পরকীয়া ধরা পড়লে কি করবেন? সম্পর্ক বাঁচাবেন নাকি সরে আসবেন
- পরকীয়া ধরা পড়ার পর প্রথম কয়েকদিন কী করবেন
- শুধু সন্দেহ, কিন্তু নিশ্চিত না হলে
- বাংলাদেশে পরকীয়ার কষ্টটা কেন আরও ভারী লাগে
- কেন পরকীয়া হয়? (বোঝার জন্য, অজুহাত হিসেবে না)
- সম্পর্ক বাঁচাবেন, নাকি সরে আসবেন?
- বিশ্বাস কীভাবে আবার ফেরে
- সন্তানদের সামনে যা মনে রাখবেন
- যিনি পরকীয়া করেছেন, তাঁর জন্য কিছু কথা
- কাপল কাউন্সেলিং কীভাবে সাহায্য করে
- সাধারণ জিজ্ঞাসা

পরকীয়া ধরা পড়লে কি করবেন? প্রথম কয়েকটা দিন মনে হয় পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। রাগ, অপমান, কান্না, আবার পরক্ষণেই “আমি কি কোথাও ভুল করেছিলাম” এই প্রশ্ন, সব একসঙ্গে চলে আসে। এখনই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। আগে নিজেকে একটু স্থির করা, তারপর বোঝা যে সম্পর্কটা বাঁচানো সম্ভব কিনা, আর সম্ভব হলে কীভাবে। অনেক দম্পতি সঠিক সাহায্য নিয়ে আবার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারেন, আবার কারও জন্য সম্মানের সঙ্গে আলাদা হওয়াটাই ঠিক সিদ্ধান্ত। দুটোই হতে পারে।
চাম ওয়েলনেসে যাঁরা কাপল বা ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং বুক করেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের সমস্যা সবচেয়ে বেশি আসা বিষয়গুলোর একটা, আর তার ভেতরে বিশ্বাস ভাঙা আর পরকীয়া বারবার উঠে আসে। তাই এই লেখাটা সাজানো হয়েছে বাস্তব প্রশ্নগুলো ধরে, কোনো বিচার ছাড়াই।
পরকীয়া ধরা পড়ার পর প্রথম কয়েকদিন কী করবেন
- বড় সিদ্ধান্ত একটু পিছিয়ে দিন। রাগের মাথায় ডিভোর্স, বাসা ছেড়ে চলে যাওয়া, বা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া, এসব পরে আফসোসের কারণ হতে পারে। কয়েক সপ্তাহ সময় নিন।
- শরীরের যত্ন নিন। ঘুম, খাওয়া একদম এলোমেলো হয়ে যায়। অল্প হলেও খান, যতটা পারেন ঘুমান। এটা দুর্বলতা না, সামনের কঠিন কথাগুলোর জন্য শক্তি জমানো।
- একজন বিশ্বস্ত মানুষকে বলুন। পুরো পরিবারকে না, একজন এমন মানুষ, যিনি শুনবেন কিন্তু আগুনে ঘি ঢালবেন না।
- প্রমাণ খোঁজার নেশা থেকে একটু দূরে থাকুন। রাত জেগে ফোন, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ঘাঁটলে কষ্ট বাড়ে, উত্তর মেলে না।
নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসলে, বা ঘরে কোনো ধরনের হুমকি বা গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটলে, এখনই ৯৯৯-এ কল করুন। নিরাপত্তা সবার আগে।
এখনই চেষ্টা করুন: ঝগড়া ছাড়া কথাটা বলুন
দোষ দিলে ঝগড়া শুরু হয়। এভাবে বললে কথা শুরু হয়। ঘরগুলো পূরণ করুন।
শুধু সন্দেহ, কিন্তু নিশ্চিত না হলে
অনেকের ক্ষেত্রে পরকীয়া পুরোপুরি “ধরা” পড়ে না, থাকে শুধু সন্দেহ: হঠাৎ ফোনে পাসওয়ার্ড, রাতে লুকিয়ে চ্যাট, অফিসের দেরি বেড়ে যাওয়া। এই অনিশ্চয়তা অনেক সময় সত্যি জানার চেয়েও বেশি কষ্ট দেয়। কয়েকটা কথা মনে রাখুন:
- গোয়েন্দাগিরি না, সরাসরি কথা। শান্ত সময়ে বলুন, “কিছুদিন ধরে আমাদের মধ্যে দূরত্ব টের পাচ্ছি, আর কিছু জিনিস আমাকে চিন্তায় ফেলছে। আমি সত্যিটা জানতে চাই।” অভিযোগের চেয়ে নিজের অনুভূতি দিয়ে শুরু করলে উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- অস্বীকার করলেও নিজের অনুভূতিকে ছোট করবেন না। উত্তর যা-ই হোক, সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ে কথা বলা দরকার।
- সন্দেহ যদি সবসময় থাকে, সঙ্গীর পরিবর্তনের সাথে মিল না থাকে, আর আগের সম্পর্কেও এমন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা নিজের ভেতরের দুশ্চিন্তা বা পুরনো আঘাত থেকেও আসতে পারে। একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বললে দুটো আলাদা করা সহজ হয়।
বাংলাদেশে পরকীয়ার কষ্টটা কেন আরও ভারী লাগে
আমাদের দেশে বিয়ে শুধু দুজনের না, দুটো পরিবারের ব্যাপার। তাই পরকীয়া ধরা পড়লে কষ্টের সঙ্গে আরও কিছু চাপ যোগ হয়:
- লোকে কী বলবে: অনেকে লজ্জায় কাউকে বলতেই পারেন না, একা একা সব বয়ে বেড়ান।
- পরিবারের চাপ: কেউ বলেন “মানিয়ে নাও”, কেউ বলেন “এখনই ছেড়ে দাও”। নিজের মনের কথাটা শোনার সুযোগই থাকে না।
- সন্তানের কথা ভেবে আটকে থাকা: বাচ্চারা কী বুঝবে, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, এই চিন্তায় অনেকে নিজের কষ্ট চাপা দেন।
- অর্থনৈতিক নির্ভরতা: বিশেষ করে যিনি আয় করেন না, তাঁর জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কঠিন হয়।
- ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়া: এখন বেশিরভাগ পরকীয়া শুরু হয় চ্যাট থেকে, আর ধরাও পড়ে ফোনেই। “শুধু কথা বলতাম, কিছু হয়নি” কথাটা প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু বিশ্বাস ভাঙার কষ্ট তাতে কম হয় না।
কেন পরকীয়া হয়? (বোঝার জন্য, অজুহাত হিসেবে না)
কারণ জানা মানে অন্যায়কে মেনে নেওয়া না। কিন্তু কারণ না বুঝলে একই জায়গায় আবার আটকে যাওয়ার ভয় থাকে। আমাদের কাউন্সেলিংয়ে প্রায়ই যে বিষয়গুলো দেখা যায়:
- দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে কথা কমে যাওয়া, “রুমমেটের মতো” থাকা।
- একজনের মনে হওয়া যে তিনি অবহেলিত, কেউ তাঁকে শোনে না বা দেখে না।
- শারীরিক বা মানসিক ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া।
- নিজের ভেতরের কোনো অস্থিরতা, একঘেয়েমি, বা আত্মসম্মানের অভাব, যেটা নতুন মনোযোগে সাময়িক ভালো লাগা খোঁজে।
- কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই, শুধু সুযোগ আর ভুল সিদ্ধান্ত।
মনে রাখবেন, পরকীয়ার দায় যিনি করেছেন তাঁর। সম্পর্কে সমস্যা থাকলেও, সেটার সমাধানের আরও অনেক পথ ছিল।
সম্পর্ক বাঁচাবেন, নাকি সরে আসবেন?
এর কোনো একক সঠিক উত্তর নেই। তবে কয়েকটা প্রশ্ন নিজেকে করলে পরিষ্কার হতে সাহায্য করে:
- যিনি পরকীয়া করেছেন, তিনি কি সম্পর্কটা পুরোপুরি শেষ করেছেন, নাকি এখনো যোগাযোগ রাখছেন?
- তিনি কি সত্যিই দায় নিচ্ছেন, নাকি দোষ আপনার উপর চাপাচ্ছেন?
- আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে, আর বিশ্বাস ফেরাতে সময় দিতে তিনি কি রাজি?
- সন্তান বা সমাজের কথা বাদ দিলে, আপনি নিজে কী চান?
- এই সম্পর্কে কি আগেও শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন ছিল? থাকলে, নিরাপত্তাকে আগে রাখুন।
বাচ্চার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হলে আমাদের এই লেখাটা কাজে লাগতে পারে: ডিভোর্স নাকি আরেকবার চেষ্টা, সন্তানের জন্য।
বিশ্বাস কীভাবে আবার ফেরে
সম্পর্কটা বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিলে, বিশ্বাস ফেরানো সাধারণত ধীরে ধীরে হয়, কয়েক মাস থেকে বছরখানেক লাগতে পারে। যে জিনিসগুলো সত্যিই কাজ করে:
- পুরোপুরি সম্পর্ক শেষ করা: তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ, কোনো “শেষবারের মতো কথা” না।
- খোলামেলা থাকা: কিছু সময়ের জন্য ফোন, সময়, খরচ নিয়ে স্বচ্ছ থাকা, যতক্ষণ না বিশ্বাস কিছুটা ফেরে।
- সত্যিকারের দায় নেওয়া: “সরি” বলার চেয়ে বেশি দরকার কষ্টটা বুঝতে পারা আর বারবার একই প্রশ্নের উত্তর ধৈর্য নিয়ে দেওয়া।
- সম্পর্কের পুরনো সমস্যাগুলো ঠিক করা: কথা না বলা, অবহেলা, দূরত্ব, এগুলো ঠিক না হলে শুধু পরকীয়া বন্ধ করলেই সব ঠিক হয় না।
বিস্তারিত পড়তে পারেন: বিশ্বাস ভাঙার পর কীভাবে আবার বিশ্বাস ফেরানো যায় (ইংরেজিতে)।
সন্তানদের সামনে যা মনে রাখবেন
বাচ্চারা অনেক কিছু টের পায়, যদিও পুরোটা বোঝে না। তাদের সুরক্ষার জন্য:
- তাদের সামনে ঝগড়া, অভিযোগ বা অন্যজনকে ছোট করে কথা বলা এড়িয়ে চলুন।
- বাচ্চাকে কখনো খবর আনা-নেওয়ার মাধ্যম বা কারো “পক্ষ” নেওয়ার জায়গায় দাঁড় করাবেন না।
- পরকীয়ার বিস্তারিত তাদের জানানোর দরকার নেই। পরিবারে বড় কোনো পরিবর্তন হলে বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় বলুন, আর আশ্বাস দিন যে এটা তাদের দোষে না, আর বাবা-মা দুজনেই তাদের ভালোবাসেন।
- বাচ্চার ঘুম, খাওয়া, পড়াশোনা বা মেজাজে বড় পরিবর্তন দেখলে একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন।
যিনি পরকীয়া করেছেন, তাঁর জন্য কিছু কথা
অনেকে অপরাধবোধে ডুবে যান, আবার কেউ কেউ রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন। সম্পর্ক বাঁচাতে চাইলে নিজের কাজের দায় নিন, পার্টনারের রাগ আর প্রশ্নকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিন, আর নিজের ভেতরে কী কারণে এমন হলো সেটা বুঝতে একজন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিন। নিজেকে বোঝা মানে নিজেকে ক্ষমা করে দেওয়া না, বরং একই ভুল আর না করার পথ খোঁজা।
কাপল কাউন্সেলিং কীভাবে সাহায্য করে
পরকীয়ার পর দুজন একা একা কথা বলতে গেলে প্রায়ই ঝগড়ায় শেষ হয়। একজন প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট নিরপেক্ষ থেকে দুজনকেই কথা বলার নিরাপদ জায়গা দেন, কী ঘটেছে আর কেন ঘটেছে সেটা বুঝতে সাহায্য করেন, আর ধাপে ধাপে বিশ্বাস ফেরানো, বা সম্মানের সঙ্গে আলাদা হওয়ার পথ দেখান। একজন পার্টনার রাজি না হলেও আপনি একা ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং শুরু করতে পারেন।
চাম ওয়েলনেসে কাপল কাউন্সেলিং হয় অনলাইনে সারা বাংলাদেশ থেকে, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি। সেশন পুরোপুরি গোপনীয়, বাংলায় বা ইংরেজিতে। কেউ আপনাকে বিচার করবে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পরকীয়ার পর কি সম্পর্ক টিকে থাকে?
হ্যাঁ, অনেক সম্পর্কই টিকে থাকে, বিশেষ করে যখন পরকীয়া পুরোপুরি শেষ হয়, যিনি করেছেন তিনি দায় নেন, আর দুজনেই সময় দিতে রাজি থাকেন। কাপল কাউন্সেলিং এই পথটা অনেক সহজ করে।
পরকীয়া কি আমার দোষে হয়েছে?
না। সম্পর্কে সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু পরকীয়া করার সিদ্ধান্ত যিনি নিয়েছেন, দায়টা তাঁর। নিজেকে দোষ দেওয়া খুব স্বাভাবিক অনুভূতি, তবে সেটা সত্যি না।
শুধু চ্যাট বা ফোনে কথা বলাও কি পরকীয়া (পরকিয়া)?
শারীরিক সম্পর্ক না থাকলেও, গোপনে আবেগের সম্পর্ক গড়ে তোলা বিশ্বাস ভাঙে, আর কষ্টটাও একই রকম বাস্তব। কোনটা সীমা পেরোনো, সেটা দুজনের বোঝাপড়ার উপর নির্ভর করে, আর কাউন্সেলিংয়ে এটা খোলামেলা আলোচনা করা যায়।
পার্টনার কাউন্সেলিংয়ে যেতে রাজি না হলে কী করব?
আপনি একা ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং শুরু করতে পারেন। নিজের কষ্ট সামলানো আর পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটা খুব কাজে দেয়, আর অনেক সময় পরে পার্টনারও যোগ দেন।
পরকীয়া ইংরেজি কি?
ইংরেজিতে পরকীয়াকে বলে extramarital affair বা infidelity, কথ্যভাবে cheating। শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া শুধু আবেগের সম্পর্ক হলে একে emotional affair বলা হয়।
কাউন্সেলিংয়ের কথা কি পরিবারের কেউ জানতে পারবে?
না। সেশন পুরোপুরি গোপনীয়। আপনি না চাইলে আপনার পরিবার বা অন্য কেউ কিছু জানবে না।
পরকীয়ার ছবিগুলো মাথা থেকে যায় না, বারবার মনে পড়ে। এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, খুবই স্বাভাবিক। বিশ্বাস ভাঙার পর অনেকের মাথায় মেসেজ বা দৃশ্যগুলো বারবার ভেসে ওঠে, ঘুম আসে না, হঠাৎ রাগ বা কান্না চলে আসে, অনেকটা মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়ার মতো। সময় আর সঠিক সাহায্যে এটা কমে আসে। কয়েক মাস পরেও যদি এমন চলতে থাকে বা দৈনন্দিন জীবন আটকে যায়, একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন।
বিশ্বাস ভাঙার কষ্ট একা বয়ে বেড়াতে হবে না। দুজনে মিলে কাপল সেশন হোক, বা আগে একা কথা বলতে চান, এখান থেকে একটা সেশন বুক করুন। প্রশ্ন থাকলে হোয়াটসঅ্যাপে লিখুন: +880 1739-000501।
How this article was made
- Written by
- Nazme Ara, Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Nasim Billah, Assistant Clinical Psychologist
- Last updated
- November 1, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with relationships & marriage
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






