শ্বশুরবাড়ির সাথে মানিয়ে চলা: টানাপোড়েন কমিয়ে শান্তি ফেরানো

Mst. Swampa

Clinically reviewed byMst. SwampaSenior Clinical Psychologist · MS & M.Phil in Clinical Psychology (University of Dhaka) · BCPS memberLast reviewed July 2026

বিয়ের পর একটি নতুন পরিবারে প্রবেশ করা জীবনের অন্যতম বড় পরিবর্তন। শ্বশুরবাড়ির সাথে মানিয়ে চলা অনেকের জন্যই আনন্দের, আবার অনেকের জন্য নীরব এক চাপের উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা কিংবা চট্টগ্রামের যৌথ পরিবারগুলোতে নতুন বউ বা নতুন জামাই হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অস্বস্তি, রাগ, অভিমান কিংবা একাকীত্বের ভেতর দিয়ে যান। এই টানাপোড়েন কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং দুটি ভিন্ন পরিবার, ভিন্ন অভ্যাস আর ভিন্ন প্রত্যাশা একসাথে হওয়ার স্বাভাবিক ফল।

বাংলাদেশে পারিবারিক কাঠামো এখনও অনেকখানি যৌথ ও ঘনিষ্ঠ। ফলে শাশুড়ির সাথে সম্পর্ক, ননদ-দেবরের সাথে মেলামেশা, কিংবা শ্বশুরবাড়ির নিয়মকানুনের সাথে খাপ খাওয়ানো একটি সংসারের সুখ-শান্তিতে বড় ভূমিকা রাখে। এই লেখায় আমরা দেখব কেন এই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, কীভাবে দোষারোপ না করে সুস্থ সীমারেখা ও যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক সহজ করা যায়, এবং কখন একজন পেশাদার সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। চাম ওয়েলনেস ঢাকায় সরাসরি এবং সারা বাংলাদেশে অনলাইনে এই ধরনের পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে গোপনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে।

কেন শ্বশুরবাড়ির সাথে টানাপোড়েন তৈরি হয়

দ্বন্দ্ব বোঝার আগে দরকার এর মূল কারণগুলো চেনা। আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, একজন নতুন সদস্য যখন একটি প্রতিষ্ঠিত যৌথ পরিবারে যুক্ত হন, তখন প্রত্যাশার চাপ, পরিচয়ের পরিবর্তন এবং মাঝখানে সঙ্গীর ভূমিকা এই তিনটি বিষয় প্রায়ই টানাপোড়েনের কেন্দ্রে থাকে।

প্রত্যাশার চাপ ও অলিখিত নিয়ম

প্রতিটি পরিবারের কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে: কে কখন খায়, রান্নাঘর কীভাবে চলে, অতিথি এলে কী করতে হয়, টাকা-পয়সা নিয়ে কে সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সদস্য এই নিয়মগুলো জানেন না, অথচ তার কাছ থেকে সেগুলো মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয়। আবার নতুন বউ বা জামাইয়েরও নিজস্ব প্রত্যাশা থাকে। এই দুই প্রত্যাশা যখন মেলে না, তখন ছোট বিষয়ও বড় অভিমানে রূপ নেয়।

পরিচয় ও স্বাধীনতার পরিবর্তন

বিয়ের আগে একজন মানুষ নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে যে স্বাধীনতা ও পরিচিত ছন্দে চলতেন, নতুন পরিবারে এসে তা হঠাৎ বদলে যায়। ঘুম থেকে ওঠা, পোশাক, বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগ, এমনকি ফোনে কথা বলার সময় পর্যন্ত নতুন করে ভাবতে হয়। এই স্বাধীনতা কমে যাওয়ার অনুভূতি অনেক সময় রাগ বা দমবন্ধ লাগার মতো অনুভূতি তৈরি করে, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

প্রজন্মগত পার্থক্য

শাশুড়ি ও পুত্রবধূ প্রায়ই দুই ভিন্ন প্রজন্মের মানুষ। সন্তান লালন-পালন, রান্না, ধর্মীয় অনুশীলন, খরচের অভ্যাস কিংবা আধুনিক জীবনযাপন নিয়ে দুজনের ধারণা আলাদা হতে পারে। এই পার্থক্যকে অনেকে ভুল বনাম ঠিকের লড়াই হিসেবে দেখেন, অথচ বাস্তবে এটি কেবল দুই সময়ের দুই দৃষ্টিভঙ্গি।

বউ-শাশুড়ি দ্বন্দ্ব: পুরনো গল্পের নতুন বাস্তবতা

বউ-শাশুড়ি দ্বন্দ্ব আমাদের সমাজে এতটাই পরিচিত যে অনেকে একে অনিবার্য মনে করেন। কিন্তু এটি অনিবার্য নয়। এই দ্বন্দ্বের পেছনে সাধারণত থাকে একই মানুষকে ঘিরে দুই ধরনের ভালোবাসা ও অধিকারবোধ। একজন মা তার ছেলেকে সারাজীবন আগলে রেখেছেন; একজন স্ত্রী তার স্বামীর সাথে নতুন জীবন গড়তে চাইছেন। দুজনই সঙ্গীকে ভালোবাসেন, কিন্তু কেউ কেউ ভয় পান যে অন্যজন তার জায়গা নিয়ে নিচ্ছে।

আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এই দ্বন্দ্ব যখন খোলাখুলি আলোচনার বদলে ইঙ্গিত, খোঁচা বা তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে অভিযোগ আকারে চলতে থাকে, তখনই তা বিষাক্ত হয়ে ওঠে। কিছু সাধারণ প্যাটার্ন প্রায়ই দেখা যায়:

  • রান্না, সংসার বা সন্তান পালন নিয়ে ক্রমাগত তুলনা ও সমালোচনা
  • সঙ্গীর সামনে একে অপরের নামে অভিযোগ জমা করা
  • ছোট ভুলকে বড় করে দেখা এবং পুরনো কথা বারবার তোলা
  • সরাসরি না বলে মুখ ভার করে বা কথা বন্ধ করে অসন্তোষ প্রকাশ
  • পরিবারের অন্য সদস্যদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা

এই প্যাটার্নগুলো চিনতে পারলে সেগুলো ভাঙার কাজ শুরু করা যায়। মনে রাখা জরুরি, লক্ষ্য কাউকে হারানো নয়, বরং একটি সহনীয় ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়া।

দোষারোপ নয়, সীমারেখাই সমাধানের পথ

টানাপোড়েনের সময় আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো কে দোষী তা খুঁজে বের করা। কিন্তু দোষারোপ সম্পর্ককে কেবল আরও দূরে ঠেলে দেয়। এর বদলে প্রয়োজন সুস্থ সীমারেখা বা বাউন্ডারি (নিজের সীমা স্পষ্ট করে জানানো) তৈরি করা। সীমারেখা মানে দেয়াল তুলে দেওয়া নয়; বরং সম্মানের সাথে জানিয়ে দেওয়া যে কোন আচরণ আপনার জন্য গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়।

স্বাস্থ্যকর সীমারেখা কেমন হয়

  • স্পষ্ট কিন্তু নরম: আপনার প্রয়োজনটি স্পষ্টভাবে বলুন, তবে আক্রমণাত্মকভাবে নয়। যেমন, আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো আমরা দুজন মিলে নিতে চাই।
  • ধারাবাহিক: একবার সীমা ঠিক করলে সেটি বজায় রাখুন; একেক দিন একেক নিয়ম হলে বিভ্রান্তি বাড়ে।
  • নিজের আচরণকেন্দ্রিক: অন্যকে বদলানোর চেষ্টার বদলে ঠিক করুন আপনি কীসে সাড়া দেবেন আর কীসে নয়।
  • সম্মানজনক: সীমারেখা টানার সময়ও বড়দের প্রতি সম্মান ও ভদ্রতা বজায় রাখুন, যা আমাদের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণস্বরূপ, যদি বারবার আপনার সাংসারিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ আসে, তবে ঝগড়া না করে শান্তভাবে বলা যেতে পারে যে আপনি পরামর্শকে মূল্য দেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনারা স্বামী-স্ত্রী নেবেন। এই ধরনের যোগাযোগ প্রথমে কঠিন মনে হলেও সময়ের সাথে সম্পর্কে স্বস্তি আনে।

মাঝখানে সঙ্গীর ভূমিকা

শ্বশুরবাড়ির টানাপোড়েনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে অবহেলিত ভূমিকাটি হলো সঙ্গীর। একজন স্বামী বা স্ত্রী যখন মা ও জীবনসঙ্গীর মাঝখানে পড়ে যান, তখন তিনি প্রায়ই নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টায় নীরব হয়ে যান। কিন্তু এই নীরবতা দুই পক্ষকেই একা করে দেয়।

আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সঙ্গী যখন সেতুর ভূমিকা নেন, দুই পক্ষের কথা মন দিয়ে শোনেন এবং কাউকে অপমান না করে নিজের পরিবারকে সীমারেখা বোঝান, তখন দ্বন্দ্ব দ্রুত কমে। সঙ্গীর কিছু কার্যকর করণীয়:

  • স্ত্রী বা স্বামীর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং একা বোধ করতে না দেওয়া
  • নিজের বাবা-মায়ের সাথে সম্মানের সাথে, কিন্তু স্পষ্টভাবে সীমারেখা নিয়ে কথা বলা
  • দুই পক্ষের কাছে একই কথা বলা, একজনের সামনে এক আর অন্যজনের সামনে আরেক না বলা
  • ছোট ছোট বিষয়ে পক্ষ না নিয়ে বড় নীতিগত জায়গায় সঙ্গীর পাশে দাঁড়ানো

দাম্পত্য সম্পর্ক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব যে গভীরভাবে জড়িত, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন দাম্পত্য কলহের কারণ ও সমাধান বিষয়ক আমাদের লেখাটি।

প্রতিদিনের সহাবস্থান সহজ করার বাস্তব কৌশল

যৌথ পরিবারে চাপ কমাতে কেবল বড় সিদ্ধান্ত নয়, প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসও অনেক কিছু বদলে দেয়। ঢাকার ব্যস্ত যৌথ পরিবারে কিছু সহজ চর্চা শান্তি ফেরাতে সাহায্য করে।

যোগাযোগে সততা ও কোমলতা

মনের কথা জমিয়ে না রেখে সময়মতো, শান্ত মাথায় প্রকাশ করুন। অভিযোগ শুরু করুন আপনি সবসময় এভাবে না বলে, আমার এমন লাগে এভাবে। এতে সামনের মানুষ আত্মরক্ষামূলক না হয়ে বরং শুনতে আগ্রহী হন।

ছোট ছোট সম্মানের চর্চা

শাশুড়ি বা শ্বশুরের সাথে সম্পর্ক গড়তে প্রতিদিনের ছোট আচরণ কাজে দেয়: রান্নার প্রশংসা করা, শরীরের খোঁজ নেওয়া, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু জানতে চাওয়া। এই ছোট স্বীকৃতিগুলো ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করে, যা পরে কঠিন সময়ে কাজে লাগে।

নিজের জন্য জায়গা রাখা

যৌথ পরিবারে থেকেও নিজের ও সঙ্গীর জন্য কিছুটা একান্ত সময় বের করা জরুরি। সপ্তাহে একবার একসাথে বাইরে যাওয়া, নিজের শখের জন্য সময় রাখা, বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে মন খুলে কথা বলা মানসিক চাপ অনেকটা হালকা করে। নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়, বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার শর্ত।

তুলনা এড়িয়ে চলা

নিজের পরিবারের সাথে শ্বশুরবাড়ির তুলনা, কিংবা অন্য বাড়ির বউ-শাশুড়ির সাথে নিজেদের তুলনা মানসিক চাপ বাড়ায়। প্রতিটি পরিবার আলাদা, তাই নিজেদের গতিতে মানিয়ে নেওয়াই ভালো।

সম্পর্কের দূরত্ব ও ঠান্ডা যুদ্ধ কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে আরও পড়ুন সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দূরত্ব কমানো নিয়ে আমাদের লেখাটিতে।

মানসিক প্রভাব ছোট করে দেখবেন না

দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়ির চাপ, নীরব দ্বন্দ্ব বা একাকীত্ব বহন করলে তা কেবল সম্পর্কে নয়, ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যেও ছাপ ফেলে। ঘুমের সমস্যা, অকারণ মন খারাপ, খিটখিটে মেজাজ, নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া কিংবা সবসময় ক্লান্ত লাগা এগুলো জমে থাকা চাপের লক্ষণ হতে পারে। এগুলোকে দুর্বলতা ভেবে চেপে না রেখে বরং যত্নের সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

বিশেষ করে নতুন বিবাহিত অনেক নারী নীরবে এই বোঝা বহন করেন, কারণ পরিবারে বা সমাজে এসব নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা কঠিন মনে হয়। মনে রাখবেন, সাহায্য চাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়। ওষুধের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে; তবে বেশিরভাগ পারিবারিক টানাপোড়েনে কথা বলা, বোঝাপড়া ও কাউন্সেলিংই বড় পরিবর্তন আনে।

কখন পেশাদার সাহায্য নেবেন

সব দ্বন্দ্ব নিজে থেকে সামলানো যায় না, এবং তাতে দোষের কিছু নেই। নিচের পরিস্থিতিগুলো দেখা দিলে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ:

  • দ্বন্দ্ব এতটাই ঘন ঘন ও তীব্র যে ঘরে থাকতেই অস্বস্তি লাগে
  • দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব বা ঝগড়া বেড়ে যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ির চাপের কারণে
  • দীর্ঘদিন ধরে ঘুম, মন বা মেজাজের সমস্যা চলছে
  • নিজেকে গুটিয়ে ফেলছেন, কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না
  • বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ ও সীমারেখা কাজ করছে না

একজন পেশাদার নিরপেক্ষ থেকে দুই পক্ষের কথা শোনেন এবং দোষারোপ ছাড়াই সমাধানের পথ খুঁজতে সাহায্য করেন। দম্পতি বা পরিবার একসাথে কাউন্সেলিংয়ে বসলে অনেক পুরনো জট খুব সহজে খোলে, যা একা চেষ্টা করলে বছরের পর বছর জমে থাকে।

শেষ কথা: শান্তি ফেরানো সম্ভব

শ্বশুরবাড়ির সাথে মানিয়ে চলা একদিনের কাজ নয়, এটি ধৈর্য, সহানুভূতি ও সময়ের ব্যাপার। দোষারোপ ছেড়ে সুস্থ সীমারেখা ও খোলা যোগাযোগের দিকে এগোলে সবচেয়ে জটিল সম্পর্কেও ধীরে ধীরে স্বস্তি ফেরে। আপনি একা নন, এবং সাহায্য পাওয়া সম্ভব।

যদি ঢাকায় বা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি শ্বশুরবাড়ি বা দাম্পত্য টানাপোড়েন নিয়ে গোপনীয় ও পেশাদার সহায়তা চান, চাম ওয়েলনেসের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলরেরা পাশে আছেন। আমাদের কাপল কাউন্সেলিং ঢাকা সেবা সম্পর্কে জানুন অথবা আজই একটি সেশন বুক করুন এবং শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ নিন।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

শ্বশুরবাড়ির সাথে বারবার ঝগড়া হলে কী করব?

প্রথমে দোষারোপ বন্ধ করে শান্ত মাথায় নিজের প্রয়োজনগুলো স্পষ্টভাবে জানান এবং সুস্থ সীমারেখা তৈরি করুন। সঙ্গীকে সেতুর ভূমিকায় যুক্ত করুন। বারবার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি না বদলালে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া ভালো, যিনি নিরপেক্ষ থেকে সমাধানের পথ দেখাতে পারেন।

বউ-শাশুড়ি দ্বন্দ্ব কি এড়ানো সম্ভব?

এই দ্বন্দ্ব অনিবার্য নয়। এটি সাধারণত একই মানুষকে ঘিরে দুই ধরনের ভালোবাসা ও অধিকারবোধ থেকে তৈরি হয়। খোলা যোগাযোগ, ছোট ছোট সম্মানের চর্চা, তুলনা এড়ানো এবং সঙ্গীর সক্রিয় ভূমিকা এই দ্বন্দ্ব অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।

যৌথ পরিবারে মানসিক চাপ কমাতে সীমারেখা কীভাবে টানব?

সীমারেখা মানে দেয়াল নয়, বরং সম্মানের সাথে জানিয়ে দেওয়া কোন আচরণ আপনার জন্য গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়। স্পষ্ট কিন্তু নরম ভাষায়, ধারাবাহিকভাবে এবং বড়দের প্রতি সম্মান বজায় রেখে নিজের প্রয়োজন জানান। নিজের আচরণে নিয়ন্ত্রণ রাখুন, অন্যকে বদলানোর চাপ কমান।

সঙ্গী কীভাবে মা ও স্ত্রীর মাঝখানে ভারসাম্য রাখবেন?

নীরব না থেকে সেতুর ভূমিকা নিন। দুই পক্ষের কথা মন দিয়ে শুনুন, কাউকে অপমান না করে নিজের পরিবারকে সীমারেখা বোঝান এবং দুই পক্ষের কাছে একই কথা বলুন। ছোট বিষয়ে পক্ষ না নিয়ে বড় নীতিগত জায়গায় সঙ্গীর পাশে দাঁড়ান।

চাম ওয়েলনেসে কি অনলাইনে পারিবারিক কাউন্সেলিং পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। চাম ওয়েলনেস ঢাকায় সরাসরি এবং সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং সেবা দেয়। শ্বশুরবাড়ির টানাপোড়েন বা দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে আপনি দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সাথে কথা বলতে পারেন।

Trusted resources
Further reading from leading global health authorities:

Keep Reading

ঢাকার বাইরে psychologist খুঁজছেন? চট্টগ্রাম, খুলনাসহ সারাদেশে সহায়তাঢাকার বাইরে psychologist খুঁজছেন? চট্টগ্রাম, খুলনাসহ সারাদেশে সহায়তাসম্পর্কে ক্ষমা করা ও এগিয়ে যাওয়া: রাগ ধরে না রেখেসম্পর্কে ক্ষমা করা ও এগিয়ে যাওয়া: রাগ ধরে না রেখেসন্তান না হওয়া ও দাম্পত্যের মানসিক চাপ: পাশে থাকার পথসন্তান না হওয়া ও দাম্পত্যের মানসিক চাপ: পাশে থাকার পথ

Talk to our psychologists

Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.

See all psychologists →