পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: প্রসবের পর মন খারাপ কখন চিন্তার কারণ
- বাংলাদেশে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কতটা সাধারণ
- বেবি ব্লুজ নাকি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন
- পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের লক্ষণ
- কেন হয়
- চিকিৎসা কিভাবে হয়
- গর্ভাবস্থাতেই আগে থেকে প্রস্তুতি
- পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়: মা নিজে যা করতে পারেন
- পরিবার যা করতে পারে
- পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয়
- সিজার আর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: সম্পর্ক কতটা
- পোস্টপার্টাম সাইকোসিস: যেটা জরুরি অবস্থা
- কখন জরুরি সাহায্য নেবেন
- সাধারণ জিজ্ঞাসা

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হলো সন্তান জন্মের পর মায়ের ডিপ্রেশন, যেখানে মন খারাপ, কান্না, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি, অপরাধবোধ আর বাচ্চার সাথে টান অনুভব না করার মতো কষ্ট দুই সপ্তাহের বেশি থাকে এবং দিন দিন বাড়ে। প্রসবের পর প্রথম কয়েকদিনের হালকা মন খারাপ (“বেবি ব্লুজ”) সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজেই কেটে যায়, কিন্তু পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন চিকিৎসা ছাড়া সহজে যায় না। এটা খারাপ মা হওয়ার লক্ষণ না, এটা একটা চিকিৎসাযোগ্য অসুখ, আর চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ মা ভালো হয়ে যান।
নতুন মায়েরা অনেক সময় চুপচাপ এমন কথা ভাবেন: “সবাই বলছে খুশি থাকতে, অথচ আমার কিছুই ভালো লাগছে না”, “বাচ্চাটার দিকে তাকালে মায়া লাগার কথা, কিন্তু আমার শুধু ভয় লাগে”, “আমি মনে হয় ভালো মা হতে পারব না”। আপনি যদি এভাবে ভাবেন, জেনে রাখুন আপনি একা না।
বাংলাদেশে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কতটা সাধারণ
বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা একসাথে বিশ্লেষণ করে ২০২৫ সালের একটা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রসব-পরবর্তী সময়ে প্রায় প্রতি চারজন মায়ের একজনের মধ্যে ডিপ্রেশনের লক্ষণ পাওয়া যায় (গড়ে প্রায় ২৮%), আর সময়ের সাথে এই হার বাড়ছে (Heliyon, 2025)। অর্থাৎ এটা মোটেও বিরল কিছু না। তবু খুব কম মা সাহায্য পান, কারণ পরিবার প্রায়ই বলে “সব মায়েরই এমন হয়”, “চল্লিশ দিন গেলে ঠিক হয়ে যাবে”।
বেবি ব্লুজ নাকি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন
- বেবি ব্লুজ: প্রসবের পর প্রথম কয়েকদিনে হঠাৎ কান্না পাওয়া, মেজাজ ওঠানামা, খিটখিটে লাগা। খুব সাধারণ, আর সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজেই চলে যায় (NHS)।
- পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: মন খারাপ দুই সপ্তাহের পরও থাকে বা বাড়ে, দৈনন্দিন কাজ আর বাচ্চার যত্ন নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এটা গর্ভাবস্থাতেই, প্রসবের পরপর, অথবা প্রসবের এক বছরের মধ্যে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের লক্ষণ
- প্রায় সারাক্ষণ মন খারাপ, কান্না, শূন্য লাগা।
- কোনো কিছুতেই আনন্দ না পাওয়া, এমনকি বাচ্চার সাথেও না।
- নিজেকে খারাপ মা, অপদার্থ বা দোষী মনে হওয়া।
- সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা আর ভয়, বিশেষ করে বাচ্চার কিছু হয়ে যাবে এমন ভয়।
- বাচ্চা ঘুমালেও নিজের ঘুম না আসা, অথবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি।
- খিটখিটে মেজাজ, অল্পতে রেগে যাওয়া।
- মনোযোগ দিতে বা সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।
- বাচ্চার প্রতি টান অনুভব না করা, বা দূরে থাকতে ইচ্ছা করা।
- নিজের ক্ষতি করার বা বাচ্চার ক্ষতি হয়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর চিন্তা মাথায় আসা।
শেষ লক্ষণটা নিয়ে অনেক মা লজ্জায় কাউকে কিছু বলেন না। এমন চিন্তা আসলে দেরি না করে সাহায্য নিন। এটা আপনার দোষ না, এটা অসুখের লক্ষণ।
কেন হয়
একটা কারণে না, অনেকগুলো মিলে হয়। প্রসবের পর শরীরে হরমোনের বড় ওঠানামা, ঘুমের অভাব, কঠিন বা জটিল প্রসব, আগে ডিপ্রেশন বা anxiety থাকা, সংসারে অশান্তি বা স্বামীর সহযোগিতা না পাওয়া, আর্থিক চাপ, সবই ঝুঁকি বাড়ায়। আমাদের দেশে বাড়তি কিছু চাপও আছে: শ্বশুরবাড়ির প্রত্যাশা, “ছেলে হলো না কেন” জাতীয় কথা, বুকের দুধ নিয়ে খোঁটা, আর মায়ের নিজের কষ্টের কথা বলার জায়গা না থাকা। বাবারাও সন্তান জন্মের পর ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন, এ নিয়ে পড়ুন নতুন বাবাদের ডিপ্রেশন (ইংরেজিতে)।
চিকিৎসা কিভাবে হয়
- কাউন্সেলিং ও থেরাপি: CBT-র মতো থেরাপি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভালো কাজ করে। অনলাইন সেশন হলে বাচ্চা রেখে বাইরে যাওয়ার ঝামেলাও থাকে না।
- ঔষধ: ডিপ্রেশন মাঝারি বা তীব্র হলে সাইকিয়াট্রিস্ট ঔষধ দিতে পারেন। NHS জানায়, অনেক antidepressant বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও নিরাপদ, তবে কোনটা আপনার জন্য ঠিক তা চিকিৎসকই ঠিক করবেন। নিজে থেকে কোনো ঔষধ শুরু বা বন্ধ করবেন না। বিস্তারিত পড়ুন: ডিপ্রেশনের ঔষধ: কখন লাগে।
- পরিবারের সহযোগিতা: রাতের কিছু সময় বাচ্চার দায়িত্ব অন্য কেউ নিলে মা অন্তত কয়েক ঘণ্টা টানা ঘুমাতে পারেন। এটা চিকিৎসারই অংশ।
চিকিৎসা নিলে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা ভালো হয়ে যায়।
গর্ভাবস্থাতেই আগে থেকে প্রস্তুতি
যাদের আগে ডিপ্রেশন বা anxiety হয়েছিল, আগের প্রসবের পর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হয়েছিল, বা পরিবারে মানসিক রোগের ইতিহাস আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। এমন হলে বাচ্চা হওয়ার পর সমস্যার জন্য অপেক্ষা না করে গর্ভাবস্থাতেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া যায়:
- গাইনি ডাক্তারকে আগের মানসিক অসুস্থতার কথা খোলাখুলি জানান, যাতে প্রসবের পর ফলোআপে মনের খবরও নেওয়া হয়।
- আগে কোনো ঔষধ খেয়ে থাকলে, গর্ভাবস্থায় আর বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি করবেন, সেটা সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে আগেই ঠিক করে নিন।
- প্রসবের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ রাতে কে বাচ্চা দেখবে, ঘরের কাজ কে সামলাবে, পরিবারের সাথে আগে থেকেই ভাগ করে নিন।
- যার সাথে মন খুলে কথা বলা যায়, এমন একজন মানুষ ঠিক করে রাখুন, আর তাকে বলুন কোন লক্ষণ দেখলে আপনাকে সাহায্য নিতে বলবে।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়: মা নিজে যা করতে পারেন
- কাউকে একজনকে বলুন। স্বামী, বোন, বান্ধবী, যার সাথে সহজ লাগে। মনের কথা চেপে রাখলে কষ্ট আরও ভারী হয়।
- ঘুমকে গুরুত্ব দিন। বাচ্চা ঘুমালে সংসারের কাজ না ধরে নিজেও একটু শুয়ে নিন।
- নিয়ম করে খান আর পানি খান। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরের বাড়তি যত্ন লাগে।
- “পারফেক্ট মা” হওয়ার চাপ ছাড়ুন। ঘর অগোছালো থাকলে বা সব নিয়ম মানতে না পারলে আপনি খারাপ মা হয়ে যান না।
এখনই চেষ্টা করুন: ছোট্ট একটা কাজ
সবকিছু ভারী লাগলে, যতটা ছোট ভাবছেন তার চেয়েও ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন। একটা বেছে নিন।
পরিবার যা করতে পারে
- “সব মায়েরই এমন হয়” বলে উড়িয়ে দেবেন না। মন দিয়ে শুনুন।
- মায়ের ঘুম আর খাওয়ার দিকে খেয়াল রাখুন, ঘরের কাজ ভাগ করে নিন।
- বাচ্চা বা বুকের দুধ নিয়ে সমালোচনা বন্ধ রাখুন।
- সাইকোলজিস্ট দেখাতে উৎসাহ দিন, দরকারে সাথে থাকুন।
পরিবারের কেউ ডিপ্রেশনে ভুগলে কিভাবে পাশে থাকবেন, তা নিয়ে আমাদের আলাদা গাইড আছে: প্রিয়জনের ডিপ্রেশন হলে কী করবেন।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয়
চিকিৎসা না হলে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন শুধু মায়ের মন খারাপেই আটকে থাকে না। এর প্রভাব পড়ে কয়েকটা জায়গায়:
- মায়ের শরীর: ঘুম না হওয়া, খেতে না পারা, সেলাই বা সিজারের পর সেরে উঠতে দেরি।
- বুকের দুধ আর বাচ্চার যত্ন: অনেক মা খাওয়াতে আগ্রহ হারান, বা নিজেকে “ব্যর্থ মা” ভাবতে থাকেন।
- বাচ্চার সাথে বন্ধন: বাচ্চাকে দেখে আনন্দ না লাগা, তারপর সেটা নিয়ে ভীষণ অপরাধবোধ।
- সংসার: স্বামীর সাথে দূরত্ব, আর শ্বশুরবাড়ি বা আত্মীয়দের কথায় আরও ভেঙে পড়া।
- পরের সন্তান: একবার হলে পরের প্রেগন্যান্সিতে আবার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করা ভালো।
ভালো খবর হলো, সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ মা পুরোপুরি সেরে ওঠেন, আর বাচ্চার সাথে সম্পর্কও স্বাভাবিক হয়ে যায়।
সিজার আর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন: সম্পর্ক কতটা
বাংলাদেশে অনেক বাচ্চার জন্ম হয় সিজারে, তাই এই প্রশ্নটা অনেক মা করেন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হঠাৎ জরুরি সিজার, কঠিন বা ভয়ের ডেলিভারি হলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে। কারণটা সিজার নিজে না। কারণ হলো এর সাথে আসা জিনিসগুলো: বেশি ব্যথা, সেরে উঠতে দেরি, বাচ্চা NICU-তে থাকা, আর “নরমাল ডেলিভারি করতে পারলাম না” এই অপরাধবোধ। কেউ কেউ আবার এটা নিয়ে খোঁটাও শোনেন। আপনার ডেলিভারি যেভাবেই হোক, আপনি কম মা নন। ডেলিভারির অভিজ্ঞতা যদি এখনো দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে আসে, সেটাও থেরাপিতে বলার মতো বিষয়।
পোস্টপার্টাম সাইকোসিস: যেটা জরুরি অবস্থা
প্রসবের পর মানসিক সমস্যার আরেকটা ধরন আছে, যেটা অনেক কম হয় কিন্তু অনেক বেশি গুরুতর: পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। সাধারণত প্রসবের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হঠাৎ শুরু হয়। মা এমন কিছু শুনতে বা দেখতে পারেন যা বাস্তবে নেই, অদ্ভুত সন্দেহ বা বিশ্বাস তৈরি হতে পারে, একেবারে ঘুম ছাড়া অস্থির থাকতে পারেন, বা খুব বিভ্রান্ত আচরণ করতে পারেন।
আমাদের দেশে অনেক সময় এটাকে “বাতাস লাগা” বা “জিনে ধরা” ভেবে ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট করা হয়। কিন্তু এটা মেডিকেল ইমার্জেন্সি, এবং দ্রুত চিকিৎসায় মায়েরা সাধারণত পুরোপুরি সেরে ওঠেন। এমন লক্ষণ দেখলে মা আর বাচ্চাকে একা রাখবেন না, সেদিনই সাইকিয়াট্রিস্ট বা হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ধরনের লক্ষণ নিয়ে পরিবারের জন্য আলাদা গাইড আছে: জিনে ধরার লক্ষণ, নাকি মানসিক রোগ।
কখন জরুরি সাহায্য নেবেন
মন খারাপ দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে বা বাড়তে থাকলে একজন সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন। আর যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতি করার চিন্তা আসে, অথবা মা হঠাৎ এমন কিছু শুনতে বা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যা বাস্তব না, খুব বিভ্রান্ত বা অস্থির হয়ে যান, তাহলে এটা জরুরি অবস্থা। দেরি না করে ৯৯৯-এ কল করুন অথবা সবচেয়ে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
চাম ওয়েলনেসে নারী সাইকোলজিস্টসহ লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট আর সাইকিয়াট্রিস্টরা পুরো গোপনীয়তা রেখে অনলাইনে সারা বাংলাদেশ থেকে, বা ঢাকায় সরাসরি সেশন দেন। জানুন আমাদের ডিপ্রেশনের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সম্পর্কে, অথবা একটা সেশন বুক করুন। ডিপ্রেশনের অন্যান্য ধরন নিয়ে পড়ুন types of depression গাইডে, আর ইংরেজিতে বিস্তারিত পাবেন Postpartum depression in Bangladesh লেখায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কি?
সন্তান জন্মের আগে বা পরে এক বছরের মধ্যে মায়ের যে ডিপ্রেশন হয়, সেটাই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। এতে দুই সপ্তাহের বেশি মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি আর অপরাধবোধ থাকে।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কতদিন থাকে?
চিকিৎসা নিলে সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা ভালো হয়ে যায়। চিকিৎসা না নিলে এটা অনেক দিন, এমনকি বছরও গড়াতে পারে।
বেবি ব্লুজ আর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের পার্থক্য কি?
বেবি ব্লুজ প্রসবের পর কয়েকদিনের হালকা মন খারাপ, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে চলে যায়। পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন দুই সপ্তাহের বেশি থাকে, গভীর হয় আর দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা করে।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কি ডিপ্রেশনের ঔষধ খাওয়া যায়?
অনেক antidepressant বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে কোনটা খাবেন তা অবশ্যই সাইকিয়াট্রিস্ট ঠিক করবেন, আর বুকের দুধ খাওয়ানোর কথা তাঁকে জানাবেন।
বাবাদেরও কি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হয়?
হ্যাঁ, নতুন বাবারাও সন্তান জন্মের পর ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন। তাঁদেরও সাহায্য নেওয়া দরকার।
সাহায্য চাইলে কি সবাই জেনে যাবে?
না। চাম ওয়েলনেসে প্রতিটা সেশন সম্পূর্ণ গোপন। আপনি চাইলে অনলাইনে ঘরে বসেই কথা বলতে পারেন।
মায়ের ডিপ্রেশন কি বাচ্চার উপর প্রভাব ফেলে?
চিকিৎসা না হলে ফেলতে পারে, কারণ ডিপ্রেশনে মায়ের পক্ষে বাচ্চার সাথে খেলা, কথা বলা আর সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে এটা ভয় পাওয়ার কারণ না, বরং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণ। মা ভালো হলে বাচ্চার সাথে সম্পর্কও স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে। নিজের যত্ন নেওয়া মানে বাচ্চারও যত্ন নেওয়া।
সিজারের পর কি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বেশি হয়?
জরুরি সিজার বা কঠিন ডেলিভারির পর ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ সিজার নিজে না, বরং ব্যথা, সেরে উঠতে দেরি, বাচ্চা NICU-তে থাকা আর অপরাধবোধ। ডেলিভারি যেভাবেই হোক, লক্ষণ দুই সপ্তাহের বেশি থাকলে সাহায্য নিন।
পোস্টমর্টেম ডিপ্রেশন কি?
অনেকে ভুল করে “পোস্টমর্টেম ডিপ্রেশন” লিখে খোঁজেন। আসল শব্দটা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন, মানে সন্তান জন্মের পরের ডিপ্রেশন। পোস্টমর্টেম মানে মৃত্যুর পরের পরীক্ষা, এর সাথে ডিপ্রেশনের সম্পর্ক নেই।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কি আপনা থেকে সেরে যায়?
বেবি ব্লুজ দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকে কমে যায়। কিন্তু পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন অনেক সময় মাসের পর মাস থাকে, আর চিকিৎসা না হলে বছরও গড়াতে পারে। অপেক্ষা না করে থেরাপি নিলে অনেক দ্রুত সেরে ওঠা যায়।
How this article was made
- Written by
- Chum Wellness editorial team
- Clinically reviewed by
- Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist, BCPS member
- Last updated
- October 7, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and reviewed by a senior clinical psychologist. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.
Psychologists who help with depression
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.






