বয়স্ক বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য: একাকীত্ব, বিষণ্নতা ও যত্ন
- বয়স বাড়লে মানসিক স্বাস্থ্যে কী পরিবর্তন আসে
- বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব: নীরব এক সংকট
- অবসরের পর মন খারাপ কেন হয়
- বয়স্কদের বিষণ্নতা: যা “স্বাভাবিক বার্ধক্য” নয়
- শরীর আর মন একে অপরকে কীভাবে প্রভাবিত করে: কেন দুটোই একসঙ্গে দেখা জরুরি
- সন্তানের করণীয়: বাবা-মায়ের পাশে কীভাবে দাঁড়াবেন
- কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
- পরিবারের জন্য কিছু কথা
- শেষ কথা: যত্নই সবচেয়ে বড় ওষুধ
- সাধারণ কিছু প্রশ্ন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাবা-মায়ের শরীর যেমন বদলায়, তেমনি বদলায় তাঁদের মনও। কিন্তু বয়স্ক বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সমাজে খোলাখুলি কথা বলা হয় খুব কম। ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা মফস্বল, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই বয়স্ক মানুষের একাকীত্ব, মন খারাপ আর নীরব কষ্ট রয়ে যায় নজরের আড়ালে। সন্তান হিসেবে আমরা তাঁদের ওষুধ, ডাক্তার আর খাবারের যত্ন নিই ঠিকই, কিন্তু তাঁদের মনের খবর কতটা রাখি?
এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব ও বয়স্কদের বিষণ্নতা কেন হয়, এর লক্ষণ কী, অবসরের পর মন খারাপ কীভাবে জীবনকে প্রভাবিত করে, এবং একজন যত্নশীল সন্তান হিসেবে আপনার করণীয় কী। চাম ওয়েলনেসে আমরা ঢাকা ও সারা বাংলাদেশজুড়ে অনলাইনে বয়স্ক মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করি, তাই আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বাস্তব দিক তুলে ধরার চেষ্টা করব।
বয়স বাড়লে মানসিক স্বাস্থ্যে কী পরিবর্তন আসে
বার্ধক্য মানেই মন খারাপ, এমন ধারণা ভুল। কিন্তু এটাও সত্যি যে জীবনের এই পর্যায়ে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন একসঙ্গে এসে পড়ে, যা মনের ওপর চাপ তৈরি করে। শরীর দুর্বল হয়, চেনা মুখগুলো একে একে হারিয়ে যায়, আর সমাজে নিজের ভূমিকা যেন ছোট হয়ে আসে।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বয়স বাড়লে একাকীত্ব, প্রিয়জন হারানো, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা এবং নিজেকে গুরুত্বহীন মনে হওয়ার অনুভূতি একসঙ্গে মিলে বিষণ্নতাকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই দিকগুলো আলাদা আলাদা করে ছোট মনে হলেও, একসঙ্গে জমা হলে বড় বোঝা তৈরি করে।
যেসব পরিবর্তন মনের ওপর চাপ ফেলে
- প্রিয়জন হারানো: জীবনসঙ্গী, ভাই-বোন বা কাছের বন্ধুদের মৃত্যু একের পর এক শোক তৈরি করে, যা সামলানো কঠিন।
- শারীরিক অসুস্থতা: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বাত বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখ চলাফেরা কমিয়ে দেয় এবং পরনির্ভরশীলতা বাড়ায়।
- স্বাধীনতা কমে যাওয়া: আগে যা নিজে করতে পারতেন, এখন তার জন্য অন্যের সাহায্য লাগে, এতে আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে।
- সামাজিক পরিসর ছোট হওয়া: চাকরি বা ব্যবসা থেকে অবসর, সন্তানদের আলাদা সংসার, আর শহুরে জীবনে প্রতিবেশীর সঙ্গে দূরত্ব একাকীত্ব বাড়ায়।
বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব: নীরব এক সংকট
বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব শুধু একা থাকা নয়। অনেক বয়স্ক মানুষ ভরা সংসারেও নিজেকে একা মনে করেন, কারণ তাঁদের মনের কথা শোনার কেউ নেই। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরে ধানমন্ডি, গুলশান বা উত্তরার ফ্ল্যাটবাড়িতে অনেক বাবা-মা সারাদিন একা থাকেন, ছেলে-মেয়েরা অফিসে আর নাতি-নাতনিরা স্কুল-কলেজে।
বাংলাদেশে পারিবারিক কাঠামো দ্রুত বদলাচ্ছে। আগে যেখানে যৌথ পরিবারে বয়স্করা ঘিরে থাকতেন কোলাহলে, এখন ছোট পরিবারে অনেকেই থাকেন একলা ঘরে। কেউ কেউ আবার সন্তানদের বিদেশে থাকার কারণে বছরের পর বছর সঙ্গীহীন কাটান। এই একাকীত্ব ধীরে ধীরে মনকে ভারী করে তোলে।
একাকীত্ব যেভাবে প্রকাশ পায়
- ফোন বা দেখা করার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া, কিন্তু মুখে বলেন “আমি ঠিক আছি”।
- টেলিভিশন বা মোবাইলে অতিরিক্ত সময় কাটানো, বাইরের মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশা কমে যাওয়া।
- পুরনো দিনের কথা বারবার বলা, বর্তমান নিয়ে আগ্রহ কমে যাওয়া।
- ছোটখাটো বিষয়ে অভিমান বা রাগ, যা আসলে মনোযোগ চাওয়ার একটি উপায়।
অবসরের পর মন খারাপ কেন হয়
অবসরের পর মন খারাপ একটি খুব সাধারণ অথচ কম আলোচিত সমস্যা। সারা জীবন যিনি নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে যেতেন, কাজে ব্যস্ত থাকতেন, সহকর্মীদের সঙ্গে মিশতেন, হঠাৎ অবসরের পর তাঁর জীবনে যেন একটা বড় শূন্যতা তৈরি হয়। প্রতিদিনের রুটিন, দায়িত্ব আর পরিচয় একসঙ্গে হারিয়ে গেলে অনেকে দিশেহারা বোধ করেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশে অনেক পুরুষের কাছে চাকরি বা ব্যবসাই ছিল তাঁদের মূল সামাজিক পরিচয়। সেই পরিচয় হারানোর পর “আমি এখন আর কারও কাজে লাগি না” এই অনুভূতি প্রবল হয়। নারীদের ক্ষেত্রেও সন্তান বড় হয়ে যাওয়ার পর, সংসারের প্রধান দায়িত্ব কমে গেলে একই রকম শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
এই সময়টায় যদি নতুন কোনো আগ্রহ, সম্পর্ক বা রুটিন তৈরি না হয়, তবে মন খারাপ ধীরে ধীরে গভীর বিষণ্নতায় রূপ নিতে পারে। তাই অবসর পরিকল্পনায় শুধু আর্থিক দিক নয়, মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতিও জরুরি।
বয়স্কদের বিষণ্নতা: যা “স্বাভাবিক বার্ধক্য” নয়
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি হলো, বয়স্কদের মন খারাপ থাকাটাকে আমরা “স্বাভাবিক বার্ধক্য” ধরে নিই। “বুড়ো হয়েছে, একটু মন খারাপ তো থাকবেই” এই ভাবনা থেকে আমরা তাঁদের কষ্টকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বয়স্কদের বিষণ্নতা কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ নয়, বরং এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক অবস্থা যেখানে যত্ন ও সহায়তা প্রয়োজন।
বিষণ্নতা (depression বা গভীর মন খারাপের অবস্থা) বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। তরুণদের মতো শুধু মন খারাপ বা কান্না নয়, বয়স্কদের বিষণ্নতা প্রায়ই শরীরের নানা অভিযোগের আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
বয়স্কদের বিষণ্নতার সম্ভাব্য লক্ষণ
- ঘুম ও খাওয়ায় পরিবর্তন: ঘুম না হওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম, ক্ষুধা কমে যাওয়া বা ওজন কমে যাওয়া।
- শারীরিক অভিযোগ: শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা, দুর্বলতা বা অস্বস্তি, যার কোনো স্পষ্ট শারীরিক কারণ পাওয়া যায় না।
- আগ্রহ হারানো: আগে যে কাজ বা মানুষ ভালো লাগত, এখন তাতে কোনো আনন্দ না পাওয়া।
- খিটখিটে মেজাজ: সহজেই রেগে যাওয়া, বিরক্ত হওয়া বা ছোট বিষয়ে কষ্ট পাওয়া।
- নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করা: “আমি এখন বোঝা”, “আমি না থাকলেই ভালো” এমন কথা বলা।
- মনোযোগ ও স্মৃতিতে সমস্যা: কথা মনে রাখতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, যা অনেক সময় ভুল করে শুধু বার্ধক্যজনিত ভুলে যাওয়া ভাবা হয়।
মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলো দেখলেই নিজে থেকে কোনো রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। বিষণ্নতার লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি আমাদের বিষণ্নতার লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা লেখাটি পড়তে পারেন। সঠিক মূল্যায়নের জন্য একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে ভালো উপায়।
শরীর আর মন একে অপরকে কীভাবে প্রভাবিত করে: কেন দুটোই একসঙ্গে দেখা জরুরি
বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীর ও মনের সম্পর্ক খুব গভীর। দীর্ঘমেয়াদি অসুখ বিষণ্নতা বাড়ায়, আবার বিষণ্নতা শরীরের অসুখ থেকে সেরে ওঠাকে কঠিন করে তোলে। যেমন, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তবে তিনি ঠিকমতো ওষুধ খাওয়া, হাঁটাচলা বা খাদ্যাভ্যাস মানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
এ কারণে বয়স্ক বাবা-মায়ের চিকিৎসায় শুধু শরীর নয়, মনের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে, তবে পাশাপাশি কাউন্সেলিং আর পরিবারের পাশে থাকা মন ভালো রাখতে অনেক সাহায্য করে। মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তির নানা দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি আমাদের মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায় লেখায়।
সন্তানের করণীয়: বাবা-মায়ের পাশে কীভাবে দাঁড়াবেন
বয়স্ক বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে সন্তানের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। এখানে সন্তানের করণীয় কিছু বাস্তব দিক তুলে ধরা হলো, যা আপনি আজ থেকেই শুরু করতে পারেন।
১. সময় দিন, শুধু উপস্থিতি নয়
বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু কথা বলার জন্য রাখুন। খবর জিজ্ঞেস করা নয়, বরং তাঁদের মনের কথা শোনা। বিদেশে বা অন্য শহরে থাকলে নিয়মিত ফোন বা ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁরা যেন অনুভব করেন তাঁদের কথা কেউ মন দিয়ে শুনছে।
২. তাঁদের মতামতকে মূল্য দিন
পরিবারের সিদ্ধান্তে বয়স্কদের মতামত নিন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করুন। এতে তাঁরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় মনে করবেন, যা গুরুত্বহীনতার অনুভূতি কমায়।
৩. সক্রিয় ও সামাজিক থাকতে উৎসাহ দিন
- হালকা ব্যায়াম, নিয়মিত হাঁটা বা বাগান করার মতো কাজে উৎসাহ দিন।
- পুরনো বন্ধু, আত্মীয় বা প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুযোগ তৈরি করুন।
- ধর্মীয় বা সামাজিক আয়োজনে অংশ নিতে সাহায্য করুন, যদি তাঁদের আগ্রহ থাকে।
- নতুন শখ, যেমন বই পড়া, ছবি আঁকা বা রান্নায় উৎসাহ দিন।
৪. তাঁদের কষ্টকে অগ্রাহ্য করবেন না
বাবা-মা যখন মন খারাপ বা কষ্টের কথা বলেন, তখন “এসব কিছু না”, “মন শক্ত করো” বলে উড়িয়ে দেবেন না। বরং তাঁদের অনুভূতিকে স্বীকার করুন। শুধু “আমি বুঝতে পারছি, তোমার কষ্ট হচ্ছে” এই একটি বাক্যও অনেক স্বস্তি দিতে পারে।
৫. সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না
যদি মন খারাপ দীর্ঘদিন ধরে চলে, বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তবে একজন সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি ভালোবাসারই প্রকাশ।
এখনই চেষ্টা করুন: কষ্টে থাকা কাউকে কী বলবেন
কোনো কথায় ট্যাপ করুন, দেখুন কেন তা সাহায্য করে বা কষ্ট দেয়।
কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
প্রতিটি মন খারাপের জন্য সাইকোলজিস্টের সাহায্য লাগে না, তবে কিছু লক্ষণ দেখলে দেরি না করে একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা উচিত। বিশেষ করে নিচের অবস্থাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখুন:
- টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে গভীর মন খারাপ, আগ্রহ হারানো বা নিরাশা।
- ঘুম, খাওয়া বা দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের পরিবর্তন।
- নিজেকে বোঝা মনে করা বা বেঁচে থাকা নিয়ে হতাশার কথা বলা।
- আগের চেয়ে অনেক বেশি একা হয়ে যাওয়া, মানুষ এড়িয়ে চলা।
- স্মৃতি বা মনোযোগে হঠাৎ বড় সমস্যা, যা প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশে পাবলিক হাসপাতাল যেমন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (NIMH) এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি চাম ওয়েলনেসে আপনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি এবং সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং সহায়তা নিতে পারেন। বয়স্ক বাবা-মায়ের জন্য অনলাইন সেবা বিশেষভাবে সুবিধাজনক, কারণ তাঁদের বাইরে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে সেবা নেওয়া যায়।
পরিবারের জন্য কিছু কথা
বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময় সন্তানরাও ক্লান্ত ও চাপে থাকেন। এটাকে বলা হয় কেয়ারগিভার স্ট্রেস (caregiver stress, মানে যিনি দেখাশোনা করেন তার মানসিক চাপ)। নিজের মানসিক অবস্থার যত্ন না নিলে দীর্ঘমেয়াদে আপনি নিজেই ভেঙে পড়তে পারেন। তাই বাবা-মায়ের পাশাপাশি নিজের মনের যত্নও নিন, প্রয়োজনে পরিবারের সবাই মিলে দায়িত্ব ভাগ করে নিন।
মনে রাখবেন, বয়স্ক মানুষের প্রয়োজন শুধু ওষুধ বা খাবার নয়, প্রয়োজন ভালোবাসা, সম্মান আর নিজেকে মূল্যবান মনে করার অনুভূতি। ছোট ছোট যত্নই তাঁদের জীবনের শেষ অধ্যায়কে করে তুলতে পারে শান্তিময় ও অর্থবহ।
শেষ কথা: যত্নই সবচেয়ে বড় ওষুধ
বয়স্ক বাবা-মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলার বিষয় নয়। বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্ব, বয়স্কদের বিষণ্নতা কিংবা অবসরের পর মন খারাপ, এসব চ্যালেঞ্জ সঠিক যত্ন ও সহায়তায় অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। সন্তান হিসেবে সচেতনতা, সময় আর ভালোবাসা দিয়ে আপনি তাঁদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন।
আপনার বাবা-মায়ের মন খারাপ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, বা আপনি নিজেই যত্ন নিতে গিয়ে চাপে থাকেন, তবে দেরি না করে একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন। চাম ওয়েলনেসের অভিজ্ঞ ও সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টদের কাছ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি এবং সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং সহায়তা নিতে আজই একটি সেশন বুক করুন। আপনার বাবা-মায়ের মনের যত্নে প্রথম পদক্ষেপটি আজই নিন।
বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের টানাপোড়েনে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসলে অনেক সময় দ্রুত কাজ হয়। দেখুন আমাদের ফ্যামিলি থেরাপি কীভাবে কাজ করে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
বয়স্কদের মন খারাপ কি শুধুই স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ?
না। বয়স্কদের মন খারাপ থাকাকে অনেকে স্বাভাবিক বার্ধক্য ধরে নেন, কিন্তু এটি ভুল ধারণা। দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ বা বিষণ্নতা একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক অবস্থা, যেখানে ঠিকমতো যত্ন আর চিকিৎসা দরকার। এটিকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের একাকীত্ব কমাতে সন্তান হিসেবে কী করতে পারি?
প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু কথা বলার জন্য দিন, তাঁদের মনের কথা মন দিয়ে শুনুন এবং পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামতকে মূল্য দিন। পুরনো বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ, হালকা ব্যায়াম ও নতুন শখে উৎসাহ দিন। বিদেশে থাকলে নিয়মিত ফোন বা ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখুন।
অবসরের পর বাবার মন খুব খারাপ থাকে, কী করা উচিত?
অবসরের পর দৈনন্দিন রুটিন ও পরিচয় হারিয়ে অনেকে শূন্যতা অনুভব করেন। নতুন আগ্রহ, সামাজিক সম্পর্ক ও রুটিন তৈরিতে তাঁকে সাহায্য করুন। যদি মন খারাপ টানা কয়েক সপ্তাহ চলে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তবে একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
বয়স্ক বাবা-মায়ের জন্য অনলাইন কাউন্সেলিং কি সম্ভব?
হ্যাঁ। চাম ওয়েলনেস ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি এবং সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং সহায়তা দেয়। বয়স্ক বাবা-মায়ের জন্য অনলাইন সেবা বিশেষভাবে সুবিধাজনক, কারণ বাইরে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসেই একজন অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা যায়।
বয়স্কদের বিষণ্নতার লক্ষণ কীভাবে বুঝব?
বয়স্কদের বিষণ্নতা প্রায়ই শরীরের নানা অভিযোগের আড়ালে থাকে, যেমন ঘুম ও খাওয়ায় পরিবর্তন, ব্যাখ্যাহীন ব্যথা, আগ্রহ হারানো, খিটখিটে মেজাজ বা নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করা। এই লক্ষণ দেখলে নিজে রোগ ধরে না নিয়ে একজন সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
How this article was made
- Written by
- Afsana Rahman, Assistant Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Jinat Jahan, Counselling Psychologist
- Last updated
- October 30, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with depression
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






