সিজোফ্রেনিয়া কি? লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

সিজোফ্রেনিয়া হলো একটি গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ, যেখানে মানুষের চিন্তা, অনুভূতি আর বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসে। রোগী এমন কিছু শুনতে বা দেখতে পারেন যা অন্যরা পান না, এমন কিছু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে পারেন যা সত্য নয়, আর ধীরে ধীরে কাজ, পড়াশোনা ও মানুষ থেকে সরে যেতে পারেন। এটা “পাগলামি” বা দুর্বল চরিত্রের ব্যাপার না, আর এটা “দ্বৈত ব্যক্তিত্ব” (split personality) ও না। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে পৃথিবীতে প্রায় প্রতি ৩০০ জনে ১ জন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত (WHO)। সাধারণত টিনএজের শেষ দিক থেকে ত্রিশের শুরুর মধ্যে এটা শুরু হয়, ছেলেদের ক্ষেত্রে একটু আগে।
সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ
লক্ষণগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১. বাস্তবতার সাথে সংযোগ কমে যাওয়া
- হ্যালুসিনেশন: কেউ নেই অথচ কানে কথা শোনা, কেউ যেন গালি দিচ্ছে, হুকুম দিচ্ছে, বা নিজের কাজের বর্ণনা দিচ্ছে। কখনো কিছু দেখা যা অন্যরা দেখেন না।
- ভ্রান্ত বিশ্বাস (ডিলিউশন): “সবাই আমার ক্ষতি করতে চায়”, “আমার খাবারে কেউ কিছু মেশাচ্ছে”, “টিভিতে আমাকে নিয়ে কথা বলছে”, “আমার চিন্তা কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে”। যুক্তি দিয়ে বোঝালেও বিশ্বাস বদলায় না।
- এলোমেলো কথা ও আচরণ: এক কথা থেকে অসংলগ্নভাবে আরেক কথায় চলে যাওয়া, অদ্ভুত আচরণ, পরিস্থিতির সাথে না মেলা হাসি বা রাগ।
২. ভেতরের শক্তি কমে যাওয়া
- মানুষ থেকে দূরে সরে যাওয়া, ঘরবন্দি হয়ে থাকা।
- অনুভূতি কম দেখানো, মুখে ভাব কম, কথা কমে যাওয়া।
- গোসল, খাওয়া, পরিচ্ছন্নতায় আগ্রহ হারানো।
- কাজ বা পড়াশোনা শুরু করতে না পারা, সবকিছুতে অনীহা।
৩. চিন্তা ও মনোযোগের সমস্যা
- মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, ভুলে যাওয়া।
- পরিকল্পনা করা আর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যাওয়া।
অনেক পরিবারে প্রথমে চোখে পড়ে দ্বিতীয় ধরনের লক্ষণগুলো: ছেলে বা মেয়েটা হঠাৎ চুপচাপ, ঘর থেকে বের হয় না, রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে, রাতে জেগে থাকে। এগুলোকে অনেকেই অলসতা বা “বয়সের দোষ” ভেবে মাস বা বছর পার করে দেন।
প্রাথমিক সতর্ক সংকেত
পুরোপুরি সিজোফ্রেনিয়া দেখা দেওয়ার আগে প্রায়ই কয়েক মাস ধরে ছোট ছোট পরিবর্তন আসে। এগুলো চোখে পড়লে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ দেখানো ভালো:
- হঠাৎ বন্ধুবান্ধব আর পরিবার থেকে সরে যাওয়া।
- ঘুমের বড় পরিবর্তন, রাত জেগে থাকা।
- অহেতুক সন্দেহ, মানুষকে বিশ্বাস করতে না পারা।
- অদ্ভুত চিন্তা বা কথা, যা আগে কখনো ছিল না।
- পড়াশোনা বা কাজে হঠাৎ বড় পতন।
সিজোফ্রেনিয়া কেন হয়?
একটা মাত্র কারণে সিজোফ্রেনিয়া হয় না। গবেষণা বলে কয়েকটা জিনিস একসাথে কাজ করে:
- বংশগত ঝুঁকি: পরিবারে কারো থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, তবে তার মানে এই না যে নিশ্চিতভাবে হবে।
- মস্তিষ্কের গঠন ও রাসায়নিক পরিবর্তন।
- মাদক: বিশেষ করে কম বয়সে নিয়মিত গাঁজা বা ইয়াবা সেবন ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে রোগটা শুরু করিয়ে দিতে পারে বা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- বড় মানসিক চাপ বা আঘাত, যা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মধ্যে রোগ প্রকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
সিজোফ্রেনিয়া বাবা-মায়ের ভুল লালনপালন, দুর্বল ঈমান বা কারো বদনজরের কারণে হয় না। এই ভুল ধারণাগুলো পরিবারকে অপরাধবোধে ফেলে আর চিকিৎসায় দেরি করায়।
প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
- “এটা জিনের আছর”: আমাদের দেশে অনেক পরিবার প্রথমে কবিরাজ বা হুজুরের কাছে যান। বিশ্বাস রাখা যার যার ব্যাপার, কিন্তু কানে কথা শোনা, অদ্ভুত সন্দেহ বা হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া চিকিৎসাযোগ্য উপসর্গ হতে পারে। দোয়া আর চিকিৎসা একসাথে চলতে পারে। মারধর, শিকল দিয়ে বাঁধা বা না খাইয়ে রাখার মতো চর্চা রোগীর জন্য সরাসরি ক্ষতিকর।
- “সিজোফ্রেনিয়া মানে দুইটা ব্যক্তিত্ব”: না। দ্বৈত ব্যক্তিত্ব (dissociative identity disorder) সম্পূর্ণ আলাদা একটা অবস্থা।
- “এরা বিপজ্জনক”: বেশিরভাগ রোগী সহিংস নন; বরং তারা নিজেরাই অন্যের হাতে হয়রানির শিকার হন বেশি।
- “এটা কখনো ভালো হয় না”: ভুল। নিয়মিত চিকিৎসায় অনেকে পড়াশোনা, চাকরি, সংসার চালিয়ে যান।
সিজোফ্রেনিয়া কিভাবে নির্ণয় করা হয়
সিজোফ্রেনিয়া ধরার জন্য কোনো একটা ব্লাড টেস্ট বা স্ক্যান নেই। সাইকিয়াট্রিস্ট মূলত রোগী আর পরিবারের সাথে বিস্তারিত কথা বলে বুঝতে চান, লক্ষণগুলো কবে শুরু হলো, কতদিন ধরে আছে আর দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে। সাধারণত কয়েক মাস ধরে লক্ষণ থাকলে তবেই সিজোফ্রেনিয়া বলা হয়।
তবে কিছু টেস্ট করা হতে পারে অন্য কারণ বাদ দেওয়ার জন্য। যেমন থাইরয়েড, মাদক সেবনের প্রভাব, মাথায় আঘাত, খিঁচুনি বা মস্তিষ্কের অন্য কোনো রোগ। কারণ এগুলোর অনেকগুলোই দেখতে একই রকম লক্ষণ তৈরি করতে পারে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে পরিবার হিসেবে একটা কাগজে লিখে নিন: প্রথম কোন পরিবর্তনটা চোখে পড়েছিল, ঘুম আর খাওয়া কেমন, কোনো মাদক বা ঔষধের ইতিহাস আছে কিনা, আর পরিবারে কারো এমন হয়েছিল কিনা। এতে প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টেই অনেক সময় বাঁচে।
চিকিৎসা: কী কী লাগে
সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসায় সাধারণত একটা টিম একসাথে কাজ করে।
- সাইকিয়াট্রিস্ট (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ): ওষুধ (অ্যান্টিসাইকোটিক) দেন ও নিয়মিত ফলোআপ করেন। ওষুধই এখানে চিকিৎসার ভিত্তি। ভালো লাগলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না; এতে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি অনেক বেশি।
- সাইকোলজিস্ট: সাইকোথেরাপি (যেমন সাইকোসিসের জন্য CBT), দৈনন্দিন রুটিন, চাপ সামলানো আর রোগ ফিরে আসার প্রাথমিক লক্ষণ চেনায় সাহায্য করেন।
- পরিবার: ফ্যামিলি সাইকোএডুকেশন, অর্থাৎ পরিবারকে রোগ বোঝানো, ঘরে চাপ কমানো আর কীভাবে কথা বলতে হয় শেখানো। গবেষণায় এতে রোগ ফিরে আসা কমে।
সময় এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা ছাড়া যত বেশি দিন কাটে, দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল তত খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (British Journal of Psychiatry, 2014)। তাই সন্দেহ হলেই দেখানো ভালো, নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে।
সিজোফ্রেনিয়ার ঔষধ: অ্যান্টিসাইকোটিক নিয়ে যা জানা দরকার
সিজোফ্রেনিয়া রোগের ঔষধ কি, এটা পরিবারের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা। মূল ঔষধের নাম অ্যান্টিসাইকোটিক। এগুলো হ্যালুসিনেশন, সন্দেহ আর এলোমেলো চিন্তা কমায়। পরিচিত কয়েকটা জেনেরিক নাম: risperidone, olanzapine, aripiprazole, quetiapine। কোনটা দেওয়া হবে, কত ডোজে, সেটা সাইকিয়াট্রিস্ট রোগীকে দেখে ঠিক করেন।
- মাসিক ইনজেকশন: রোগী নিয়মিত ট্যাবলেট খেতে না চাইলে বা ভুলে গেলে, প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহে একটা ইনজেকশনের ব্যবস্থাও আছে। অনেক পরিবারের জন্য এটা বড় স্বস্তি।
- Clozapine: দুটো আলাদা ঔষধে কাজ না হলে এটা দেওয়া হয়। এটা খুব কার্যকর, তবে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা লাগে।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ওজন বাড়া, ঘুম ঘুম ভাব, শরীর শক্ত লাগা বা হাত কাঁপা হতে পারে। এগুলো চিকিৎসককে বললে প্রায়ই ডোজ বা ঔষধ বদলে কমানো যায়।
সবচেয়ে জরুরি কথা: ভালো হয়ে গেছে মনে করে ঔষধ বন্ধ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ আবার ফিরে আসে, আর প্রতিবার ফিরে আসা আগের চেয়ে কঠিন হতে পারে। ঔষধ কমাতে বা বন্ধ করতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ধীরে ধীরে করুন। ঔষধের পাশাপাশি পরিবারের জন্য সাইকোএডুকেশন আর রোগীর জন্য থেরাপি আবার অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আরও কমায়।
রোগ ফিরে আসার আগাম লক্ষণ
চিকিৎসায় ভালো থাকার পরও কখনো কখনো রোগ ফিরে আসতে পারে, বিশেষ করে ঔষধ হঠাৎ বন্ধ করলে বা বড় কোনো চাপের পর। সাধারণত বড় ধাক্কার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ছোট ছোট সংকেত দেখা যায়:
- ঘুম কমে যাওয়া বা উল্টাপাল্টা হয়ে যাওয়া।
- আবার আগের মতো সন্দেহ, “সবাই আমাকে নিয়ে কথা বলছে” ধরনের অনুভূতি।
- খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা, বা হঠাৎ একদম চুপ হয়ে যাওয়া।
- ঔষধ খেতে অনীহা, ফলোআপ এড়িয়ে যাওয়া।
- নিজের যত্ন, গোসল বা খাওয়ায় আবার আগ্রহ কমে যাওয়া।
রোগী ভালো থাকা অবস্থাতেই তার নিজের আগাম লক্ষণগুলোর একটা লিস্ট বানিয়ে রাখুন। এগুলো দেখা দিলে পরের ফলোআপের অপেক্ষা না করে তখনই সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন। আগে ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াই অনেক সময় সামলে নেওয়া যায়।
পরিবার কীভাবে পাশে থাকবেন
- তর্ক করবেন না, অস্বীকারও করবেন না। “এগুলো তোমার কল্পনা” বলে ঝগড়া না করে বলুন, “আমি বুঝতে পারছি তুমি ভয় পাচ্ছ। চলো একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলি।”
- শান্ত ও সহজ ভাষায় কথা বলুন। একসাথে অনেক মানুষ, চিৎকার আর উপদেশ রোগীকে আরো অস্থির করে।
- ওষুধ আর ফলোআপের রুটিনে সাহায্য করুন।
- নিজের যত্নও নিন। দীর্ঘদিন সেবা দিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরাও ক্লান্ত আর বিষণ্ণ হয়ে পড়েন। তাদের জন্যও কাউন্সেলিং আছে।
কখন দ্রুত সাহায্য নেবেন
যদি রোগী নিজের বা অন্যের ক্ষতি করার কথা বলেন, কানে শোনা কোনো কণ্ঠ তাকে কিছু করার হুকুম দেয়, খাওয়া-ঘুম একেবারে বন্ধ করে দেন, বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে দেরি না করে ৯৯৯-এ কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
অন্য সব ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো। চাম ওয়েলনেসে BMDC নিবন্ধিত সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট আছেন, যারা অনলাইনে সারা দেশে বা ঢাকায় সরাসরি দেখেন। সাইকোলজিস্ট আর সাইকিয়াট্রিস্টের পার্থক্য জানতে পড়ুন সাইকোলজিস্ট নাকি সাইকিয়াট্রিস্ট। প্রস্তুত হলে সেশন বুক করুন; পরিবারের কেউ রোগীর হয়েও যোগাযোগ করতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
সিজোফ্রেনিয়া কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?
অনেকে নিয়মিত চিকিৎসায় লক্ষণমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন, তবে অনেকের দীর্ঘদিন ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। ডায়াবেটিসের মতো, নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল লক্ষ্য। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু, ফল তত ভালো।
সিজোফ্রেনিয়া কি জিনের আছর?
না। এটা মস্তিষ্কের একটা চিকিৎসাযোগ্য রোগ। ধর্মীয় বিশ্বাস রাখতে কোনো বাধা নেই, তবে চিকিৎসা বাদ দিলে রোগী কষ্ট পান আর রোগ জটিল হয়।
সিজোফ্রেনিয়ার রোগী কি বিয়ে করতে পারেন?
রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনেকেই বিয়ে করে সংসার করেন। তবে রোগ গোপন রেখে বিয়ে দেওয়া ঠিক না, আর বিয়েকে চিকিৎসার বিকল্প ভাবা যাবে না। সিদ্ধান্তের আগে চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা কথা বলুন।
সাইকিয়াট্রিস্ট নাকি সাইকোলজিস্ট, কার কাছে যাব?
প্রথমে সাইকিয়াট্রিস্ট, কারণ ওষুধ লাগবে। পাশাপাশি সাইকোলজিস্টের থেরাপি আর ফ্যামিলি কাউন্সেলিং চিকিৎসাকে আরো কার্যকর করে।
রোগী চিকিৎসা নিতে রাজি না হলে কী করব?
জোর না করে ভরসার একজন মানুষের মাধ্যমে কথা বলুন। ঘুম না হওয়া বা দুশ্চিন্তার মতো যে সমস্যাগুলো রোগী নিজে স্বীকার করেন, সেগুলোর কথা বলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। পরিবার নিজেও আগে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে পরামর্শ নিতে পারেন।
গাঁজা বা ইয়াবা থেকে কি সিজোফ্রেনিয়া হয়?
মাদক সবার ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়া তৈরি করে না, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কম বয়সে নিয়মিত সেবনে, রোগ শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং চিকিৎসাকে কঠিন করে।
সিজোফ্রেনিয়া কি বংশগত?
বংশে, বিশেষ করে বাবা-মা বা ভাইবোনের কারো থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বেশি। কিন্তু ঝুঁকি বেশি মানেই রোগ হবে, এমন না। এমন পরিবারের বেশিরভাগ মানুষেরই কখনো সিজোফ্রেনিয়া হয় না। পরিবারে ইতিহাস থাকলে কম বয়সে গাঁজা বা অন্য মাদক থেকে দূরে থাকা আর প্রাথমিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত দেখানো সবচেয়ে কাজের সাবধানতা।
সিজোফ্রেনিয়া কত প্রকার?
আগে সিজোফ্রেনিয়াকে প্যারানয়েড, ক্যাটাটোনিক, হেবেফ্রেনিক (ডিসঅর্গানাইজড) ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হতো। এখন আন্তর্জাতিক নির্ণয় পদ্ধতিতে (DSM-5, ICD-11) এই ভাগগুলো আর ব্যবহার করা হয় না, কারণ একই মানুষের মধ্যে সময়ের সাথে লক্ষণ বদলায়। এখন লক্ষণগুলো আলাদা করে দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়।
সিজোফ্রেনিয়া নামটা কে দিয়েছেন?
সুইস সাইকিয়াট্রিস্ট অয়গেন ব্লয়লার (Eugen Bleuler) ১৯০৮ সালে “সিজোফ্রেনিয়া” নামটা দেন। এর আগে জার্মান সাইকিয়াট্রিস্ট এমিল ক্রেপেলিন রোগটাকে “ডিমেনশিয়া প্রিকক্স” নামে বর্ণনা করেছিলেন।
সিজোফ্রেনিয়ার ঔষধ কি সারাজীবন খেতে হয়?
সবার না। প্রথমবার অসুস্থ হওয়ার পর সাধারণত অন্তত ১ থেকে ২ বছর ঔষধ চালিয়ে যেতে বলা হয়। বারবার ফিরে এলে লম্বা সময় লাগতে পারে। কতদিন খাবেন, সেটা চিকিৎসক আপনার অবস্থা দেখে ঠিক করবেন।
How this article was made
- Written by
- Chum Wellness editorial team
- Clinically reviewed by
- Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist, BCPS member
- Last updated
- October 7, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and reviewed by a senior clinical psychologist. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.
Psychologists & psychiatrists who help with bipolar & psychosis
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.






