একা একা সিনেমা, খাওয়া, ঘোরা: একাকী নয়, স্বনির্ভরতা

Samsun Nahar
Clinical reviewerSamsun NaharAssistant Clinical Psychologist · MSc in Clinical Psychology (University of Dhaka) · BCPS memberLast updated October 2026 · How we review

ছোট উত্তর: “একা” মানে কারও সঙ্গ ছাড়া, নিজে নিজে থাকা বা কিছু করা। একা থাকা আর একাকীত্ব এক নয়: একা থাকা (solitude) একটি অবস্থা, যা মানুষ নিজে বেছে নিতে পারে ও উপভোগ করতে পারে; আর একাকীত্ব (loneliness) একটি কষ্টের অনুভূতি, যা ভিড়ের মধ্যেও হতে পারে (NHS)। একা সিনেমা দেখা বা খেতে যাওয়া মানসিক সমস্যার লক্ষণ নয়, বরং অনেক সময় মানসিক স্বনির্ভরতার লক্ষণ।

একাকীত্ব দীর্ঘদিন কষ্ট দিলে ২ মিনিটের একাকীত্বের টেস্ট দিয়ে দেখতে পারেন।

ঢাকার কোনো সিনেমা হলে একা টিকিট কেটে ভেতরে ঢোকা, ধানমন্ডির কোনো রেস্তোরাঁয় একা টেবিলে বসে খাওয়া, কিংবা একা একা কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে পড়া: একা একা কাজ করা নিয়ে আমাদের মনে যত সংকোচ, তার বেশিরভাগই আসলে বাস্তব ভয় থেকে নয়; অনেকটাই আসে “লোকে কী ভাববে” এই চিন্তা থেকে। বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো শহরে, একা কিছু করাকে এখনও অনেকে করুণা বা ব্যর্থতার চোখে দেখেন। অথচ মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নিজের সঙ্গ উপভোগ করতে শেখা মানসিক পরিপক্বতা ও স্বনির্ভরতার একটি সুন্দর লক্ষণ।

এই লেখায় আমরা খোলাখুলি কথা বলব একা থাকা আর একাকীত্বের পার্থক্য নিয়ে, সোলো লাইফ ঘিরে থাকা সামাজিক চাপ নিয়ে, এবং একা বাইরে যাওয়া কীভাবে ধীরে ধীরে অভ্যাস করা যায় তা নিয়ে। Chum Wellness-এ আমরা সারা বাংলাদেশজুড়ে অনলাইনে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি কাউন্সেলিং সেবা দিই, তাই এই বিষয়ে অনেক মানুষের অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমাদের হয়েছে।

একা একা কাজ করা মানে কী, আর কী নয়

প্রথমেই একটি ভুল ধারণা পরিষ্কারার করা দরকার। একা একা কাজ করা মানে সম্পর্ক থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, মানুষকে এড়িয়ে চলা নয়, কিংবা সবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া নয়। এর মানে হলো, নিজের কোম্পানিতে স্বস্তি বোধ করা। অন্য কারও উপস্থিতির ওপর নির্ভর না করেও জীবনের ছোট ছোট আনন্দ যেমন এক কাপ চা, একটা সিনেমা, একটা বই কিংবা একটা লম্বা হাঁটা উপভোগ করতে পারা।

অনেকে ভাবেন, বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কেউ সঙ্গে না থাকলে বাইরে বেরোনোই যায় না। এই নির্ভরতা এতটাই গভীর হয়ে যায় যে, সঙ্গী না পেলে মানুষ প্রিয় কাজটিও বাদ দিয়ে দেয়। ফলাফল, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিজ্ঞতা অধরা থেকে যায়, শুধু “একা যাব কীভাবে” এই ভাবনায়।

একাকীত্ব আর একা থাকা এক জিনিস নয়

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি বুঝে নেওয়া জরুরি। একাকীত্ব (loneliness) একটি অনুভূতি, যেখানে মানুষ বিচ্ছিন্ন, অবাঞ্ছিত বা কারও সঙ্গে মনের মিল নেই এমন বোধ করে, এমনকি অনেক মানুষের ভিড়েও এই অনুভূতি হতে পারে। অন্যদিকে একা থাকা (solitude) একটি অবস্থা, যা মানুষ ইচ্ছা করে বেছে নেয় এবং যেখানে সে নিজের সঙ্গে থেকে শান্তি পায়। যুক্তরাজ্যের NHS-ও বলে, ব্যস্ত শহরে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, কিংবা অন্যদের সঙ্গে থেকেও মানুষ একাকী বোধ করতে পারে (NHS)।

আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেকে এই দুইকে গুলিয়ে ফেলেন। কেউ একা খেতে গেলে ভাবেন, “নিশ্চয়ই ওর কোনো বন্ধু নেই।” আসলে ব্যাপারটা উল্টো হতে পারে। যে মানুষ স্বেচ্ছায় নিজের সঙ্গ বেছে নিতে পারে, সে প্রায়ই মানসিকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। পার্থক্যটা হলো নিয়ন্ত্রণে: একাকীত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়, নিজের সঙ্গ বেছে নেওয়া হয়।

আমাদের সমাজে সোলো লাইফ ঘিরে সামাজিক চাপ

বাংলাদেশে পরিবার ও সমষ্টিগত জীবনের মূল্য অনেক বেশি, যা অনেক দিক থেকেই সুন্দর। কিন্তু এর একটা ছায়া দিকও আছে। এখানে সামাজিক চাপ এতটাই প্রবল যে, একা কিছু করাকে প্রায়ই অস্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়। ঢাকার গুলশান বা উত্তরার কোনো ক্যাফেতে একা বসে থাকলে অনেকে অস্বস্তিতে ভোগেন, কারণ মনে হয় আশপাশের মানুষ তাকিয়ে আছে, বিচার করছে।

এই চাপের কিছু সাধারণ রূপ:

  • করুণার দৃষ্টি: একা মানুষকে “বেচারা” বা “অসামাজিক” ভাবা।
  • প্রশ্নবাণ: “একা কেন? কেউ নেই তোমার সাথে?” এই ধরনের প্রশ্ন বারবার শোনা।
  • পরিবারের দুশ্চিন্তা: সন্তান বেশি একা থাকতে পছন্দ করলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা।
  • নিজের ভেতরের বিচারক: অন্যের চোখ দিয়ে নিজেকে দেখে নিজেই নিজেকে দোষ দেওয়া।

মজার ব্যাপার হলো, এই বিচার প্রায়ই কাল্পনিক। রেস্তোরাঁয় একা বসে খাওয়া কোনো মানুষকে অন্যরা আসলে কয়েক সেকেন্ডের বেশি খেয়ালই করে না, কারণ সবাই নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। মনোবিজ্ঞানে একে “স্পটলাইট ইফেক্ট” বলা হয়, অর্থাৎ আমরা ধরে নিই সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, বাস্তবে যা প্রায় কখনোই সত্য নয়।

“লোকে কী বলবে” এই ভয়ের শেকড়

এই ভয়ের পেছনে সাধারণত থাকে ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠা কিছু বিশ্বাস: গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে সবসময় দলের সঙ্গে থাকতে হবে, একা মানেই কিছু “ভুল” আছে। এই বিশ্বাসগুলো এতটাই স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায় যে, আমরা প্রশ্নই করি না, “সত্যিই কি একা থাকা খারাপ, নাকি আমাকে শেখানো হয়েছে খারাপ ভাবতে?”

একবার এই প্রশ্নটা নিজেকে করতে শুরু করলে, একটা মুক্তির দরজা খুলে যায়। কারণ তখন বোঝা যায়, অন্যের কল্পিত মতামতের চেয়ে নিজের প্রকৃত ইচ্ছাগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একা সময় কাটানো কেন মানসিক স্বনির্ভরতার লক্ষণ

একা থাকা আর একা বোধ করা এক জিনিস নয়, এই পার্থক্যটাই আসল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বকে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখে, তবে সেটি অর্থপূর্ণ সম্পর্কের অভাবের কথা বলে, নিজের ইচ্ছায় একা সময় কাটানোর কথা নয়। নিজে বেছে নেওয়া একাকী সময় বিশ্রাম, আর চাপিয়ে দেওয়া বিচ্ছিন্নতা ঝুঁকি।

নিজের সঙ্গ উপভোগ করতে পারা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক দিক থেকেই উপকারী। এটি ব্যর্থতা নয়, বরং একটি অর্জন। এর কয়েকটি বাস্তব সুবিধা:

  • আত্মপরিচয়ের স্পষ্টতা: অন্যের প্রত্যাশা ছাড়া নিজের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষ বুঝতে পারে সে আসলে কী চায়, কী পছন্দ করে।
  • সিদ্ধান্তে আত্মবিশ্বাস: ছোট ছোট কাজ একা করতে পারলে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসও বাড়ে।
  • মানসিক বিশ্রাম: সারাক্ষণ সামাজিক ভূমিকা পালন করা ক্লান্তিকর। একা সময় সেই ব্যাটারি রিচার্জ করে।
  • সুস্থ সম্পর্ক: যে নিজের সঙ্গে স্বস্তিতে থাকে, সে সম্পর্কেও কম আঁকড়ে ধরে, ফলে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
  • সৃজনশীলতা: নিরিবিলি সময়ে মন নতুন চিন্তা, ধারণা ও সমাধানের জায়গা পায়।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখা দরকার: নিজের সঙ্গ উপভোগ করতে পারা মানে সম্পর্কের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া নয়। মানুষ সামাজিক প্রাণী, আমাদের মানুষের সঙ্গ দরকার। কিন্তু সেই সঙ্গ যখন ভয় থেকে নয়, বরং সত্যিকারের ইচ্ছা থেকে আসে, তখনই তা স্বাস্থ্যকর হয়। একা থাকতে পারা আর একসঙ্গে থাকতে পারা, এই দুটোর ভারসাম্যেই প্রকৃত স্বনির্ভরতা।

একা বাইরে যাওয়া শুরু করবেন যেভাবে

যদি এতদিন একা কোথাও যাওয়া কঠিন মনে হয়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ একা লম্বা ট্রিপে বেরিয়ে পড়ার দরকার নেই। একা বাইরে যাওয়া একটি দক্ষতা, আর সব দক্ষতার মতো এটিও অভ্যাসে ধীরে ধীরে সহজ হয়। ছোট থেকে শুরু করাই সবচেয়ে ভালো।

ছোট পদক্ষেপ থেকে বড় স্বাধীনতা

একটা ধাপে ধাপে এগোনোর পথ এমন হতে পারে:

  • প্রথম ধাপ: কাছের কোনো ক্যাফেতে একা গিয়ে এক কাপ চা বা কফি খাওয়া, মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য।
  • দ্বিতীয় ধাপ: একা একটা বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরিতে সময় কাটানো, ঘুরে ঘুরে বই দেখা।
  • তৃতীয় ধাপ: একা একটা পার্কে হাঁটতে যাওয়া বা রমনা, ধানমন্ডি লেকের পাড়ে কিছুটা সময় বসে থাকা।
  • চতুর্থ ধাপ: একা একটা সিনেমা দেখা। হলের অন্ধকারে আসলে কেউ কাউকে খেয়ালই করে না, তাই এটি শুরু করার জন্য চমৎকার জায়গা।
  • পঞ্চম ধাপ: একা একটা রেস্তোরাঁয় বসে পূর্ণ একটা বেলা খাওয়া।
  • ষষ্ঠ ধাপ: একা কাছাকাছি কোনো জায়গায় দিনে ঘুরে আসা, তারপর ধীরে ধীরে একটু দূরের সোলো ট্রিপ।

প্রতিটি ধাপের পর নিজেকে একটু সময় দিন। খেয়াল করুন, ভয়টা যতটা ভেবেছিলেন ততটা বড় ছিল না। এই ছোট ছোট সফল অভিজ্ঞতা মনের ভেতরে নতুন বিশ্বাস গড়ে তোলে: “আমি একা পারি।”

একটা ছোট কৌশল: বাইরে গিয়ে হাতে একটা কাজ রাখুন প্রথম দিকে, যেমন একটা বই, নোটবুক কিংবা হেডফোন। এতে মন ব্যস্ত থাকে, “সবাই তাকিয়ে আছে” এই অনুভূতি কমে। তবে লক্ষ্য হলো একসময় এই সাপোর্ট ছাড়াও স্বস্তিতে থাকতে শেখা।

একা থাকার ভয় কাটানোর বাস্তব কৌশল

একা থাকার ভয় যাদের বেশি, তাদের জন্য কিছু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল বেশ কাজে দেয়। এগুলো সরল, কিন্তু নিয়মিত চর্চায় শক্তিশালী।

  • ভয়ের কথাগুলো লিখে ফেলুন: “একা গেলে কী হবে?” এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরগুলো কাগজে লিখুন। বেশিরভাগ ভয় লিখে ফেললে দেখা যায় সেগুলো অতিরঞ্জিত।
  • নিজের সাথে সদয় কথা বলুন: ভেতরের কঠোর সমালোচকের বদলে একজন বন্ধুর মতো নিজের সাথে কথা বলুন। “একা যাওয়া ঠিক আছে, এতে দোষের কিছু নেই।”
  • উপস্থিত থাকার চর্চা: বাইরে গিয়ে চারপাশের রঙ, শব্দ, ঘ্রাণ খেয়াল করুন। মন অতীত বা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা থেকে বর্তমানে ফিরে এলে টেনশন কমে।
  • ছোট জয় উদযাপন করুন: একা একটা কাজ করে ফেলার পর নিজেকে একটু বাহবা দিন। এই ইতিবাচক শক্তি পরের পদক্ষেপ সহজ করে।
  • তুলনা বন্ধ করুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের দলবেঁধে আনন্দের ছবি দেখে নিজেকে ছোট ভাববেন না। ছবি জীবনের সম্পাদিত অংশ মাত্র।

যদি একা থাকার ভয় এতটাই তীব্র হয় যে তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা পড়াশোনায় বাধা দেয়, কিংবা একা থাকার কল্পনাতেই বুক ধড়ফড় করা করে বা প্রবল আতঙ্ক জাগে, তবে সেটি নিছক লাজুকতা নয়। এমন ক্ষেত্রে একজন psychologist বা doctor-এর সাথে কথা বলা সবচেয়ে ভালো পথ।

এখনই চেষ্টা করুন: যা জরুরি, সেদিকে এক পা

জীবন আটকে বা ফাঁকা লাগলে, নিজের মূল্যবোধের সাথে মিল রেখে ছোট কাজ থেকেই অর্থ তৈরি হয়। একটা মূল্যবোধ বেছে নিন।

নিজের সঙ্গ উপভোগ ও একাকীত্বের সীমারেখা

এই লেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। একা সময় কাটানো স্বাস্থ্যকর, কিন্তু সব একা থাকাই সমান নয়। কিছু সংকেত বলে দেয় যে একা থাকাটা আর “নিজের সঙ্গ উপভোগ” থাকছে না, বরং একাকীত্ব বা মানসিক কষ্টের রূপ নিচ্ছে।

খেয়াল রাখুন এই পার্থক্যগুলো:

  • স্বাস্থ্যকর একা থাকা: আপনি বেছে নেন, ভালো লাগে, রিচার্জ বোধ করেন, এবং চাইলে মানুষের কাছেও ফিরতে পারেন।
  • উদ্বেগজনক একাকীত্ব: আপনি মানুষ এড়াচ্ছেন ভয়ে, একা থাকার পরও খালি খালি লাগছে, ঘুম-খাওয়ার রুটিন এলোমেলো হচ্ছে, বা জীবনে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় ধরনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন চললে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমন সময় নিজেকে দোষ না দিয়ে সাহায্য চাওয়াটাই সাহসের কাজ। একাকীত্ব দূর করার নানা কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা দূর করার উপায় লেখাটি পড়তে পারেন। আর মনকে স্থির রাখার চর্চা নিয়ে সহায়ক হবে মানসিক শান্তি কীভাবে পাবেন লেখাটি।

কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন

একা থাকা বা সোলো লাইফ নিজে থেকে কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু নিচের কোনো লক্ষণ যদি নিয়মিত ও দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে একজন certified psychologist বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা বুদ্ধিমানের কাজ:

  • একা কিছু করার কথা ভাবলেই প্রবল অ্যাংজাইটি, আতঙ্ক বা শারীরিক অস্থিরতা হওয়া।
  • সঙ্গী না পেলে জরুরি কাজও এড়িয়ে যাওয়া, ফলে জীবন সীমিত হয়ে পড়া।
  • একা থাকার পরও গভীর শূন্যতা, বিষণ্নতা বা অকারণ কান্না।
  • মানুষ এড়িয়ে চলা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো যে সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে।
  • ঘুম, খাওয়া বা দৈনন্দিন কাজে ক্রমাগত ব্যাঘাত।
  • নিজের সম্পর্কে ক্রমাগত নেতিবাচক ও কঠোর ভাবনা।

এই ধরনের অনুভূতির পেছনে অনেক সময় থাকে সোশ্যাল অ্যাংজাইটি, অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা কিংবা গভীর বিশ্বাসের প্যাটার্ন, যেগুলো নিয়ে একজন trained psychologist-এর সঙ্গে কাজ করলে ধীরে ধীরে পরিবর্তন সম্ভব। মনে রাখবেন, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো ওষুধ বা চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত সবসময় একজন যোগ্য ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিতে হবে। কাউন্সেলিং আপনাকে কথা বলার, নিজেকে বোঝার আর নতুন অভ্যাস গড়ার একটা নিরাপদ জায়গা দেয়।

শেষ কথা: একা থাকা মানে অসম্পূর্ণ নয়

একা সিনেমা দেখা, একা খাওয়া কিংবা একা ঘোরা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এটি নিজের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার একটি সুন্দর পথ। যে মানুষ নিজের সঙ্গে স্বস্তিতে থাকতে শেখে, সে জীবনের ঝড়ঝাপটা সামলাতে বেশি শক্তিশালী হয়, সম্পর্কেও বেশি সুস্থ থাকে। একা একা কাজ করার এই স্বনির্ভরতা রাতারাতি আসে না, ছোট ছোট সাহসী পদক্ষেপে গড়ে ওঠে।

আপনি যদি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা বা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে থেকে একা থাকার ভয়, সোশ্যাল অ্যাংজাইটি কিংবা একাকীত্বের সঙ্গে লড়ছেন, তবে জেনে রাখুন, আপনি একা নন এবং সাহায্য পাওয়া সম্ভব। Chum Wellness-এ আমাদের certified psychologist ও কাউন্সেলররা সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি সেবা দেন। প্রয়োজন মনে হলে আমাদের কাউন্সেলিং সহায়তা নিতে পারেন, কিংবা সরাসরি একটি সেশন বুক করে আজ থেকেই নিজের সঙ্গে ভালো থাকার চেষ্টা শুরু করতে পারেন।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

একা একা কাজ করা কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ?

না, একা একা কাজ করা নিজে থেকে কোনো সমস্যা নয়। বরং নিজের সঙ্গ উপভোগ করতে পারা মানসিক স্বনির্ভরতা ও পরিপক্বতার লক্ষণ। সমস্যা তখনই, যখন কেউ ভয়ে মানুষ এড়িয়ে চলে, একা থাকার পরও গভীর শূন্যতা বোধ করে, বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়। এই পার্থক্যটাই একা থাকা আর একাকীত্বের মধ্যে মূল সীমারেখা।

একা বাইরে যাওয়ার ভয় কীভাবে কাটাব?

ছোট থেকে শুরু করুন। প্রথমে কাছের ক্যাফেতে ১৫ মিনিটের জন্য একা চা খেতে যান, তারপর ধীরে ধীরে একা সিনেমা বা রেস্তোরাঁয় খাওয়া। বাইরে গেলে হাতে একটা বই বা হেডফোন রাখলে শুরুতে স্বস্তি লাগে। প্রতিটি ছোট সফল অভিজ্ঞতা মনে নতুন বিশ্বাস গড়ে তোলে। ভয় খুব তীব্র হলে একজন counsellor-এর সাহায্য নেওয়া ভালো।

একাকীত্ব আর একা থাকার মধ্যে পার্থক্য কী?

একাকীত্ব একটি কষ্টের অনুভূতি, যেখানে মানুষ বিচ্ছিন্ন আর একা বোধ করে, এমনকি ভিড়েও। একা থাকা হলো স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া একটি অবস্থা, যেখানে মানুষ নিজের সঙ্গে শান্তি পায় এবং রিচার্জ বোধ করে। মূল পার্থক্য নিয়ন্ত্রণে: একাকীত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়, নিজের সঙ্গ নিজে বেছে নেওয়া হয়।

Chum Wellness-এ কি ঢাকার বাইরে থেকেও কাউন্সেলিং নেওয়া যায়?

হ্যাঁ। Chum Wellness সারা বাংলাদেশজুড়ে অনলাইনে সম্পূর্ণ গোপনীয় কাউন্সেলিং সেবা দেয়, এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে সরাসরি সেশনের সুযোগও আছে। তাই আপনি চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট কিংবা যেকোনো জেলা থেকেই certified psychologist ও কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে পারবেন। প্রয়োজন হলে সহজেই একটি সেশন বুক করা যায়।

How this article was made
Written by
Sumaiya Habib, Assistant Clinical Psychologist
Clinical reviewer
Samsun Nahar, Assistant Clinical Psychologist
Last updated
October 28, 2026

Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and clinically reviewed by a certified psychologist or psychiatrist who specialises in its topic. How we review · Report an error

লেখাটা কি কাজে লাগল?

Where to go from here

Three next steps, from lightest to most support.

Step 1
Check how you’re doingA free, private self-check. It takes about 3 minutes.Take the self-check
Step 2
Learn how therapy worksWhat happens in a session, costs, and how to choose a psychologist.How it works
Step 3Sumaiya Habib
Talk to SumaiyaThe psychologist who wrote this article. Online, in Bangla or English. View profileBook with Sumaiya

Keep Reading

সম্পর্কে নির্ভরতা: ছাড়তেও পারি না, থাকতেও কষ্টসম্পর্কে ক্ষমা করা ও এগিয়ে যাওয়া: রাগ ধরে না রেখেপ্রিয়জনকে থেরাপি নিতে উৎসাহিত করা: জোর নয়, পাশে থেকে

Psychologists who help with depression

Book a confidential session with a certified psychologist at Chum Wellness.

Farzana Sultana Nila
Farzana Sultana NilaClinical Psychologist · 15+ yearsHelps with depression, couples & marriageFrom ৳3,000ProfileBook
Sirajum Monira
Sirajum MoniraClinical Psychologist · 10+ yearsHelps with depression, anxietyFrom ৳2,200ProfileBook
Md. Hafizur Rahman
Md. Hafizur RahmanAssistant Clinical Psychologist · 10+ yearsHelps with depression, anxietyFrom ৳2,500ProfileBook
See all psychologists →