শিশুর জন্য psychologist: কখন দরকার, সেশনে কী হয়

সন্তানের হঠাৎ বদলে যাওয়া আচরণ, স্কুলে যেতে না চাওয়া, ঘন ঘন রাগ কিংবা একা হয়ে যাওয়া দেখে অনেক বাবা-মা বুঝতে পারেন না ঠিক কী করা উচিত। এখানেই শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট অনেক সাহায্য করতে পারেন। ঢাকা ও বাংলাদেশের অন্যান্য শহরে এখন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, এবং একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড সাইকোলজিস্ট (শিশু মনোবিজ্ঞানী) সন্তানের অনুভূতি, আচরণ ও বিকাশ বুঝতে পরিবারকে সাহায্য করেন। এটি কোনো “পাগলামি” নয়, বরং সন্তানের সুস্থ বেড়ে ওঠার একটি স্বাভাবিক অংশ।
সংক্ষেপে: আচরণ, ঘুম, খাওয়া, পড়াশোনা বা মেজাজের কোনো পরিবর্তন যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে এবং বাসা বা স্কুলের স্বাভাবিক জীবনে সমস্যা তৈরি করে, তখন শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট দেখানোর সময়। দেরি না করাই ভালো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অর্ধেকই শুরু হয় ১৪ বছর বয়সের আগে, আর বেশিরভাগই সময়মতো ধরা পড়ে না।
শিশু সাইকোলজিস্ট খুঁজুন · ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি বা সারা বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে
এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য কী, কখন একজন সাইকোলজিস্টের কাছে যাওয়া দরকার, সেশনে আসলে কী হয়, এবং বাবা-মা হিসেবে আপনি কীভাবে সন্তানকে সাহায্য করতে পারেন। চাম ওয়েলনেস ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরাসহ পুরো শহরে এবং অনলাইনে সারা বাংলাদেশজুড়ে শিশু-কিশোরদের জন্য গোপনীয় কাউন্সেলিং দেয়।
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য মানে কী
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বলতে বোঝায় সন্তানের অনুভূতি সামলানোর ক্ষমতা, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা, নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বয়স অনুযায়ী শেখা ও বেড়ে ওঠা। শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই এটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু কখনো কখনো দুঃখ পাবে, রাগ করবে বা ভয় পাবে, এটা একদম স্বাভাবিক। সমস্যা তখন হয় যখন এই অনুভূতিগুলো দীর্ঘদিন থাকে, তীব্র হয় এবং তার প্রতিদিনের জীবন, পড়াশোনা বা সম্পর্কে বাধা তৈরি করে।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেক অভিভাবক সন্তানের আচরণকে শুধু “দুষ্টুমি” বা “জেদ” মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু আচরণের পেছনে প্রায়ই লুকিয়ে থাকে না-বলা কোনো অনুভূতি বা চাপ। শিশু অনেক সময় মুখে বলতে পারে না, তাই সে তার কষ্ট প্রকাশ করে আচরণ দিয়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অর্ধেক শুরু হয় ১৪ বছর বয়সের মধ্যে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা চিহ্নিত বা চিকিৎসা করা হয় না (WHO)। তাই নিচের লক্ষণগুলো আগেভাগে চেনা গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট কখন দরকার
প্রতিটি শিশু আলাদা, তাই সব শিশুর জন্য একই নিয়ম খাটে না। তবে কিছু লক্ষণ দেখলে একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। নিচের বিষয়গুলো যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং সন্তানের স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে অপেক্ষা না করাই ভালো।
আচরণগত পরিবর্তন
- হঠাৎ অতিরিক্ত রাগ, জেদ বা আক্রমণাত্মক আচরণ
- ঘন ঘন কান্না বা অকারণে মন খারাপ থাকা
- আগে যা ভালোবাসত সেসব খেলা বা কাজে আর আগ্রহ না থাকা
- বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া, একা থাকতে চাওয়া
স্কুল ও পড়াশোনা সংক্রান্ত
- স্কুলে যেতে প্রবল অনীহা বা ভয় (স্কুল ফোবিয়া)
- মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, পড়ায় হঠাৎ পিছিয়ে পড়া
- পরীক্ষা বা শিক্ষকের ভয়ে অতিরিক্ত অ্যাংজাইটি
শারীরিক ও ঘুম-খাওয়ার লক্ষণ
- বারবার পেট ব্যথা বা মাথা ব্যথার অভিযোগ, যার শারীরিক কারণ পাওয়া যায় না
- ঘুমে সমস্যা, দুঃস্বপ্ন বা বিছানায় প্রস্রাব করা (নির্দিষ্ট বয়সের পরেও)
- খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন
বড় কোনো পরিবর্তনের পরও শিশুর অতিরিক্ত সহায়তা লাগতে পারে, যেমন পরিবারে বিচ্ছেদ, প্রিয় কারও মৃত্যু, নতুন শহরে বা স্কুলে যাওয়া, কিংবা কোনো দুর্ঘটনা। এই সময়ে সন্তানের আচরণে পরিবর্তন দেখলে কখন দেখাবেন তা নিয়ে দ্বিধা না রেখে একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলে নিন।
সেশনে আসলে কী হয়
অনেক বাবা-মা ভাবেন সাইকোলজিস্টের কাছে গেলে শিশুকে হয়তো কঠিন প্রশ্ন করা হবে বা ওষুধ দেওয়া হবে। বাস্তবে শিশুদের সেশন সম্পূর্ণ আলাদা এবং শিশুবান্ধব। এখানে শেখানো বা বকা দেওয়া হয় না, বরং শিশু যেন নিরাপদ বোধ করে সেভাবে পরিবেশ তৈরি করা হয়।
প্রথম সেশন: পরিচয় ও তথ্য নেওয়া
শুরুতে সাইকোলজিস্ট সাধারণত বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে সন্তানের ইতিহাস, বাড়ির পরিবেশ, স্কুলের অবস্থা ও অ্যাংজাইটির জায়গাগুলো বোঝেন। এটিকে বলা হয় অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন। এর মাধ্যমে সমস্যার শিকড় খোঁজা হয়, তাড়াহুড়ো করে কোনো লেবেল দেওয়া হয় না।
খেলার মাধ্যমে থেরাপি
ছোট শিশুরা কথায় নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না, তাই তাদের জন্য প্লে থেরাপি (খেলার মাধ্যমে থেরাপি) ব্যবহার করা হয়। ছবি আঁকা, পুতুল দিয়ে গল্প বানানো বা খেলনার মাধ্যমে শিশু তার ভেতরের অনুভূতি প্রকাশ করে। প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট এই খেলা থেকে বুঝতে পারেন শিশুর মনে কী চলছে।
বড় শিশু ও কিশোরদের জন্য
বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে কথোপকথন, অনুভূতি চিহ্নিত করা এবং সহজ কিছু কৌশল শেখানো হয় যাতে তারা রাগ, অ্যাংজাইটি বা ভয় সামলাতে শেখে। এখানে সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়, তবে নিরাপত্তার বিষয় থাকলে বাবা-মাকে যথাযথভাবে জানানো হয়।
বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ
শিশুর থেরাপিতে পরিবারের ভূমিকা অনেক বড়। সাইকোলজিস্ট প্রায়ই বাবা-মাকে গাইড করেন কীভাবে বাড়িতে সন্তানের সঙ্গে কথা বলবেন, সীমা নির্ধারণ করবেন এবং ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহ দেবেন। থেরাপি শুধু সেশনের ভেতরে নয়, বাড়িতেও চলতে থাকে।
শিশুর জন্য সাইকোলজিস্ট নিয়ে কিছু ভুল ধারণা
বাংলাদেশে অনেক পরিবার এখনো সন্তানকে সাইকোলজিস্টের কাছে নিতে সংকোচ করেন। এর পেছনে থাকে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা, যা দূর করা দরকার।
- “শুধু গুরুতর সমস্যা হলেই যেতে হয়”, বাস্তবে ছোট সমস্যা সময়মতো সমাধান করলে বড় হওয়া থেকে ঠেকানো যায়।
- “লোকে খারাপ বলবে”, সন্তানের মনের যত্ন নেওয়া মানে আপনি দায়িত্বশীল বাবা-মা।
- “সাইকোলজিস্ট মানেই ওষুধ”, সাইকোলজিস্ট মূলত কথা ও কৌশলভিত্তিক থেরাপি দেন। প্রয়োজন হলে ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয়।
- “সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে”, কিছু সমস্যা নিজে থেকেই কমে, তবে অনেকক্ষেত্রে অপেক্ষা করলে তা আরও জটিল হয়।
মানসিক চাপ ও সমস্যা সামলানোর কিছু কৌশল সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের মানসিক সমস্যা দূর করার উপায় লেখাটি পড়তে পারেন, এবং চাপ কমানোর ব্যবহারিক উপায় জানতে দেখুন মানসিক চাপ কমানোর উপায়।
যেসব অভিভাবকীয় আচরণ অজান্তে ক্ষতি করে
আমরা বাবা-মা হিসেবে সবসময় সন্তানের ভালো চাই, কিন্তু কিছু আচরণ ভালোবাসা থেকে হলেও সন্তানের মনে চাপ তৈরি করে। অনেক সময় সন্তানের কষ্টের পেছনে পরিবারের কিছু প্রত্যাশা ও অভ্যাসও কাজ করে।
“ফ্যাক্টরি ছাঁচ” প্রত্যাশা
অনেক পরিবারে সন্তানকে জোর করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিসিএস ক্যাডারের একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সন্তানের নিজের আগ্রহ, সামর্থ্য বা স্বপ্ন কী, তা যেন গৌণ হয়ে যায়। এই “ফ্যাক্টরি ছাঁচ” প্রত্যাশা সন্তানের মনে এক ধরনের চাপ তৈরি করে, যেখানে সে অনুভব করে তার নিজের সত্তার কোনো মূল্য নেই, শুধু একটি নির্দিষ্ট ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রায়ই দেখি, এই চাপ থেকে কিশোর বয়সে বিষণ্নতা ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি হতে পারে।
অতিরিক্ত নজরদারি ও বকাঝকা
সন্তানের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখা, বারবার বকা দেওয়া বা প্রতিটি ভুলে শাসন করা, যাকে অনেক সময় হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং বলা হয়, তা উল্টো ফল দিতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বড় হওয়া সন্তানরা প্রায়ই ভেতরে ভেতরে রাগ জমিয়ে রাখে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়ে। নিজের ওপর আস্থা তৈরি হওয়ার জায়গা না পেলে সন্তান হয় খুব বেশি ভয়ে থাকে, নয়তো বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
স্ক্রিন আসক্তি
মোবাইল, ট্যাব বা গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় এই আসক্তি নিজেই একটি উপসর্গ, বাস্তব জীবনের চাপ বা একাকীত্ব থেকে পালানোর একটি পথ। আবার দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকা ঘুম, মনোযোগ ও মেজাজে সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্ক্রিন পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়, বরং সুস্থ সীমা তৈরি করা এবং সন্তানের সঙ্গে বাস্তব সময় কাটানোই বেশি কার্যকর।
বাবা-মা হিসেবে বাড়িতে যা করতে পারেন
সাইকোলজিস্টের সহায়তার পাশাপাশি ঘরের পরিবেশ শিশুর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে। কিছু সহজ অভ্যাসেই সন্তানের আচরণ আর মনে ভালো প্রভাব পড়ে।
- সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন, তাড়াহুড়ো করে সমাধান বা বকা দেওয়ার আগে বুঝতে চেষ্টা করুন।
- অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না, “কাঁদবে না” না বলে “তুমি কষ্ট পেয়েছ, আমি বুঝতে পারছি” বলুন।
- একটা বাঁধা রুটিন রাখুন; দিনটা কেমন যাবে আগে থেকে জানলে শিশু নিশ্চিন্ত বোধ করে।
- স্ক্রিন টাইম ও ঘুমের সময়ের ভারসাম্য রাখুন।
- তুলনা এড়িয়ে চলুন, প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার গতি আলাদা।
- নিজেদের মধ্যে বড় ঝগড়া শিশুর সামনে না করার চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, বাবা-মায়ের নিজের মানসিক অবস্থাও সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। আপনি যদি নিজেই অতিরিক্ত চাপে থাকেন, নিজের যত্ন নেওয়াও সন্তানের যত্নের অংশ।
কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
যদি সন্তানের আচরণ বা মেজাজের পরিবর্তন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তীব্র হয়, কিংবা তার পড়াশোনা, বন্ধুত্ব বা দৈনন্দিন জীবনে বাধা তৈরি করে, তাহলে শিশুর জন্য সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষভাবে দ্রুত সাহায্য দরকার যদি শিশু নিজেকে আঘাত করার কথা বলে, মরে যাওয়ার কথা বলে, খাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়, অথবা কারও দ্বারা নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়।
এমন জরুরি অবস্থায় দেরি না করে ৯৯৯-এ কল করুন। সন্দেহ থাকলেও একবার সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলে নেওয়া সবসময় ভালো, কারণ আগেভাগে সহায়তা নিলে সমাধান সহজ হয়।
চাম ওয়েলনেসে শিশু কাউন্সেলিং
চাম ওয়েলনেসে প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলররা শিশু-কিশোরদের অনুভূতি, আচরণ ও বিকাশ নিয়ে গোপনীয় ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে কাজ করেন। আমরা ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার পরিবারগুলোর পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের অভিভাবকদের জন্য অনলাইনে সেবা দিই, যাতে দূরত্ব কোনো বাধা না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট সাইকোলজিস্টের সাথে সেশন ফি ৬৯৯ টাকা থেকে।
সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যদি চিন্তা হয়, আমাদের শিশু কাউন্সেলিং সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন এবং প্রস্তুত থাকলে আজই একটি সেশন বুক করুন। ঠিক সময়ে ছোট একটা পদক্ষেপই আপনার সন্তানের ভালোভাবে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠা সহজ করতে পারে।
আরও পড়ুন: শিশুর অটিজমের লক্ষণ: কখন চিন্তা করবেন, কোথায় শুরু করবেন · সিলেক্টিভ মিউটিজম: বাচ্চা বাসায় কথা বলে, স্কুলে বলে না
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
কত বয়স থেকে শিশুকে সাইকোলজিস্টের কাছে নেওয়া যায়?
খুব ছোট শিশু, এমনকি ২-৩ বছর বয়স থেকেও প্রয়োজন হলে সহায়তা নেওয়া যায়। ছোটদের জন্য খেলার মাধ্যমে থেরাপি এবং অভিভাবক-কেন্দ্রিক পরামর্শ ব্যবহার করা হয়। বয়স যাই হোক, চিন্তা হলে পরামর্শ নেওয়া যায়।
সেশনে কি শিশুকে একা ঢুকতে হয়?
না, বিশেষ করে প্রথম দিকে বাবা-মায়ের উপস্থিতি রাখা হয়। ধীরে ধীরে সন্তান স্বচ্ছন্দ হলে সাইকোলজিস্ট আলাদাভাবেও কথা বলতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়া শিশুর গতি অনুযায়ী এগোয়।
সন্তান কি জানবে যে সে সমস্যায় আছে?
সেশনকে সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না। শিশুকে সাধারণত বলা হয় এটি এমন একজনের সঙ্গে কথা বলার জায়গা যিনি অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করেন। এতে সন্তান লজ্জা বা ভয় পায় না।
অনলাইনে শিশু কাউন্সেলিং কি কার্যকর?
হ্যাঁ, বড় শিশু ও কিশোরদের জন্য অনলাইন সেশন বেশ কার্যকর হতে পারে, বিশেষত ঢাকার বাইরে থাকা পরিবারের জন্য। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সহযোগিতায় অনলাইন পরামর্শ সাজানো হয়।
অতিরিক্ত নজরদারি কি সন্তানের ক্ষতি করে?
হ্যাঁ, প্রতিটি বিষয়ে অতিরিক্ত নজরদারি ও বারবার বকাঝকা সন্তানের মনে চাপ তৈরি করতে পারে। এতে অনেক সন্তান ভেতরে রাগ জমিয়ে রাখে, নিজের ওপর আস্থা হারায়, বা উল্টো বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
সন্তানের স্ক্রিন আসক্তি কীভাবে সামলাব?
স্ক্রিন পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়। সুস্থ সময়সীমা তৈরি করা, সন্তানের সঙ্গে বাস্তব সময় কাটানো এবং আসক্তির পেছনে থাকা একাকীত্ব বা চাপ বোঝার চেষ্টা করাই বেশি কার্যকর। সমস্যা গুরুতর হলে psychologist-এর সাথে কথা বলুন।
কতগুলো সেশন লাগতে পারে?
এটি সমস্যার ধরন ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। কিছু ক্ষেত্রে অল্প কয়েকটি সেশনই যথেষ্ট, আবার কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ সহায়তা লাগে। প্রথম মূল্যায়নের পর সাইকোলজিস্ট আনুমানিক একটি পরিকল্পনা জানাতে পারেন।
How this article was made
- Written by
- Sharmin Akter Shetu, Senior Assistant Psychologist
- Clinical reviewer
- Shaheen Nafisa Siddique, Senior Clinical Psychologist
- Last updated
- October 30, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with children, teens & parenting
Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.





