Skip to content
মিথ বাস্টার · বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ৫টি ভুল ধারণা ও সত্য

নিজের মানসিক স্বাস্থ্যকে জানুন, সঠিক সাপোর্ট নিন। আমাদের চারপাশে প্রায়ই শোনা পাঁচটি ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন চাম ওয়েলনেসের সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্টরা, প্রতিটি এক মিনিটের কম সময়ে।

ভুল ধারণা ১

“বিয়ে, সন্তান বা কোথাও ঘুরে এলেই মন ভালো হয়ে যাবে”

সত্যটা হলো

পরিবেশ বদলালে কিছুদিন ভালো লাগতে পারে, কিন্তু চিকিৎসা না হওয়া বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তা নিজে থেকে চলে যায় না। নতুন সম্পর্ক আর দায়িত্বের চাপে অনেক সময় সমস্যা আরও বাড়ে, ব্যক্তিগত জীবনও কঠিন হয়ে যায়। আগে সমস্যাটা বুঝুন, তারপর বড় সিদ্ধান্ত নিন।

বলছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সামসুন নাহার

পুরো লেখা পড়ুন →
ভুল ধারণা ২

“বিয়ে দিলে নেশা বা সিজোফ্রেনিয়া সেরে যাবে”

সত্যটা হলো

বিয়ে কোনো চিকিৎসা নয়। নেশা, সিজোফ্রেনিয়া বা অন্য যেকোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় দরকার সঠিক মূল্যায়ন, চিকিৎসা আর নিয়মিত ফলোআপ। চিকিৎসা ছাড়া বিয়ে দিলে সমস্যা থেকেই যায়, আর ঝুঁকিতে পড়েন দুজন মানুষ ও দুটি পরিবার।

বলছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ইশরাত শারমিন রহমান

পুরো লেখা পড়ুন →
ভুল ধারণা ৩

“মনোযোগ কম মানেই ADHD”

সত্যটা হলো

দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, ঘুমের ঘাটতি বা মানসিক চাপেও মনোযোগ কমে যায়। একটা লক্ষণ দেখে নিজে নিজে ADHD ধরে নেবেন না। সঠিক মূল্যায়নে বোঝা যায় আসল কারণটা কী, আর সেই অনুযায়ী সাহায্য নেওয়া যায়।

বলছেন সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. শ্রীজনী আহমেদ

পুরো লেখা পড়ুন →
ভুল ধারণা ৪

“নতুন মায়ের কষ্ট শুধু অ্যাটেনশন চাওয়া”

সত্যটা হলো

সন্তান জন্মের পর অনেকদিন ধরে মন খারাপ, কান্না, ঘুম না আসা বা বাচ্চার থেকে দূরত্ব লাগা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। “আমরাও তো মা হয়েছি” বলে তুলনা না করে আগে শুনুন। সঠিক সাপোর্টে এটা ভালো হয়।

বলছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ফাহিয়া রহমান

পুরো লেখা পড়ুন →
ভুল ধারণা ৫

“মানসিক অসুস্থতা পরিবারের পাপের শাস্তি”

সত্যটা হলো

মানসিক অসুস্থতা কারও পাপের ফল নয়। বংশগত কারণ, মস্তিষ্কের কাজ, জীবনের চাপ আর অভিজ্ঞতা মিলে এটা হয়, আর যেকোনো পরিবারেই হতে পারে। দোষারোপ করলে মানুষ লজ্জায় সাহায্য চাইতে দেরি করেন।

বলছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সালমা পারভীন

পুরো লেখা পড়ুন →

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬

প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। ২০২৬ সালে দিনটি ছিল শনিবার, ১০ অক্টোবর।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য“Lived Experiences Heard: Real Voices, Real Change”
বাংলায়: অভিজ্ঞতার কথা শোনা হোক, বাস্তব কণ্ঠে আসুক বাস্তব পরিবর্তন। (ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ, WFMH)

এই ভাবনা থেকেই চাম ওয়েলনেসের “মিথ বাস্টার” ক্যাম্পেইন। যাঁরা প্রতিদিন মানুষের কষ্টের কথা শোনেন, সেই সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্টরা ভেঙেছেন সমাজে প্রচলিত পাঁচটি ভুল ধারণা, যাতে মানুষ অনুমানের বদলে সঠিক তথ্য জানেন এবং সময়মতো সাপোর্ট নেন।

কর্মক্ষেত্রের জন্য ইংরেজিতে বিস্তারিত: World Mental Health Day 2026

সাধারণ প্রশ্ন

মানসিক রোগ কি ভালো হয়?

হ্যাঁ। বেশিরভাগ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সঠিক চিকিৎসা ও সাপোর্টে ভালো হয়, বা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা বা ওসিডির মতো সমস্যায় সাইকোথেরাপি কার্যকর, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাইকিয়াট্রিস্টের দেওয়া ওষুধও লাগে। যত তাড়াতাড়ি সাহায্য নেওয়া যায়, ফল তত ভালো হয়।

মানসিক রোগ কি বংশগত?

পরিবারে কারও থাকলে কিছু মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে, কিন্তু বংশগত কারণ একাই রোগ তৈরি করে না। জীবনের চাপ, ছোটবেলার অভিজ্ঞতা, ঘুম, শারীরিক অসুস্থতা আর পরিবেশও বড় ভূমিকা রাখে। পরিবারে কারও থাকলেই আপনারও হবে, এমন নয়।

বিয়ে দিলে কি মানসিক রোগ ভালো হয়?

না। বিয়ে কোনো চিকিৎসা নয়। চিকিৎসা ছাড়া বিয়ে দিলে সমস্যা থেকেই যায়, অনেক সময় নতুন দায়িত্বের চাপে আরও বাড়ে, আর কষ্ট পান দুজন মানুষ ও দুটি পরিবার। আগে মূল্যায়ন ও চিকিৎসা, তারপর বড় সিদ্ধান্ত।

মানসিক রোগ কি পাপের শাস্তি?

না। মানসিক রোগ অন্য যেকোনো অসুখের মতোই একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, কারও পাপ বা পরিবারের দোষের ফল নয়। দোষারোপ করলে মানুষ লজ্জায় সাহায্য চাইতে দেরি করেন। সহানুভূতি নিয়ে পাশে থাকুন এবং একজন যোগ্য প্রফেশনালের সাহায্য নিন।

অনুমান নয়, সঠিক সাপোর্ট নিন

নিজের বা কাছের কারও মধ্যে এমন কিছু দেখছেন? একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্টের সাথে গোপনে কথা বলুন, অনলাইনে সারা বাংলাদেশ থেকে বা ঢাকায় সরাসরি।

আত্মহত্যার চিন্তা বা জরুরি অবস্থায় এখনই ৯৯৯-এ কল করুন।