অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার কি? লক্ষণ, কারণ ও দূর করার উপায়
- অ্যাংজাইটি কি? সাধারণ টেনশন আর ডিসঅর্ডারের পার্থক্য
- বাংলাদেশে অ্যাংজাইটি কতটা সাধারণ
- অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের লক্ষণ
- অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের ধরন
- অ্যাংজাইটি কেন হয়
- অ্যাংজাইটি থেকে মুক্তির উপায়: নিজে যা করতে পারেন
- অ্যাংজাইটির চিকিৎসা
- অ্যাংজাইটির ঔষধ: কোনগুলো দেওয়া হয়, কোনগুলোতে সাবধান
- পরিবার কিভাবে পাশে থাকবে
- কখন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলবেন
- সাধারণ জিজ্ঞাসা

অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার মানে এমন দুশ্চিন্তা বা ভয় যা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি, সহজে থামানো যায় না, সপ্তাহের পর সপ্তাহ বা মাসের পর মাস চলতে থাকে এবং ঘুম, কাজ, পড়াশোনা বা সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করে। সাধারণ টেনশন আসে আর চলে যায়; অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে মন আর শরীর প্রায় সবসময় “বিপদ” সংকেত দিতে থাকে। ভালো খবর হলো, অ্যাংজাইটি সবচেয়ে বেশি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যাগুলোর একটি, আর থেরাপিতে বেশিরভাগ মানুষ উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো থাকেন।
অনেকে আমাদের কাছে এভাবে বলেন: “সারাদিন মনে হয় কিছু একটা খারাপ হবে”, “বুক ধড়ফড় করে, ডাক্তার বলে সব রিপোর্ট নরমাল”, বা “ছোট ব্যাপারেও এত টেনশন হয় যে রাতে ঘুম আসে না”। এই লেখায় সহজ ভাষায় বলা হলো অ্যাংজাইটি কি, কেন হয়, কোন কোন ধরন আছে, আর বাংলাদেশে এর চিকিৎসা কিভাবে পাবেন।
অ্যাংজাইটি কি? সাধারণ টেনশন আর ডিসঅর্ডারের পার্থক্য
অ্যাংজাইটি (anxiety) হলো বিপদ বা চাপের সময় শরীরের স্বাভাবিক সাড়া। পরীক্ষার আগে, ইন্টারভিউয়ের আগে বা প্রিয় কেউ অসুস্থ হলে দুশ্চিন্তা হওয়া একদম স্বাভাবিক। এই সময় হার্টবিট বাড়ে, মনোযোগ তীক্ষ্ণ হয়, শরীর প্রস্তুত হয়।
সমস্যা হয় যখন:
- দুশ্চিন্তা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি, বা কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আসে।
- চাইলেও থামানো যায় না, এক চিন্তা থেকে আরেক চিন্তায় মন লাফাতে থাকে।
- কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন চলছে।
- ভয়ের কারণে আপনি জায়গা, মানুষ বা কাজ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছেন।
- ঘুম, কাজ, পড়াশোনা বা পরিবারের সাথে সম্পর্কে স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাবে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া মানসিক সমস্যা, ২০২৩ সালে প্রায় ৪৭ কোটি মানুষ এতে ভুগছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা পান মাত্র প্রায় চারজনে একজন (WHO)।
বাংলাদেশে অ্যাংজাইটি কতটা সাধারণ
২০১৯ সালের একটি দেশব্যাপী জরিপে ৭,২৭০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় ৪.৭% মানুষের অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার পাওয়া গেছে (Alam et al., 2024)। একই জরিপের তথ্য নিয়ে আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার আছে তাদের মাত্র ৩.৯% কখনো পেশাদার সাহায্য নিয়েছেন (Sarkar et al., 2025)। মানে, সমস্যাটা অনেকের, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ চুপচাপ সহ্য করে যান বা একের পর এক মেডিকেল টেস্ট করাতে থাকেন।
অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের লক্ষণ
অ্যাংজাইটি শুধু মনে না, শরীরেও ধরা দেয়। সবার সব লক্ষণ থাকে না।
মনের লক্ষণ
- সবসময় মনে হওয়া খারাপ কিছু ঘটবে।
- অতিরিক্ত চিন্তা, একই কথা বারবার মাথায় ঘোরা।
- মনোযোগ দিতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট।
- খিটখিটে মেজাজ, অল্পতেই অস্থির লাগা।
শরীরের লক্ষণ
- বুক ধড়ফড় করা, বুকে চাপ বা ব্যথা।
- শ্বাস নিতে কষ্ট, দম আটকে আসার মতো লাগা।
- হাত-পা কাঁপা, ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা।
- পেটের সমস্যা, বমি ভাব, ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়া।
- ঘাড়-কাঁধে টান, মাথাব্যথা, ক্লান্তি।
- রাতে ঘুম না আসা বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
এই শারীরিক লক্ষণগুলো অন্য রোগেরও হতে পারে, তাই প্রথমবার হলে বা নতুন ধরনের বুকে ব্যথা হলে আগে ডাক্তার দেখিয়ে নিন।
অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের ধরন
অ্যাংজাইটি একটা ছাতার মতো শব্দ, এর নিচে কয়েকটা আলাদা ধরন আছে। কোনটা আপনার সাথে মেলে, সেটা বুঝলে চিকিৎসাও সঠিক হয়।
- জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (GAD): প্রায় সব বিষয় নিয়ে লাগাতার দুশ্চিন্তা, মাসের পর মাস। ইংরেজিতে বিস্তারিত: GAD explained।
- প্যানিক ডিসঅর্ডার: হঠাৎ তীব্র ভয়ের ঢেউ, বুক ধড়ফড়, মনে হয় মারা যাচ্ছি। পড়ুন প্যানিক অ্যাটাক কি।
- সোশ্যাল অ্যাংজাইটি: মানুষের সামনে কথা বলা, দাওয়াতে যাওয়া বা অফিস মিটিংয়ে বিচার হওয়ার তীব্র ভয়। পড়ুন সোশ্যাল অ্যাংজাইটি।
- ফোবিয়া: নির্দিষ্ট কিছু, যেমন উচ্চতা, ইনজেকশন, লিফট বা কুকুর নিয়ে অস্বাভাবিক ভয়। পড়ুন ফোবিয়া কি।
- হেলথ অ্যাংজাইটি: বড় রোগ হয়েছে ভেবে সারাক্ষণ ভয়, বারবার টেস্ট। পড়ুন স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয়।
- ওসিডি (শুচিবায়ু): অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা আর সেটা কমাতে বারবার কোনো কাজ করা। এখন এটাকে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হয়, তবে অ্যাংজাইটির সাথে গভীর সম্পর্ক। পড়ুন শুচিবায়ু (OCD)।
অ্যাংজাইটি কেন হয়
অ্যাংজাইটির সাধারণত একটা মাত্র কারণ থাকে না। কয়েকটা জিনিস মিলে হয়:
- পরিবারে ইতিহাস ও স্বভাব: পরিবারে কারো মানসিক সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, কিছু মানুষ স্বভাবগতভাবেই বেশি সংবেদনশীল।
- দীর্ঘ চাপ: পড়াশোনা, চাকরির অনিশ্চয়তা, টাকার টানাটানি, বিয়ের চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা।
- কঠিন অভিজ্ঞতা: কাছের কাউকে হারানো, দুর্ঘটনা, নির্যাতন বা ভয়ের কোনো ঘটনা।
- জীবনযাপন: কম ঘুম, অতিরিক্ত চা-কফি, রাত জেগে ফোন স্ক্রল করা।
- শারীরিক কারণ: থাইরয়েডের সমস্যা বা কিছু ঔষধও অ্যাংজাইটির মতো লক্ষণ তৈরি করতে পারে, তাই ডাক্তারি পরীক্ষা দরকার।
সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা অ্যাংজাইটিকে টিকিয়ে রাখে তা হলো এড়িয়ে চলা। ভয় পাওয়া জিনিস এড়ালে সাথে সাথে স্বস্তি লাগে, কিন্তু মস্তিষ্ক শেখে “এটা আসলেই বিপজ্জনক ছিল”, আর পরের বার ভয় আরো বাড়ে।
অ্যাংজাইটি থেকে মুক্তির উপায়: নিজে যা করতে পারেন
- ধীরে শ্বাস নিন: নাক দিয়ে চার গোনা পর্যন্ত শ্বাস নিন, মুখ দিয়ে ছয় গোনা পর্যন্ত ছাড়ুন। কয়েক মিনিট করলে শরীর শান্ত হতে শুরু করে।
- দুশ্চিন্তা লিখে ফেলুন: কোনটা আজ সমাধান করা যায় আর কোনটা আপনার হাতে নেই, আলাদা করুন।
- ঘুম আর রুটিন ঠিক রাখুন: একই সময়ে ঘুমানো, বিকেলের পর চা-কফি কমানো।
- শরীর নাড়ান: প্রতিদিন হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম স্ট্রেস হরমোন কমায়।
- ছোট ছোট করে মুখোমুখি হোন: যা এড়িয়ে চলছেন, তার দিকে অল্প অল্প করে এগোন।
প্রতিদিনের আরো কিছু কৌশল পাবেন আমাদের দুশ্চিন্তা কমানোর উপায় লেখায়।
এখনই একটু চেষ্টা করুন
দুই মিনিট লাগবে। একটা ধাপ পড়ুন, তারপর চোখ তুলে করুন।
চারপাশে তাকান। দেখতে পাচ্ছেন এমন পাঁচটা জিনিসের নাম মনে মনে বলুন।
ধীরে ধীরে, তাড়াহুড়ো না করে।
রেডি?
৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন · ৪ ধরে রাখুন · ৪ ছাড়ুন · ৪ ধরে রাখুন
অ্যাংজাইটির চিকিৎসা
অ্যাংজাইটির প্রধান চিকিৎসা হলো সাইকোথেরাপি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)। এতে আপনি শিখবেন কোন চিন্তা আর শারীরিক অনুভূতি ভয়কে বাড়ায়, কিভাবে সেগুলো যাচাই করবেন, আর কিভাবে এড়িয়ে চলা বন্ধ করবেন। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী সাধারণত ৫ থেকে ১৫টি সেশনের একটা কোর্স হয় (NHS)।
অ্যাংজাইটি তীব্র হলে, অনেক দিন ধরে থাকলে বা সাথে ডিপ্রেশন থাকলে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট থেরাপির পাশাপাশি ঔষধ দিতে পারেন। ঔষধ শুরু, বদল বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত শুধু চিকিৎসক নেবেন। ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ঘুমের বা “টেনশনের” ঔষধ কিনে খাওয়া নিরাপদ না।
বাংলাদেশে অ্যাংজাইটির চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং এখন অনলাইনেও পাওয়া যায়, তাই ঢাকার বাইরে থেকেও বাংলায় একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলা যায়।
অ্যাংজাইটির ঔষধ: কোনগুলো দেওয়া হয়, কোনগুলোতে সাবধান
অ্যাংজাইটি দূর করার জন্য কোন কোন ঔষধ পাওয়া যায়, এটা অনেকে জানতে চান। নামগুলো জানা থাকলে প্রেসক্রিপশন বুঝতে সুবিধা হয়, কিন্তু নিজে কিনে খাওয়া ঠিক না।
- SSRI ও SNRI (যেমন escitalopram, sertraline, venlafaxine): লম্বা সময়ের অ্যাংজাইটির মূল ঔষধ। কাজ শুরু হতে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগে, আর এগুলো নেশা তৈরি করে না।
- Propranolol: বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপার মতো শারীরিক লক্ষণ কমাতে কখনো কখনো দেওয়া হয়, যেমন ভাইভা বা প্রেজেন্টেশনের আগে। হাঁপানি থাকলে এটা খাওয়া যায় না।
- Clonazepam, alprazolam জাতীয় ঔষধ: খুব দ্রুত কাজ করে, কিন্তু নিয়মিত খেলে অভ্যাস তৈরি হয়। বাংলাদেশে অনেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এগুলো মাসের পর মাস খান, যেটা ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসক দিলেও সাধারণত অল্প কিছুদিনের জন্য দেন।
হালকা থেকে মাঝারি অ্যাংজাইটিতে CBT থেরাপি ঔষধের মতোই কার্যকর, আর থেরাপি শেষ হওয়ার পরও এর ফল টিকে থাকে। তাই ঔষধ লাগবে কিনা, সেটা চিকিৎসক আপনার অবস্থা দেখে ঠিক করবেন।
পরিবার কিভাবে পাশে থাকবে
পরিবারের মানুষ ভালোবেসেই অনেক কিছু করেন যা অজান্তে অ্যাংজাইটিকে বাড়িয়ে দেয়। কয়েকটা জিনিস মনে রাখলে সাহায্যটা সত্যিই কাজে লাগে:
- “এত টেনশন করো কেন” বলবেন না। উনি চাইলেই থামাতে পারলে অনেক আগেই থামাতেন। বরং বলুন, “বুঝতে পারছি তোমার খুব অস্থির লাগছে।”
- বারবার আশ্বাস দেওয়ার ফাঁদ চিনুন। একই প্রশ্নের উত্তর দিনে দশবার দিলে সাথে সাথে স্বস্তি আসে, কিন্তু দুশ্চিন্তা আরো পাকা হয়। একবার শান্তভাবে উত্তর দিয়ে বলুন, “এটা তোমার দুশ্চিন্তা কথা বলছে।”
- সব কাজ নিজে করে দেবেন না। ভয়ে যেসব কাজ এড়িয়ে চলছেন, সেগুলো পুরোপুরি আপনি নিয়ে নিলে এড়িয়ে চলাটাই অভ্যাস হয়ে যায়। ছোট ধাপে পাশে থেকে করতে উৎসাহ দিন।
- চিকিৎসায় উৎসাহ দিন, আর থেরাপিতে শেখা কৌশলগুলো বাসায় চর্চা করতে সাহায্য করুন।
কখন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলবেন
যদি দুশ্চিন্তা বা ভয় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে, ঘুম বা কাজে প্রভাব ফেলে, বারবার প্যানিক অ্যাটাক হয়, বা আপনি জায়গা ও মানুষ এড়িয়ে চলতে শুরু করেন, তাহলে আর অপেক্ষা করবেন না। শুরুতেই বোঝার জন্য আমাদের ২ মিনিটের সেলফ-চেক করে দেখতে পারেন। নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসলে বা নিজেকে নিরাপদ মনে না হলে এখনই ৯৯৯ নম্বরে কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
চাম ওয়েলনেসে বাংলা বা ইংরেজিতে, অনলাইনে সারা বাংলাদেশ থেকে বা ঢাকায় সরাসরি গোপনীয়ভাবে কথা বলতে পারবেন। প্রস্তুত হলে একটি সেশন বুক করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অ্যাংজাইটি আর দুশ্চিন্তা কি একই জিনিস?
দুশ্চিন্তা সবারই হয়, এটা স্বাভাবিক। অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার তখনই বলা হয় যখন দুশ্চিন্তা অতিরিক্ত, থামানো যায় না, দীর্ঘদিন চলে এবং দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করে।
অ্যাংজাইটি কি ভালো হয়?
হ্যাঁ। অ্যাংজাইটি সবচেয়ে বেশি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক সমস্যাগুলোর একটি। CBT-র মতো থেরাপিতে বেশিরভাগ মানুষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পার্থক্য টের পান, আর শেখা কৌশল সারাজীবন কাজে লাগে।
অ্যাংজাইটি অ্যাটাক কি?
অনেকে হঠাৎ তীব্র ভয় বা অস্থিরতার সময়টাকে অ্যাংজাইটি অ্যাটাক বলেন। হঠাৎ কয়েক মিনিটে চরমে ওঠা ভয়, বুক ধড়ফড় আর শ্বাসকষ্ট হলে সেটা সাধারণত প্যানিক অ্যাটাক। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা টেনশন হলে সেটা সাধারণ অ্যাংজাইটি।
এংজাইটি রোগের চিকিৎসার জন্য কি ঔষধ খেতেই হবে?
না, সবার লাগে না। হালকা থেকে মাঝারি অ্যাংজাইটিতে সাধারণত থেরাপিই প্রথম চিকিৎসা। তীব্র হলে সাইকিয়াট্রিস্ট থেরাপির পাশাপাশি ঔষধ দিতে পারেন।
অ্যাংজাইটি থেকে কি হার্টের সমস্যা হয়?
অ্যাংজাইটিতে বুক ধড়ফড় আর বুকে চাপ খুব সাধারণ, কিন্তু এটা হার্টের ক্ষতি করে না। তবে নতুন বা তীব্র বুকে ব্যথা হলে আগে ডাক্তার দেখিয়ে হৃদরোগ বাদ দিন।
অনলাইনে কি অ্যাংজাইটির কাউন্সিলিং নেওয়া যায়?
হ্যাঁ। প্যানিক ডিসঅর্ডার নিয়ে গবেষণায় অনলাইন CBT সরাসরি সেশনের কাছাকাছি কার্যকর পাওয়া গেছে (Efron and Wootton, 2021)। চাম ওয়েলনেসে বাংলায় অনলাইন সেশন নেওয়া যায় দেশের যেকোনো জায়গা থেকে।
অ্যাংজাইটি আর ডিপ্রেশন কি একসাথে হয়?
হ্যাঁ, খুব প্রায়ই হয়। দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তায় মানুষ ক্লান্ত আর হতাশ হয়ে পড়েন, আবার ডিপ্রেশনেও অস্থিরতা আর টেনশন থাকে। দুটো একসাথে থাকলে চিকিৎসায় দুটোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়, আর CBT দুটোতেই কাজ করে।
বাচ্চাদের কি অ্যাংজাইটি হয়?
হয়। বাচ্চারা সাধারণত মুখে “টেনশন” বলে না; বরং স্কুলে যাওয়ার আগে পেট ব্যথা, ঘন ঘন কান্না, একা ঘুমাতে ভয় বা বাবা-মাকে ছাড়তে না চাওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পায়। বিস্তারিত পড়ুন শিশুদের অ্যাংজাইটি নিয়ে বাবা-মায়ের গাইড (ইংরেজিতে)।
অ্যাংজাইটি নিউরোসিস কি?
“অ্যাংজাইটি নিউরোসিস” পুরনো একটা নাম, এখনো অনেক প্রেসক্রিপশনে বা মুখে মুখে শোনা যায়। এখন একে সাধারণত জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার বা প্যানিক ডিসঅর্ডারের মতো আলাদা নামে ডাকা হয়। নাম যাই হোক, চিকিৎসা একই: থেরাপি, আর দরকার হলে ঔষধ।
অ্যাংজাইটির চিকিৎসায় কতদিন লাগে?
CBT থেরাপিতে অনেকে ৬ থেকে ১২টা সেশনের মধ্যে বড় পরিবর্তন টের পান। ঔষধ লাগলে সাধারণত ভালো হওয়ার পরও কয়েক মাস চালিয়ে যেতে হয়। কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে অ্যাংজাইটি কতদিনের আর কতটা তীব্র তার উপর।
How this article was made
- Written by
- Chum Wellness editorial team
- Clinically reviewed by
- Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist, BCPS member
- Last updated
- October 7, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and reviewed by a senior clinical psychologist. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.
Psychologists who help with anxiety & stress
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.






