আত্ম-সমালোচনা: নিজের প্রতি এত কঠোর কেন, কীভাবে সদয় হবেন
- আত্ম-সমালোচনা আসলে কী
- নিজের প্রতি আমরা এত কঠোর হই কেন
- অতিরিক্ত আত্ম-সমালোচনা আমাদের যা ক্ষতি করে
- নিজের প্রতি সদয় হওয়া: ভেতরের সমালোচকের বদলে
- নিজের প্রতি সদয় হওয়ার বাস্তব কিছু উপায়
- ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি
- আত্ম-সমালোচনা ও বিষণ্নতার সম্পর্ক
- কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
- নিজের প্রতি সদয় হওয়া শুরু হোক আজ থেকেই
- সাধারণ কিছু প্রশ্ন

একটা ছোট ভুল হয়েছে, হয়তো অফিসের একটা মেইলে বানান ভুল, কিংবা কারো সাথে কথা বলতে গিয়ে খানিকটা আটকে গেছেন। বাইরের কেউ হয়তো খেয়ালই করেনি, কিন্তু ভেতরে সঙ্গে সঙ্গে একটা কণ্ঠস্বর বলে ওঠে, তুমি কিছুই ঠিকমতো পারো না। এই আত্ম-সমালোচনা নামের ভেতরের কঠোর কণ্ঠস্বরটি ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষের নিত্যসঙ্গী, অথচ এ নিয়ে আমরা খুব কমই খোলাখুলি কথা বলি। নিজের প্রতি এই অতিরিক্ত কঠোরতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শেখা একটা অভ্যাস, আর যা শেখা যায় তা বদলানোও যায়।
এই লেখায় আমরা বোঝার চেষ্টা করব, নিজের প্রতি আমরা কেন এত কঠোর হই, এই ভেতরের সমালোচক কীভাবে তৈরি হয়, আর কীভাবে ধাপে ধাপে আত্ম-সহানুভূতি চর্চা করে নিজের সঙ্গে আরও সদয় সম্পর্ক গড়া যায়। চাম ওয়েলনেস ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরাসহ পুরো শহরে সশরীরে এবং অনলাইনে সারা বাংলাদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলরদের মাধ্যমে গোপনীয় সহায়তা দিয়ে আসছে, তাই এই আলোচনা কেবল তত্ত্ব নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে এসেছে।
আত্ম-সমালোচনা আসলে কী
আত্ম-সমালোচনা মানে নিজের চিন্তা, আচরণ বা কাজকে খুঁটিয়ে দেখা এবং কঠোরভাবে বিচার করা। কিছুটা আত্ম-পর্যালোচনা স্বাভাবিক ও দরকারি, কারণ এতে আমরা ভুল শুধরে নিতে শিখি এবং নিজেকে উন্নত করি। সমস্যা তখনই হয় যখন এই বিচার এতটাই কঠোর, একপাক্ষিক ও নিরন্তর হয়ে ওঠে যে তা আর সহায়তা করে না, বরং প্রতিনিয়ত মনোবল ভেঙে দেয়।
সুস্থ পর্যালোচনা বলে, এই কাজটা এবার ভালো হয়নি, পরেরবার এভাবে করে দেখি। কিন্তু কঠোর আত্ম-সমালোচনা বলে, তুমি অপদার্থ, তুমি দিয়ে কিছু হবে না। প্রথমটি নির্দিষ্ট আচরণকে ঘিরে, দ্বিতীয়টি গোটা মানুষটিকেই দোষারোপ করে। এই পার্থক্যটুকু বোঝা গেলে অনেকখানি পথ এগিয়ে যাওয়া যায়।
কঠোর আত্ম-সমালোচনা যেভাবে চেনা যায়
- ছোট ভুলকেও বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা এবং বারবার সেটি মনে করে কষ্ট পাওয়া।
- নিজের সাফল্যকে গুরুত্ব না দেওয়া, কিন্তু ছোট ত্রুটিকে অতিরঞ্জিত করা।
- প্রায়ই মনে হওয়া, আমি যথেষ্ট ভালো নই, আমার আরও ভালো করা উচিত ছিল।
- অন্যের সঙ্গে অনবরত নিজেকে তুলনা করা এবং সেই তুলনায় ছোট বোধ করা।
- প্রশংসা পেলে অস্বস্তি হওয়া, মনে হওয়া যে এটি আমার প্রাপ্য নয়।
- ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কারণ আগেই ধরে নেওয়া হয় ব্যর্থ হব।
এই লক্ষণগুলো একসঙ্গে অনেকটা সময় ধরে থাকলে তা কেবল ক্লান্তিকর নয়, ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতার দিকেও ঠেলে দিতে পারে। এ কারণেই নিজের প্রতি কঠোরতাকে নিছক ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য ভেবে উপেক্ষা না করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
নিজের প্রতি আমরা এত কঠোর হই কেন
ভেতরের এই কঠোর কণ্ঠস্বর হঠাৎ করে জন্ম নেয় না। আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেকের ভেতরে একটা কঠোর সমালোচক থাকে যে সামান্য ভুলেও তাকে অযোগ্য বলে দাগিয়ে দেয়, আর এই অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বর প্রায়ই ছোটবেলায় শেখা। যে সুরে ছোটবেলায় আমাদের সঙ্গে কথা বলা হতো, বড় হয়ে আমরা প্রায়ই সেই সুরেই নিজের সঙ্গে কথা বলি।
পরিবার ও বেড়ে ওঠার প্রভাব
আমাদের সমাজে অনেক সময় ভালোবাসা প্রকাশ পায় সমালোচনার ভাষায়। ভালো নম্বর পেলে বলা হয়, আরও ভালো করতে পারতে, একটু কম পেলে তুলনা টানা হয় প্রতিবেশীর সন্তানের সঙ্গে। উদ্দেশ্য হয়তো ছিল সন্তানকে এগিয়ে দেওয়া, কিন্তু শিশুর মনে গেঁথে যায় একটি বার্তা, আমি যেমনই করি, তা কখনো যথেষ্ট নয়। বড় হয়ে এই বার্তাটাই ভেতরের সমালোচকের কণ্ঠ হয়ে ওঠে।
পূর্ণতাবাদ ও সামাজিক চাপ
ঢাকার মতো প্রতিযোগিতামূলক শহরে পড়াশোনা, চাকরি, বিয়ে, সন্তানের ফলাফল, প্রতিটি ধাপেই যেন একটা অদৃশ্য মানদণ্ড ঝুলে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার সাজানো, নিখুঁত মুহূর্ত দেখে অনেকের মনে হয়, শুধু আমার জীবনটাই এলোমেলো। এই তুলনা থেকে জন্ম নেয় পূর্ণতাবাদ, অর্থাৎ নিখুঁত না হলে কিছুই গ্রহণযোগ্য নয় এমন কঠোর প্রত্যাশা। আর নিখুঁত হওয়া যেহেতু সম্ভব নয়, তাই নিজেকে দোষারোপ করার একটা অন্তহীন চক্র চলতেই থাকে।
ভেতরের সমালোচকের ভুল যুক্তি
অনেকে মনে করেন, নিজেকে কঠোরভাবে না বকলে হয়তো আলসেমি পেয়ে বসবে, তাই এই সমালোচনাই তাদের সামনে এগিয়ে দেয়। বাস্তবে ঘটে উল্টোটা। ক্রমাগত নিজেকে দোষারোপ করলে সাহস আসে না, বরং ভয় ও অবসাদ বাড়ে। যে মানুষ প্রতিটি ভুলের জন্য নিজেকে শাস্তি দেওয়ার আশঙ্কায় থাকে, সে নতুন কিছু করতে, ঝুঁকি নিতে বা ভুল থেকে শিখতে ভয় পায়। কঠোরতা প্রেরণা নয়, ভয় তৈরি করে।
অতিরিক্ত আত্ম-সমালোচনা আমাদের যা ক্ষতি করে
ভেতরের সমালোচক যখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠে, তখন তার প্রভাব শুধু মনেই সীমিত থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে জীবনের নানা দিকে।
- মানসিক স্বাস্থ্য: দীর্ঘমেয়াদি আত্ম-সমালোচনা অ্যাংজাইটি, দুশ্চিন্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- সম্পর্ক: যিনি নিজেকে যথেষ্ট মনে করেন না, তিনি প্রায়ই সঙ্গীর কাছ থেকে অতিরিক্ত আশ্বাস চান কিংবা প্রত্যাখ্যানের ভয়ে দূরত্ব তৈরি করেন।
- কাজ ও পড়াশোনা: ভুলের ভয়ে কাজ ফেলে রাখা বা বারবার একই জিনিস যাচাই করা, যাকে আমরা প্রায়ই দেরি করা বা অলসতা বলে ভুল করি।
- শরীর: নিরন্তর মানসিক চাপ ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি ও মনোযোগে ঘাটতি ডেকে আনতে পারে।
এই কারণেই নিজের প্রতি সদয় হওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি মৌলিক শর্ত। আর সদয় হওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, যে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় নিয়ে আমাদের এই লেখাটি।
নিজের প্রতি সদয় হওয়া: ভেতরের সমালোচকের বদলে
আত্ম-সমালোচনার উল্টো দিকটা হলো নিজের প্রতি সদয় হওয়া (self-compassion), অর্থাৎ নিজের প্রতি ঠিক ততটুকু সদয়, ধৈর্যশীল ও বোঝাপড়াপূর্ণ হওয়া, যতটা আমরা একজন প্রিয় বন্ধুর প্রতি হতাম। এটি নিজেকে ছাড় দেওয়া বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং এর অর্থ, ভুল স্বীকার করেও নিজেকে মানুষ হিসেবে দেখা এবং সেই ভুল থেকে শেখার জন্য নিজেকে একটা নিরাপদ পরিসর দেওয়া।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, নিয়মিত নিজের প্রতি সদয় হওয়ার চর্চায় ভেতরের কঠোর কণ্ঠস্বরটি ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে। এটি রাতারাতি বদলায় না, তবে চর্চার সঙ্গে সঙ্গে নিজের সঙ্গে কথা বলার সুরটাই বদলাতে শুরু করে।
নিজের প্রতি সদয় হওয়ার তিনটি দিক
- সদয়তা: কষ্টের মুহূর্তে নিজেকে বকা দেওয়ার বদলে সান্ত্বনা দেওয়া, যেমনটা আপনি বন্ধুকে দিতেন।
- সাধারণ মানবতা: মনে রাখা যে ভুল করা, ব্যর্থ হওয়া বা কষ্ট পাওয়া মানুষমাত্রেরই অভিজ্ঞতা, শুধু আমার একার নয়।
- এই মুহূর্তে মন রাখা (mindfulness): কষ্টের অনুভূতিকে অস্বীকার না করা, আবার অতিরঞ্জিতও না করা, বরং সেটিকে যেমন আছে তেমনভাবে খেয়াল করা।
নিজের প্রতি সদয় হওয়ার বাস্তব কিছু উপায়
নিজের প্রতি সদয় হওয়া একটা দক্ষতা, আর যেকোনো দক্ষতার মতো এটিও চর্চায় গড়ে ওঠে। নিচের অভ্যাসগুলো ছোট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে আয়ত্ত করা যায়।
১. ভেতরের কণ্ঠস্বরকে নাম দিন ও ধরুন
যখনই মনে হবে, তুমি কিছুই পারো না, থামুন এবং লক্ষ করুন যে এটি সেই পুরনো সমালোচকের কণ্ঠ, চূড়ান্ত সত্য নয়। কণ্ঠস্বরটিকে চিনে ফেলাটাই তার শক্তি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। অনেকে এই কণ্ঠস্বরকে মনে মনে একটা নাম দিয়ে দেন, যাতে বোঝা যায় এটি আমি নই, এটি আমার ভেতরে বাসা বাঁধা একটা পুরনো অভ্যাস।
২. বন্ধুর মাপকাঠি প্রশ্নটি করুন
নিজের সঙ্গে কঠোর হওয়ার মুহূর্তে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আমার প্রিয় বন্ধু ঠিক এই ভুলটা করলে আমি তাকে কী বলতাম। প্রায় সবসময় দেখা যাবে, বন্ধুর জন্য আমাদের ভাষা অনেক নরম ও উদার। সেই একই উদারতা নিজের জন্য প্রয়োগ করার অভ্যাস গড়ুন।
৩. চিন্তাকে ভারসাম্যপূর্ণ করে দেখুন
কঠোর চিন্তা প্রায়ই একপাক্ষিক। আমি পুরো উপস্থাপনাটা নষ্ট করে ফেলেছি, এই চিন্তার পাশে বাস্তবতা বসান, একটা অংশ ভালো হয়নি, তবে বাকিটা ঠিকঠাক গেছে এবং পরেরবার আমি এই জায়গাটা গুছিয়ে নেব। এটি নিজেকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়া নয়, বরং পুরো ছবিটা দেখা।
৪. দেহকে সদয়তার সংকেত দিন
কষ্টের মুহূর্তে বুকের ওপর হাত রাখা, ধীরে কয়েকবার লম্বা শ্বাস নেওয়া কিংবা নিজেকে মনে মনে বলা, এটা কঠিন সময়, তবে আমি এর ভেতর দিয়ে যেতে পারব, এসব ছোট সংকেত স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত হতে সাহায্য করে। শরীর ও মন আলাদা নয়, একটিকে শান্ত করলে অন্যটিও সাড়া দেয়।
৫. নিজের প্রতি সদয় থাকার একটা ছোট ডায়েরি রাখুন
প্রতিদিন রাতে দুই তিন লাইনে লিখুন, আজ নিজেকে কোথায় ছোট ভেবেছি, আর সেই মুহূর্তে একজন সদয় বন্ধু আমাকে কী বলত। এই লেখার অভ্যাস ধীরে ধীরে মস্তিষ্ককে নতুন, নরম একটা কণ্ঠস্বর শেখায়।
৬. তুলনার উৎস কমিয়ে আনুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব অ্যাকাউন্ট বা কনটেন্ট নিয়মিত আপনার ভেতরে হীনম্মন্যতা জাগায়, সেগুলোর সংস্পর্শ সচেতনভাবে কমান। মনে রাখবেন, অন্যের সাজানো মুহূর্তের সঙ্গে নিজের এলোমেলো বাস্তবতার তুলনা কখনোই ন্যায্য হয় না।
এখনই চেষ্টা করুন: এক মিনিট নিজের প্রতি সদয় হোন
চাইলে বুকে একটা হাত রাখুন। প্রতিটা লাইন ধীরে, মনে মনে পড়ুন।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি
আমাদের সমাজে অনেকেই আত্মিক শান্তির জন্য ধর্মচর্চা, প্রার্থনা বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের ওপর নির্ভর করেন, আর এতে মনে শান্তি পাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। ক্ষমা, ধৈর্য ও নিজের প্রতি করুণার শিক্ষা বহু বিশ্বাসেই আছে, যা নিজের প্রতি সদয় হওয়ার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়। বিশ্বাস আর থেরাপি একসাথে চলতে পারে; একটা আরেকটার জায়গা নেয় না। আধ্যাত্মিক শান্তি যেমন মূল্যবান, তেমনি প্রয়োজনের সময় একজন প্রশিক্ষিত সাইকোলজিস্টের সহায়তা নেওয়াও সমান জরুরি।
আত্ম-সমালোচনা ও বিষণ্নতার সম্পর্ক
যখন ভেতরের সমালোচক দিনের পর দিন প্রবল হয়ে ওঠে এবং সঙ্গে যোগ হয় গভীর অবসাদ, আগ্রহহীনতা, ঘুম ও খাওয়ার পরিবর্তন কিংবা নিজেকে বোঝা মনে করার অনুভূতি, তখন বিষয়টি নিছক অভ্যাসের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা ভেবে চেপে না রেখে বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। বিষণ্নতার লক্ষণ, কারণ ও যত্ন নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন বিষণ্নতা নিয়ে আমাদের এই বিস্তৃত লেখাটি। মনে রাখবেন, ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য চিকিৎসকের সাথে নিতে হবে, নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।
কখন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেবেন
নিজে থেকে কিছু অভ্যাস বদলানো সম্ভব, তবে কিছু ক্ষেত্রে একজন কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্টের সাহায্যে পরিবর্তনটা অনেক তাড়াতাড়ি আর গভীরভাবে আসে। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখলে সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবুন।
- আত্ম-সমালোচনা এতটাই প্রবল যে তা প্রতিদিনের কাজ, ঘুম বা সম্পর্ককে ব্যাহত করছে।
- বারবার মনে হচ্ছে আপনি মূল্যহীন, ব্যর্থ কিংবা অন্যদের জন্য বোঝা।
- দীর্ঘদিন ধরে অবসাদ, অ্যাংজাইটি বা আগ্রহহীনতা রয়ে গেছে।
- নিজে অনেক চেষ্টা করেও ভেতরের কঠোর কণ্ঠস্বর থেকে বেরোতে পারছেন না।
- ছোটবেলার কোনো অভিজ্ঞতা বা ট্রমা বর্তমানকে প্রভাবিত করছে বলে মনে হচ্ছে।
একজন সাইকোলজিস্ট আপনার ভেতরের এই কঠোর কণ্ঠটা কোথা থেকে এলো তা খুঁজে বের করতে, চিন্তার ধরন বুঝতে এবং নিজের প্রতি সদয় হওয়ার বাস্তব কৌশল শিখতে সাহায্য করেন। এটি একা লড়াই করার বিষয় নয়, সঠিক সঙ্গ পেলে পথটা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।
নিজের প্রতি সদয় হওয়া শুরু হোক আজ থেকেই
ভেতরের কঠোর সমালোচক একদিনে চুপ হয়ে যাবে না, কিন্তু প্রতিটি ছোট সদয় সিদ্ধান্তে তার কণ্ঠ একটু একটু করে নরম হবে। নিজের প্রতি সদয় হওয়া মানে নিজেকে ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং নিজেকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া। আপনি যেমন আছেন, সেই আপনিটাও যথেষ্ট, এই বিশ্বাস থেকেই সত্যিকারের পরিবর্তন শুরু হয়।
চাম ওয়েলনেসে আমাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলররা সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে আপনার পাশে থাকতে প্রস্তুত। আমরা অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সশরীরে ঢাকায় সেবা দিয়ে থাকি, তাই আপনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা সিলেট, যেখানেই থাকুন না কেন সহায়তা হাতের নাগালেই। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে হ্রাসকৃত ফি-এর সুবিধা। আজই একটি সেশন নিতে দেখুন আমাদের কাউন্সেলিং সহায়তা পেজ, কিংবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন এবং নিজের প্রতি সদয় হওয়ার প্রথম ধাপটি ফেলুন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
আত্ম-সমালোচনা কি সবসময় খারাপ?
না। সীমিত ও গঠনমূলক আত্ম-পর্যালোচনা আমাদের ভুল শুধরাতে ও উন্নত হতে সাহায্য করে। সমস্যা হয় তখনই, যখন সমালোচনা কঠোর, একপাক্ষিক ও নিরন্তর হয়ে গোটা মানুষটিকেই দোষারোপ করে এবং মনোবল ভেঙে দেয়। সুস্থ পর্যালোচনা নির্দিষ্ট আচরণকে ঘিরে থাকে, কঠোর আত্ম-সমালোচনা পুরো ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করে।
নিজের প্রতি কঠোরতা কি ছোটবেলা থেকে আসে?
প্রায়ই তাই। আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ভেতরের সমালোচকের কণ্ঠস্বর অনেক সময় ছোটবেলায় শোনা তুলনা, সমালোচনা বা উচ্চ প্রত্যাশা থেকেই তৈরি হয়। বড় হয়ে আমরা প্রায়ই সেই একই সুরে নিজের সঙ্গে কথা বলি। ভালো খবর হলো, এটি শেখা অভ্যাস, তাই চর্চার মাধ্যমে বদলানোও যায়।
নিজের প্রতি সদয় হলে কি অলস হয়ে যাব?
না, বরং উল্টোটা ঘটে। কঠোর সমালোচনা ভয় ও অবসাদ বাড়ায়, যা মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে তোলে। নিজের প্রতি সদয় হলে মনে একটা নিরাপদ জায়গা তৈরি হয়, যেখানে ভুল থেকে শেখা ও নতুন করে চেষ্টা করা সহজ হয়। এটি দায়িত্ব এড়ানো নয়, বরং ভুল স্বীকার করেও নিজের প্রতি সদয় থাকার অভ্যাস।
কখন বুঝব যে সাইকোলজিস্টের সাহায্য দরকার?
যখন আত্ম-সমালোচনা এতটাই প্রবল হয় যে তা প্রতিদিনের কাজ, ঘুম বা সম্পর্ককে ব্যাহত করে, কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অবসাদ, অ্যাংজাইটি বা নিজেকে মূল্যহীন ভাবার অনুভূতি থাকে, তখন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া উচিত।
চাম ওয়েলনেসের সেবা কি ঢাকার বাইরে থেকেও নেওয়া যায়?
হ্যাঁ। চাম ওয়েলনেস অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সশরীরে ঢাকায় গোপনীয় কাউন্সেলিং সহায়তা দেয়। তাই চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ যেকোনো স্থান থেকে আপনি অনলাইনে সেশন নিতে পারেন। শিক্ষার্থীদের জন্য হ্রাসকৃত ফি-এর সুবিধাও রয়েছে।
How this article was made
- Written by
- Meghoboti Salma, Assistant Clinical Psychologist
- Clinically reviewed by
- Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist, BCPS member
- Last updated
- September 27, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and reviewed by a senior clinical psychologist. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Talk to our psychologists
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.






