থেরাপি কীভাবে নেবেন: প্রথম ধাপ থেকে সঠিক থেরাপিস্ট বাছাই

থেরাপি কীভাবে নেবেন এই প্রশ্নটা অনেকের মনে ঘুরপাক খায়, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটাই বুঝে ওঠা যায় না। মনের ভেতরে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা বা চাপা কষ্ট নিয়ে ভাবছেন যে একজন psychologist বা doctor-এর সাথে কথা বলা দরকার, অথচ প্রথম পদক্ষেপটা নিতে গিয়ে থমকে যাচ্ছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক।
এই গাইডে আমরা ধাপে ধাপে দেখব থেরাপি নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটা কেমন: প্রথম যোগাযোগ কীভাবে করবেন, প্রথম সেশনে আসলে কী হয়, খরচ কেমন, আর বুকিং কীভাবে করতে হয়। কোন psychologist-কে বাছবেন সেই আলাদা বিষয়টি নিয়ে আমরা এখানে বিস্তারিত যাচ্ছি না, সেটির জন্য নিচে একটি আলাদা লেখার লিংক দেওয়া আছে।
থেরাপি কীভাবে নেবেন?
থেরাপি শুরু করা সহজ। প্রথমে চুম ওয়েলনেসের মতো একটা সেবায় যোগাযোগ করে সংক্ষেপে আপনার সমস্যাটা বলুন। এরপর আপনার সমস্যা আর সময় অনুযায়ী একজন সাইকোলজিস্ট ঠিক করে দেওয়া হয়। প্রথম সেশনে আপনি খোলামেলা কথা বলেন আর কাউন্সেলর পরের ধাপ ঠিক করেন। অনলাইনে বা সরাসরি, দুইভাবেই নেওয়া যায়।
থেরাপি নেওয়ার আগে যে ভয়গুলো কাজ করে
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা এখনও অনেকের কাছে সহজ নয়। “লোকে কী বলবে”, “পরিবার জানলে কী ভাববে”, “আমাকে কি সবাই ভুল বুঝবে” এই ধরনের প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে থাকে। অনেক সময় যৌথ পরিবারের ভেতরে নিজের কথা কাউকে বলার জায়গাই থাকে না।
মনে রাখবেন, সাহায্য নিতে কোনো ভয় বা লজ্জা নেই। সমস্যাটা সাহায্য নেওয়ায় নয়, বরং ভুল জায়গা বা অযোগ্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ায়। তাই সঠিক জায়গা আর যোগ্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়াটাই আসল কথা। থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া আদৌ লজ্জার কিছু কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়তে পারেন থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া কি লজ্জার এই লেখাটি।
ধাপ ১: থেরাপি আসলে কী তা বুঝে নিন
থেরাপি বা কাউন্সেলিং মানে হলো একজন trained psychologist-এর সাথে নিরাপদ ও গোপনীয় পরিবেশে নিজের মনের কথা খুলে বলা। এখানে কেউ আপনাকে বিচার করবে না, উপদেশের বন্যা বইয়ে দেবে না। বরং আপনার সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করবে এবং সেগুলো সামলানোর উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
থেরাপি ঠিক কীভাবে কাজ করে সেটা আরও ভালোভাবে বুঝতে দেখে নিতে পারেন কাউন্সেলিং কী এবং কীভাবে কাজ করে এই লেখাটি। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মৌলিক ধারণা পেতে পড়ুন মানসিক স্বাস্থ্য কী।
ধাপ ২: প্রথম যোগাযোগ কীভাবে করবেন
প্রথম যোগাযোগটাই সবচেয়ে বড় ধাপ, আর একবার এটা পার হয়ে গেলে বাকিটা অনেক সহজ মনে হয়। সাধারণত একটি ফোন কল, মেসেজ বা অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হয়। আপনাকে প্রথমেই নিজের গোটা সমস্যা খুলে বলতে হবে না।
- সংক্ষেপে জানান আপনি কী ধরনের সহায়তা খুঁজছেন, যেমন উদ্বেগ, সম্পর্কের সমস্যা বা মন খারাপ।
- অনলাইন সেশন চান নাকি সরাসরি বসে কথা বলতে চান, সেটা জানিয়ে দিন।
- আপনার সুবিধামতো সময় বলুন, যাতে সেই অনুযায়ী সেশন ঠিক করা যায়।
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় আমরা প্রায়ই দেখি যে অনেকে এই প্রথম মেসেজটা পাঠাতেই কয়েক সপ্তাহ, কখনও কয়েক মাস দেরি করে ফেলেন। তাই মনে রাখবেন, ছোট্ট একটা “হ্যালো” মেসেজই আপনার যাত্রার শুরু হতে পারে।
মানুষের হাতে ম্যাচিং, অ্যালগরিদমে নয়
আমাদের কাজের ধরনে আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষের জন্য সঠিক থেরাপিস্ট বেছে দেওয়ার কাজটা কোনো অ্যালগরিদমের নয়, একজন মানুষের। আমরা প্রায়ই দেখি, একটু মন দিয়ে আপনার চাহিদা বোঝা গেলে তবেই এমন একজন psychologist বা doctor-এর সাথে যুক্ত করা যায় যার সাথে আপনি স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন। তাই যোগাযোগের সময় আপনার অবস্থা সম্পর্কে সৎভাবে জানানোই ভালো।
ধাপ ৩: প্রথম সেশনে আসলে কী হয়
প্রথম সেশন নিয়ে অনেকেই খুব দুশ্চিন্তা করেন। বাস্তবে এটি অনেকটা পরিচিত হওয়ার সময়। থেরাপিস্ট আপনার সাথে ধীরে ধীরে কথা বলবেন, আপনি কেন এসেছেন তা বোঝার চেষ্টা করবেন।
- আপনার বর্তমান সমস্যা, দৈনন্দিন জীবন ও অনুভূতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন করা হতে পারে।
- আপনি কতটুকু বলবেন সেটা পুরোপুরি আপনার সিদ্ধান্ত, জোর করে কিছু বলানো হয় না।
- প্রথম দিনেই সব সমাধান হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
এই সেশনের পুরো সময়টা আপনার নিরাপদ জায়গা। এখানে যা বলবেন তা গোপন থাকবে। আপনি চাইলে থেরাপিস্টকে প্রশ্নও করতে পারেন যে তিনি কীভাবে কাজ করেন।
গোপনীয়তার ফায়ারওয়াল
গোপনীয়তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকা স্বাভাবিক। আমাদের কাজের ধরনে গোপনীয়তার একটা স্পষ্ট সীমারেখা থাকে: যে টিম আপনার বুকিং বা সময় ঠিক করে, তারা আপনার সেশনের ভেতরে কী কথা হয় তা জানে না। সেশনের ভেতরের কথাগুলো থাকে শুধু আপনার আর আপনার থেরাপিস্টের মধ্যে। এই আলাদা স্তরগুলো আপনার ব্যক্তিগত কথা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
ধাপ ৪: খরচ ও বুকিং
খরচ নিয়ে খোলামেলা জানা থাকা ভালো, কারণ এতে অহেতুক দুশ্চিন্তা কমে। আমাদের সেশন ফি সাধারণত ৬৯৯ টাকা থেকে শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য কমানো ফি-এর ব্যবস্থা আছে, যাতে আর্থিক কারণে কেউ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
বুকিং প্রক্রিয়াটা সহজ। আপনি অনলাইনে সময় বেছে নিতে পারেন, অথবা যোগাযোগ করে আপনার সুবিধামতো সময় ঠিক করতে পারেন। অনলাইন সেশনের সুবিধা হলো, আপনি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকেই যুক্ত হতে পারবেন। আর ঢাকায় থাকলে সরাসরি বসেও সেশন নেওয়া যায়।
বুকিংয়ের আগে যা মনে রাখবেন
- একটি নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ ও নিরিবিলি জায়গা বেছে নিন, যাতে খোলামেলা কথা বলতে পারেন।
- সেশনের সময়টা নিজের জন্য আলাদা করে রাখুন, তাড়াহুড়ার মধ্যে না রাখাই ভালো।
- প্রথম সেশনের পর নিজেকে কেমন লাগছে তা নিয়ে একটু ভাবুন, প্রয়োজনে পরের সেশন ঠিক করুন।
ধাপ ৫: সঠিক থেরাপিস্ট বাছাই
থেরাপি নেওয়ার প্রক্রিয়া বুঝে গেলেও একটা প্রশ্ন থেকে যায়: ঠিক কোন থেরাপিস্টকে বাছবেন। কার সাথে আপনি স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন, কোন psychologistতা আপনার সমস্যার সাথে মানানসই, এসব নিয়ে একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
এটি একটি আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কীভাবে নিজের জন্য মানানসই একজন psychologist খুঁজে নেবেন তার বিস্তারিত জানতে পড়ুন সঠিক থেরাপিস্ট কীভাবে বাছবেন এই লেখাটি।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
প্রতিটি মন খারাপ বা দুশ্চিন্তার জন্যই থেরাপি লাগে না। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখলে psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত।
- টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে মন খারাপ, বিষণ্নতা বা কোনো কিছুতে আগ্রহ না পাওয়া।
- দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ এত বেড়ে যাওয়া যে দৈনন্দিন কাজ, ঘুম বা খাওয়ায় প্রভাব পড়ছে।
- সম্পর্ক, পড়াশোনা বা কাজে বারবার সমস্যা হওয়া এবং একা সামলাতে না পারা।
- মাঝেমধ্যে প্যানিক অ্যাটাক বা হঠাৎ প্রচণ্ড ভয়ের অনুভূতি হওয়া।
মনে রাখবেন, এই লেখাটি শিক্ষামূলক, কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা নয়। ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তার বা psychiatrist-এর পরামর্শ নিতে হবে। থেরাপি ও প্রয়োজনে চিকিৎসা একসাথে কাজ করে।
শেষ কথা
থেরাপি নেওয়া মানে দুর্বলতা নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়ার একটা সাহসী সিদ্ধান্ত। প্রথম ধাপটা কঠিন মনে হলেও, একবার শুরু করলে বাকিটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আপনি একা নন, আর সাহায্য নেওয়ার জন্য সঠিক জায়গা রয়েছে।
আপনি যদি প্রস্তুত বোধ করেন, তাহলে আজই প্রথম পদক্ষেপ নিতে পারেন। আমাদের licensed psychologist ও counsellor-দের সাথে গোপনীয় পরিবেশে কথা বলতে একটি সেশন বুক করুন এবং নিজের মনের যত্ন নেওয়া শুরু করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
থেরাপি কীভাবে নেবেন, প্রথমে কী করতে হবে?
প্রথম ধাপ হলো একটি ফোন কল, মেসেজ বা অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করা। প্রথমেই পুরো সমস্যা খুলে বলতে হবে না, সংক্ষেপে জানালেই হয় আপনি কী ধরনের সহায়তা খুঁজছেন এবং অনলাইন নাকি সরাসরি সেশন চান। এরপর সুবিধামতো সময়ে সেশন ঠিক করা হয়।
প্রথম সেশনে কী হয়?
প্রথম সেশন অনেকটা পরিচিত হওয়ার সময়। থেরাপিস্ট ধীরে ধীরে আপনার বর্তমান সমস্যা, দৈনন্দিন জীবন ও অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন। আপনি কতটুকু বলবেন তা পুরোপুরি আপনার সিদ্ধান্ত, জোর করে কিছু বলানো হয় না। প্রথম দিনেই সব সমাধান হয় না, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
থেরাপি সেশনের খরচ কেমন?
সেশন ফি সাধারণত ৬৯৯ টাকা থেকে শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য কমানো ফি-এর ব্যবস্থা আছে, যাতে আর্থিক কারণে কেউ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
সেশনের কথা কি গোপন থাকে?
হ্যাঁ। সেশনের ভেতরের কথাগুলো থাকে শুধু আপনার আর আপনার থেরাপিস্টের মধ্যে। যে টিম বুকিং বা সময় ঠিক করে, তারা সেশনের ভেতরে কী কথা হয় তা জানে না। এই আলাদা স্তরগুলো আপনার ব্যক্তিগত কথা সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
পেশাদার সহায়তার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট দেখুন, অথবা একটি সেশন বুক করুন।
Talk to our psychologists
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.
- Afnan Tahmim Adrita — Assistant Clinical Psychologist
- Md. Badirujjaman Sumon — Assistant Clinical Psychologist
- Afsana Rahman — Assistant Clinical Psychologist
