আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়: নিজেকে ছোট করে দেখা কাটিয়ে ওঠা

ছোট উত্তর: আত্মবিশ্বাস জন্মগত গুণ নয়, অভ্যাসে গড়ে ওঠে। সবচেয়ে কাজের উপায়: নিজের সাথে কঠোর কথাগুলো ধরে ফেলা, অন্যের সাথে তুলনা কমানো, ছোট লক্ষ্য ঠিক করে পূরণ করা আর প্রতিদিন নিজের একটা ছোট অর্জন লিখে রাখা।
- আত্মবিশ্বাস মানে অহংকার নয়: নিজের ওপর ভরসা রাখা, ভুল হলেও নিজেকে ছোট না করা।
- অনেকদিন ধরে নিজেকে মূল্যহীন মনে হলে, বা সঙ্গে মন খারাপ আর দুশ্চিন্তা থাকলে একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন।
নিজের প্রতি আপনার ধারণা কেমন? ২ মিনিটে দেখে নিন
রোজেনবার্গ সেলফ-এস্টিম স্কেল (RSES) আত্মমর্যাদা মাপার সবচেয়ে প্রচলিত প্রশ্নমালা। উত্তর আপনার ফোনেই থাকে, কোথাও জমা হয় না।
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় নিয়ে অনেকেই ভাবেন, বিশেষ করে যখন মনে হয় নিজেকে বারবার ছোট করে দেখছি। কোনো কাজে হাত দেওয়ার আগেই মনে হয়, “আমি তো পারব না”, “অন্যরা আমার চেয়ে অনেক ভালো”, কিংবা “আমাকে দিয়ে কিছু হবে না”। এই অনুভূতি নতুন কিছু নয়, আর এটি নিয়ে লজ্জিত হওয়ারও কারণ নেই। আত্মবিশ্বাস জন্মগত কোনো গুণ নয় যে কারও থাকবে আর কারও থাকবে না, বরং এটি ধীরে ধীরে গড়ে তোলা যায়।
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে, নিজেকে ছোট করে দেখার শিকড়টা আসলে কোথায়। আমাদের সমাজে বেড়ে ওঠার পথে অনেকেই এমন কথা শুনে বড় হন, যা ভেতরে ভেতরে আত্মমূল্যবোধকে দুর্বল করে দেয়। এই লেখায় আমরা সেই কারণগুলো এবং ছোট ছোট বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলব, যেগুলো দিয়ে ধাপে ধাপে নিজের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আত্মবিশ্বাস কী?
আত্মবিশ্বাস মানে নিজের ওপর ভরসা: “আমি পারব” বা “না পারলেও সামলে নিতে পারব”, এই বিশ্বাস। এর মধ্যে দুটো জিনিস থাকে: নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা, আর নিজেকে একজন মূল্যবান মানুষ হিসেবে মেনে নেওয়া। আত্মবিশ্বাস জন্মগত কোনো গুণ না, এটা অভিজ্ঞতা আর চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে, তাই যেকোনো বয়সে বাড়ানো যায়।
আত্মবিশ্বাস আর অহংকারের পার্থক্য
অনেকে ভয় পান, আত্মবিশ্বাসী হতে গেলে অহংকারী মনে হবে। আসলে দুটো উল্টো জিনিস। আত্মবিশ্বাসী মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন, অন্যের সাফল্যে খুশি হন আর শিখতে আগ্রহী থাকেন। অহংকারী মানুষ নিজেকে বড় দেখাতে অন্যকে ছোট করেন আর সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না, কারণ ভেতরে ভেতরে তারা আসলে অনিরাপদ। বিস্তারিত পড়তে পারেন নার্সিসিস্ট মানে কি লেখাটিতে।
আত্মবিশ্বাস কম থাকা আসলে কেমন
আত্মবিশ্বাস কম থাকা মানেই সবসময় ভীতু বা চুপচাপ থাকা নয়। অনেক সময় বাইরে থেকে যাকে হাসিখুশি, কর্মঠ মানুষ মনে হয়, সেও ভেতরে ভেতরে নিজেকে যথেষ্ট মনে করেন না। কিছু সাধারণ লক্ষণ এমন হতে পারে:
- নতুন কিছু চেষ্টা করার আগেই ব্যর্থতার ভয়ে পিছিয়ে আসা।
- প্রশংসা পেলে বিশ্বাস করতে না পারা, বরং ভাবা “এমনিই বলছে”।
- নিজের মতামত থাকলেও দল বা পরিবারের সামনে বলতে দ্বিধা করা।
- ছোটখাটো ভুলের জন্য অনেকদিন ধরে নিজেকে দোষ দেওয়া।
- বারবার অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে মন খারাপ করা।
এই অনুভূতিগুলো দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তা আর বিষণ্নতার দিকেও নিয়ে যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য আসলে কী এবং এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও বিস্তারিত বুঝতে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য কী লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।
তুলনার সংস্কৃতি ও “লোকে কী বলবে” চাপ
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় আমরা প্রায়ই দেখি, বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ার পেছনে দুটি জিনিস বড় ভূমিকা রাখে। একটি হলো তুলনার সংস্কৃতি, আরেকটি হলো “লোকে কী বলবে” নামের অদৃশ্য চাপ।
অন্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিজেকে ছোট ভাবা
ছোটবেলা থেকেই অনেকে শুনে বড় হন, “অমুকের ছেলে কত ভালো রেজাল্ট করল”, “তমুকের মেয়ে কত গুছিয়ে সংসার করছে”। এই তুলনা প্রথমে সাধারণ কথা মনে হলেও, বছরের পর বছর ধরে ভেতরে একটা বার্তা গেঁথে দেয়: “আমি যথেষ্ট নই।” বড় হয়ে এই অভ্যাসটা আমরা নিজেরাই ধরে রাখি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাজানো সাফল্য দেখে মনে হয়, শুধু আমার জীবনটাই এলোমেলো। অথচ আমরা অন্যের ভেতরের সংগ্রামটা দেখি না, চোখে পড়ে শুধু বাইরের ছবিটা।
“লোকে কী বলবে” এর ভার
যৌথ পরিবার আর ঘনিষ্ঠ সমাজব্যবস্থায় অন্যের মতামত আমাদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে। কী পরব, কী পড়ব, কখন বিয়ে করব, কোন পেশা বেছে নেব, সবকিছুতেই “লোকে কী ভাববে” ভাবনাটা এসে দাঁড়ায়। এর ফলে অনেকে নিজের ইচ্ছা চেপে রেখে অন্যকে খুশি করতে থাকেন, আর ধীরে ধীরে নিজের কণ্ঠস্বরের ওপর বিশ্বাসটাই হারিয়ে ফেলেন। গবেষণায় দেখা যায়, ক্রমাগত সামাজিক চাপ ও তুলনা আত্মমূল্যবোধ দুর্বল করে দিতে পারে।
আত্মবিশ্বাস কম থাকা নিজে কোনো রোগ নয়, তবে এটি দীর্ঘদিন চললে বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তার ঝুঁকি বাড়ায়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ (NIMH) নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করা এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাকে মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত হিসেবে উল্লেখ করে। নিচের উপায়গুলো সেই ভিতের ওপরই দাঁড়ানো, কোনো জাদু নয়।
আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণ
- ছোটবেলায় বারবার সমালোচনা বা অন্যের সাথে তুলনা শোনা (“দেখ, ও কত ভালো রেজাল্ট করেছে”)।
- পরীক্ষা, চাকরি বা সম্পর্কে বড় কোনো ব্যর্থতা।
- স্কুলে বা অফিসে বুলিং, কিংবা চেহারা বা গায়ের রং নিয়ে কটাক্ষ।
- এমন সম্পর্ক, যেখানে সারাক্ষণ ছোট করে রাখা হয় (টক্সিক রিলেশনশিপ)।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে হওয়া।
- বিষণ্নতা বা দুশ্চিন্তা, যা নিজের সম্পর্কে ধারণাকে আরও নেতিবাচক করে তোলে।
আত্মবিশ্বাস কেন প্রয়োজন
আত্মবিশ্বাস থাকলে আমরা নিজের মত প্রকাশ করতে পারি, দরকারে “না” বলতে পারি, নতুন সুযোগ নিতে ভয় পাই না আর ব্যর্থ হলেও আবার চেষ্টা করি। পড়াশোনা, চাকরির ইন্টারভিউ, সম্পর্ক আর মানসিক স্বাস্থ্য, সব জায়গাতেই এর প্রভাব পড়ে। আত্মবিশ্বাস কম থাকলে মানুষ অনেক সময় সুযোগ এড়িয়ে চলেন, নিজের প্রাপ্য মেনে নেন না আর অন্যের মতামতের ওপর বেশি নির্ভর করেন।
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বাস্তব উপায়
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার (NHS) পরামর্শও একই দিকে যায়: নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথাগুলো চিনে প্রশ্ন করা, যা ভালো পারেন তা করা, আর নিজের প্রতি সদয় থাকা। নিচের উপায়গুলো সেই কাজগুলোকেই আমাদের রোজকার জীবনে বসিয়ে দেয়।
আত্মবিশ্বাস একদিনে ফিরে আসে না, তবে ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা যায়। নিচের পথগুলো একটু চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
১. নিজের ভেতরের কথাগুলো লক্ষ করুন
সারাদিন আমরা নিজেকে যা যা বলি, তা আত্মবিশ্বাসের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। “আমি বোকা”, “আমি সব নষ্ট করে দিই”, এই ধরনের কঠোর কথা কোনো বন্ধুকে কখনো বলতাম না, অথচ নিজেকে অনায়াসে বলি। ভুল হলে নিজেকে দোষ না দিয়ে বরং বলুন, “এবার হয়নি, পরেরবার চেষ্টা করব।” নিজের সঙ্গে একটু নরম হওয়া দুর্বলতা নয়, বরং এক ধরনের শক্তি।
২. তুলনা কমিয়ে আনুন
অন্যের সঙ্গে তুলনা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, কিন্তু কমিয়ে আনা যায়। যখন টের পাবেন অন্যের সঙ্গে নিজেকে মেলাচ্ছেন, তখন একটু থামুন আর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “গত এক বছরে আমি নিজে কতটা এগিয়েছি?” নিজের গতকালের সঙ্গে আজকের তুলনাটাই সবচেয়ে সৎ পরিমাপ। প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কিছুটা কমিয়ে দেখুন, অনেকেই এতে অনেক হালকা বোধ করেন।
৩. ছোট ছোট সফলতা তৈরি করুন
আত্মবিশ্বাস বড় বড় অর্জন থেকে নয়, বরং ছোট ছোট কাজ শেষ করার অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠে। প্রতিদিন এমন একটি ছোট কাজ ঠিক করুন, যেটি আপনি নিশ্চিতভাবে করতে পারবেন, তারপর সেটি শেষ করুন। এই “পেরেছি” অনুভূতিটাই ধীরে ধীরে ভেতরের আস্থা মজবুত করে তোলে।
৪. নিজের গুণগুলো স্বীকার করুন
আমরা নিজের দুর্বলতার তালিকা মুখস্থ রাখি, অথচ গুণের কথা মনে রাখি না। একটি খাতায় প্রতিদিন এমন তিনটি জিনিস লিখুন, যা আপনি সেদিন ভালো করেছেন, তা যত ছোটই হোক না কেন। ধারাবাহিকভাবে এটি করলে নিজের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে।
৫. “না” বলতে শিখুন
সবসময় অন্যকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের সীমা ভুলে গেলে আত্মমূল্যবোধ কমে যায়। বিনয়ের সঙ্গে “না” বলা স্বার্থপরতা নয়, এটি নিজের প্রতি সম্মান। ছোট ছোট জায়গায় নিজের মতামত প্রকাশ করার অনুশীলন করলে ধীরে ধীরে বড় জায়গাতেও নিজের কণ্ঠ খুঁজে পাবেন।
৬. একা না থেকে মানুষের সঙ্গে মিশুন
নিজেকে ছোট করে দেখার অনুভূতি একাকীত্বে আরও বেড়ে যায়। বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে মন খুলে কথা বললে বুকের ভারটা অনেকটা হালকা লাগে। একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা কীভাবে সামলানো যায়, সে বিষয়ে আরও জানতে একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা দূর করার উপায় লেখাটি সহায়ক হতে পারে।
এখনই চেষ্টা করুন: নিজের প্রতি কঠিন চিন্তাটা যাচাই করুন
ছোট তিনটা প্রশ্ন। আপনার উত্তর আর কেউ দেখবে না।
দৈনন্দিন জীবনে আত্মবিশ্বাসের চর্চা
বড় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের যত্ন, পর্যাপ্ত ঘুম, একটু হাঁটাচলা আর নিয়মিত রুটিন মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। মন যখন এলোমেলো থাকে, তখন আত্মবিশ্বাসও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। মানসিক সমস্যা সামলানোর কিছু সাধারণ কৌশল সম্পর্কে জানতে মানসিক সমস্যা দূর করার উপায় লেখাটি দেখে নিতে পারেন।
মনে রাখবেন, একটা খারাপ দিন মানেই আপনি ব্যর্থ নন। আত্মবিশ্বাস মানে সবকিছু নিখুঁতভাবে করা নয়, বরং ভুল করেও নিজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
নিজে চেষ্টা করার পরও যদি নিচের অনুভূতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়, তবে একজন অভিজ্ঞ psychologist-এর সাথে কথা বলা ভালো সিদ্ধান্ত:
- নিজেকে ছোট করে দেখার অনুভূতি এতটাই তীব্র যে তা দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা সম্পর্কে বাধা দিচ্ছে।
- অনেক দিন ধরে বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা কিংবা ঘুম ও খাওয়ার সমস্যা হচ্ছে।
- নিজের সম্পর্কে ক্রমাগত নেতিবাচক চিন্তা কিছুতেই কমছে না।
- নিজেকে অপরাধী মনে হওয়া বা জীবন নিয়ে আশাহীন লাগছে।
এগুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং সময়মতো সাহায্য নেওয়া নিজের প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয়। একজন certified psychologist বা কাউন্সেলর আপনাকে বিচার না করে আপনার চিন্তার ধরন বুঝতে ও নতুন কৌশল শিখতে সাহায্য করেন। প্রয়োজনে থেরাপি বা কাউন্সেলিং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পথটা অনেক সহজ করে দিতে পারে। মনে রাখবেন, ওষুধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় একজন যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে নিতে হবে।
শেষ কথা
নিজেকে ছোট করে দেখার অভ্যাস কাটাতে সময় লাগে, তবে এটা অসম্ভব না। তুলনার সংস্কৃতি আর “লোকে কী বলবে” চাপকে চিনতে পারলে ধীরে ধীরে নিজের কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়া যায়। ছোট ছোট পদক্ষেপ, নিজের প্রতি একটু কোমলতা, আর প্রয়োজনে psychologist-এর সাথে কথা বলা, এই তিনটি মিলেই আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।
আপনি যদি মনে করেন নিজের অনুভূতি নিয়ে অভিজ্ঞ কারও সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা দরকার, Chum Wellness-এর certified psychologist ও কাউন্সেলররা আপনার পাশে আছে। অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি সেশন নেওয়া যায়। সেশন ফি সাইকোলজিস্ট অনুযায়ী ১,০০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা, বুক করার আগেই দেখা যায় (ফি দেখুন)। প্রথম পদক্ষেপ নিতে আমাদের থেরাপিস্টদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আজই কথা বলা শুরু করতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় কী?
সবচেয়ে সহজ শুরু হলো ছোট ছোট কাজ শেষ করে “পেরেছি” অনুভূতি তৈরি করা এবং নিজের সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা না বলা। প্রতিদিন তিনটি ভালো কাজ লিখে রাখা ও অন্যের সঙ্গে তুলনা কমিয়ে আনা ধীরে ধীরে নিজের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনে। এটি একদিনে হয় না, নিয়মিত অনুশীলনেই গড়ে ওঠে।
অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে ছোট মনে হলে কী করব?
যখন টের পাবেন তুলনা করছেন, তখন একটু থামুন এবং নিজের গত এক বছরের অগ্রগতির সঙ্গে আজকের তুলনা করুন। মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা অন্যের সাজানো ছবিটা দেখি, ভেতরের সংগ্রামটা নয়। প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কিছুটা কমিয়ে দেখতে পারেন।
“লোকে কী বলবে” চিন্তা কীভাবে কমাব?
প্রথমে মেনে নিন যে সব সিদ্ধান্তে সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব নয়। ছোট ছোট জায়গায় নিজের মতামত প্রকাশ ও বিনয়ের সঙ্গে “না” বলা অনুশীলন করুন। ধীরে ধীরে অন্যের মতামতের চেয়ে নিজের মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে শিখলে এই চাপ কমে আসে।
আত্মবিশ্বাস কাকে বলে?
আত্মবিশ্বাস মানে নিজের দক্ষতা আর নিজের মূল্যের ওপর ভরসা, এই বিশ্বাস যে আমি চেষ্টা করতে পারি আর ব্যর্থ হলেও সামলে নিতে পারি।
আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণ কী?
ছোটবেলার সমালোচনা আর তুলনা, বড় কোনো ব্যর্থতা, বুলিং, টক্সিক সম্পর্ক, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলনা, আর বিষণ্নতা বা দুশ্চিন্তা, সাধারণত এগুলোই বড় কারণ।
আত্মবিশ্বাসের অভাবে থেরাপি নেওয়া কি দরকার?
নিজেকে ছোট করে দেখার অনুভূতি যদি দীর্ঘদিন ধরে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা সম্পর্কে বাধা দেয়, কিংবা বিষণ্নতা বা দুশ্চিন্তার সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তবে একজন certified psychologist-এর সাথে কথা বলা ভালো সিদ্ধান্ত। থেরাপি বিচার না করে চিন্তার ধরন বুঝতে ও নতুন কৌশল শিখতে সাহায্য করে।
How this article was made
- Written by
- Syeda Faria Ehsan, Assistant Counselling Psychologist
- Clinical reviewer
- Samsun Nahar, Assistant Clinical Psychologist
- Last updated
- October 27, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Talk to our psychologists
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






