মন খারাপ হলে শরীরের দিকেও নজর দিন: থাইরয়েড, ভিটামিন ডি ও রক্তস্বল্পতা
- মন খারাপ মানেই কি শুধু ‘মানসিক’ সমস্যা?
- থাইরয়েড ও মন খারাপ: শরীরের ভেতরে কী ঘটে
- ভিটামিন ডি ঘাটতি ও মন খারাপ
- রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি ও মনমরা ভাব
- আরও কিছু শারীরিক কারণ যা মন খারাপের মতো লাগে
- শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তারের পরামর্শে কী দেখা যেতে পারে
- শরীর নাকি মন, শুরু কোথায় করবেন?
- কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
- শেষ কথা: মন খারাপে শরীরটাও একবার দেখুন
- সাধারণ কিছু প্রশ্ন

শুধু থাইরয়েড নয়, ভিটামিন ডি ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা বা আরও কিছু শারীরিক অবস্থাও ঠিক বিষণ্নতার মতোই feel হতে পারে। তাই মন খারাপকে শুধু “মনের সমস্যা” ভেবে বসে না থেকে শরীরটাকেও একবার দেখা জরুরি। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করব কীভাবে শরীর ও মন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, আর ঢাকায় বা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে থেকে আপনি কখন শারীরিক পরীক্ষা এবং কখন একজন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন। Chum Wellness অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকায় এই দুই দিকই মাথায় রেখে কাউন্সেলিং দিয়ে থাকে।
এই লেখাটি আমাদের বড় গাইডের একটি অংশ। পুরো বিষয়টি, চিকিৎসার উপায় আর কোন সাইকোলজিস্ট সাহায্য করতে পারেন, জানতে দেখুন: ডিপ্রেশনের চিকিৎসা নিয়ে আমাদের পুরো গাইড।
মন খারাপ মানেই কি শুধু ‘মানসিক’ সমস্যা?
আমরা সাধারণত মন আর শরীরকে আলাদা করে ভাবতে অভ্যস্ত। কিন্তু বাস্তবে মস্তিষ্ক আমাদের শরীরেরই একটা অঙ্গ, আর সেই মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করার জন্য দরকার সঠিক হরমোন, পর্যাপ্ত ভিটামিন, খনিজ ও অক্সিজেন। এর যেকোনো একটিতে ঘাটতি হলে মেজাজ, ঘুম, মনোযোগ আর শক্তির ওপর তার ছাপ পড়ে।
এর মানে এই নয় যে সব মন খারাপের পেছনে শারীরিক কারণ আছে। জীবনের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, শোক, আর্থিক দুশ্চিন্তা: এগুলোও সত্যিকারের কারণ এবং এদের জন্য মানসিক সহায়তা দরকার। বরং কথাটা হলো, মন খারাপ দীর্ঘদিন থাকলে মানসিক ও শারীরিক দুই দিকই একসঙ্গে দেখা উচিত। শুধু একদিক দেখলে অনেক সময় আসল কারণটা আড়ালে থেকে যায়।
নিচের কিছু লক্ষণ থাকলে শারীরিক কারণের কথা মাথায় রাখা ভালো:
- স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও মনমরা ভাব
- ঘুমিয়েও ঝরঝরে না লাগা, সারাদিন গা ভার হয়ে থাকা
- ওজন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
- ঠান্ডা বেশি লাগা, ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুল পড়া
- বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা বা অস্থিরতা
- মনোযোগ কমে যাওয়া, ছোট কাজেও হাঁপিয়ে ওঠা
এই ধরনের উপসর্গ থাকলে মনের যত্নের পাশাপাশি একজন ডাক্তারের পরামর্শে কয়েকটি সাধারণ রক্তপরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অনেক সময় পুরো ছবিটা পাল্টে দেয়।
থাইরয়েড ও মন খারাপ: শরীরের ভেতরে কী ঘটে
গলার সামনের দিকে প্রজাপতির আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। এটি এমন হরমোন তৈরি করে যা শরীরের বিপাক অর্থাৎ মেটাবলিজম, শক্তি উৎপাদন আর মেজাজ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। এই হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি হলে তার প্রভাব সরাসরি মনের ওপর পড়ে। এ কারণেই থাইরয়েড ও বিষণ্নতা নিয়ে ডাক্তাররা এত গুরুত্ব দেন।
হাইপোথাইরয়েড: থাইরয়েড কম কাজ করলে
থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হলে অর্থাৎ হাইপোথাইরয়েড অবস্থায় শরীর যেন ধীর হয়ে যায়। তখন যে অনুভূতিগুলো হয় সেগুলো ঠিক বিষণ্নতার মতোই দেখতে:
- সব সময় ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম ভাব
- মন খারাপ, কোনো কিছুতে আনন্দ না পাওয়া
- স্মৃতি ও মনোযোগ দুর্বল হয়ে যাওয়া, মাথা “ভার” লাগা
- ওজন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঠান্ডা বেশি লাগা
- ত্বক শুষ্ক, চুল পড়া, কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া
এই লক্ষণগুলো এতটাই বিষণ্নতার মতো যে অনেকে বছরের পর বছর শুধু “মন খারাপ” ভেবে চলেন, অথচ পেছনে থাকে একটি চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক কারণ। বাংলাদেশে থাইরয়েডের সমস্যা মোটেও বিরল নয়, আর নারীদের মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর।
হাইপারথাইরয়েড: থাইরয়েড বেশি কাজ করলে
উল্টো দিকে থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে অর্থাৎ হাইপারথাইরয়েড অবস্থায় শরীর যেন অতিরিক্ত গতিতে চলে। তখন উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির মতো উপসর্গ দেখা দেয়:
- বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা
- অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, সহজে রেগে যাওয়া
- ঘুমের সমস্যা, রাতে জেগে থাকা
- বেশি খেয়েও ওজন কমে যাওয়া, বেশি ঘাম হওয়া
বুক ধড়ফড় আর অস্থিরতা অনেক সময় প্যানিক অ্যাটাক (হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় পেয়ে বসা) বলে ভুল হয়। কোনটা মানসিক আর কোনটা শারীরিক, তা আলাদা করা কঠিন হতে পারে। এ বিষয়ে আরও বুঝতে আমাদের এই লেখাটি পড়তে পারেন: প্যানিক অ্যাটাক কি শুধুই বুক ধড়ফড়। মনে রাখবেন, থাইরয়েডের ওষুধ বা মাত্রা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা যাবে না।
ভিটামিন ডি ঘাটতি ও মন খারাপ
বাংলাদেশে রোদ প্রচুর, তবু ভিটামিন ডি ঘাটতি মন খারাপের একটি চেনা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহুরে জীবনে আমরা বেশির ভাগ সময় ঘরে বা অফিসে কাটাই, রোদে যাওয়া কম হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্য বড় শহরের নারীরা পোশাক আর রোজকার রুটিনের কারণে অনেক সময় যথেষ্ট রোদ পান না। ফলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয় কম।
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, মেজাজ ভালো রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক আছে। এর ঘাটতিতে যা feel হতে পারে:
- কারণ ছাড়াই মনমরা ভাব, বিশেষত মেঘলা বা কম রোদের সময়ে
- শরীরে ব্যথা, পেশিতে দুর্বলতা
- ক্লান্তি ও শক্তির অভাব
- ঘুম ও মনোযোগে সমস্যা
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রক্তপরীক্ষায় সহজেই ধরা পড়ে এবং ডাক্তারের পরামর্শে তা পূরণ করা যায়। তবে এখানেও কথা একটাই: কোন মাত্রায়, কতদিন সাপ্লিমেন্ট নেবেন তা ডাক্তার ঠিক করবেন। নিজে থেকে অতিরিক্ত ডোজ নেওয়া বরং ক্ষতিকর হতে পারে।
রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি ও মনমরা ভাব
বাংলাদেশে, বিশেষত নারী ও কিশোরীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা অর্থাৎ অ্যানিমিয়া খুবই সাধারণ। রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে শরীরের কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, ফলে রক্তস্বল্পতা ক্লান্তি আর দুর্বলতার একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর দিনের পর দিন ক্লান্ত থাকলে মনও ভেঙে পড়ে।
রক্তস্বল্পতায় যেসব উপসর্গ মন খারাপের সঙ্গে মিলে যায়:
- অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট
- মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, মনোযোগে ঘাটতি
- ফ্যাকাশে ত্বক, হাত-পা ঠান্ডা
- বিরক্তি, উৎসাহহীনতা ও মনমরা ভাব
অনেক মা বা গৃহিণী দিনের পর দিন এই ক্লান্তি নিয়ে চলেন এবং ভাবেন এটা শুধু সংসারের চাপ বা “মন ভালো নেই”। অথচ একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষায় রক্তস্বল্পতা ধরা পড়লে এবং ডাক্তারের পরামর্শে খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে শরীরের পাশাপাশি মনও অনেকটা হালকা হয়ে যায়।
আরও কিছু শারীরিক কারণ যা মন খারাপের মতো লাগে
থাইরয়েড, ভিটামিন ডি আর রক্তস্বল্পতা ছাড়াও আরও কিছু শারীরিক অবস্থা মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলো জানা থাকলে অহেতুক আত্ম-দোষারোপ কমে:
- ডায়াবেটিস ও রক্তে সুগারের ওঠানামা: সুগার বেশি বা কম হলে ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব ও মনোযোগে সমস্যা হতে পারে।
- ভিটামিন বি১২ ঘাটতি: স্মৃতি দুর্বলতা, ক্লান্তি ও মনমরা ভাবের সঙ্গে জড়িত হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা: ঘুম কম হলে মেজাজ, ধৈর্য ও মনোযোগ সব কমে যায়।
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ডাক্তারকে আপনার সব ওষুধের কথা জানানো জরুরি।
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অসুস্থতা: লম্বা সময় ধরে শরীরে ব্যথা বা কোনো রোগ থাকলে তা মনকেও ক্লান্ত করে তোলে।
এই তালিকা দেখে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। এটির উদ্দেশ্য শুধু বোঝানো যে মন খারাপের পেছনে কারণ বহুমুখী হতে পারে, এবং একজন psychologist-এর সাথে কথা বলাে সেই কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব।
শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তারের পরামর্শে কী দেখা যেতে পারে
যখন মন খারাপ অনেক দিন ধরে থাকে বা তার সঙ্গে শারীরিক উপসর্গ যুক্ত হয়, তখন একজন ডাক্তার সাধারণত কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন। এখানে কোন পরীক্ষা আপনার দরকার তা আমরা বলে দিচ্ছি না, সেটা ডাক্তারই ঠিক করবেন। শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য কিছু সাধারণ পরীক্ষার কথা উল্লেখ করছি:
- থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট, বিশেষত TSH
- রক্তে হিমোগ্লোবিন ও সম্পূর্ণ রক্তচিত্র বা CBC
- ভিটামিন ডি এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা
- রক্তে সুগারের মাত্রা
ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, খুলনা বা সিলেটে ভালো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই পরীক্ষাগুলো সহজলভ্য। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, রিপোর্ট নিয়ে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সেটি ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা। রিপোর্ট স্বাভাবিক এলেও যদি মন খারাপ থেকে যায়, তবে সেটি হালকা করে দেখার বিষয় নয়, বরং তখন মানসিক দিকটিতে মনোযোগ দেওয়ার সময়।
শরীর নাকি মন, শুরু কোথায় করবেন?
অনেকের প্রশ্ন থাকে: প্রথমে ডাক্তার দেখাব নাকি psychologist? বাস্তবে এই দুটো পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক। শরীরের কারণ বাদ দিলে মানসিক চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থাকতে পারে, আবার সব রিপোর্ট স্বাভাবিক হলেও মনের যত্ন সমান জরুরি।
সহজ একটা পথ হতে পারে এমন: শারীরিক উপসর্গ যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, বুক ধড়ফড় থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে শারীরিক দিকটা যাচাই করুন; আর মন খারাপ, অ্যাংজাইটি, সম্পর্ক বা জীবনের চাপ নিয়ে একজন অভিজ্ঞ psychologist-এর সাথে কথা বলুন। কোথা থেকে শুরু করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত ভাবতে আমাদের এই লেখাটা কাজে লাগতে পারে: শারীরিক নাকি মানসিক সমস্যা, শুরু কোথায়।
Chum Wellness-এ আমরা এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই অনুসরণ করি। কাউন্সেলিংয়ের সময় আমরা শুধু মনের কথা শুনি না, আপনার শারীরিক উপসর্গ, ঘুম, ক্লান্তি ও প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিই। অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং সরাসরি ঢাকায় এই সেবা পাওয়া যায়।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
মন খারাপ বা ক্লান্তি স্বাভাবিক অনুভূতি, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে psychologist-এর সাথে কথা বলা দেরি না করে নেওয়া উচিত। নিচের যেকোনোটি আপনার সঙ্গে মিললে সময় নষ্ট করবেন না:
- দুই সপ্তাহের বেশি টানা মন খারাপ, আগ্রহহীনতা বা কান্না পাওয়া
- দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও মনমরা ভাব, যা বিশ্রামেও কমছে না
- ঘুম, খাওয়া বা ওজনে বড় ধরনের পরিবর্তন
- পড়াশোনা, কাজ বা সংসারে স্বাভাবিকভাবে চলতে সমস্যা হওয়া
- বুক ধড়ফড় বা অস্থিরতা, যা নিয়ে ক্রমাগত ভয় হচ্ছে
- নিজেকে অকেজো মনে হওয়া বা বেঁচে থাকা নিয়ে হতাশাজনক চিন্তা
অভিজ্ঞ psychologist-এর সাথে কথা বলা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ। একজন licensed psychologist আপনার অবস্থা বুঝে গোপনীয়তার সঙ্গে পাশে থাকবেন এবং প্রয়োজনে শারীরিক দিকটির জন্য ডাক্তারের কাছে যেতেও উৎসাহ দেবেন। মনে রাখবেন, ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সেশন ফি ১,০০০ টাকা।
শেষ কথা: মন খারাপে শরীরটাও একবার দেখুন
মন খারাপ দীর্ঘদিন থাকলে সেটাকে শুধু “মন” বা শুধু “শরীর” ভেবে ভাগ না করে দুই দিকই একসঙ্গে দেখা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। থাইরয়েড, ভিটামিন ডি ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতার মতো শারীরিক কারণ ডাক্তারের পরামর্শে যাচাই করুন, আর মনের বোঝা হালকা করতে একজন অভিজ্ঞ psychologist-এর সাথে কথা বলুন।
আপনি যদি ঢাকায় থাকেন বা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে সহায়তা চান, Chum Wellness-এর licensed psychologistরা গোপনীয়তা বজায় রেখে আপনার পাশে আছে। আজই একজন psychologist-এর সাথে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে সরাসরি একটি সেশন বুক করুন। নিজের মন ও শরীর, দুটোরই যত্ন নেওয়ার শুরুটা আজ থেকেই হোক।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
থাইরয়েডের সমস্যা কি সত্যিই মন খারাপ বা বিষণ্নতা তৈরি করতে পারে?
হ্যাঁ, থাইরয়েড হরমোন মেজাজ ও শক্তি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। হরমোন কম থাকলে (হাইপোথাইরয়েড) ক্লান্তি ও মনমরা ভাব হতে পারে যা বিষণ্নতার মতো লাগে, আর বেশি থাকলে (হাইপারথাইরয়েড) অস্থিরতা ও অ্যাংজাইটি দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের মন খারাপে ডাক্তারের পরামর্শে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো ভালো। ওষুধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ভিটামিন ডি ঘাটতি হলে কি মন খারাপ থাকে?
ভিটামিন ডি মেজাজ ভালো রাখার সঙ্গে জড়িত, আর এর ঘাটতিতে অনেকের মনমরা ভাব, ক্লান্তি ও শরীরে ব্যথা feel হতে পারে। বাংলাদেশে রোদ থাকলেও শহরের জীবনে এই ঘাটতি খুব কমন। রক্তপরীক্ষায় এটি সহজে ধরা পড়ে এবং ডাক্তারের পরামর্শে পূরণ করা যায়। নিজে থেকে বেশি ডোজ নেওয়া উচিত নয়।
রক্তস্বল্পতা থাকলে কি সব সময় ক্লান্ত ও মনমরা লাগে?
রক্তস্বল্পতায় শরীরের কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও উৎসাহহীনতা দেখা দিতে পারে যা মন খারাপের মতো মনে হয়। বাংলাদেশে বিশেষত নারীদের মধ্যে এটি সাধারণ। একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষায় হিমোগ্লোবিন দেখে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিলে শরীর ও মন দুটোই ভালো হতে পারে।
মন খারাপের জন্য প্রথমে ডাক্তার দেখাব নাকি psychologist?
এই দুটো পরিপূরক। শারীরিক উপসর্গ যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন বা বুক ধড়ফড় থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে শারীরিক পরীক্ষা করান; আর মন খারাপ, অ্যাংজাইটি বা জীবনের চাপ নিয়ে একজন psychologist-এর সাথে কথা বলুন। Chum Wellness-এ অনলাইনে সারা বাংলাদেশে এবং ঢাকায় সরাসরি এই সমন্বিত সহায়তা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্য কী।
How this article was made
- Written by
- Samsun Nahar, Assistant Clinical Psychologist
- Clinically reviewed by
- Mst. Swampa, Senior Clinical Psychologist, BCPS member
- Last updated
- October 1, 2026
Every Chum article is written for people in Bangladesh by a Chum psychologist or our editorial team, and reviewed by a senior clinical psychologist. How we review · Report an error
Where to go from here
Three next steps, from lightest to most support.

Psychologists who help with depression
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.






