীয় ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং সেবা দিয়ে থাকে। আমাদের অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলররা নিরাপদ পরিবেশে আপনার অনুভূতি বুঝতে ও সেরে ওঠার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে। ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি একটি সেশন বুক করতে পারেন।
সাইকোলজিস্টের সাহায্যের জন্য দেখুন ঢাকায় কাপল কাউন্সেলিং।
How this article was made
- Written by
- Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Salma Parveen, Senior Clinical Psychologist
- Last updated
- October 29, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with relationships & marriage
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






