নার্সিসিস্ট (Narcissist) মানে কি? লক্ষণ, সম্পর্কে প্রভাব ও করণীয়

Mst. Swampa
Clinically reviewed byMst. SwampaSenior Clinical Psychologist · MS & M.Phil in Clinical Psychology (University of Dhaka) · BCPS memberLast reviewed September 2026

নার্সিসিস্ট (Narcissist) মানে হলো এমন একজন মানুষ, যিনি অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মমুগ্ধ। তিনি নিজেকে সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, সবসময় প্রশংসা পেতে চান, আর অন্যের অনুভূতির দিকে খুব একটা খেয়াল রাখেন না। বাংলায় একে অনেক সময় আত্মপ্রেম বা আত্মমগ্নতা বলা হয়। সব মানুষের মধ্যেই কিছুটা আত্মমর্যাদা থাকে, কিন্তু নার্সিসিজম (Narcissism) যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা সম্পর্ক আর মনের শান্তি, দুটোতেই প্রভাব ফেলে। এই লেখায় সহজ বাংলায় জানবেন নার্সিসিস্ট মানে কি, এর লক্ষণ কী, সম্পর্কে এর প্রভাব, আর এমন কারও সাথে কীভাবে সামলে চলবেন।

নার্সিসিস্ট মানে কি?

নার্সিসিজম শব্দটি এসেছে গ্রিক পুরাণের নার্সিসাস (Narcissus) থেকে, যে নিজের প্রতিবিম্বের প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্যের ভাষায় এর চরম রূপকে বলা হয় Narcissistic Personality Disorder (NPD), যেটি একজন মনোবিদ বা সাইকিয়াট্রিস্ট মূল্যায়ন করেন। তবে আমরা দৈনন্দিন জীবনে যাদের নার্সিসিস্ট বলি, তাদের বেশিরভাগই হয়তো ক্লিনিক্যালি NPD নন, বরং তাদের আচরণে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা প্রবল। মূল কথা হলো, এই মানুষগুলোর কাছে নিজের চাওয়া, নিজের ইমেজ আর নিজের প্রশংসাই সবচেয়ে আগে আসে।

নার্সিসিস্টের লক্ষণ

একজন মানুষের মধ্যে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা থাকলে সাধারণত এই লক্ষণগুলো দেখা যায়:

  • সবসময় প্রশংসা আর মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে চাওয়া।
  • সামান্য সমালোচনাও সহ্য করতে না পারা, সাথে সাথে রেগে যাওয়া বা দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো।
  • অন্যের কষ্ট বা অনুভূতি বুঝতে বা গুরুত্ব দিতে না পারা (empathy কম)।
  • নিজেকে বিশেষ বা সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা।
  • নিজের স্বার্থে অন্যকে ব্যবহার করা।
  • ভুল স্বীকার না করা, সম্পর্কের সব সমস্যার জন্য সঙ্গীকেই দায়ী করা।
  • সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাওয়া, আর মাঝে মাঝে gaslighting করা, অর্থাৎ আপনাকে আপনার নিজের অনুভূতি নিয়েই সন্দেহে ফেলে দেওয়া।

নার্সিসিস্টের প্রকারভেদ

সব নার্সিসিস্ট একরকম দেখতে নন। মনোবিজ্ঞানীরা সাধারণত কয়েকটি ধরন আলাদা করে চেনেন:

  • প্রকাশ্য বা Overt নার্সিসিস্ট: জোরে কথা বলেন, নিজের সাফল্যের গল্প করেন, সবসময় মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে চান। চেনা তুলনামূলক সহজ।
  • গোপন বা Covert নার্সিসিস্ট: বাইরে থেকে চুপচাপ, এমনকি লাজুক মনে হতে পারে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজেকে অবহেলিত আর বিশেষ ভাবেন, অভিমান আর নীরবতা দিয়ে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
  • ম্যালিগন্যান্ট (Malignant) নার্সিসিস্ট: নার্সিসিজমের সাথে আগ্রাসন, হিংসা আর অন্যকে ইচ্ছা করে কষ্ট দেওয়ার প্রবণতা থাকে। এই ধরনটা সবচেয়ে ক্ষতিকর।

এগুলো রোগ নির্ণয়ের আনুষ্ঠানিক ভাগ না, বরং আচরণ বোঝার একটা সহজ উপায়। কাউকে “নার্সিসিস্ট” লেবেল দেওয়ার চেয়ে তার আচরণ আপনার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটা বোঝা বেশি জরুরি।

নার্সিসিস্ট কেন এমন হয়?

এর কোনো একক কারণ নেই। গবেষণা বলছে জন্মগত স্বভাব, ছোটবেলার অভিজ্ঞতা আর পরিবেশ মিলে এটা তৈরি হয়। কারও ছোটবেলায় অতিরিক্ত প্রশংসা আর “তুমি সবার সেরা” শুনে বড় হওয়া, আবার কারও ক্ষেত্রে উল্টোটা, কঠোর সমালোচনা, অবহেলা বা শর্তসাপেক্ষ ভালোবাসা। অনেক নার্সিসিস্টের বড় বড় কথার আড়ালে আসলে খুব ভঙ্গুর আত্মসম্মান থাকে, তাই সামান্য সমালোচনাতেই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তবে কারণ বোঝা মানে তার ক্ষতিকর আচরণ মেনে নেওয়া না।

সম্পর্কে নার্সিসিস্টের প্রভাব

সঙ্গী, বাবা-মা, শ্বশুরবাড়ির কেউ, কিংবা কাছের কোনো বন্ধু যদি নার্সিসিস্ট হন, তাহলে ধীরে ধীরে আপনার নিজেকে ছোট মনে হতে থাকে। আপনি হয়তো সবসময় তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন, তবু কখনো যথেষ্ট মনে হয় না। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যায়, সবকিছুতে নিজেকে দোষী ভাবার অভ্যাস তৈরি হয়, আর মানসিক ক্লান্তি জমতে থাকে। অনেকে দীর্ঘদিন এমন সম্পর্কে থেকে অ্যাংজাইটি বা বিষণ্নতার মধ্যে পড়ে যান। এটা মনে রাখা জরুরি, সমস্যাটা আপনার দুর্বলতা নয়, বরং সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা।

নার্সিসিস্টিক আচরণের কিছু পরিচিত কৌশল

  • লাভ বম্বিং (Love bombing): শুরুতে অতিরিক্ত ভালোবাসা, প্রশংসা আর উপহারে ভাসিয়ে দেওয়া, যাতে দ্রুত আপনার আস্থা পাওয়া যায়।
  • অবমূল্যায়ন: পরে ধীরে ধীরে খুঁত ধরা, তুলনা আর ঠাট্টার ছলে অপমান শুরু হয়।
  • সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট: শাস্তি হিসেবে দিনের পর দিন কথা বন্ধ রাখা।
  • ট্রায়াঙ্গুলেশন: অন্য কারও সাথে তুলনা টেনে বা তৃতীয় কাউকে জড়িয়ে আপনাকে অনিরাপদ রাখা।
  • হুভারিং (Hoovering): আপনি দূরে সরে গেলে আবার মিষ্টি কথা আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।
  • গ্যাসলাইটিং: ঘটনা অস্বীকার করে আপনাকেই নিজের স্মৃতি আর বিচারবুদ্ধি নিয়ে সন্দেহে ফেলা।

এখনই চেষ্টা করুন: ভদ্রভাবে "না" বলুন

পরিষ্কার অথচ নরম "না" সম্পর্ক আর আপনি, দুটোকেই রক্ষা করে। ঘরগুলো পূরণ করুন।

নার্সিসিস্ট মানুষের সাথে কীভাবে সামলে চলবেন

  • নিজের সীমা (boundary) ঠিক করুন। কোন আচরণ আপনি মেনে নেবেন আর কোনটা নয়, সেটা স্পষ্ট রাখুন।
  • সবকিছু নিজের দোষ ভাববেন না। প্রতিটি ঝগড়ার দায় আপনার একার নয়।
  • নিজের একটা support system রাখুন, যাদের সাথে খোলামেলা কথা বলতে পারেন।
  • gaslighting মনে হলে ঘটনাগুলো মনে রাখুন বা লিখে রাখুন, যাতে নিজের অনুভূতি নিয়ে সন্দেহে না পড়েন।
  • প্রয়োজনে দূরত্ব বজায় রাখুন। কিছু সম্পর্কে নিজেকে বাঁচানোই সবচেয়ে সুস্থ সিদ্ধান্ত।

পরিবারে নার্সিসিস্ট থাকলে: বাবা-মা, শ্বশুরবাড়ি বা অফিস

সঙ্গী হলে দূরত্ব নেওয়ার কথা ভাবা যায়, কিন্তু মানুষটি যদি বাবা-মা, শাশুড়ি বা অফিসের বস হন, তখন পুরোপুরি সরে যাওয়া সবসময় সম্ভব না। এমন ক্ষেত্রে অনেকের কাজে আসে “গ্রে রক” পদ্ধতি: কথাবার্তা সংক্ষিপ্ত, নিরুত্তাপ আর তথ্যভিত্তিক রাখা, ব্যক্তিগত অনুভূতি বা দুর্বলতা শেয়ার না করা, আর তর্কে টেনে নেওয়ার চেষ্টায় সাড়া না দেওয়া। এতে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার “খোরাক” কমে যায়।

এই বিষয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন নিয়ন্ত্রণকারী বা নার্সিসিস্ট শাশুড়ি ও সঙ্গী, নার্সিসিস্ট বাবা-মা আর টক্সিক বস ও অফিস নিয়ে আমাদের লেখাগুলো।

নার্সিসিস্টের সাথে সম্পর্কের পর সেরে ওঠা

দীর্ঘদিন এমন সম্পর্কে থাকলে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরেও নিজের ওপর সন্দেহ, অপরাধবোধ আর “আমারই দোষ ছিল” ভাবনা থেকে যায়। সেরে ওঠার পথে কয়েকটা জিনিস সাহায্য করে: যা ঘটেছে তা নাম দিয়ে চেনা, নিজের পুরনো বন্ধু আর শখের কাছে ফেরা, আর একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কাজ করে নিজের অনুভূতি আর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা। টক্সিক রিলেশনশিপ মানে কি লেখাটিও এখানে কাজে আসতে পারে।

কখন একজন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন

যদি এমন কোনো সম্পর্ক আপনার ঘুম, মন বা দৈনন্দিন জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে, তাহলে একা সব সামলানোর দরকার নেই। একজন সাইকোলজিস্ট আপনাকে নিজের সীমা তৈরি করতে, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে আর এই সম্পর্কের চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারেন। চাম ওয়েলনেসে আপনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্টদের সাথে অনলাইনে সারা বাংলাদেশ থেকে বা ঢাকায় সরাসরি কথা বলতে পারেন। সম্পর্ক বা দাম্পত্যের টানাপোড়েন নিয়ে সাহায্যের জন্য দেখে নিতে পারেন কাপল কাউন্সেলিং, অথবা সরাসরি একটি সেশন বুক করতে পারেন।

নতুন সম্পর্কে নার্সিসিস্ট চেনার শুরুর দিকের সংকেত

প্রেম বা বিয়ের কথাবার্তার শুরুতে কয়েকটা সংকেত খেয়াল রাখলে পরে অনেক কষ্ট এড়ানো যায়:

  • খুব অল্প সময়ে অতিরিক্ত ভালোবাসা আর “তুমিই আমার সব” ধরনের কথা।
  • প্রাক্তন সবাইকে “পাগল” বা “খারাপ” বলা, নিজের কোনো দায় না নেওয়া।
  • আপনার সাফল্যের কথা শুনে বিষয় ঘুরিয়ে নিজের গল্পে চলে যাওয়া।
  • ওয়েটার, ড্রাইভার বা নিচের পদের মানুষের সাথে অসম্মানজনক আচরণ।
  • “না” শুনলে অভিমান, রাগ বা শাস্তির মতো নীরবতা।

একটা সংকেত দেখেই কাউকে নার্সিসিস্ট ভাবা ঠিক না। কিন্তু কয়েকটা একসাথে আর বারবার দেখা গেলে ধীরে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ।

নার্সিসিস্ট আর আত্মবিশ্বাসী মানুষ কি এক?

না, দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। আত্মবিশ্বাসী মানুষ নিজেকে সম্মান করেন, কিন্তু পাশাপাশি অন্যের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেন, ভুল হলে স্বীকার করেন আর অন্যের সাফল্যে খুশি হতে পারেন। নার্সিসিস্ট আচরণে সেই ভারসাম্যটা থাকে না, সেখানে নিজেকে বড় দেখানোর জন্য প্রায়ই অন্যকে ছোট করা হয়, আর প্রশংসার ক্ষুধা কখনো মেটে না। সহজ কথায়, আত্মবিশ্বাস ভেতর থেকে আসা এক ধরনের শান্তি, আর নার্সিসিজম হলো বাইরের প্রশংসার ওপর টিকে থাকা এক ধরনের নির্ভরতা।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

নার্সিসিস্ট মানে কি বাংলায়?

নার্সিসিস্ট মানে আত্মকেন্দ্রিক ও আত্মমুগ্ধ একজন মানুষ, যিনি নিজেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন, প্রশংসা পেতে চান আর অন্যের অনুভূতিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না।

নার্সিসিস্ট কি ভালো হয়?

পরিবর্তন সম্ভব, তবে সেটা তখনই হয় যখন মানুষটি নিজে সমস্যা স্বীকার করে থেরাপিতে আসতে রাজি হন। অনেকে সেটা করতে চান না, তাই নিজের মন ভালো রাখাটাকে আগে রাখা জরুরি।

নার্সিসিস্ট সঙ্গীর সাথে কি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়?

কিছু ক্ষেত্রে সীমা টানা, খোলামেলা কথা আর কাউন্সেলিং নিয়ে সম্পর্ক টিকে যেতে পারে। কিন্তু যদি সেখানে ক্রমাগত অসম্মান বা মানসিক ক্ষতি হতে থাকে, তাহলে একজন কাউন্সেলরের সাথে কথা বলে নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

নার্সিসিজম কি মানসিক রোগ?

নার্সিসিস্টিক প্রবণতা অনেকের মধ্যেই কমবেশি থাকে। শুধু যখন এটা খুব তীব্র, দীর্ঘদিনের আর জীবনের নানা ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে, তখন একজন বিশেষজ্ঞ একে Narcissistic Personality Disorder হিসেবে নির্ণয় করতে পারেন। নিজে থেকে কাউকে রোগী বলে দেওয়া ঠিক না।

নার্সিসিস্ট কি বুঝতে পারে যে সে নার্সিসিস্ট?

বেশিরভাগ সময় পারেন না, বা মানতে চান না। তারা সাধারণত সমস্যাকে অন্যের দোষ হিসেবে দেখেন। তাই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ, নিজের আচরণ স্বীকার করা, তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন।

আমি নিজেই কি নার্সিসিস্ট?

এই প্রশ্নটা নিজেকে করতে পারাই একটা ভালো লক্ষণ, কারণ নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে পারা নার্সিসিস্টদের মধ্যে কম দেখা যায়। নিজের কিছু আচরণ নিয়ে চিন্তা থাকলে একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলে সেটা নিরাপদে বুঝে নিতে পারেন।

জরুরি অবস্থা: আপনি যদি নিজের বা কারও ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করুন। কাউন্সেলিং জরুরি সেবার বিকল্প নয়।

How this article was made
Written by
Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist
Clinically reviewed by
Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist, BCPS member
Last updated
September 30, 2026

Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and reviewed by a senior clinical psychologist. How we review · Report an error

লেখাটা কি কাজে লাগল?

Where to go from here

Three next steps, from lightest to most support.

Step 1
Check how you’re doingA free, private self-check. It takes about 3 minutes.Take the self-check
Step 2
Learn how therapy worksWhat happens in a session, costs, and how to choose a psychologist.How it works
Step 3Mst. Swampa
Talk to SwampaThe psychologist who wrote this article. Online, in Bangla or English. View profileBook with Swampa

Keep Reading

The Same Fight: Breaking the Pursue-Withdraw CyclePsychosexual Therapy in Bangladesh: When Sexual Problems Start in the MindSexless Marriage in Bangladesh: Why It Happens and How to Rebuild Intimacy

Psychologists who help with relationships & marriage

Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.

Salma Parveen
Salma ParveenSenior Clinical Psychologist · 21+ yearsHelps with couples & marriage, relationship issuesFrom ৳5,500ProfileBook
Samsun Nahar
Samsun NaharAssistant Clinical Psychologist · 17+ yearsHelps with relationship issues, depressionFrom ৳2,200ProfileBook
Afroja Sultana
Afroja SultanaAssistant Clinical Psychologist · 16+ yearsHelps with relationship issues, depressionFrom ৳2,500ProfileBook
See all psychologists →