কিশোর বয়সের মানসিক পরিবর্তন: বাবা-মায়ের করণীয়

একসময় যে ছেলে বা মেয়েটি স্কুল থেকে ফিরে সারাদিনের গল্প বলত, সে হঠাৎ দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢুকে যায়, কথা বললেই বিরক্ত হয়, কিংবা ছোট একটা কথায় রেগে ওঠে। ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটের অসংখ্য পরিবারে এই দৃশ্য এখন খুব পরিচিত। কিশোর বয়সের মানসিক পরিবর্তন একজন বাবা-মায়ের কাছে অনেক সময় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ সন্তানকে চেনা মানুষটির বদলে হঠাৎ একজন অচেনা, দূরের মানুষ মনে হতে থাকে। কিন্তু এই পরিবর্তনের বেশিরভাগটাই বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক অংশ, রোগ নয়।
এই লেখায় আমরা বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখব বয়ঃসন্ধির মন কীভাবে বদলায়, টিনএজ সন্তানের রাগ ও দূরত্বের পেছনে কী থাকে, কোনটা স্বাভাবিক আর কোন লক্ষণ দেখলে সাইকোলজিস্টের সাহায্য দরকার, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এই সময়ে বাবা-মায়ের করণীয় কী। চাম ওয়েলনেস অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলরের মাধ্যমে শিশু ও কিশোর কাউন্সেলিং সেবা দিয়ে থাকে, তাই এই বিষয়ে আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বাস্তব কথা এখানে তুলে ধরছি।
কিশোর বয়সে মন কেন এত দ্রুত বদলায়
মোটামুটি দশ থেকে উনিশ বছর বয়সের মধ্যে শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। শরীরে হরমোনের ঢেউ আসে, একই সঙ্গে মস্তিষ্কের যে অংশ আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ করে, সেটি তখনও পুরোপুরি পরিণত হয়নি। ফলে আবেগ প্রবল হয়, কিন্তু সেই আবেগ সামলানোর ক্ষমতা তুলনায় দুর্বল থাকে। এই কারণেই একই বিষয়ে একজন কিশোর হঠাৎ কেঁদে ফেলে, আবার পরক্ষণেই হেসে ওঠে।
বয়ঃসন্ধির মন মূলত নিজের একটা আলাদা পরিচয় খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। এই বয়সে সন্তান আর নিজেকে শুধু বাবা-মায়ের পরিচয়ে দেখতে চায় না, সে জানতে চায় “আমি আসলে কে”। নিজেকে খুঁজতে গিয়ে সে অনেক সময় পরিবারের নিয়ম, মূল্যবোধ, এমনকি বাবা-মায়ের মতামত নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এটাকে অবাধ্যতা মনে হলেও আসলে এটি বেড়ে ওঠার একটি জরুরি ধাপ।
স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলো চিনে রাখুন
বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রে নিচের পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক এবং সময়ের সঙ্গে ভারসাম্যে ফিরে আসে:
- একান্ততার চাহিদা: নিজের ঘরে একা সময় কাটাতে চাওয়া, দরজা বন্ধ রাখা।
- বন্ধুদের প্রাধান্য: পরিবারের চেয়ে বন্ধুবান্ধবের মতামত ও সঙ্গকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
- মেজাজের ওঠানামা: একই দিনে খুশি, বিরক্তি, রাগ ও উদাসীনতার মধ্যে দ্রুত বদল।
- ঘুমের ধরন বদলানো: রাত জাগা ও সকালে দেরিতে ওঠার প্রবণতা।
- চেহারা ও পোশাকে সচেতনতা: নিজেকে অন্যের চোখে কেমন দেখাচ্ছে তা নিয়ে বাড়তি ভাবনা।
- যুক্তি ও প্রশ্ন করা: বড়দের কথা চোখ বন্ধ করে না মেনে “কেন” জানতে চাওয়া।
এই আচরণগুলো দেখে অনেক বাবা-মা ভাবেন সন্তান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাস্তবে এগুলো স্বাধীনতা ও পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। এখানে বাবা-মায়ের কাজ পথ আটকানো নয়, বরং নিরাপদ সীমার ভেতরে সন্তানকে বেড়ে উঠতে দেওয়া।
কিশোরের রাগ ও দূরত্ব: পেছনে আসলে কী থাকে
টিনএজ সন্তানের রাগ ও দূরত্ব বাবা-মাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। কিন্তু রাগ প্রায়ই একটি উপরের স্তর মাত্র, তার নিচে চাপা থাকে অন্য অনেক অনুভূতি। আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যে কিশোর সবচেয়ে বেশি রাগ দেখায়, সে ভেতরে ভেতরে হয়তো সবচেয়ে বেশি অসহায় বা ভীত বোধ করছে।
রাগ ও দূরত্বের পেছনে সাধারণত থাকতে পারে:
- না বোঝা যাওয়ার ভয়: “আমার কথা কেউ বুঝবে না” এই ধারণা থেকে সন্তান কথা বলাই বন্ধ করে দেয়।
- পড়াশোনার চাপ: বাংলাদেশে পরীক্ষা, রেজাল্ট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল প্রত্যাশা অনেক কিশোরকে ভেতরে ভেতরে চাপে রাখে।
- তুলনা: অন্যের সন্তান বা ভাইবোনের সঙ্গে বারবার তুলনা সন্তানের আত্মমর্যাদায় আঘাত করে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: অনলাইনে নিজেকে অন্যদের সাজানো জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে হীনম্মন্যতা তৈরি হওয়া।
- বন্ধুত্ব বা সম্পর্কের টানাপোড়েন: এই বয়সে ছোট মনে হওয়া সমস্যাও কিশোরের কাছে বিশাল।
যখন এই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার নিরাপদ জায়গা সন্তান খুঁজে পায় না, তখন সেগুলো রাগ, চুপ করে যাওয়া বা দূরত্ব হয়ে বেরিয়ে আসে। তাই সন্তানের রাগকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নিয়ে, তার পেছনের বার্তাটি বোঝার চেষ্টা করাই বেশি ফলপ্রসূ।
বাবা-মায়ের করণীয়: বিচার না করে কাছে থাকুন
এই পর্বে আমরা সবচেয়ে ব্যবহারিক অংশে আসি। বয়ঃসন্ধিকালে বাবা-মায়ের করণীয়ের মূল কথা একটাই: বিচার না করে সন্তানের কাছে থাকা। সন্তান যখন বদলাচ্ছে, তখন যদি সে অনুভব করে যে বাড়িতে অন্তত একজন মানুষ তাকে বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করছে, তাহলে সে দূরে সরে গেলেও সম্পর্কের সুতোটা ছেঁড়ে না।
শুনুন, সমাধান করার আগে
কিশোর সন্তান যখন কিছু বলে, তখন বাবা-মায়ের প্রথম প্রবণতা হয় সঙ্গে সঙ্গে উপদেশ দেওয়া বা ভুল ধরিয়ে দেওয়া। কিন্তু এই বয়সে সন্তান আগে চায় তার কথাটা শোনা হোক। তাই “তোর এটা করা উচিত হয়নি” বলার আগে বলুন “আচ্ছা, তারপর কী হলো, বল তো”। মন দিয়ে শোনার এই অভ্যাসই সন্তানকে আবার কথা বলতে উৎসাহ দেয়।
রাগের মুহূর্তে পাল্টা রাগবেন না
সন্তান রেগে গেলে বাবা-মাও পাল্টা রেগে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বরং সেই মুহূর্তে শান্ত থেকে বলুন, “তুই এখন রেগে আছিস, একটু পরে ঠান্ডা মাথায় কথা বলি”। রাগ কমার পরে আলোচনা করলে সন্তানও বুঝতে শেখে যে আবেগ থাকলেও তা সামলানো যায়। বাবা-মায়ের শান্ত আচরণই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
সীমা রাখুন, কিন্তু ব্যাখ্যা দিয়ে
কাছে থাকা মানে সব মেনে নেওয়া নয়। মোবাইল ব্যবহারের সময়, বাইরে থাকার সময়, পড়াশোনার রুটিন নিয়ে সীমা থাকা দরকার। তবে সীমাটা যেন আদেশের বদলে ব্যাখ্যাসহ আসে। “রাত বারোটার পর ফোন নয়, কারণ ঘুম কম হলে তোর মন খারাপ থাকে ও পড়ায় মন বসে না” এই ধরনের কথা সন্তান বেশি গ্রহণ করে। সীমা ঠিক করার সময় সম্ভব হলে সন্তানকেও আলোচনায় রাখুন।
ছোট ছোট মুহূর্ত কাজে লাগান
বড় আলোচনা নয়, বরং দৈনন্দিন ছোট মুহূর্তেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একসঙ্গে খাওয়া, গাড়িতে বা রিকশায় যেতে যেতে কথা, রাতে ঘুমানোর আগে দুই মিনিটের খোঁজখবর, এই মুহূর্তগুলোতে সন্তান সবচেয়ে সহজে মন খোলে। ঢাকার ব্যস্ত জীবনে সময় বের করা কঠিন, তবু দিনে অন্তত একবার ফোন সরিয়ে রেখে সন্তানের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন।
তুলনা বন্ধ করুন
“অমুকের ছেলে কত ভালো রেজাল্ট করল” এই এক বাক্য সন্তানের সঙ্গে আপনার দূরত্ব সবচেয়ে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি কিশোরের নিজস্ব গতি ও শক্তি আছে। তুলনা না করে সন্তানের ছোট অর্জনেরও প্রশংসা করুন, এতে তার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং সে আপনাকে নিরাপদ মানুষ হিসেবে দেখে।
নিজের আবেগও সামলান
বাবা-মা হিসেবে আপনি ক্লান্ত, চিন্তিত ও কখনও কখনও অসহায় বোধ করতে পারেন, এটা খুব স্বাভাবিক। নিজের মানসিক চাপ কমানোর দিকেও নজর দিন, কারণ শান্ত বাবা-মা শান্ত পরিবেশ তৈরি করেন। এই বিষয়ে আমাদের মানসিক চাপ কমানোর উপায় নিয়ে লেখাটি আপনার কাজে লাগতে পারে।
এখনই চেষ্টা করুন: শিশুর বড় অনুভূতি সামলান
মুহূর্তেই ব্যবহার করার মতো পাঁচটা ধাপ, ইমোশন কোচিং থেকে।
বাবা-মায়ের কিছু সাধারণ ভুল, যা এড়ানো দরকার
ভালোবাসা থেকেই অনেক সময় আমরা এমন কিছু করি যা অজান্তে সন্তানকে আরও দূরে ঠেলে দেয়। কয়েকটি সাধারণ ভুল:
- প্রতিটি কথায় উপদেশ: সন্তান কিছু বললেই লম্বা ভাষণ শুরু করলে সে ধীরে ধীরে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।
- ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘন: ফোন লুকিয়ে দেখা বা ডায়েরি পড়ার মতো কাজ ধরা পড়লে বিশ্বাস একেবারে ভেঙে যায়।
- আবেগকে ছোট করা: “এত সামান্য বিষয়ে এত কী” বললে সন্তান বোঝে তার অনুভূতি এখানে গুরুত্ব পায় না।
- অন্যের সামনে বকা: আত্মীয় বা বন্ধুর সামনে সন্তানকে ছোট করলে তার আত্মমর্যাদায় গভীর আঘাত লাগে।
- শুধু সমস্যায় কথা বলা: যদি বাবা-মা কেবল ভুল ধরতেই কথা বলেন, সন্তান তাদের এড়িয়ে চলতে শেখে।
এই ভুলগুলো এড়ানো মানে নিখুঁত বাবা-মা হওয়া নয়। ভুল হলে সন্তানের কাছে “আমি একটু বেশি বলে ফেলেছিলাম” বলাটাও অনেক বড় একটা শিক্ষা, এতে সন্তান শেখে যে সম্পর্ক মেরামত করা সম্ভব।
কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
বেশিরভাগ পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও কিছু লক্ষণ জানান দেয় যে সন্তানের ভেতরে শুধু বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক ঝড় নয়, বরং গভীর কোনো কষ্ট চলছে যেখানে একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সহায়তা প্রয়োজন। নিচের লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকলে গুরুত্ব দিন:
- দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মন খারাপ, কান্না বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।
- আগে যা ভালো লাগত, খেলা বা শখ, সেসবে সম্পূর্ণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
- খাওয়া বা ঘুমে বড় ধরনের পরিবর্তন, যা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
- পড়াশোনায় হঠাৎ বড় অবনতি বা স্কুলে যেতে না চাওয়া।
- নিজের ক্ষতি করার ইঙ্গিত, অতিরিক্ত হতাশা বা “আমি না থাকলেই ভালো” জাতীয় কথা।
- বন্ধু ও পরিবার দুই দিক থেকেই পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।
- হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়া।
এই লক্ষণগুলো দেখা মানেই আপনি ব্যর্থ বাবা-মা, তা নয়। বরং সময়মতো সাহায্য নেওয়া সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল ভালোবাসার প্রকাশ। কাউন্সেলিং সন্তানকে বিচার করার জায়গা নয়, বরং একটি নিরাপদ পরিসর যেখানে সে নিজের অনুভূতি খুলে বলতে পারে এবং বাবা-মাও শিখতে পারেন কীভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন। মনে রাখবেন, ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য চিকিৎসকের সাথে নিতে হবে; এই লেখা শুধু সচেতনতার জন্য, কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা নয়।
মানসিক কষ্ট মোকাবিলার সাধারণ কিছু কৌশল সম্পর্কে জানতে আপনি আমাদের মানসিক সমস্যা দূর করার উপায় লেখাটিও পড়ে দেখতে পারেন, যা পরিবারের সবার জন্যই কাজে আসে।
বাংলাদেশে সন্তানের জন্য সহায়তা কোথায়
ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান বা উত্তরা, কিংবা চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাবা-মা এখন সহজেই সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। চাম ওয়েলনেসে সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলররা গোপনীয়তা বজায় রেখে অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সেবা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে।
অভিভাবক হিসেবে আপনি চাইলে প্রথমে নিজে একজন কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলে সন্তানকে কীভাবে সহায়তা করবেন তা বুঝে নিতে পারেন, আবার সন্তানের জন্য আলাদা সেশনও ঠিক করা যায়। এই সিদ্ধান্তটুকু নেওয়াই অনেক সময় পরিবারের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া কাছের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হয়ে ওঠে।
আপনার টিনএজ সন্তানের রাগ, দূরত্ব বা মন খারাপ যদি আপনাকে চিন্তায় ফেলে থাকে, তবে অপেক্ষা না করে আজই একটি বিশ্বস্ত জায়গায় কথা বলুন। চাম ওয়েলনেসের শিশু ও কিশোর কাউন্সেলিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, কিংবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন এবং সন্তানের বেড়ে ওঠার এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার পথটি সহজ করে তুলুন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
কিশোর বয়সের মানসিক পরিবর্তন কি স্বাভাবিক নাকি চিন্তার বিষয়?
বয়ঃসন্ধিতে মেজাজের ওঠানামা, একান্ততার চাহিদা, বন্ধুদের প্রাধান্য ও যুক্তি করার প্রবণতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক এবং সময়ের সঙ্গে ভারসাম্যে ফিরে আসে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মন খারাপ, শখে আগ্রহ হারানো, ঘুম-খাওয়ায় বড় পরিবর্তন বা নিজের ক্ষতির ইঙ্গিত থাকলে সেটি চিন্তার বিষয় এবং তখন একজন সার্টিফাইড সাইকোলজিস্টের সহায়তা নেওয়া উচিত।
টিনএজ সন্তান রেগে গেলে বা দূরে সরে গেলে বাবা-মায়ের কী করা উচিত?
রাগকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নিয়ে তার পেছনের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন। সেই মুহূর্তে পাল্টা না রেগে শান্ত থাকুন, রাগ কমলে ঠান্ডা মাথায় কথা বলুন। সমাধান দেওয়ার আগে মন দিয়ে শুনুন, তুলনা বন্ধ করুন এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে সন্তানের কাছে থাকুন। মূল কথা: বিচার না করে কাছে থাকুন।
সন্তানের জন্য কখন কাউন্সেলিং নেওয়া দরকার?
কয়েক সপ্তাহ ধরে গভীর মন খারাপ, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, পড়াশোনায় হঠাৎ বড় অবনতি, স্কুলে যেতে না চাওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বা নিজের ক্ষতির কোনো ইঙ্গিত থাকলে একজন সাইকোলজিস্ট দেখানো উচিত। কাউন্সেলিং সন্তানকে বিচার করে না, বরং একটি নিরাপদ পরিসর দেয়। ওষুধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসকের সাথে নিতে হবে।
চাম ওয়েলনেসে শিশু ও কিশোর কাউন্সেলিং কীভাবে পাওয়া যায়?
চাম ওয়েলনেসে সার্টিফাইড সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলররা গোপনীয়তা বজায় রেখে অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সেবা দেন। অভিভাবক প্রথমে নিজে কথা বলে পরামর্শ নিতে পারেন, আবার সন্তানের জন্য আলাদা সেশনও নেওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে।
How this article was made
- Written by
- Hazera Khatun, Senior Clinical Psychologist
- Clinical reviewer
- Shaheen Nafisa Siddique, Senior Clinical Psychologist
- Last updated
- October 29, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with children, teens & parenting
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.






