চাকরি হারানোর পর মানসিক চাপ: পরিবার, সন্তান ও আত্মসম্মান

চাকরি হারানোর পর মানসিক চাপ কেমন হয়, সেটা যিনি এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন কেবল তিনিই বোঝেন। বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে যেখানে বাসাভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন আর সংসারের খরচ প্রতি মাসে ঘড়ির কাঁটার মতো ফিরে আসে, সেখানে হঠাৎ আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়া কেবল আর্থিক ধাক্কা নয়, এটা একধরনের মানসিক ভূমিকম্প। ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বা সিলেটের চাকরিজীবীরা যখন একটা চিঠি বা একটা ফোন কলে জানতে পারেন যে তাদের আর প্রয়োজন নেই, তখন মাথার ভেতরে একসঙ্গে হাজারটা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে।
এই লেখায় আমরা চাকরি হারানোর পর মানসিক চাপ কীভাবে পরিবার, সন্তান আর নিজের আত্মসম্মানকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলব। সমাধান খোঁজার আগে এটুকু বোঝা জরুরি যে আপনি একা নন, আর যা feel করছেন তা দুর্বলতা নয়, বরং একটা কঠিন পরিস্থিতির স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। Chum Wellness-এ আমরা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে এবং ঢাকায় সরাসরি এই ধরনের চাপ নিয়ে কাজ করি।
চাকরি হারানোর ধাক্কা কেন এত গভীর
চাকরি শুধু আয়ের মাধ্যম নয়। আমাদের সমাজে চাকরি অনেকটা পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। কেউ জিজ্ঞেস করলে আমরা বলি আমি ব্যাংকে আছি, আমি গার্মেন্টসে ম্যানেজার, আমি সরকারি চাকরি করি। এই পরিচয়টা যখন হঠাৎ সরে যায়, তখন মনে হয় নিজের একটা অংশই যেন হারিয়ে গেছে। এই কারণেই বেকারত্বের চাপ সাধারণ দুশ্চিন্তার চেয়ে অনেক গভীরে গিয়ে আঘাত করে।
মানসিকভাবে এই ধাক্কার কয়েকটা ধাপ থাকে। প্রথমে থাকে অবিশ্বাস, এটা আমার সঙ্গে হতে পারে না। তারপর আসে রাগ, কখনো নিজের উপর, কখনো প্রতিষ্ঠানের উপর। এরপর দুশ্চিন্তা আর ঘুমহীন রাত, আর অনেক সময় একধরনের অসাড়তা যখন কিছুই ভালো লাগে না। এই ধাপগুলো সবার ক্ষেত্রে একই ক্রমে আসে না, কখনো এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে বারবার ফিরে যাওয়া হয়।
সাধারণ কিছু লক্ষণ যা অনেকে চেপে যান
- ঘুমের সমস্যা: রাতে ঘুম না আসা, অথবা ভোরে হঠাৎ জেগে গিয়ে আর ঘুমাতে না পারা।
- খিটখিটে মেজাজ: ছোট ছোট বিষয়ে সন্তান বা স্ত্রীর সঙ্গে রেগে যাওয়া, পরে অনুশোচনা।
- মনোযোগের অভাব: কোনো কাজে বা এমনকি টিভি দেখার সময়ও মন বসাতে না পারা।
- শারীরিক লক্ষণ: মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, পেটের গোলমাল বা হজমের সমস্যা (IBS ধরনের অস্বস্তি)।
- নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া: বন্ধু বা আত্মীয়ের ফোন এড়িয়ে যাওয়া, দাওয়াতে না যাওয়া।
এই লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন থাকলে তা চাকরি হারানো depression বা বিষণ্নতার দিকে গড়াতে পারে। এগুলোকে নিছক অলসতা বা দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। মন আর শরীর একসঙ্গে সংকেত দিচ্ছে যে ভেতরে কিছু ঠিক নেই।
প্রোভাইডার চাপ: পুরুষকে একাই সব সামলাতে হবে
আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বাংলাদেশে চাকরি হারানোর পর পুরুষদের একটা বাড়তি বোঝা বহন করতে হয়, যাকে আমরা প্রোভাইডার চাপ বলি। ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় যে সংসারের সব দায়িত্ব পুরুষের কাঁধে, তাকেই রোজগার করতে হবে, তাকেই সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই বিশ্বাস আর হঠাৎ আসা আর্থিক দুশ্চিন্তা মিলে মনটাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই ভাঙন অনেকে কাউকে বলতে পারেন না। লোকে কী বলবে, আত্মীয়রা কী ভাববে, প্রতিবেশীরা জানলে সম্মান থাকবে কিনা, এই ভয়ে অনেক মানুষ মুখে হাসি রেখে ভেতরে ভেতরে গুমরে মরেন। সকালে যথারীতি শার্ট পরে বের হয়ে যান যেন অফিসে যাচ্ছেন, অথচ হয়তো সারাদিন কোনো পার্কে বা চায়ের দোকানে সময় কাটিয়ে ফিরে আসেন। এই চুপ করে থাকা, এই একা একা সব বহন করার চেষ্টাই চাপকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং সাহস। একা সব সামলাতে হবে এই ধারণাটাই একটা সামাজিক চাপ, বাস্তব সত্য নয়। পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা, প্রয়োজনে psychologist-এর সাথে কথা বলা, এগুলো আপনার সম্মান কমায় না, বরং পরিস্থিতি সামলানোর প্রকৃত শক্তি দেখায়।
নারীদের ক্ষেত্রেও চাপ ভিন্ন নয়
এই আলোচনা কেবল পুরুষদের জন্য নয়। ঢাকায় বহু নারী এখন পরিবারের প্রধান বা যৌথ উপার্জনকারী। চাকরি হারালে তাদেরও একইরকম আর্থিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় আবার তোমাকে দিয়ে হলো না ধরনের সামাজিক খোঁচা। তাই সমাধানের পথ সবার জন্যই এক: চেপে না রেখে কথা বলা।
পরিবার আর সম্পর্কের উপর প্রভাব
চাকরি হারানোর চাপ কখনো একা থাকে না, এটা পুরো পরিবারের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। যিনি চাকরি হারিয়েছেন, তিনি হয়তো খিটখিটে হয়ে যান বা চুপচাপ হয়ে যান। স্ত্রী বা স্বামী বুঝতে পারেন না কী হচ্ছে, ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। টাকা নিয়ে ছোট ছোট কথা বড় ঝগড়ায় রূপ নেয়।
এই সময় কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি:
- সঙ্গীর সঙ্গে সৎ থাকুন: পরিস্থিতি লুকিয়ে রাখলে দূরত্ব বাড়ে। বরং একসঙ্গে বসে বাস্তব অবস্থা নিয়ে কথা বলুন।
- দোষারোপ এড়িয়ে চলুন: নিজেকে বা সঙ্গীকে দোষ দেওয়ার বদলে সমস্যাটাকে যৌথ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখুন।
- ছোট রুটিন ধরে রাখুন: একসঙ্গে খাওয়া, একটু হাঁটতে যাওয়া, এই সাধারণ অভ্যাসগুলো সম্পর্কে ভারসাম্য রাখে।
সন্তানরা কী বোঝে, কী feel করে
বাবা-মা প্রায়ই ভাবেন সন্তানরা কিছু বোঝে না। বাস্তবে শিশুরা বাড়ির পরিবেশের পরিবর্তন খুব দ্রুত টের পায়। বাবার মুখে হাসি নেই কেন, বাসায় সবাই কেন চাপা স্বরে কথা বলছে, এবার ঈদে নতুন জামা হবে কিনা, এসব প্রশ্ন তাদের মনেও ঘোরে। ছোট শিশুরা হয়তো বেশি আঠালো হয়ে যায় বা ঘুমে সমস্যা দেখায়, বড় সন্তানরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাতে পারে।
সন্তানকে বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় সত্যিটা বলা ভালো। যেমন, বাবার এখন কাজ বদলাচ্ছে, কিছুদিন আমরা একটু হিসেব করে চলব, কিন্তু আমরা ঠিক আছি, এই ধরনের আশ্বাস তাদের নিরাপত্তা দেয়। মিথ্যা লুকোছাপার চেয়ে সৎ কিন্তু ভরসাদায়ক কথা শিশুর মনে অনেক বেশি স্থিরতা আনে। মনে রাখবেন, সন্তানরা টাকার অভাবের চেয়ে বেশি ভয় পায় বাবা-মায়ের মধ্যে অস্থিরতা আর ঝগড়া দেখে।
আত্মসম্মান আর পরিচয়ের সংকট
চাকরি হারানোর পর অনেকের মনে হয় আমি ব্যর্থ, আমাকে দিয়ে কিছু হবে না, আমি পরিবারের বোঝা হয়ে গেছি। এই চিন্তাগুলোকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় নেতিবাচক স্বয়ংক্রিয় চিন্তা। এগুলো এত জোরালো হয় যে বাস্তব মনে হয়, অথচ এগুলো সত্য নয়, বরং চাপের ফলে তৈরি বিকৃত চিন্তা।
একটা বিষয় বুঝতে হবে: আপনার মূল্য আপনার বেতনের অঙ্ক দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আপনি একজন বাবা, একজন সঙ্গী, একজন সন্তান, একজন বন্ধু। কোম্পানির সিদ্ধান্ত, বাজারের মন্দা, প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, এসব অনেক ক্ষেত্রেই আপনার ব্যক্তিগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কহীন। একটা চাকরি চলে যাওয়া মানে আপনি অযোগ্য নন।
আত্মসম্মান ধরে রাখার কিছু বাস্তব উপায়
- দিনের একটা রুটিন রাখুন: নির্দিষ্ট সময়ে ওঠা, গোসল করা, তৈরি হওয়া, এই ছোট ছোট অভ্যাস মনকে সচল রাখে।
- ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন: আজ দুটো সিভি পাঠাব, আজ একজন পুরনো কলিগকে ফোন করব, এমন ছোট অর্জন আত্মবিশ্বাস ফেরায়।
- নিজের সঙ্গে সদয় হোন: নিজেকে যেভাবে দোষ দিচ্ছেন, একজন প্রিয় বন্ধুকে কি সেভাবে দোষ দিতেন? না। নিজের সঙ্গেও একই সহানুভূতি রাখুন।
- শরীরের যত্ন নিন: সামান্য হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত পানি, একটু ভালো ঘুম মনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মানসিক চাপ কমানোর আরও বিস্তারিত কৌশল নিয়ে আমরা আলাদাভাবে লিখেছি, যা আপনি পড়তে পারেন মানসিক চাপ কমানোর উপায় এই লেখায়। ধাপে ধাপে মানসিক সুস্থতার পথ নিয়ে জানতে পড়ুন মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়।
আর্থিক দুশ্চিন্তা সামলানোর মানসিক দিক
আর্থিক দুশ্চিন্তা এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বাস্তব চাপগুলোর একটি। রাতে ঘুম না আসার পেছনে প্রায়ই থাকে সামনের মাসের হিসাব। এখানে আমরা আর্থিক পরামর্শ দিচ্ছি না, কিন্তু দুশ্চিন্তার মানসিক ভার কমানোর কিছু পথ আছে।
প্রথমত, অনিশ্চয়তা মনকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। তাই যতটা সম্ভব বিষয়টাকে বাস্তব সংখ্যায় নামিয়ে আনুন। কী খরচ আছে, কতদিন চলার মতো আছে, কোথায় কমানো যায়, এসব লিখে ফেললে অস্পষ্ট আতঙ্ক কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। মাথার ভেতরে ঘুরতে থাকা দুশ্চিন্তার চেয়ে কাগজে লেখা পরিকল্পনা অনেক কম ভীতিকর।
দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে পুরো ভবিষ্যতের চিন্তা না করে সামনের এক সপ্তাহ বা এক মাসে মনোযোগ দিন। বড় ছবিটা একবারে সামলানো কঠিন, কিন্তু ছোট ধাপে ভাগ করলে তা বহনযোগ্য হয়ে ওঠে। তৃতীয়ত, প্রয়োজনে বিশ্বস্ত পরিবার বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। সাময়িক সহায়তা নেওয়া লজ্জার নয়, এটা কঠিন সময় পার করার একটা স্বাভাবিক অংশ।
চাকরি হারানোর পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে করণীয়
চাকরি হারানোর ধাক্কা সামলাতে শুরুর দিনগুলো সবচেয়ে কঠিন। এই সময় হুট করে বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নেওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত। কিছু ছোট অভ্যাস এই সময়টায় বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
- একটা দৈনিক রুটিন ধরে রাখুন: চাকরি না থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, গোসল করা, পোশাক পরা আর দিনের একটা কাঠামো রাখা মনকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচায়।
- নিজেকে বিচ্ছিন্ন করবেন না: লজ্জায় অনেকে বন্ধু ও পরিবার থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু এই সময় বিশ্বস্ত দু-একজনের সাথে যোগাযোগ রাখাটাই বেশি জরুরি।
- ছোট ছোট কাজ শেষ করুন: সিভি হালনাগাদ করা, একটা আবেদন পাঠানো, ঘরের একটা কাজ শেষ করা, এই ছোট জয়গুলো আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- শরীরের যত্ন নিন: ঠিকমতো খাওয়া, একটু হাঁটা আর ঘুমের দিকে খেয়াল রাখুন। শরীর ভেঙে পড়লে মনও দ্রুত ভেঙে পড়ে।
মনে রাখবেন, চাকরি চলে যাওয়া আপনার সমস্ত পরিচয় বা মূল্য কেড়ে নেয় না। এটি জীবনের একটি কঠিন অধ্যায়, স্থায়ী পরিণতি নয়।
পরিবার ও সঙ্গীর সাথে কীভাবে কথা বলবেন
আমাদের সমাজে, বিশেষ করে পুরুষদের ওপর “একাই সব সামলাতে হবে” এই প্রোভাইডার চাপ এত বেশি যে অনেকে পরিবারকে সত্যিটা জানাতেই ভয় পান। কিন্তু আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, চেপে রাখা সত্য চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে, আর একসময় তা সম্পর্কেও ফাটল ধরায়।
- সময় বুঝে খোলাখুলি বলুন: সঙ্গীকে পরিস্থিতি জানানো দুর্বলতা নয়, বরং আস্থার প্রকাশ। “আমি একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তোমার পাশে থাকা দরকার” এই সহজ কথাটুকুও অনেক ভার হালকা করে।
- সন্তানদের বয়স অনুযায়ী আশ্বস্ত করুন: বড় বাচ্চারা ঘরের চাপা টেনশন টের পায়। তাদের বিস্তারিত না বলে হলেও, “আমরা একসাথে এটা সামলে নেব” এই আশ্বাস দিলে তাদের ভয় কমে।
- দোষারোপের চক্রে ঢুকবেন না: আর্থিক চাপে ঝগড়া বাড়ে। এমন মুহূর্তে থেমে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, রাগটা আসলে পরিস্থিতির ওপর, সঙ্গীর ওপর নয়।
পরিবারকে দলে টেনে নিলে সংকটের বোঝা ভাগ হয়ে যায়। আর্থিক চাপ সামলানো নিয়ে আরও জানতে পড়তে পারেন মানসিক চাপ কমানোর উপায় নিয়ে আমাদের লেখাটি।
টাকা রোজগারই কি আপনার একমাত্র পরিচয়?
চাকরি হারানোর পর সবচেয়ে গভীর যে ক্ষতটা তৈরি হয়, তা হলো আত্মসম্মানে আঘাত। ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়, একজন মানুষের, বিশেষ করে ঘরের উপার্জনক্ষম মানুষের মূল্য মাপা হয় সে কত টাকা আনছে তা দিয়ে। তাই আয় বন্ধ হলে অনেকের মনে হয়, “আমি অকেজো হয়ে গেছি, পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।” এই ভাবনা ধীরে ধীরে বিষণ্নতা আর অসহায়ত্ব বাড়িয়ে তোলে।
কিন্তু একটু থেমে ভাবুন। একজন বাবা, একজন সঙ্গী, একজন সন্তান, একজন বন্ধু হিসেবে আপনার যে ভূমিকা, সেটা কোনো বেতনের চেকে বাঁধা নয়। আমাদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যারা এই কঠিন সময়টা পার করে ওঠেন, তারা নিজের পরিচয়কে কেবল “উপার্জনকারী” গণ্ডিতে না রেখে আরও বড় করে দেখতে শেখেন।
- নিজের সাথে কঠোর হবেন না: চাকরি হারানো অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত বা পরিস্থিতির ফল হতে পারে, সবসময় আপনার ব্যর্থতা নয়।
- ছোট অবদান খুঁজে নিন: ঘরে সময় দেওয়া, সন্তানের পড়াশোনায় সাহায্য করা, পরিবারের পাশে থাকা, এগুলোও মূল্যবান অবদান।
- এই সময়টাকে বিরতি হিসেবে দেখুন: নতুন দক্ষতা শেখা, ভিন্ন পথ ভাবা, বা নিজের আগ্রহ নিয়ে ভাবার সুযোগও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে।
আত্মসম্মান ফিরে পাওয়া রাতারাতি হয় না, কিন্তু সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আর প্রয়োজনে psychologist-এর সাথে কথা বলা নিয়ে ধীরে ধীরে তা সম্ভব।
কখন psychologist-এর সাথে কথা বলবেন
সব চাপই থেরাপির প্রয়োজন হয় না, অনেক কিছু সময় আর পরিবারের সহায়তায় সামলে ওঠা যায়। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে একজন licensed psychologist বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। নিচের যেকোনো কয়েকটি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দেরি করবেন না:
- প্রায় প্রতিদিন গভীর মন খারাপ, কান্না বা শূন্যতা feel করা।
- ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ঘুম না হওয়া।
- আগে যা ভালো লাগত তাতে আর কোনো আগ্রহ না থাকা।
- নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া বা তীব্র অপরাধবোধ।
- মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া।
- বেঁচে থাকা অর্থহীন মনে হওয়া বা নিজের ক্ষতির চিন্তা আসা।
এই ক্ষেত্রে counselling সত্যিকারের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। থেরাপি আপনাকে নেতিবাচক চিন্তার প্যাটার্ন চিনতে, চাপ সামলানোর বাস্তব কৌশল শিখতে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে। মনে রাখবেন, ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত একজন যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়।
জরুরি অবস্থায়, যদি নিজের বা কারো জীবনের ঝুঁকির চিন্তা আসে, দেরি না করে ৯৯৯-এ কল করুন অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান, এবং দ্রুত একজন licensed psychologist-এর সাথে কথা বলুন। এই মুহূর্তগুলো সাময়িক, সঠিক সহায়তায় এগুলো পার হওয়া সম্ভব।
Chum Wellness-এ কীভাবে সহায়তা পাবেন
Chum Wellness-এ আমরা জানি চাকরি হারানোর পরের এই সময়টা কতটা একাকী আর ভারী মনে হতে পারে। আমাদের licensed psychologist ও কাউন্সেলররা সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে আপনার কথা শোনেন, বিচার করেন না। আমরা সারা বাংলাদেশে অনলাইনে সেশন দিই এবং ঢাকায় সরাসরি বসে কথা বলার সুযোগও আছে, তাই ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরা কিংবা চট্টগ্রাম, সিলেট, যেখানেই থাকুন না কেন, সহায়তা আপনার নাগালে। শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের ফি কমানো ব্যবস্থা রয়েছে।
আপনি যদি এই চাপের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন, চুপ করে থাকবেন না। একটা কথা বলার জায়গা, একটা psychologist-এর support আপনার পুরো পরিস্থিতিটাকে বদলে দিতে পারে। আমাদের কাউন্সেলিং সহায়তা নিতে আজই যোগাযোগ করুন, অথবা সরাসরি একটি সেশন বুক করুন। আপনি একা নন, আর এই কঠিন সময় পার করা সম্ভব।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
চাকরি হারানোর পর মানসিক চাপ কতদিন থাকে?
এটা ব্যক্তিভেদে আলাদা। প্রথম কয়েক সপ্তাহ ধাক্কা, রাগ ও দুশ্চিন্তা থাকা স্বাভাবিক, যা ধীরে ধীরে কমে আসে। তবে যদি গভীর মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা বা আগ্রহহীনতা দুই সপ্তাহের বেশি টানা থাকে, তাহলে একজন licensed psychologist-এর সাথে কথা বলা উচিত।
সন্তানদের কি চাকরি হারানোর কথা বলা উচিত?
বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় সত্যি বলা ভালো। যেমন, বাবার এখন কাজ বদলাচ্ছে, কিছুদিন আমরা হিসেব করে চলব, কিন্তু আমরা ঠিক আছি। শিশুরা বাড়ির পরিবেশ ঠিকই টের পায়, তাই লুকোছাপার চেয়ে সৎ কিন্তু ভরসাদায়ক কথা তাদের বেশি নিরাপত্তা দেয়।
পুরুষ হিসেবে সব একা সামলাতে না পারলে কি আমি ব্যর্থ?
না। একা সব সামলাতে হবে এটা একটা সামাজিক চাপ, বাস্তব সত্য নয়। চাকরি চলে যাওয়া প্রায়ই বাজার বা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের ফল, আপনার ব্যক্তিগত মূল্যের নয়। পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা ও psychologist-এর সাথে কথা বলা দুর্বলতা নয়, বরং সাহসের প্রকাশ।
Chum Wellness-এ কি অনলাইনে কাউন্সেলিং পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। Chum Wellness সারা বাংলাদেশে অনলাইনে গোপনীয় কাউন্সেলিং দেয় এবং ঢাকায় সরাসরি বসেও সেশনের সুযোগ আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ফি কমানো ব্যবস্থা রয়েছে। বিস্তারিত জানতে আমাদের ইনডিভিজুয়াল কাউন্সেলিং পেজে যোগাযোগ করুন।
Talk to our psychologists
Book a confidential session with a licensed psychologist at Chum Wellness.
- Sanjida Alam — Clinical Psychologist
- S. M. Salman Rashid Shanto — Assistant Clinical Psychologist
- Dr. Srijony Ahmed — Psychiatrist
